» স্মৃতির দেয়ালিকা

প্রকাশিত: ২১. সেপ্টেম্বর. ২০১৮ | শুক্রবার

সিগমা আউয়াল

এখন আমি আর ছেলে মানুষ নই ,
রবিশংকরের ঝঙ্কার শোনা হয় না আর ।
সংসারের ঝঙ্কার শুনতে শুনতে বেলা যে যায় আমার ,
কাকে বলে ভালো থাকা ?
কৃষ্ণচূড়া ফুল দেখলে আবার নতুন করে স্বপ্ন দেখতে ইচ্ছে হয় ।
ইচ্ছে করে তোমার সেই কিশোরী প্রেমিকাটি হয়ে যাই ।
কত দিন কত দিন দেখি না তোমারে, তুমি ও তো দেখনা আমারে ?
দেখতে ইচ্ছে করে ?
আমার অনেক কিছু ইচ্ছে করে তোমার জন্য, জানো— হাতে হাতটা ধরে
চলে যাই অচেনা অজানা কোন এক সুদূরে,নাম না জানা অচিনপুরে ,
ঘাসফুল গুলো মাড়িয়ে ,
হাতে হাত রেখে, ঠোঁটে ঠোঁট ছুঁয়ে।

ছেলে মানুষ আমি আর নেই এখন ,
যে প্রান চঞ্চল মেয়েটা এই বয়সে এসেও,………
না দেখা তোমারে ভালোবেসে পাগল প্রায় ।

এইটুকুন লিখে থামে সর্যূ । কিছু লিখতে বসলেই স্মৃতি জুড়ে শুধু পুরনো অনুভবেরা বাউলি বাতাসে উড়াউড়ি শুরু করে। সহজে থামার নাম নেই। তাই কলমকে ছেড়ে দেয় স্মৃতির ঘোড় সাওয়ারি করে!

মেয়েটির ছেলে মানুষীকে বড্ড ভালো বাসতো রাজু উপভোগ করতো , কিন্তু কোন দুর্বলতা দেখাতো না ইচ্ছে করেই , যে দস্যি মেয়ে ? তাই না ? চোখ রাঙ্গিয়ে কড়া শাসন করতো , তখন চোখ বড় করে অবাক চোখে তাকিয়ে কি ভাবতো রাজু , পাগল না কি ?
এতো বয়স হলো তবু এখনো আগের মতোই রয়ে গেলো? এখনো হাসে, এতো হাসির খোরাক পায় কোথায়?
চোখ বড় করে তুমিও ভাবো বুঝি– পাগল মনে হয় ?

সর্যূর কথা — মনে মনে বলা হৃদয়ের গোপন অলিন্দের মর্ম
বেদনা ——-,
মানুষ যদিও বিরহ গামী ।
তবু ও মিলনে তো মৌলিক ।
বুঝতে পারো তুমি? কখন মেয়েটি তোমার হয়ে গেছে ।
কোন সেই আলো আঁধারি শুভ্র প্রভাতে ,
মায়াবিনী সুর মূর্ছনায়, সুপ্রভাতে ?
তোমারে ছাড়া তার এখন দিন কাটে না রাত কাটে না ।

কত দিন , কতদিন দেখিনা তোমারে- দেখবো কি তোমারে জীবনে ? তবুও প্রান চায় জানতে — কেমন আছো?
—- ভালো আছো তো ? এখনও আগের মতো আমার কথা তোমার মনে
পড়ে ?

সর্যূ এখন তুমি কেমন হয়েছো , সেই রকম তো নেই মনে
হয় , গলি গলি চেহারার আদরের আল্হাদী মেয়েটি ।
হাসি
পায় এখন ও সে সব কথা মনে হলে —- ,
এখন ও কি আগের মতো ছেলে মানুষীতে কারো ঘাড়ে উঠো ?
চিমটি কেটে দৌড়ে পালাও ?
পরিপাটি করা মাথার চুল গুলো এলোমেলো করে দাও??
কাকে দাও ? আমি তো নেই তোমার কাছে ? তবে ~~?

