সিদ্ধার্থ সরদারের স্টুডিও

প্রকাশিত: ১২:৪৬ পূর্বাহ্ণ, নভেম্বর ২৮, ২০২০

সিদ্ধার্থ সরদারের স্টুডিও

গালিব ফেরদৌস

দাদুর সাথে এইবার ঈদে দাদুর নানাবাড়ি গেলাম আবার। হিন্দুপাড়ার অভ্রদা আমাদের জন্য অপেক্ষা করেই ছিলেন। মোল্লাপাড়ায় দাদুর মামাবাড়িতে ঢুকেই দাদু বললেন, “এবার আমি তোদের আমার নানী বাড়িতে নিয়ে যাব। আমার নানী বাড়ি যশোরের সদর উপজেলার ছাতিয়েনতলা।”
আমি চমৎকৃত হয়ে বললাম, “ছাতিয়েনতলা।”
দাদু বললেন, “হ্যাঁ, ছাতিয়েনতলা। ঐখানে বিশ্বাসপাড়ার পাশেই সরদারপাড়ায় আমার নানীদের আদি বাড়ি। আমার নানীদের দাদারা ছিলো সরদার বংশের লোক। ওরা পাঞ্জাবের চন্ডিগড়ের একটি করদ রাজ্যের রাজা ছিল। সেখান থেকে আরও চারশত বছর আগে সরদার নানারা এই যশোরে এসে বসতি স্থাপন করে। সরদার বংশ মূলত ভারতের পাঞ্জাব প্রদেশের একটি আদি ও নামজাদা শিখ বংশ।আমার নানীরা আসলে কনভার্টেড মুসলিম । নানীদের বংশের আদি পুরুষরা পাঞ্জাব থেকে বাংলায় এসে শিখ ধর্ম থেকে ইসলাম ধর্মে ধর্মান্তরিত হয়। যাহোক তোকে বলে রাখা দরকার আমার নানীদের গ্রামে উনবিংশ শতাব্দীতে মুন্সী মেহেরুল্লাহ নামে একজন বিখ্যাত সাহিত্যিক ও শিক্ষানুরাগী জন্মেছিলেন যার নামে ১৯৮৪ সাল-এর পূর্বেবৃহত্তর যশোরের অন্তর্গত থাকা মেহেরপুর জেলার নামকরণ করা হয়েছে। তার নামে একটা সরকারি কলেজও আছে যশোরের মূল শহরে।মুন্সী মেহেরুল্লাহ কলেজ। বাংলাদেশ ডাক বিভাগ এই মুন্সী মেহেরুল্লাহর নামে একটি ডাকটিকিটও চালু করে ১৯৮৭ সালে।আমার নানী ছিল ঐ মুন্সী মেহেরুল্লাহর ধর্মবোন।”
এই বলে দাদু থামলেন। তারপর কাজে ব্যস্ত হয়ে গেলেন। পরদিন ছিল শুক্রবার। ঐদিন অভ্রদা, আমি, দাদু আর দাদুর মামাতো ভাইয়ের নাতি শাওন, সবুজ, প্রান্ত, কাঁকন সবাই মিলে ছাতিয়েনতলায় সরদারপাড়ায় গেলাম। সেখানে দাদুর মামাতো ভাইয়ের ছেলে আব্দুুল্লাহ সরদার আমাদেরকে ছাতিয়েনতলার বিশাল এলাকা জুড়ে অবস্থিত সরদারপাড়ার মধ্যস্থ সরদারপাড়া জামে মসজিদে নিয়ে গেলেন। মসজিদটা একতলা। কিন্তু আধুনিক প্যাটার্নে তৈরি। সম্পূর্ণ শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত। আমরা সবাই ঐ মসজিদে নামাজ পড়লাম। নামাজ পড়ে এসে দাদুর মামাতো ভাইয়ের ছেলে আব্দুল্লাহ কাকার বাড়িতে গেলাম। সেখানে আব্দুল্লাহ কাকার বৌ আমাদের দুপুরের খাবারের ব্যবস্থায় ব্যস্ত ছিলেন। আব্দুল্লাহ কাকার দুই মেয়ে। বড় মেয়ের নাম