» কারাগারে অসুস্থ নেত্রী

প্রকাশিত: ১১. এপ্রিল. ২০২০ | শনিবার

সিমকী ইমাম খান

১৩

সাবেক তিনবারের সফল প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে ক্ষমতাসীন আওয়ামী দলীয় সরকার রাষ্ট্রযন্ত্র ব্যাবহার করে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য হাসিল করার প্রয়াসে চরম হিংসা নিয়ে চক্রান্তমূলকভাবে ২০১০ সালের ০৮ই আগস্ট তেজগাঁও থানায় জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্টের নামে সু-পরিকল্পিত মিথ্যা অভিযোগ এনে রাষ্ট্রযন্ত্র ব্যাবহার করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) কে দিয়ে ফরমায়েসী মামলা দায়ের করেন। আমি তখন একজন সহকারী আইনজীবী হিসেবে দেশনেত্রীর ক্ষে দাঁড়িয়েছি ।

জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসনের মামলায় সাজানো নাটকীয় তদন্ত শেষে ২০১২ সালে খালেদা জিয়াসহ চারজনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দেয় দুদক। ২০১৪ সালের ১৯ই মার্চ খালেদাসহ চার আসামির বিরুদ্ধে পরিকল্পিত অভিযোগ গঠন করেন আদালত। সরকারের পক্ষে এক তরফা সাক্ষ্যগ্রহণ কার্যক্রম শেষ হলে দুদকের পক্ষে এই মামলায় যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে পাঁচ বছরের সাজার রায় ঘোষণা করা হয়েছে। রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ ও আলোচিত এই মামলার রায়ের ফলাফল ও এর সম্ভাব্য প্রতিক্রিয়া নিয়ে দেশে স্বাভাবিকভাবেই একধরনের উদ্বেগ ও আতঙ্কের পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। অবশেষে ২০১৮ সালের ৮ই ফেব্রুয়ারি বড় কোনো ধরনের অঘটন ছাড়াই রায় প্রদান সম্পন্ন হয়েছে।

ওই বছরকে নির্বাচনের বছর হিসেবে বিবেচনা করা হয়, সেই হিসেবে এই মামলার রায়ের একটি সুদূরপ্রসারী তাৎপর্য রয়েছে। সাবেক সামরিক স্বৈরশাসক এরশাদ দুর্নীতির মামলায় দণ্ড ভোগ করলেও এই প্রথম দেশের কোনো নির্বাচিত সরকারপ্রধান দুর্নীতির মামলায় দণ্ডিত হলেন। ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচন বর্জন করায় সংসদের বাইরে থাকলেও বিএনপি এবং দেশনেত্রী খালেদা জিয়া দেশের প্রধান বিরোধী রাজনৈতিক শক্তি হিসেবেই বিবেচিত। মামলায় খালেদা জিয়ার কারাদণ্ড দেশের রাজনীতিকে এক নতুন হিসাব-নিকাশের মধ্যে ফেলে দিয়েছে।

ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৫ সরকারি অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে খালেদা জিয়াকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেওয়ার পাশাপাশি তাঁর পুত্র ও দলের সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানসহ আরও চারজনকে ১০ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন। এ ছাড়া অভিযুক্ত ব্যক্তিদের সর্বমোট ২ কোটি ১০ লাখ ৭১ হাজার ৬৭১ টাকা জরিমানা দিতে বলেছেন। বিএনপির তরফে এই রায় প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে । এবং এই রায়কে ‘প্রতিহিংসামূলক’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন।

বিএনপির দুই শীর্ষ নেতৃত্বের জেল ও জরিমানা হওয়ায় এই রায় যে দেশের আগামী দিনের রাজনীতির ওপর প্রভাব ফেলছে, তাতে কোনো সন্দেহ নেই। কারণ, এই মামলার রায় ও সামনের দিনগুলোতে এর পরিণতির ওপর খালেদা জিয়ার একাদশ জাতীয় নির্বাচনে অংশগ্রহণ করা বা না করার সম্পর্ক রয়েছে। কিন্তু এ ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিকটি হচ্ছে শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখা। কোনো কারণে শান্তিশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হলে তা দেশে একটি অবাধ, সুষ্ঠু, গ্রহণযোগ্য এবং অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের পরিস্থিতিকে বাধাগ্রস্ত করতে পারে।

জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলার রায় প্রদানের তারিখ ৮ই ফেব্রুয়ারি নির্ধারিত হওয়ার পর থেকেই দিনটিকে ঘিরে নানা মহলে উত্তেজনার আশঙ্কা করা হয়েছিল। সরকার এ ব্যাপারে কঠোর অবস্থান নেওয়ার ঘোষণা দিয়ে দেশব্যাপী ধরপাকড় চালায়। ৭ তারিখ বিকেল থেকে ঢাকাকে কার্যত বিচ্ছিন্ন করে ফেলা হয়। এমন পরিস্থিতির মধ্যে রায় শোনার জন্য খালেদা জিয়া আদালতে যান। যাত্রাপথে বিচ্ছিন্ন কিছু ঘটনা ঘটলেও খালেদা জিয়া আদালতে যাওয়ার পরই রায় ঘোষণা করা হয়। রায় ঘোষণার পর বিএনপির পক্ষ থেকে জনগণকে রাস্তায় নেমে আসতে বলা হলেও শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদের কথা বলা হয়েছে। দলটির নেতৃত্বকে যেকোনো মূল্যে তা নিশ্চিত করতে হবে। এর আগে সুপ্রিম কোর্টের সামনের রাস্তায় খালেদা জিয়ার গাড়িবহরের পেছনের মিছিল থেকে যেভাবে হামলা হয়েছে মগবাজার এলাকায় যে ঘটনা ঘটেছে, তার পুনরাবৃত্তি কোনোভাবে কাম্য নয়। অন্যদিকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকেও সংযত থাকতে হবে।

বিএনপি চেয়ারপার্সন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে বর্তমান ক্ষমতাসীন সরকার রাজনৈতিক উদ্দেশ্য প্রনোদিতভাবে গভীর চক্রান্ত করে তার নামে বিভিন্ন সময়ে সর্বমোট ৩৬টি মামলা মামলা দায়ের করেন যাহার মধ্যে দুর্নীতির ৫টি মামলা রয়েছে । ২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি বকশীবাজারে কারা অধিদফতরের প্যারেড গ্রাউন্ডে ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৫-এর বিচারক ড. মোঃ আখতারুজ্জামান জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় তাকে ৫ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেন। সেদিন থেকেই কারাগারে আছেন সাবেক এ প্রধানমন্ত্রী।

জিয়া অরফানেজ ও জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলায় ১৭ বছরের সাজা মাথায় নিয়ে ২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি থেকে কারাগারে চলে যান বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া।

অসুস্থতার কারণে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) প্রিজন সেলে চিকিৎসাধীন ছিলেন তিনি।

মিথ্যা মামলায় কারাবন্দি বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া আগে থেকেই নানা শারীরিক জটিলতায় ভুগছিলেন।
কারাগারে যাওয়ার পর তার সেই শারীরিক জটিলতা আরও বেড়েছে। বর্তমানে তার রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিস মারাত্মক অবস্থায় রয়েছে। এটার যথাযথ চিকিৎসা না হওয়ার কারণে তিনি প্রায় পঙ্গু হয়ে গেছেন। তাকে পঙ্গুত্বের দিকে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে। এ অবস্থায় অবিলম্বে উন্নত চিকিৎসা দরকার তার। দেশে বা বিদেশে উন্নত চিকিৎসার জন্য খালেদা জিয়ার জামিন দাবি করে আসছেন বিএনপি দলীয় নেতাকর্মী।

‘তিনি নিজের হাতে খাবারও খেতে পারেন না। তার সঙ্গে যে থাকে সে চামচ দিয়ে খাইয়ে দেয়। নিজে নিজে কিছুই করতে পারেন না। কোথাও যেতে হলে হুইলচেয়ারে নিতে হয় তাকে। অন্যের সাহায্য ছাড়া কিছুই করতে পারেন না তিনি।’

খালেদা জিয়ার ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রিত করা যাচ্ছে না জানিয়ে বিশিষ্ট এ চিকিৎসক আরও বলেন, তার ডায়াবেটিস ১১ থেকে ২২ এর মধ্যে ওঠানামা করছে। ইনসুলিন ও ট্যাবলেট দেওয়ার পরও তা কন্ট্রোলে আসছে না। হাইকোর্টের আপিল বিভাগে যে রিপোর্ট দেয়া হয়েছে, তাতে বলা হয়েছে ডায়াবেটিস আশানুরূপভাবে কন্ট্রোলে আসছে না। এছাড়া তার দাঁতেরও সমস্যা রয়েছে।

চলবে

এই সংবাদটি পড়া হয়েছে ৪৭৪ বার

Share Button

Calendar

December 2020
S M T W T F S
 12345
6789101112
13141516171819
20212223242526
2728293031