শিরোনামঃ-


» সিটি নির্বাচন : আদালতের সিদ্ধান্ত পেলে পরবর্তী কার্যক্রম হবে ইসির

প্রকাশিত: ১৩. জানুয়ারি. ২০২০ | সোমবার

নির্বাচন কমিশনার বলেন, আদালতের সিদ্ধান্ত পেলে পরবর্তী কার্যক্রম হবে। রোববার ভোটের তারিখ নিয়ে হাই কোর্টে রিট আবেদনের খবরে সৃষ্টি হয় আলোচনা। সরস্বতী পূজার দিন রাজধানীতে দুই নির্বাচনে ভোটগ্রহণের তারিখ নিয়ে আপত্তি আগেই ছিল ।

এর মধ্যে নির্বাচন ভবনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার কে এম নূরুল হুদা অন্য নির্বাচন কমিশনারদের নিয়ে আলোচনায় বসলে সাংবাদিকরাও নড়েচড়ে বসেন।

তবে দিন শেষে কোনো সিদ্ধান্ত আসেনি ।

আগামী ৩০ জানুয়ারি ভোটগ্রহণের দিন রেখে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করে ইসি।

তখনই পূজা উদযাপন পরিষদ সরস্বতী পূজার বিষয়টি তুলে ধরে ভোটের দিন পরিবর্তনের অনুরোধ জানায়। তারপর হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান ঐক্যপরিষদও একই অনুরোধ করে। কিন্তু ইসি তাদের সিদ্ধান্তেই অটল থাকে।

এরপর গত ৭ জানুয়ারি সংগঠন দুটির প্রতিনিধি দল স্মারকলিপি দেয় ইসিকে। এরইমধ্যে রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে চিঠি দেয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জগন্নাথ হল কর্তৃপক্ষ। নির্বাচনের তারিখ পেছানোর আহ্বান জানায় ডাকসুও।

ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন এলাকায় দেশের সর্ববৃহৎ পূজামণ্ডপ রামকৃষ্ণ মিশন ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জগন্নাথ হল রয়েছে। এখানে বেশ কিছু প্রতিষ্ঠানে পূজা অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে ভোটকেন্দ্রও রয়েছে।

এরপর রিট আবেদন নিয়ে হাই কোর্টে যান অশোক কুমার ঘোষ নামে এক আইনজীবী। তাতে ২৯ ও ৩০ জানুয়ারি সরস্বতী পূজা রয়েছে জানিয়ে ভোটের তারিখ পরিবর্তনের জন্য আদালতের আদেশ চাওয়া হয়।

বিচারপতি মো. মঈনুল ইসলাম চৌধুরী নেতৃত্বাধীন বেঞ্চে আবেদনটি প্রথম দায়ের হয়। এটি রোববারের কার্যতালিকায় এলেও এই বেঞ্চের নির্বাচন সংক্রান্ত মামলা নেওয়ার এখতিয়ার না থাকায় তা বাদ দেওয়া হয়।

এরপর বিচারপতি জে বি এম হাসান ও বিচারপতি মো.খায়রুল আলমের হাই কোর্ট বেঞ্চে দায়ের হয়েছে আবেদনটি। সোমবার এটি শুনানির কার্যতালিকায় আসতে পারে।

আদালতে রিট আবেদন নিয়ে বাইরে আলোচনার মধ্যেই বিকালে সিইসির কক্ষে ঢুকতে দেখা যায় চার নির্বাচন কমিশনারকে।

সিইসির কক্ষ থেকে বেরোনোর পর জানতে চাইলে নির্বাচন কমিশনার শাহাদাত হোসেন চৌধুরী সাংবাদিকদের বলেন, ভোটের বিষয়ে আজ আমাদের কোনো আলোচনা হয়নি।

আরেকজন নির্বাচন কমিশনার বলেন, বৈঠকে একজন নির্বাচন কমিশনার জগন্নাথ হলের শিক্ষার্থীদের ভোটের তারিখ পরিবর্তনের দাবির বিষয়টি আলোচনায় তুলতে চাইলে অন্যরা বলেন যে বিষয়টি যেহেতু এখন আদালতে গেছে। তাই আদালত যা বলবে, তাই হবে। তখন আর আলোচনা এগোয়নি।