শামারুখ আব্দুল্লাহ। বয়স ২১-২২ হবে। বাংলাদেশ শের-ই-বাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ে। আমরা কাকার বাড়িতে যে কক্ষে সোফায় বসে ছিলাম সেই কক্ষে সোফার বিপরীতে একটা খাট রয়েছে। সেই খাটে আকাশী রঙের একটা সালোয়ার কামিজ পরে বসে পা দোলাচ্ছিল শামারুখ নামের ঐ বোনটা। ওকে একেবারে পাঞ্জাবী মেয়েদের মতো লাগছে। খানিকবাদে টেবিলে সাজানো নাস্তার প্লেট থেকে নিজেদের গাছ থেকে পাড়া কাটা পাকা আম দিয়ে ঠাসা প্লেটটা আমাদের দিকে এগিয়ে দিয়ে সে কথার ছলে দাদুকে বলতে লাগল, “জানেন দাদু, গত বছর না আমরা পাঞ্জাবে গিয়েছিলাম। চন্ডিগড়ে। আমাদের আদি পুরুষরা এখনো ওখানে আছে। ওখানে আমাদের জওহরলাল সরদার নামে এক দাদা আমাদের ভীষণ আতিথেয়তায় গ্রহণ করেছিল। আমরা চন্ডিগড়ে এক সপ্তাহ ছিলাম। ওরা আমাদেরকে শিখদের মহান ধর্মীয় পিঠস্থান অমৃতসরে নিয়ে গিয়েছিল। এছাড়া নিয়ে গিয়েছিল আজমীর শরীফে। ক’দিন ওখানে জমপেশ খেয়ে দেয়ে তারপর দেশে এসেছি।”
এই শুনে দাদু বললেন, “তোর এই কথা শুনে আমার দারুন একটা কথা মনে পড়ে গেল।”
সবাই একযোগে বলে উঠলো, “কি দাদু?”
আমিতখন সবে ফালি ফালি করে কাটা আমে ঠাসা প্লেট থেকে একটা আমের টুকরা কাটা চামচে করে মুখে দিয়েছি এমন সময় দাদুর কাছ থেকে নতুন কোন বিস্ময়কর গল্প শুনতে পারব এই ঘোরে মুখ গলে আকস্মাৎ চামচ থেকে আমের টুকরাটা মেঝেতে পড়ে গেল। যাহোক দাদু স্বাভাবজাত কাশি দিয়ে গল্প বলা শুরু করলে আমি খানিকটা ধাতস্থ হলাম।
“আমি তখন খুব ছোট। ১৯৩৬-৩৭ সালের কথা। সে সময় একবার মা আমাকে তার নানী বাড়ি নিয়ে এলেন ছাইতেনতলায়। ঐ সময় ছাইতেনতলায় মোনায়েম সরদার নামে আমার এক ভাই ছিল। যে সেসময় খুব জোয়ান কিংবা বলা চলে বলিষ্ঠ, তাগড়া শক্ত সামর্থ যুবক। পাড়ায় খেলাধুলা করে বেড়ায় আর দূরবর্তী পাড়ার সাথে নিজ পাড়ার কিংবা বিভিন্ন পাড়ার মধ্যে ফুটবল টুর্নামেন্ট আয়োজন করে বেড়ায়। তো সে সময় ঐ মোনায়েম বলল, “চল এই বছর আমরা পাঞ্জাবে ঘুরে আসি। ওখানে আমাদের এক আদি দাদা আছে। অমরনাথ সরদার। উনি আমাদের দাওয়াত করেছেন এই বছর হোল্লা মোহাল্লা উৎসবে।”
