» জীবন থেকে কিছু কথা

প্রকাশিত: ০১. এপ্রিল. ২০২০ | বুধবার

সিমকী ইমাম খান

আজ আমার মা দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে নিয়ে কিছু আলোচনা করতে চাই । তিনি ১৯৪৬ সালের ১৫ আগস্ট ভারতের জলপাইগুড়িতে জন্ম গ্রহণ করেন।তখন ব্রিটিশ আমল । দেশ ভাগ হয় নি । তাদের আদি পিতৃ-ভিটা ছিল ফেনী জেলার ফুলগাজী উপজেলার শ্রীপুর গ্রামের মজুমদার বাড়ী। তার পিতামহ হাজী সালামত আলী ছিলেন ফেনি জেলারই মানুষ । আর মাতামহ ছিলেন জলপাইগুড়ির তোয়াবুর রহমান। বেগম খালেদার বাবা ইস্কান্দর মজুমদার এবং মা বেগম তৈয়বা মজুমদার। বাবা ইস্কান্দর মজুমদার ছিলেন একজন ব্যবসায়ী। তিনি ১৯১৯ সালে ফেনী থেকে জলপাইগুড়ি যান। তার এক বোন তখন জলপাইগুড়ি থাকতেন ।তিনি সেই বোনের বাসায় থেকে মেট্রিক পাস করেন ও পরে চা ব্যবসায়ে জড়িত হন। ১৯৩৭ সালে জলপাইগুড়িতে বিয়ে করেন। জলপাইগুড়ির নয়াবস্তি এলাকায় ১৯৪৭ সাল পর্যন্ত বসবাস করেন। দেশভাগের পর তিনি সপরিবারে দিনাজপুর শহরে চলে আসেন । সেখনে মুদিপাড়া এলাকায় বাড়ি করেন । ইস্কান্দর মজুমদার ১৯৮৪ সালের ১৫ নভেম্বর মৃত্যুবরণ করেন। মা বেগম তৈয়বা মজুমদার ছিলেন একান্ত ভাবে একজন গৃহিনী। তিনি বেগম খালেদা জিয়ার সঙ্গেই থাকতেন।

বেগম খালেদা জিয়ার প্রকৃত নাম ছিল খালেদা খানম, ডাক নাম পুতুল। ১৯৪৬ সালের ১৫ আগস্ট জলপাইগুড়িতে তিনি জন্ম গ্রহণ করেন। তিন বোন এবং দুই ভাইয়ের মধ্যে তিনি ছিলেন তৃতীয়। ভাইয়েরা সবার ছোট।
খালেদা জিয়ার স্কুলজীবন শুরু হয় পাঁচ বছর বয়সে দিনাজপুরের মিশন স্কুলে। এরপর দিনাজপুর গার্লস স্কুলে ভর্তি হন। ছোটবেলা থেকেই তাঁর প্রতিভার স্ফুরণ ঘটেছিল ।

খালেদা জিয়ার স্বামী বাংলাদেশের সাবেক রাষ্ট্রপতি লেফটেন্যান্ট জেনারেল জিয়াউর রহমান বীরউত্তম। ছোট ভাই মেজর(অবঃ) সাইদ ইস্কান্দার বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল থেকে ফেনী-১ আসনের নির্বাচিত সংসদ সদস্য ছিলেন। তার দুই ছেলের মধ্যে বড় তারেক রহমান (জন্মঃ ২০ নভেম্বর ১৯৬৭) বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের ১ম ভাইস-চেয়ারম্যান। বর্তমানে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান । কনিষ্ঠ ছেলে আরাফাত রহমান কোকো (১২ আগস্ট ১৯৭০ – ২৪ জানুয়ারি ২০১৫)। আরাফাত রহমান কোকো ২০১৫ সালের ২৪ জানুয়ারি মালয়েশিয়ার ইউনিভার্সিটি মালায়া হাসপাতালে হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে মারা যান।আরাফাত রহমান একজন ব্যবসায়ী ছাড়াও বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড ও সিটি ক্লাবের সাথে যুক্ত ছিলেন।

