» সৈয়দ মহসিন আলীর ৭২ তম জন্মদিন আজ

প্রকাশিত: ১২. ডিসেম্বর. ২০১৯ | বৃহস্পতিবার

প্রয়াত সমাজকল্যাণ মন্ত্রী সৈয়দ মহসিন আলীর ৭২ তম জন্মদিন আজ ।২০১৪ সালের ১২ জানুয়ারি সৈয়দ মহসিন আলী গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন। একই দিন তিনি সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্বভার গ্রহণ করেন। বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবদানের স্বীকৃতি স্বরূপ বাংলাদেশ সরকার তাঁকে মরণোত্তর স্বাধীনতা পদকে ভূষিত করেছে ।
সৈয়দ মহসিন আলী ১৯৪৮ সালের ১২ ডিসেম্বর মৌলভীবাজার শহরে শ্রীমঙ্গল সড়কের ‘দর্জি মহল’ এলাকায় এক সম্ভান্ত পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতা সৈয়দ আশরাফ আলী এবং মাতা আছকিরুন্নেছা খানম। সৈয়দ মহসিন আলীর মৃত্যুর পর তাঁর স্ত্রী সৈয়দা সায়রা মহসিন এমপি এবং জাতীয় সংসদের প্যানেল স্পীকার নির্বাচিত হয়েছিলেন । তিনি তিন কন্যা সন্তানের জনক।তারা হলেন শায়লা, সানজিদা ও সাবরিনা ।

জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আদর্শে উজ্জীবিত হয়ে ছাত্রলীগের সদস্য হিসেবে ছাত্রজীবনেই তিনি রাজনৈতিক অঙ্গণে পদচারণা শুরু করেন। ১৯৭১ সালে ২৩ বছর বয়সে তিনি বঙ্গবন্ধুর ডাকে সাড়া দিয়ে বাংলাদেশের স্বাধীনতার জন্য সক্রিয়ভাবে মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন। তিনি যুদ্ধকালীন সিলেট বিভাগ সিএনসি স্পেশাল ব্যাচের কমান্ডার হিসেবে সম্মুখযুদ্ধে নিষ্ঠার সঙ্গে নেতৃত্বদান করেন। মহান স্বাধীনতা যুদ্ধের সম্মুখসমরে আহত হয়েও তিনি বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়ার দৃঢ় প্রত্যয় নিয়ে বাংলদেশকে শত্রুমুক্ত করতে সাহসী বীরের ভূমিকা রাখেন।

২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি প্রথমবারের মতো বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের মনোনয়নে এমপি নির্বাচিত হন। ওই সেশনে তিনি বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

সৈয়দ মহসিন আলী এমপি মৌলভীবাজার পৌরসভা চেয়ারম্যান হিসেবে তিনবার নির্বাচিত হন। তিনি ১৯৯২ সালে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয় থেকে শ্রেষ্ঠ পৌর চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। মন্ত্রী বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট। তিনি ১৯৭৬ থেকে ১৯৮৪ সাল পর্যন্ত মহকুমা/জেলা রেডক্রিসেন্ট- এর সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। জড়িত আছেন বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে। তিনি মৌলভীবাজার চেম্বারের সভাপতি এবং মৌলভীবাজার জেলা শিল্পকলা একাডেমীর সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্বও পালন করেন।

মুক্তিযুদ্ধ ও সমাজসেবায় অসামান্য অবদানের জন্য ভারতের আচার্য দীনেশ চন্দ্র সেন রিসার্চ সোসাইটি তাকে ‘আচার্যদীনেশচন্দ্রসেনস্মৃতি_স্বর্ণপদক-২০১৪’ প্রদান করে এবং ‘হ্যালো কলকাতা’ নামে কলকাতাভিত্তিক একটি সমাজকল্যাণ প্রতিষ্ঠান তাঁকে ‘নেহেরু সাম্য সম্মাননা-২০১৪’ পুরস্কারে ভূষিত করে।

এই সংবাদটি পড়া হয়েছে ৩৫৬ বার

Share Button