একথা শুনে আমার দারুন উন্মাদনা হতে লাগল। নতুন একটা জায়গা দেখতে পাব এই খুশিতে আমি তখন মাতোয়ারা। আর সেই সঙ্গে যোগ হয়েছে আদি পুরুষদের আদি গোষ্ঠীর সঙ্গে আদি আবাসস্থলে সাক্ষাৎ করতে পারার সুখ। যাহোক তোকে বলে রাখা দরকার সে সময় পাঞ্জাব একটা স্বশাসিত প্রদেশ ছিল ভারতের। তখনো পাঞ্জাব পূর্ববঙ্গের মতো ব্রিটিশ ভারতের একটি প্রদেশ। এর রাজধানী ছিল চন্ডিগড়।যাহোক তোকে বলে রাখি হোল্লা মোহাল্লা হলো শিখদের একটি প্রধান ধর্মীয় উৎসব যেটা পাঞ্জাবের আনন্দপুর জেলার আনন্দপুর সাহিবে অনুষ্ঠিত হয়। এটি প্রতি বছর ১৭ মার্চ তারিখে অনুষ্ঠিত হয়। এই উৎসবটি চালু করে শিখগুরু গোবিন্দ সিং সপ্তদশ শতকে সামরিক প্রশিক্ষণ ও মেকি যুদ্ধ সঞ্চালনের জন্য। এই মেকি যুদ্ধ কির্তন ও এক ধরনের আঞ্চলিক কবিতা প্রতিযোগীতার মাধ্যমে সঞ্চালিত হয়। এই উৎসবের দিনে সারাবিশ্বের শিখরা “শিখ অলিম্পিক” আয়োজন করে যেখানে ঘোড়দৌড়, তলোয়ার নাচ ও শিখদের এক ধরনের মার্শাল আর্ট “গটকা” প্রভৃতি খেলার প্রতিযোগতিার আয়োজন করা হয়। এই “গটকা” নামক মার্শাল আর্টের একটি সংগঠন “আন্তর্জাতিক গটকা ফেডারেশন” ১৯৮২ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। হোল্লা মোহাল্লা ছাড়াও শিখদের আরও কিছু ধর্মীয় উৎসব আছে। যেমন- বৈশাখী, জতিজত উৎসব যা মূলত শিখগুরুদের মৃত্যুজয়ন্তী উৎসব। এছাড়া আছে প্রকাশ উৎসব যা মূলত ৮ জন শিখগুরুর জন্ম উৎসব যাদের মধ্যে আছে গুরু গোবিন্দ সিং, অমর দাস সিং যার জামাতা গুরু রাম দাস সিংষষ্ঠদশ শতাব্দীতে শিখদের প্রধান ধর্মীয় পীঠস্থান পাঞ্জাবের অমৃতসর শহরটি প্রতিষ্ঠা করেন। এছাড়া আছে গুরুগদি উৎসব। এছাড়া ১৪ মার্চ তারিখে শিখদের নববর্ষ উৎসব পালিত হয়। এই ১৪ মার্চ তারিখ থেকে নানকশাহি ক্যালেন্ডার তথা শিখ ক্যালেন্ডার শুরু হয়। এছাড়া আছে সাহিবজাদা শাহাদাৎ দিবস উৎসব। এই উৎসবের একটি তাৎপর্য আছে। এটি পালিত হয় প্রতি বছর ২১ ও ২৬ডিসেম্বর।কারন এই দু’টি বিশেষ দিনে তথা ১৭০২ সালের ২১ ডিসেম্বর চমকৌরের প্রথম যুদ্ধে শিখগুরু গোবিন্দ সিং- এর বড় দুই পুত্র অজিত সিং ও জুঝার সিং এবং ১৭০৪ সালের ২৬ ডিসেম্বর চমকৌরের দ্বিতীয় যুদ্ধের ছোট দুই পুত্র জোরাওয়ার সিং ও ফতেহ সিংকে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ না করার জন্যে মুঘল সৈনিকরা হত্যা করে। সেই থেকে এই দিন দু’টিতে শিখরা ধর্মীয় উৎসব পালন করে আসছে। যাহোক আমি ও ভাই মোনায়েম সরদার পাঞ্জাবের আদি দাদাদের ডাকে পাঞ্জাবের উদ্দেশ্যে রওনা দিই। আমরা প্রথমে ট্রেনে যশোর থেকে কোলকাতা, এরপর কোলকাতা থেকে দিল্লী পৌঁছালাম। সেখান থেকে ট্রেনে করে পাঞ্জাবের চন্ডিগড় এসে উপস্থিত হলাম দুই