» সুলতান মনসুরের ভিন্ন কথা

প্রকাশিত: ০৯. ফেব্রুয়ারি. ২০১৯ | শনিবার

মোহাম্মদ অলিদ সিদ্দীকী তালুকদার:

সুলতান মোহাম্মদ মনসুর আহমদ। একজন
রাজনীতিক, ছাত্র রাজনীতি থেকে
জাতীয় রাজনীতি পর্যন্ত যে পদগুলো
অর্জনের জন্য স্বপ্ন দেখেন তার প্রায়
সবগুলো পদই অর্জন করেছেন তিনি। ডাকসুর
ভিপি, বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সভাপতি,
বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক
সম্পাদক। ১৯৯৬ সালে সপ্তম সংসদ
নির্বাচনে মৌলভীবাজার-২ আসনে
আওয়ামী লীগের নির্বাচিত সংসদ সদস্য।
ডাকসাইটে এ নেতাকে নিয়ে বরাবরই
ছাত্রসমাজের মধ্যে ছিলো অন্যরকম ক্রেজ।
সুদর্শন এই নেতার চেহারা ভাবভঙ্গি,
পোশাক পরিধান অনেকটা বঙ্গবন্ধুর অবয়ব।
২০০৭ সালে ওয়ান -ইলেভেন পরবর্তী সময়ে
নানান বিতর্কিত ভূমিকার কারণে
আওয়ামী লীগের রাজনীতি থেকে
অনেকটা বিচ্ছিন্ন থাকেন তিনি।
সংগঠনের পদ-পদবী থেকে বাদ পড়লেও দল
থেকে তাকে বহিষ্কার করা হয়নি। দলের
কার্যক্রম থেকে তিনি নিজকে গুটিয়ে
নিলেও বঙ্গবন্ধুর আদর্শকে ধারণ করেন
মনেপ্রাণে। মুজিব কোটই তার প্রিয়
পোশাক। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে
আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোটের
প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের
প্রার্থী হয়েও সভা-সমাবেশে তিনি
বলতেন বঙ্গবন্ধুর কথা। জয় বাংলা-জয়
বঙ্গবন্ধু বলে বক্তৃতা শেষ করতেন। ৩০
ডিসেম্বরের নির্বাচনে শত প্রতিকূলতা
মোকাবেলা করে তিনি আবারো বিজয়ী
হয়েছেন। এমপি হিসেবে তার শপথ গ্রহণ
করা না করা নিয়ে রাজনীতির ময়দানে
চলছে নানা আলোচনা। গণফোরাম তাকে
নিজ দলের এমপি দাবি করলেও সুলতান
মনসুর বলেছেন ভিন্ন কথা।
জাতীয় জনতা-ফোরামের পক্ষ থেকে তাকে ফুলেল শুভেচ্ছা ও সৌজন্য সাক্ষাত মুহুর্ত সু্লতান মনসুরের সঙ্গে আলাপকালে
তিনি বলেন, আমি বঙ্গবন্ধুর আদর্শের
রাজনীতি করি। আওয়ামী লীগ আমাকে দল
থেকে বহিষ্কার করেনি। আমিও আমার
আদর্শচূত্য হইনি, অন্য কোনো দলে যোগদান
করিনি। এসময় ফুলেল শুভেচ্ছা জানান জনতা-ফোরামের আহবায়ক মোহাম্মদ অলিদ সিদ্দিকী তালুকদার, সদস্য- আবদুল্লাহ আল- মামুন, মিরাজ হোসেন প্রমুখ।
আওয়ামী লীগের অন্যতম প্রতিদ্বন্দ্বী জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থী
হিসেবে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে কেন
নির্বাচন করলেন-এমন প্রশ্নের জবাবে
তিনি বলেন, আমি জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ার
নেতা হিসেবে ঐক্যফ্রন্টের স্ট্রিয়ারিং
কমিটির সদস্য ছিলাম। জাতীয় ঐক্য
প্রক্রিয়া কোনো রাজনৈতিক দল নয়। কিন্তু
ঐক্যফ্রন্ট থেকে নির্বাচনে অংশ নিতে
হলে আমাকে কোনো না কোনো দলের
মনোনীত হতে হবে। সেক্ষেত্রে আমি
আদর্শের অনেকটা কাছাকাছি বলে
গণফোরামকে মনে করেছি। তারাও
আমাকে সে সুযোগ দিয়েছেন। কিন্তু আমি
গণফোরামে আনুষ্ঠানিক যোগ দেইনি। যদি
দিয়েই থাকতাম তাহলে তো নিশ্চই
গুরুত্বপূর্ণ কোনো পদে থাকতাম।
ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচন প্রসঙ্গে
সুলতান মনসুর বলেন, ধানের শীষ এক সময়
ছিলো মাওলানা আব্দুল হামিদ খান
ভাসানী সাহেবের প্রতীক, পরবর্তীতে
বিএনপির। এবার এটাকে ঐক্যফ্রন্টের
প্রতীক হিসেবে সিদ্ধান্ত হওয়ায় আমি এই
প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করেছি। এ নিয়ে
বিতর্কের কোনো সুযোগ নেই বলে দাবি
তার।
শপথ প্রসঙ্গে সুলতান মনসুর বলেন, সময়
এখনো শেষ হয়ে যায়নি। ৯০ দিনের মধ্যে
শপথ নেয়ার বিধান রয়েছে। আমার
নির্বাচনি এলাকার জনগণ শত প্রতিকূল
পরিস্থিতির মধ্যে আমাকে নির্বাচিত
করেছে। আমার প্রথম দায়বদ্বতা তাদের
প্রতি। তাদেরকে আমি সম্মান দেখাতে
হবে। জনগণের অধিকার নিয়ে কথা বলতে
হবে। শপথ নিয়ে নানা বিতর্ক প্রসঙ্গে
তিনি বলেন, কে কি বললো এসব নিয়ে আমি
ভাবছি না। যারা আমাকে বিতর্কিত করার
চেষ্ঠা করছে তাদের কথায় আমি রাজনীতি
করি নাকি? সুলতান মনসুর বলেন, জনগণের
পক্ষে রাজনীতি করা, কথা বলাই আমার মূল
লক্ষ্য।
ডাকসু নির্বাচনকে সাধুবাদ জানিয়ে
সাবেক এই ডাকসু নেতা বলেন, এর মধ্যদিয়ে
রাজনীতিতে নতুন নেতৃত্ব সৃষ্টি হবে।
দেশের সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছাত্র
সংসদ নির্বাচনের দাবিও জানান তিনি।

এই সংবাদটি পড়া হয়েছে ২৩০ বার

Share Button

Calendar

April 2019
S M T W T F S
« Mar    
 123456
78910111213
14151617181920
21222324252627
282930