১৯৬০ সালের আগস্ট মাসে জিয়াউর রহমানের সাথে তার বিয়ে হয়। জিয়াউর রহমানের ডাক নাম কমল। জিয়া তখন ছিলেন পাকিস্তান সেনাবাহিনীর একজন ক্যাপ্টেন। ডি জি এফ আই এর অফিসার হিসাবে তখন দিনাজপুরে কর্মরত ছিলেন।
১৯৬৫ সালে খালেদা জিয়া স্বামীর সাথে পশ্চিম পাকিস্তানে (বর্তমানে পাকিস্তান)যান। ১৯৬৯ সালের মার্চ পর্যন্ত করাচিতে ছিলেন। এরপর ঢাকায় চলে আসেন। কিছুদিন জয়দেবপুর থাকার পর চট্টগ্রামে স্বামীর পোস্টিং হলে তার সঙ্গে সেখানে এবং চট্টগ্রামের ষোলশহর এলাকায় বসবাস করেন। মুক্তিযুদ্ধের শুরুতে খালেদা জিয়া কিছুদিন আত্মগোপন করে থাকার পর ১৬ মে নৌপথে ঢাকায় চলে আসেন। বড় বোন খুরশিদ জাহানের বাসায় ১৭ জুন পর্যন্ত থাকেন। ২ জুলাই সিদ্ধেশরীতে এস আব্দুল্লাহর বাসা থেকে পাক সেনারা তাকে দুই ছেলে সহ বন্দী করে। ১৯৭১ সালের ১৫ ডিসেম্বর পর্যন্ত তিনি ঢাকা ক্যান্টনমেন্টে বন্দী ছিলেন। ১৬ ডিসেম্বর বাংলাদেশ স্বাধীন হলে তিনি মুক্তি পান। রাজনীতিতে আসার আগ পর্যন্ত বেগম জিয়া একজন সাধারণ গৃহবধু ছিলেন। জিয়াউর রহমান বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি থাকাকালীনও রাজনীতিতে বেগম জিয়ার উপস্থিতি ছিল না।

১৯৮১ সালের ৩০ মে এক ব্যর্থ সামরিক অভুত্থ্যানে জিয়াউর রহমান নিহত হন। পরবর্তীকালে গণতান্ত্রিক বিএনপি সরকারকে হটিয়ে দিয়ে ক্ষমতা দখল করে সামরিক একনায়ক হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ ।১৯৮২ সালের ২৪ মার্চ সেনাপ্রধান লেফটেনেন্ট জেনারেল এরশাদ বিচারপতি আব্দুস সাত্তারকে ক্ষমতাচ্যুত করেন। বেগম জিয়া এর বিরোধিতা করেন। কিন্তু সুযোগসন্ধানী নেতাদের কারণে দল ভেঙে টুকরো টুকরো হয়ে যায় । এ অবস্থায় দলে ঐক্য ফিরিয়ে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের বিভিন্ন স্তরের নেতা কর্মিদের আহ্ববানে তিনি ১৯৮২ সালে ৩ জানুয়ারি বিএনপিতে যোগ দেন। ১৯৮৩ সালের মার্চ মাসে তিনি বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান হন। ১৯৮৩ সালের ১ এপ্রিল দলের বর্ধিত সভায় তিনি প্রথম বক্তৃতা করেন। বিচারপতি সাত্তার অসুস্থ হয়ে পড়লে তিনি পার্টির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপার্সন হিসাবে দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৮৪ সালের ১০ মে পার্টির চেয়ারপার্সন নির্বাচনে তিনি বিনা প্রতিদ্বন্দ্বীতায় নির্বাচিত হন। তার নেতৃত্বেই মূলতঃ বিএনপির পূর্ণ বিকাশ ঘটে । সেদিন তিনি দলের নেতৃত্ব না নিলে ওইদল হয় তো তখনই ধংস হয়ে যেতো ।