দিনের অকøান্ত ভ্রমণ শেষে। চন্ডিগড় রেল স্টেশেনে আমাদের জন্য অমরনাথ দাদার ছেলে সিদ্ধার্থ সরদার অপক্ষো করে ছিলেন। আমরা তার সাথে চন্ডিগড়ে অমরনাথ দাদার প্রাসাদতুল্য বাড়িতে এসে উপস্থিত হলাম। অমরনাথ দাদা ছিলেন আদি শিকারি। তিনি নাকি গুজরাটের মরুভূমিতে বেশ কয়েকটা সিংহ শিকার করেছেন এক সময়। তারই একটার মাথার কঙ্কাল বাড়ির ড্রইং রুমের দেয়ালে ঝোলানো। বাড়িটা বেশ জাঁকজমক। তার বাড়ির মেঝেতে দামি পুরু ইরানি কার্পেট মোড়া ছিল। জানালায় ঝোলানো রঙবাহারি কারুকার্য করা পর্দা। এছাড়া ঝাড়লন্ঠন ঝোলানো শিলিঙে। তাতে নানা রঙের বাতি শোভা পাচ্ছে। যাহোক অমরনাথ দাদার ছেলে সিদ্ধার্থ সরদারের মেয়ে লালারুখ সরদার যে কিনা সম্পর্কে আমাদের বোন হয় সে আমাদের নিজের হাতে বানানো আমসত্ত্ব এনে দিল।লালারুখ পাঞ্জাবী মেয়ে হওয়া সত্ত্বেয় ভালোই বাংলা জানতো। সে পাঞ্জাবে বসেই বাংলা ভাষাটা রপ্ত করে কারণ সে জানতো তার পরিবারের একটি ক্ল্যান বহু বছর আগে বাংলায় গিয়ে বসতি গড়েছে। তারা হয়তো একসময় পাঞ্জাবে ঘুরতে আসবে। তখন সেই ক্ল্যানের দাদা-দাদি,চাচা-চাচি,ফুফা-ফুফু,ভাই-বোনদের সাথে দেখা হবে। সেই দেখা হওয়াটা যাতে উৎকর্ষক হয় সেই জন্য সে ভালো বাংলা শিখে রেখেছিল। যাহোক লালারুখ আমাদের হাতে আমসত্ত্ব দিয়ে ভাঙা ভাঙা পাঞ্জাবী টানে বাংলাতে বলল, “তোমাদের একটা দারুন জায়গা ঘুরিয়ে দেখাব। ”আমরা লালারুখের কথায় আনন্দিত হয়ে তার দেয়া আমসত্ত্ব খেতে খেতে ওর কোমল সৌন্দর্যে ভুলে গেলাম। ওর চোহারাটা দেখতে অবিকল আমার মায়ের মতো ছিল। আবার আমার মায়ের চেহারার কিছুটা ছাপ আছে আব্দুল্লাহর মেয়ে শামারুখের চেহারায়। যাহোক পরদিন লালারুখ আমাদের সঙ্গে নিয়ে ওদের ঘোড়ার গাড়িতে করে একটা ময়দানের মতো জায়গায় নিয়ে গেল। মেয়েটা তৎকালিন সময় অনুযায়ী অনেক আধুনিক ছিল। সেযুগে পাঞ্জাব শুধু নয় পৃথিবীর সব দেশের মেয়েদের নিজ পরিবারের সঙ্গে ছাড়া ঘরের বাইরে প্রবেশাধিকার তেমন একটা ছিলো না। তবে লালারুখের পরিবার ছিল এই ব্যাপারে বেশ উদার। লালারুখকে তারা কেমন একা আমাদের সঙ্গে ছেড়ে দিয়েছিল। আর সে কি সুন্দর ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে তার নিজস্ব দেশের সমস্ত রিসোর্স দেখাচ্ছিল আমাদের। যাহোকঐদিন মেয়েটা দুই হাত ভর্তি করে লাল রঙের চুড়ি, কপালে লাল টিপ পরেছিল। আর মোটা করে চুলে করেছিল বেনী। আর একটা