» সুইডেনে জনপ্রিয় হয়ে উঠছে মাইক্রোচিপ প্রযুক্তি

প্রকাশিত: ৩০. জুলাই. ২০১৯ | মঙ্গলবার

অনলাইন ডেস্কঃ কথায় বলে ‘হাতের মুঠোয় দুনিয়া’। এই প্রবাদ বাক্যকে প্রায় বাস্তবে রূপ দিয়েছে সুইডেন। হাতের মুঠোয় না হলেও হাতের ছোঁয়ায় সেখানে মিলছে নানা সুবিধা। হাতের স্পর্শেই খুলে যাচ্ছে বাড়ি কিংবা অফিসের দরজা। শুধু তাই নয়, হাতের ছোঁয়ায় মিলছে ট্রেন কিংবা কনসার্টের টিকিট কাটা, পণ্যের মূল্য পরিশোধ,কম্পিউটার থেকে প্রিন্ট দেয়াসহ নানা কিছু। শুনতে অবিশাস্য মনে হলেও এমন সুবিধা পাচ্ছেন সুইডেনের নাগরিকরা।

প্রযুক্তির এই সুবিধা পেতে হাতের ভেতর প্রবেশ করাতে হবে একটি মাইেক্রোচিপ। আর এই চিপস পড়তে পারে প্রয়োজনীয় সব গোপন তথ্য। হাতের চামড়ার নীচে প্রবেশ করানো মাইক্রোচিপটি একাধারে ক্রেডিট কার্ড, প্রতিষ্ঠানের পরিচয়পত্র, প্রবেশদ্বা খোলা এবং ট্রেনের টিকেটসহ নানা কাজ করছে। একটি চাল শষ্যের আকৃতির এই চালমাইক্রোচিপটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের সাথে সামঞ্জস্য রেখে এগিয়ে চলছে।

২০১৭ সালের জুন মাসে সুইডেনের একটি ট্রেনের অপারেটর ঘোষণা দেয় তাদের ট্রেনে প্রায় ১০০ যাত্রী এই মাইক্রোচিপস ব্যবহার করছে। এই যাত্রীরা ট্রেনের টিকিট কাটা ও ভাড়া পরিশোধ করেছে হাতের ছোঁয়ায়, এই প্রযুক্তির মাধ্যমে।

সুইডিশরা তাদের সরকার এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উপর যথেষ্ট আস্থা রাখে। নানা গোপনীয় এবং ব্যক্তিগত তথ্য তারা নির্দ্বিধায় সরকারের সঙ্গে শেয়ার করে। এমনকি ব্যক্তিগত সমস্যাও শেয়ার করে। যে কোনো ব্যক্তি তার বেতনও অন্যের সঙ্গে শেয়ার করে। ট্যাক্স কর্মকর্তাকেও তারা খুব সহজেই তাদের তথ্য জানিয়ে দেন।

যদিও বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, একজন ব্যক্তিকে খুব সতর্কতার সাথে এ ধরণের মাইক্রোচিপ ব্যবহার করা উচিৎ। এই চিপটি ব্যবহারের মাধ্যমে গ্রাহকের ব্যক্তিগত তথ্য যেন কোনো ধরণের ঝুঁকিতে না পড়ে সেদিকে সজাগ দৃষ্টি রাখার পরামর্শ তাদের।

মাইক্রোচিপটি বিভিন্ন ধরনের তথ্য সংযোজনের মাধ্যমে তৈরি করা হয়। অনেকেই মনে করেন এর মধ্যে ব্যবহারকারীর সঞ্চিত তথ্য বেহাত বা হ্যাক হতে পারে।

তবে মাইক্রোচিপ ব্যবহার করা আঠারো বছর বয়সী উলিকা সেলসিং নামে এক তরুণী চিপে সংরক্ষিত তথ্যের নিরাপত্তা ঝুঁকি নিয়ে উদ্বিগ্ন নন। তিনি বলেন, ‘এই চিপস আমার সব সমস্যার সমাধান দিচ্ছে। আমি এতে কোনো সমস্যা পাইনি। আমি মনে করি না এখনই চিপ হ্যাক হওয়ার আশঙ্কার কোনো কারণ রয়েছে। তবে ভবিষ্যতে এটি শঙ্কার কারণ হয়ে উঠতে পারে’।

এছাড়াও সুইডেনের একটি গণমাধ্যমের কার্যালয় এই ধরনের চিপস ব্যবহার করছে। এতে তারা বেশ সুফল পেয়েছে। একজন কর্মচারী জানান, এতে কোনো সমস্যা হচ্ছে না। আমি এটি খুব সহজেই ব্যবহার করতে পারছি। এটি দিয়ে প্রিন্ট করা, দরজা খোলাসহ বেশ কয়েকটি কাজ সহজেই করা যাচ্ছে।

সুইডেনে যে চার হাজার মানুষ তাদের শরীরের চামড়ার নীচে মাইক্রোচিপ লাগিয়েছে তাদের মধ্যে এরিক একজন। তিনি চিপ সম্পর্কে বিবিসিকে বলেন, আমার বৃদ্ধাঙ্গুলের গোড়ায় চিপটি লাগানো আছে। আমি যদি আমার আঙ্গুল মুঠো না করি, তাহলে আপনি এটা দেখতেই পাবেন না। এটা সিরিঞ্জ দিয়ে এখানে ঢোকানো হয়েছে। এটা আঙ্গুলে ঢোকাতে মাত্র এক সেকেন্ড সময় লাগে। এটা খুব সহজে কাজ করে। যেভাবে আপনি আপনার গ্যারেজের দরোজা খোলেন, বা অফিসে ঢোকেন, অনেকটা সেরকম।

এই চিপ ব্যবহারকারীদের একটি অংশ যেমন এটিকে খুব ইতিবাচক দৃষ্টিতে চেখছেন, তেমনি এর উল্টোচিত্রও রয়েছে। এদের কেউ কেউ চিপে সংরক্ষিত তথ্য হ্যাকিংয়ের বিষয়টি নিয়ে বেশি উদ্বিগ্ন। এছাড়া দেশটিতে এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোন আইনও তৈরি হয়নি, সেটিও তাদের উদ্বেগের আরেকটি কারণ।


 

এই সংবাদটি পড়া হয়েছে ৮১ বার

Share Button

Calendar

December 2019
S M T W T F S
« Nov    
1234567
891011121314
15161718192021
22232425262728
293031