   ১৯৮৩ সালের বেগম জিয়ার নেতৃত্বে সাত দলীয় ঐক্যজোট গঠিত হয়। একই সময় এরশাদের সামরিক শাসনের বিরুদ্ধে আন্দোলন শুরু হয়। বেগম জিয়া প্রথমে বিএনপিকে নিয়ে ১৯৮৩ এর সেপ্টেম্বর থেকে ৭ দলীয় ঐক্যজোটের মাধ্যমে এরশাদ বিরোধী আন্দোলন শুরু করেন। একই সময় তার নেতৃত্বে সাত দল আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন পনের দলের সাথে যৌথভাবে আন্দোলনের কর্মসূচী শুরু করে। ১৯৮৬ সাল পর্যন্ত পাঁচ দফা আন্দোলন চলতে থাকে। কিন্তু ১৯৮৬ সালের ২১ মার্চ রাতে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা এরশাদের অধীনে নির্বাচনে অংশ নেয়ার সিধান্ত নিলে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনে বাঁধার সৃষ্টি হয়। ১৫ দল ভেঙ্গে ৮ দল ও ৫ দল হয়। ৮ দল নির্বাচনে যায়। এরপর বেগম জিয়ার নেতৃত্বে ৭ দল, পাঁচ দলীয় ঐক্যজোট আন্দোলন চালায় এবং নির্বাচন প্রত্যাখান করে। ১৯৮৭ সাল থেকে খালেদা জিয়া “এরশাদ হটাও” এক দফার আন্দোলন শুরু করেন। এর ফলে এরশাদ সংসদ ভেঙ্গে দেন। পুনরায় শুরু হয় ৭ দল, ৮ দল ও ৫ দল  মিলে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন। 

অবশেষে দীর্ঘ আট বছর একটানা নিরলস ও আপোসহীন সংগ্রামের পর ১৯৯১ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত সংসদ নির্বাচনে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে বিএনপি। খালেদা জিয়া বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হন। সেই নির্বাচনে খালেদা জিয়া মোট পাঁচটি আসনে অংশ নিয়ে পাঁচটিতেই জয়লাভ করেন।

১৯৯১ সালের ১৯ মার্চ বেগম খালেদা জিয়া পঞ্চম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারে প্রধানমন্ত্রী নিযুক্ত হন। তার সরকার দেশে সংসদীয় পদ্ধতির সরকার কায়েম করে। ২ এপ্রিল তিনি সংসদে সরকারের পক্ষে এই বিল উত্থাপন করেন। একই দিন তিনি তত্ত্বাবধায়ক সরকার প্রধান বিচারপতি শাহাবুদ্দিন আহমেদ কে স্বপদে ফিরে যাবার ব্যবস্থা করে একাদশ সংশোধনী বিল আনেনে। ৬ আগস্ট ১৯৯১ সালের সংসদে সর্বসম্মতিক্রমে দুটি বিল পাশ হয়।

১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি ষষ্ঠ জাতীয় সংসদ নির্বাচন হয়।   খালেদা জিয়া ও তার দল এই  নির্বাচন করেন। আওয়ামী লীগ সহ সব বিরোধী দল এই নির্বাচন বয়কট করে। এই সংসদ মাত্র ১৫ দিন স্থায়ী হয়। খালেদা জিয়া এই সংসদের ও প্রধানমন্ত্রী ছিলেন। প্রবল  আন্দোলন ও বর্হিবিশ্বের চাপে ষষ্ঠ জাতীয় সংসদে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের বিল পাস হয় এবং খালেদা জিয়া পদত্যাগ করেন।

১৯৯৬ সালে সপ্তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি মোট ১১৬ আসনে জয় লাভ করে, যা সরকার গঠনে যথেষ্ঠ ছিল না। আওয়ামী লীগ মোট ১৪৭ আসন লাভ করে, তারা জাতীয় পার্টির সমর্থন নিয়ে সরকার গঠন করে। বিএনপি সপ্তম সংসদে বাংলাদেশের ইতিহাসে সর্ববৃহত্ বিরোধী দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে। বেগম খালেদা জিয়া আওয়ামী লীগের পাঁচ বছর শাসনকালে সংসদে বিরোধী দলনেত্রী ছিলেন ।

অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে বিএনপি জামাতে ইসলামী, ইসলামী ঐক্যজোট ও জাতীয় পার্টির সাথে চারদলীয় ঐক্যজোট গঠন করে। ২০০১ সালের ১ অক্টোবর সংসদ নির্বাচনে চারদলীয় ঐক্যজোট বিপুল ভোটে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করে। খালেদা জিয়া এই সংসদেও প্রধানমন্ত্রী দায়িত্ব পালন করছেন। ২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবর এই সংসদের মেয়াদ শেষ হয়। আমি সে সময় বিএনপির একজন কর্মী হয়ে কাজ করেছি। কখনো দলীয় পদ বা সুযোগ সুবিধা চাই নি ।

২০০৮ সালের ডিসেম্বর মাসে অনুষ্ঠিত নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে চারদলীয় ঐক্যজোট বিপুল ভোটের ব্যবধানে পরাজিত হয়। মহাজোটের প্রায় ২৬০ টি আসনের বিপরীতে চার দলীয় ঐক্যজোট মাত্র ৩২টি আসন লাভ করে।

বেগম খালেদা জিয়ার সরকার প্রথম মেয়াদে শিক্ষাক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি সাধন লেখাপড়ার মান উন্নয়ন ও সেই সময়ে অবৈতনিক ও বাধ্যতামূলক প্রাথমিক শিক্ষা প্রবর্তন, দশম শ্রেণি পর্যন্ত ছাত্রীদের বিনা বেতনে লেখাপড়ার সুযোগ প্রদান, ছাত্রীদের জন্য উপবৃত্তি প্রবর্তন ও শিক্ষার বিনিময়ে খাদ্য কর্মসূচি চালু হয়
এবং দেশের অনেক বে-সরকারী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে(স্কুল/কলেজ) সরকারী করন এবং বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন।চিকিৎসা খাতে সেবার মান বৃদ্ধি,খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করন,রাস্তা-ঘাট মেরামত এবং নতুন নতুন রাস্তা ও ব্রীজ-কালভার্ট নির্মান,সরকারী বন্ধ কলকারখানা চালু,বেসরকারী বিনিয়োগ খাতে উন্নয়ন, দেশের অর্থনৈতিক চাকা গতিশীল করতে সার্বিকভাবে তার সরকার এবং মন্ত্রী পরিষদ কে জোড়ালো ভাবে কাজে লাগিয়ে দেশের উন্নয়নে কাজ করে গিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া সততা ও নিষ্ঠায় সুন্দরভাবে দেশ পরিচালিত করে জনগনের মনজয়, অর্থনৈতিকভাবে স্বনির্ভরশীল দেশ গঠন এবং সার্বিকভাকে দেশের ভাবমূর্তি উজ্জল করার। তাঁর সময়ে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি দেশব্যাপী একটি সামাজিক আন্দোলনে রূপ নেয়। তাঁর সরকারই যমুনা বহুমুখী সেতুর নির্মাণ কাজ শুরু করেন। দক্ষিণ এশীয় আঞ্চলিক সহযোগিতা সংস্থাকে (সার্ক) আরও গতিশীল করার ক্ষেত্রে খালেদা জিয়া প্রশংসনীয় ভূমিকা রাখেন।

দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সরকারের ক্ষমতার মেয়াদ শেষ হওয়ার পর পরবর্তী ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ষষ্ঠ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি দ্বিতীয় বারের মত পূনঃরায় নির্বাচিত ভাবে ক্ষমতায় আসেন।
বিএনপি জয়যুক্ত হওয়ার পর খালেদা জিয়া দ্বিতীয় মেয়াদে প্রধানমন্ত্রীর পদে আসীন হন।এক নাগারে দুই মেয়াদে রাষ্ট্র ক্ষমতায় বেগম খালেদা জিয়া ক্ষমতায় আসায় বিরোধী দলীয় কূ-চক্রী মহল ও আন্তর্জাতিক মহলের বেশ কিছু ষড়যন্ত্রকারীগন চক্রান্ত করে সদ্য নির্বাচনের ফলাফলকে প্রশ্নবিদ্ধু করে সন্ত্রাসী তান্ডবের মাধ্যেমে দেশব্যাপী জন সাধারনের জানমালের ক্ষতি, হত্যা, খুন ও গুম করতে থাকে। এমতাবস্থায় দেশের আপামোর জনগনের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিএনপি দলীয় সিদ্ধান্তমতে দেশকে আন্তর্জাতিক মহলের ষড়যন্ত্রের হাত থেকে রক্ষা করতে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া নিজ ইচ্ছায় ক্ষমতা ছেড়ে দিয়ে উদ্ভূত রাজনৈতিক সংকট উত্তরণের লক্ষ্যে সংবিধানের ত্রয়োদশ সংশোধনীর মাধ্যমে জাতীয় নির্বাচন পরিচালনার জন্য নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের বিধান সংবিধানে সন্নিবেশিত করে ষষ্ঠ জাতীয় সংসদ ভেঙে দেওয়া হয় এবং খালেদা জিয়া ১৯৯৬ সালের ৩০ মার্চ একটি নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করেন। ১৯৯৬ সালের ১২ জুন বিচারপতি মুহাম্মদ হাবিবুর রহমানের নেতৃত্বাধীন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে অনুষ্ঠিত তৎকালীন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দেশী-বিদেশী ষড়যন্ত্রকারীদের প্ররোচনায় নির্বাচন পরিচালনা কর্মকর্তা ও কূশলী দোসরদের যোগসাজোগে বিএনপি’র নিশ্চিত পূনঃবিজয়ের লক্ষন বুঝতে পেরেই চক্রান্তকারীগন বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে গভীর ষড়যন্ত্র করে ভোটের ফলাফল কারচুপির মাধ্যেমে আওয়ামীলীগকে বিজয়ী দল হিসেবে ঘোষনা করা হয়। আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে (১৯৯৬-২০০১) সংসদে বিরোধী দলীয় নেত্রী হিসেবে খালেদা জিয়া বলিষ্ঠ ভূমিকা রাখেন। ২০০১ সালের ১ অক্টোবর বিচারপতি লতিফুর রহমানের নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে বিএনপি নেতৃত্বাধীন চার-দলীয় জোট সংসদে দুই-তৃতীয়াংশেরও অধিক আসনে বিজয়ী হয়। ২০০১ সালের ১০ অক্টোবর খালেদা জিয়া তৃতীয়বারের মতো দেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন।

প্রধানমন্ত্রী হিসেবে খালেদা জিয়ার তৃতীয় মেয়াদের উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য ছিল: রপ্তানি আয় ও বিদেশ থেকে প্রবাসী কর্মীদের পাঠানো রেমিটেন্স দ্রুত বৃদ্ধি, শিল্প ও টেলিযোগাযোগ খাতের দ্রুত বিকাশ, সরাসরি বৈদেশিক বিনিয়োগের ক্ষেত্রে ঊর্ধ্বমুখী ধারা, আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নকল্পে অপারেশন ক্লিন হার্ট ও র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব) গঠন এবং জেএমবি ও হুজিসহ ইসলামী মৌলবাদী ও জঙ্গিবাদী গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে সর্বাত্বক অভিযান। মেয়াদ শেষে তিনি ২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবর তত্ত্বাবধায়ক সরকারের নিকট দায়িত্ব হস্তান্তর করেন। ২০০৭-০৮ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের শাসনামলে তাঁর বিরুদ্ধে কয়েকটি দুর্নীতির মামলা রুজু করে তাঁকে প্রায় একবছর কারাবন্দী রাখা হয়। ২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বর নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে অনুষ্ঠিত নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে খালেদা জিয়ার দল বিএনপি মাত্র ৩০টি আসনে জয়ী হয়। বিএনপির সেই দুর্দিনে আমি দেশনেত্রীর পাশে গিয়ে দাঁড়াই । যেভাবে মায়ের পাশে দাঁড়ায় তার আদরের মেয়ে ।

এডভোকেট সিমকী ইমাম খান ঃ সদস্য, বিএনপি জাতীয় নির্বাহী কমিটি

এই সংবাদটি পড়া হয়েছে ৩২৯৫ বার

Share Button