লাল সালোয়ার কামিজ পরেছিল। তোকে বলে রাখা দরকার সালোয়ার কামিজ আসলে পাঞ্জাবী পায়জামার মতোই পাঞ্জাবের নিজস্ব উদ্ভাবনী পোশাক। মানে সালোয়ার কামিজের আদি জন্মস্থান হল পাঞ্জাবে। যাহোক ঐ সালোয়ার কামিজেওকে দারুন সুন্দরী লাগছিল। তখন মধ্য দুপুর। দুপুরের চিলতে আলোকরশ্মি ওর সফেদ চামড়ার কোমলতাকে আরও স্বর্গীয় করে তুলেছিল। ঐ দুপুরের কঠোরতা আরওগদ্যময়তা এনে দিল আমার জীবনে। আমি লালারুখের হাত ধরে ময়দানে অনেকক্ষণ ঘুরে বেড়ালাম। এমন সময় ওর হাতে কোত্থেকে উড়ে এসে একটি সোনালি রঙের উল্কি আঁকানো প্রজাপতি এসে বসল। যে প্রজাপতির রঙ ওর ত্বকের উজ্জ্বলতা আরও বাড়িয়ে দিল। তোকে বলে রাখা দরকার পাঞ্জাবে লেপিডেপটোরা বিন্যাস তথা অর্ডারের ২১৪ প্রজাতির প্রজাপতি পাওয়া যায়। যাহোক আমাকে বিভিন্ন জিনিস দেখাতে দেখাতে ফাঁক বুঝে লালারুখ বলল, “এটা আমাদের জাতীয় ময়দান। এখানে পাঞ্জাবের প্রাদেশিক বিপ্লবীরা গণজমায়েত হয়ে ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে নানামুখী আন্দোলনের পরিকল্পনা করে। এই আন্দোলনের নেতা আমার বাবা সিদ্ধার্থ সরদার। সে অবশ্য শুধু একজন বিপ্লবী নয়। সে একজন গুণী শিল্পীও বটে। সে কয়েক মাস আগে চন্ডিগড়ের “ওল্ড পাঞ্জাব স্টুডিও” থেকে গ্রামোফোনের একটা গানের রেকর্ড বের করেছে। সেখানেও আমি তোমাকে আগামীকাল ঘুরতে নিয়ে যাব।”
এরপর আমরা চন্ডিগড়ে অবস্থিত পাঞ্জাবের জাতীয় ময়দান থেকে ফিরে এলাম বাড়ি। এরপর দিন আমরা যখন “ওল্ড পাঞ্জাব স্টুডিও” ঘুরতে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছি এমন সময় একজন দূত মারফত খবর এল পাঞ্জাবের জাতীয় ময়দানে একদল বিপ্লবী গণজামায়েত করে ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে আন্দোলনের ছক কষছিল যে আন্দোলনের নাম “চন্ডিগড় বিপ্লব”। সে আরও জানালো, আন্দোলনের পরিকল্পনা করতে গনজমায়েত হওয়াকালিন সময় একদল সশস্ত্র ব্রিটিশ সৈন্য ঐ ময়দানে প্রবেশ করে তাদেরকে গুলি করে হত্যা করেছে। সেই গুলিতে অন্যান্য বিপ্লবীদের সাথে সিদ্ধার্থ সরদারও নিহত হয়েছে। এই কথা শুনে আমরা ভীষণ মুষড়ে পড়লাম। আমি কথা বলার শক্তিহারিয়ে ফেললাম। সেদিন আর আমাদের সিদ্ধার্থ ভাইয়ের গানের রেকর্ড হওয়া স্টুডিওতে যাওয়া হলো না। সেদিন কি আর কোন দিনই যাওয়া হয়নি। ”
এই বলে দাদু গল্প বলা শেষ করলেন। আর আমি চমকে উঠে বললাম-“আনফেডেড মেমোরি।”