ইসি কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, প্রয়োজনে ভোটের তারিখ এগিয়ে আনতে কিংবা পিছিয়ে দিতে পারে ইসি; কিন্তু সেক্ষেত্রে কিছু বিষয় বিবেচনায় রাখতে হবে।

৩০ জানুয়ারির পর ৩১ জানুয়ারি শুক্রবার হলেও এ দিনে ভোটের নজির বাংলাদেশে নেই। তার পরদিন ১ ফেব্রুয়ারি শনিবার থেকে এসএসসি পরীক্ষা শুরু হবে। পরীক্ষার সময়টা এড়িয়েই ভোটের দিন ঠিক করে ইসি। ফলে ভোট পেছাতে হলে পরীক্ষাও পেছাতে হবে।

মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সচিব মো. মাহবুব হোসেনের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ইসির পক্ষ থেকে পরীক্ষা পেছানোর বিষয়ে কোনো প্রস্তাব আসেনি। আমাদের সঙ্গে এ নিয়ে কেউ কথা বলেনি।

আবার ভোটের তারিখ একদিন এগিয়ে আনলেও পূজার সঙ্কট কাটছে না। পূজা এড়াতে হলে দুদিন এগিয়ে আনতে হবে ভোটের তারিখ।

তবে ইসি এখনও কোনো সিদ্ধান্ত না দেওয়ায় ভোটের তারিখ ৩০ জানুয়ারি এখনও বহাল রয়েছে। কমিশন এখনই এনিয়ে বৈঠকে বসবে কি না, তাও নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

এদিকে ৩০ জানুয়ারি ভোটগ্রহণের দিন ধরে সেদিন ঢাকায় সাধারণ ছুটি ঘোষণায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠিয়েছে ইসি।

সরস্বতী পূজার জন্য ঢাকার দুই সিটির নির্বাচনের তারিখ পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে মানববন্ধন হয়েছে।

রোববার বিকেলে রাজু ভাস্কর্যে বাংলাদেশ ছাত্র ঐক্য পরিষদ আয়োজিত এই কর্মসূচিতে সংহতি জানিয়ে বক্তব্য রাখেন ডাকসু, হল সংসদ এবং ছাত্রলীগের নেতারা।

ডাকসুর এজিএস সাদ্দাম হোসেন বলেন, অসাম্প্রদায়িক চেতনার আতুরঘর হিসেবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিচয় রয়েছে। সেই পরিচয়কে আঘাত করেছে নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্ত।

আমরা মনে করি, শুধু নির্বাচনের তারিখ পরিবর্তন করার জন্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা এখানে আসেননি। নির্বাচনের তারিখ তো অবশ্যই পরিবর্তন করতে হবে। একইসাথে নির্বাচন কমিশনকে জবাব দিতে হবে, কেন ৩০ তারিখ সরস্বতী পূজার দিনে নির্বাচনের তারিখ ঠিক করা হয়েছে।

এর আগে দুর্গাপূজার সময় রংপুরের গঙ্গাচড়ায় উপনির্বাচনের তারিখ দেওয়ার বিষয়টি তুলে ধরে সিইসির উদ্দেশে এই ছাত্রলীগ নেতা বলেন, বারবার কেন তিনি আমাদের ধর্মীয় উৎসবগুলোর কথা ভুলে যান, সেই জবাব দিতে হবে।

বারবার বলছেন, হাই কোর্টে রিট হয়েছে, তার আলোকেই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবেন। আমাদেরকে হাই কোর্ট দেখাবেন না। নির্বাচন কমিশনকেই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে হবে ৩০ তারিখ নির্বাচন নয়, অন্য দিন নির্ধারণ করুন।

সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করা না হয় আন্দোলনের মধ্য দিয়ে তারিখ পরিবর্তন করাতে ইসিকে বাধ্য করার হুঁশিয়ারিও দেন ডাকসু এজিএস।

জগন্নাথ হল ছাত্র সংসদের ভিপি উৎপল বিশ্বাস বলেন, সরস্বতী পূজা শুধু ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জগন্নাথ হলের পূজা নয়, এটি সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানেই শিক্ষার্থীরা উদযাপন করে থাকে। তাই স্বরসতী পূজার দিনে এই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলে পূজা স্বাভাবিকভাবেই বিঘ্নিত হবে।

এই সংবাদটি পড়া হয়েছে ১৩৯ বার

Share Button