» ছাত্র জীবন থেকে আমি বেগম জিয়ার অনুসারী

প্রকাশিত: ৩০. মার্চ. ২০২০ | সোমবার

সিমকী ইমাম খান

৩,

আগেই বলেছি,কলেজে ভর্তি হবার পরেই আমার বিয়ে হয়ে যায় । তাই রাজনীতি সচেতন হলেও সক্রিয় রাজনীতি করার সুযোগ ছিল না আমার । তবু বেগম খালেদা জিয়াকে খুব ভাল লাগতো । অল্প বয়সে মাকে হারিয়েছিলাম।খালেদা জিয়ার ছবি দেখলে কেন যেন আমার মায়ের কথা মনে পড়তো।ভাবতাম, একদিন আমি তার মতো রাজনীতিবিদ হবো ।
কলেজে পড়া অবস্থায়ই আমি শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের জাতীয়তাবাদী আদর্শে আস্থা ও বিশ্বাস রাখতে শুরু করি । দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক গুণাবলী এবং বলিষ্ঠ নেত্রীত্বের প্রতি আকৃষ্ট হয়ে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি’র অঙ্গ সংগঠন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাএদলে যোগদান করি।
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপি’র প্রতিষ্ঠাতা,স্বাধীনতার ঘোষক,সাবেক সেনা প্রধান,শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান স্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্রের আপামর জনসাধারণের জীবনমান উন্নয়ন,বহুদলীয় গনতন্ত্রের প্রতিষ্ঠা,ক্ষুধা ও দারিদ্রতা বিমোচন,কৃষি বিপ্লবের মাধ্যেমে দেশের অর্থনৈতিক মুক্তি, আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে বিশেষ ভূমিকা পালনসহ বাংলাদশকে একটি সুখী সমৃদ্ধ দেশ হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষে নিরলস কাজ করেছেন। শহীদ জিয়ার জাতীয়তাবাদী আদর্শ প্রতিষ্ঠায় তার পরিকল্পনাগুলো বাস্তবায়ন করার আগেই দেশী-বিদেশী কু-চক্রান্তকারীদের প্ররোচনায় বিপথগামী সামরিক অফিস্যার ও সৈনিক ঘাতকদের বুলেটের আঘাতে চট্রোগ্রামের সার্কিট হাউজে ১৯৮১ সালের ৩০শে মে রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান নির্মম হত্যাকান্ডের শিকার হন।

  শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের অকাল মত্যুর পর তাঁর প্রতিষ্ঠিত দল "বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপি" কঠিন সংকটের সম্মুখীন হয়। দলের তৎকালীন চেয়ারম্যান এবং দেশের রাষ্ট্রপতি বিচারপতি আবদুস সাত্তারকে সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল এরশাদ এক সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে উৎখাত করেন এবং ১৯৮২ সালের ২৪ মার্চ দেশে সামরিক আইন জারি করেন। শহীদ জিয়ার অবর্তমানে তার পরিকল্পনাগুলো বাস্তবায়নের লক্ষে এবং বিএনপিকে পুনঃগঠিত করতে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সহধর্মিনী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া দলীয় সকল নেত্রীবৃন্দের বিশেষ অনুরোধে দলের এ সংকটকালে ১৯৮৩ সালের মার্চ মাসে সহ-সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহন করেন এবং ১৯৮৪ সালের ১০ মে মাসে চেয়ারপার্সন পদে নির্বাচিত হন। আমি যতদূর জানি, তিনি ইচ্ছে করে রাজনীতিতে আসেন নি । দেশের প্রয়োজনে সেদিন তাকে দলের হাল ধরতে হয়েছিল ।


   দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া দলের হাল ধরার পর থেকেই দলের সংকটগুলো উত্তরনে বিশেষ ভূমিকা পালন করেন। শহীদ জিয়ার জাতীয়তাবাদী আদর্শ প্রতিষ্ঠার লক্ষে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া প্রতিটা বিভাগীয় শহর থেকে শুরু করে জেলা শহর, নগর, বন্দরে নিজে গিয়েছেন এবং প্রান্তিক পর্যায়ের মানুষদের মাঝে জাতীয়তাবাদী নীতি ও আদর্শ পৌছে দিয়েছেন। দলকে সু-সংগঠিত করতে নেতা-কর্মীদের মাঝে সমন্বয় করে তারুন্য নির্ভর, যোগ্যতা সম্পন্ন নেত্রীত্বের অধিকারী ব্যাক্তিদের নিয়ে কমিটি তৈরী করে দলের ইমেজ বৃদ্ধি ও দ্রুত পরিবর্তন এবং গতিশীল করে সমগ্র বাংলাদেশে পরিকল্পিতভাবে সাধারণ মানুষের মাঝে জাতীয়তাবাদী আদর্শ পৌছে দিয়ে অল্প দিনের মধ্যেই ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করেন। বেগম খালেদা জিয়া তার রাজনৈতিক ও মহৎ আদর্শিক গুনাবলী দিয়ে বাংলার প্রতিটি মানুষের মন জয় করে নিয়েছিলেন এই কা্রণেই দেশের সকল জনগন তাকে "দেশনেত্রী" খেতাবে ভূষিত করেন।

       বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে  বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপি ১৯৮৩ সালে সাত দলীয় জোট গঠন করে  রাষ্ট্র ক্ষমতায় থাকা স্বৈরাচারী জেনারেল হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদের স্বৈরশাসনের বিরুদ্ধে আপসহীন সংগ্রামে অবতীর্ণ হয়।  দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার তূণমুল জন প্রিয়তার খবর  পত্র-পত্রিকা এবং টিভি নিউজে সয়লাব থাকতো। আমি  ওই  সময়ে মহিলা কলেজে ইন্টারমিডিয়েটে অধ্যারনরত অবস্থায় শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের জাতীয়তাবাদী আদর্শে আস্থা ও বিশ্বাস রেখে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক গুনাবলী এবং বলিষ্ঠ নেত্রীত্বের প্রতি আকৃষ্ঠ হয়ে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপি'র অঙ্গ সহযোগী দল "বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাএদলে" যোগদান করি। জাতীয়তাবাদী ছাএদলের কর্মী হিসেবে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নেত্রীত্ব প্রতিষ্ঠায় কলেজ ক্যাম্পাসে কাজ করেছি এবং বিএনপি'র দলীয় সকল প্রকার কর্মসূচীগুলোতে তৎকালীন সময়ে নিয়মিতভাবে অংশগ্রহন করেছি। জাতীয়তাবাদী রাজনীতির প্রতি আস্থা ও বিশ্বাস রেখে শত বাঁধা বিপত্তি উপেক্ষা করে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার প্রতিটি নির্দেশগুলো শ্রোদ্ধার সঙ্গে  পালন করার চেষ্টা করেছি। 


      স্বৈরাচারী সরকার এরশাদের  পতনের লক্ষ্যে আপসহীনভাবে কাজ করতে গিয়ে দীর্ঘ নয় বছর ব্যাপী আন্দোলন ও সংগ্রাম করতে গিয়ে বিভিন্ন সময়ে নানা বিঘ্ন বিপদের মুখে পড়েছেন ।  স্বৈরশাসকের নিষেধাজ্ঞামূলক আইনের দ্বারা বেগম জিয়ার স্বাধীনভাবে চলাফেরা বাধাগ্রস্ত করেছিল । দীর্ঘ নয় বছরে সাতবার অন্তরীণ করা সত্ত্বেও দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া স্বৈরাচার জেনারেল এরশাদকে ক্ষমতাচ্যুত করার আন্দোলনে ক্রমাগত চাপ-প্রয়োগ অব্যাহত রাখেন। জোরপূর্বক রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা ধরে রাখা স্বৈরাচারী সরকার হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদকে ক্ষমতাচ্যূত করার জন্য দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া তাঁর  বলিষ্ঠ নেতৃত্বে দিয়ে একযোগে সারা বাংলাদেশের আপামর জনসাধারণকে সাথে নিয়ে দলীয়ভাবে নানামূখী আন্দোলন, সংগ্রাম, বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করতে থাকেন। অবশেষে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া ,আওয়ামীলীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা ও পাঁচ দলীয় বামজোট মিলে   এরশাদের বিরুদ্ধে  গণঅভ্যুত্থান সংঘটিত করে । ফলে  হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ বিচারপতি সাহাবুদ্দীন আহমদের নেতৃত্বে একটি নির্দলীয় নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের কাছে ১৯৯০ সালের ৬ ডিসেম্বর ক্ষমতা হস্তান্তর করেন।  এর মধ্য দিয়ে  বেগম খালেদা জিয়ার আপসহীন নেত্রীর ইমেজ তৈরী হয় ।  


   পরবর্তীতে ১৯৯১ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বের প্রতি সাধারণ গনমানুষের প্রবল আস্থা ও বিশ্বাসে বিপুল ভোটের মাধ্যেমে "বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপি" একক সংখ্যাগরিষ্ঠ দল হিসেবে নির্বাচিত হয়। দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পাঁচটি নির্বাচনী এলাকা থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে সবগুলি আসনেই বিজয়ী হন।
    ১৯৯১ সালের ২০ মার্চ বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণের মাধ্যেমে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত আসন গ্রহন করলেন। বেগম খালেদা জিয়ার উদ্যোগে রাষ্ট্রপতি-শাসিত থেকে সংসদীয় সরকার ব্যবস্থায় উত্তরণের লক্ষ্যে ১৯৯১ সালের ০৬ আগস্ট জাতীয় সংসদে সংবিধানের ঐতিহাসিক দ্বাদশ সংশোধনী বিল পাস হয়।
   বাংলাদেশে   বিশ্বব্যাংকের সাবেক  কান্ট্রি ডিরেক্টর ক্রিস্টিন আই ওয়ালিক একটি অনুষ্ঠানে বলছিলেন,  "বেগম খালেদা জিয়া ১৯৯১ সালে রাষ্ট্র ক্ষমতায় আসীন হয়ে নারী শিক্ষায় যে অভূতপূর্ব সফলতা অর্জন করেছেন তিনি যদি আর কখনো প্রধানমন্ত্রী নাও হন তথাপি বাংলাদেশ কেবল এই একটি কাজের জন্যেই তাঁকে  শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করবে।" 
   আমরা যারা বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদকে আমাদের আদর্শ, ধ্যান-জ্ঞান করেছি, আমাদের উচিত হবে বেগম জিয়াকে আরো বেশী করে জানা ও মানা। তাঁর রাজনৈতিক দর্শন, কর্মপদ্ধতি, কর্মসূচি নিজে পুঙ্খানুপুঙ্খ বিশ্লেষণ করে ইতিবাচকভাবে আরো বেশী করে জনতার মাঝে ছড়িয়ে দেওয়া। তবেই না নিপীড়িত জনতা পাবে বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদ নামক আদর্শের প্রকৃত স্বাদ। এখান থেকেই শুরু হোক আমাদের ।

(চলবে )

এডভোকেট সিমকী ইমাম খান ঃ সদস্য, বিএনপি জাতীয় নির্বাহী কমিটি

এই সংবাদটি পড়া হয়েছে ৩১৮৪ বার

Share Button

Calendar

August 2020
S M T W T F S
 1
2345678
9101112131415
16171819202122
23242526272829
3031