ভালোবাসা কি তাই তো জানতাম না রাজুদা ? কিন্তু একটা অধিকার বোধ
ছিলো ষোল আনা ।
পেট ভরা থাকলেও ফ্রিজ থেকে তোমার
খাবার গুলো আমি খেয়ে নিতাম । স্কুলের বেশ উপরের ক্লাসে পড়তে তুমি । স্কুল থেকে ফিরে যখন নাস্তা খেতে চাইতে তখন
আর তো পেতে না সেই ,খাবার । রাগে গড় গড় করতে করতে
খালাম্মাকে বলতে — আমার নাস্তা কোথায় মা ?
খালাম্মা অবাক হয়ে বলতো — আমাকে জ্বালাচ্ছিস কেন
যেখানে থাকার সেখানেই তো আছে । আছে তো এতো কম ?
আমার ক্ষিদে মিটবে ? কে খেলো তবে , এটা ঠিক সর্যূর কাজ , কোথায় মোটি গলিটা ?
— দেখ হয়তো ইম্মির সাথে বারান্দায় পুতুল খেলছে । কান ধরে হির হির করে আমায় টেনে আনতে খালাম্মার সামনে — এ বার বল আমার খাবার কে খেয়েছে ? — আমি ?
আমি খেয়েছি অদ্ভুত দঢ়তা সাথে বলতো বড় বড় মায়া ভরা চোখে কিসের এক অধিকার ভরা থাকতো । ভালোলাগতো রাজুর ।মেয়েটি সম্পুর্ণ তার নিজের মনে হতো ।
তুই কেন খেলি কি জন্য বল ?

সেদিন খালাম্মা কে বললি না বড় হলে , আমায় বিয়ে করবি ? এটার তার শাস্তি , এবার তুই কলা খা ।
খালাম্মা হেসে গড়িয়ে পড়তেন , — বলতেন কেমন লাগবি আর
ওর পিছনে ? তোর জন্য এমন একটা দজ্জাল ডানপিটে বউ
আমার দরকার । কত কথা ,
কত মধুর স্মৃতি গুলো মনের পর্দায় ভেসে আসে । তোমার কি সব সব মনে আছে রাজুদা ?

কবিতার ভুত চেপেছে যেন সর্যূর কলমে। থামেনা সে! যা আসে ভাবনায় তাই আজ মুক্ত স্বাধীন । আজ মনের অর্গল খুলে দেয় –

রাজিবের কথা — ,
তোমারে যে ভোলা যায়না, সে কথা জানো তুমি, বোঝ কিছু! সেই কাঁচ ভাঙ্গা হাসি দেখে রাগ দেখাতাম ঠিকই কিন্তু বিশ্বাস করো তোমার হাসির ঝঙ্কার এখনো আমায় ভাবায় ।

স্মৃতির অতলে হারিয়ে যেতে যেতে সেই সোনালী দিনগুলো বড় বেশী মনে পড়ে। কেমন আছো তুমি? ভালো আছো তো গলি !!
মিষ্টি ফোলা ফোলা আদুরে চেহারাটা এখনো কি সেই রকম
আহ্লাদি  আছে ? নাকি  বুড়ি বুড়ি হয়ে গেছো ?

জানো? আমি ভালো নেই। বড় বেশী করে তোমার অভাবটা বোধ হয়। ডাক্তারী টা তেমন আজকাল জমে না ।
তোমার তো
আবার ডাক্তার পছন্দ ছিলো না ।
সারাটা দিন বাড়িতেই থাকি, কবিতার বই পড়ি, খবরের কাগজটা আজকাল আর পড়তে ভালো লাগে না। ঘর – বাইরে করেই আছি ।
আবার যদি শৈশবটা ফিরে পেতাম ? ……

তুমিও চমকে যেতে- রাজু দা !
নাকের আগায় চশমা দিয়ে অবাক তাকিয়ে দেখা সেই কিশোরীটি আজ আকাশে অজস্র তারার মেলায় খোঁজে কোনটা শুকতারা আর কোনটা সপ্তর্ষি ?
আকাশের সেই শুকতারা বা সপ্তষি তো তার বন্ধু ছিলে? ছাদে পাটি বিছিয়ে জোছনা রাতে গ্রামের বাড়ির আকাশ কে মনে হতো নীল শাড়িতে হাজার দানার বুটি ।না কি মেঘে মেঘে ভেসে আসা— ঘোড়া চড়া রাজপুত্রের চেহারা। আকাশের দিকে তাকিয়ে মনের ভাবনা মিলিয়ে কখনো দেখতো মেঘ গুলো মানুষের মতো হয়ে যাচ্ছে, কখনো দেখতো গরু জমি চাষ করছে, কখনো দেখতো হাতি, ঘোড়া, সমুদ্র, নদী কত কত রকমে অদ্ভূত সব ছবি । রঙ তুলি ছাড়াই অজস্র ছবি এঁকে ফেলতো ,,,, । যা যা করতে বলতে , যা কিছু শিখিয়েছিলে মনে মনে আকাশে আমি তাইতো করতাম ।
যা বলতে মনে করতাম সেটাই বেদ বাক্য । ছিলো এক মজার খেলা আর সেটাই সত্যি মনে হয়ে যেতো ।

স্মৃতির আয়নায় ফিরে তাকায় বারবার! সর্যূ ,
যেন সময় ঘড়ি চড়ে অতীতে চলে গেছে! যেন সব ভাবনা গুলো আঁকাশে দেখতে পেতো , কোন চলমান স্মৃতি চিত্র – – জিবন্ত ভাবনারা ফুটে ওঠে কলমে – — !

তোমার সময় এখন কেমন কাটে ?
প্রেসারের ওষুধ টা খাও তো ঠিক মতো ?
সকালে হাঁটো তো ?
খালি পায়ে শিশির ভেজা সবুজ ঘাসের মাঠ পেড়িয়ে।
মনে কি পড়ে তোমার
চোখের সামনে ঝকমক নদীর জলে সূর্য ওঠা রোদ্দুরে ঝিলিক তোলা
বাঁধভাঙ্গা হাসির উচছ্বল কিশোরীটিকে,
যার হাসিতে তুমি ও হেসে ফেলতে গম্ভীরতা ভুলে?
মুক্তো দানার মতো হাসিতে হাসতে হাসতে গড়িয়ে পড়তো সেই
এলেকেশী উচ্ছ্বল মেয়ে টি ।

সর্যূ জানে এ লেখা কেউ পড়বে না। কেউ দেবে না এ ভাবনার উত্তর। তবু সতেজ প্রশ্নরা নিত্য জ্বালায় ভাবনায়! মহাকালের কাছেই তাই তার না বলা না পাওয়া সব ভাবনা, প্রশ্নকে একে রাখে সময়ের দেয়ালে – –

একদিন তোমায় না দেখলে সারাটি দিন যার মলিন থাকতো। মুখটা দেখাতো করুন । খিটেখিটে মেজাজ দেখাতো সারাটা বেলা । এখনোও তো কথা হয়না, দেখা হওয়া তো দূরের কথা, তবুও যেটুকু খবর পাই সেটাই আমার জন্য বেশী।
তবুও মাঝে মাঝে স্বাধিকারেই ভাবনারা বড্ড অভিমানি হয়!
আজো তুমি কিছু জানাওনা বলে!
সারাটা ক্ষণ বড্ড চিন্তা হয় – – –
তা কি বোঝ ? বোঝ না এখনো তাই না ? যদি বুঝতে তাহলে বোবার মতো বধিরের মতো ব্যবহার করতে না — ?
কোথায় যাও ? আমায় একটু বললে তোমার কি হয় ?
জানো তো চিন্তা হয় , টেনশন হয় ? ইরানি বউ বাচ্চা নিয়ে তুমি তো ভিন্ন দেশে ভালোই আছো ?
তাহলে কদিন পর পর কেন আমায় বলো — সত্যি আমি
ভালো নেই তোকে আমার বড্ড দরকার ছিলো রে জীবনটাকে
টক , মিষ্টি আর ঝাল করতে ? আর একটু পর পর ঝগড়া করতে !

এই সংবাদটি পড়া হয়েছে ২২৬ বার

Share Button

Calendar

December 2018
S M T W T F S
« Nov    
 1
2345678
9101112131415
16171819202122
23242526272829
3031