» ১৫ বছর আগে আমেরিকায় আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা উদযাপন কিছু উষ্ণ স্মৃতি

প্রকাশিত: ১৬. ফেব্রুয়ারি. ২০২০ | রবিবার

সৌমিত্র দেব

হিউস্টন ইউনিভার্সিটিতে যখন পৌঁছলাম তখন সকাল ৮টা। টেক্সাসের সময়
১৯ ফেব্র“য়ারি সকাল হলেও বাংলাদেশে তখন রাত। সময়ের ব্যবধান ১২ ঘণ্টা। গাড়ি
থেকে নামতেই ঠাণ্ডা বাতাসের ধাক্কা। পাঞ্জাবির নিচে সোয়েটার আছে, তাতে
কুলোচ্ছে না। গরম কাপড় নিদেনপক্ষে কোট-টাই পরে আসতে চেয়েছিলাম।
কিন্তু আমাদের হোস্ট সৈয়দা কুসুমকলি বললেন, একুশে ফেব্র“য়ারির অনুষ্ঠান,
প্রভাতফেরি হবে, পাঞ্জাবিই ভালো।
উষ্ণ দেশ থেকে এসেছি। আমেরিকান ঠাণ্ডা সম্পর্কে কোনো ধারণাই নেই।
তিনি আশ্বস্ত করলেন ঠাণ্ডা খুব বেশি হবে না। সফরসঙ্গী কবি নাসির
আহমেদেরও পাঞ্জাবি পরার দিকেই আগ্রহ বেশি। কুসুমকলির বর আমিনুর রহমান
চৌধুরী, এক ছেলে এক মেয়ে। সবাই একসঙ্গে যাত্রা করলাম।
ইউনিভার্সিটি চত্বরে গিয়ে মনটা এতই ভাল হয়ে গেল যে শীতের কষ্টের কথা
ভুলে গেলাম। খুব দৃষ্টিনন্দন একটি শহীদ মিনার বানানো হয়েছে। দশম উত্তর
আমেরিকান বাংলা সাহিত্য ও সংস্কৃতি সম্মেলন আর ষষ্ঠ আন্তর্জাতিক
মাতৃভাষা দিবস একযোগে উদযাপনের জন্য এই আয়োজন।
বিশ্বের ১৫টির
বেশি দেশের প্রতিনিধিরা সমবেত হয়েছেন। এদের মধ্যে আছেন বাংলাদেশ, ভারত,
পাকিস্তান, চিলি, মেক্সিকো, এলসালভাদরসহ বহু দেশের সাদা-কালো-বাদামি
চেহারার মানুষ। অনুষ্ঠানে অভ্যর্থনা কমিটির প্রধান ছিলেন স্থানীয়
কংগ্রেসম্যান শিলা জ্যাকসন লি আর আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা উদযাপনের
সমন্বয়কারী ছিলেন অলি মোহাম্মদ।
সবাইকে নিয়ে শুরু হলো প্রভাতফেরি। সুরে-
বেসুরে ঐকতান উঠলÑ‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্র“য়ারি…।’
পুরো ইউনিভার্সিটি ক্যাম্পাস ঘুরে আবার ফিরে এলাম শহীদ মিনারে। শহীদ
মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হলো। উৎসবের প্রথম সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান শুরু
হয় এর পরেই। অংশ নেন স্থানীয় টেগোর সোসাইটি, বাংলাদেশ, ভারত, নেপাল,
চিলি, শ্রীলঙ্কা, আর্জেন্টিনা, থাইল্যান্ড, মিয়ানমার, মেক্সিকোসহ বিভিন্ন
দেশের শিল্পীরা। বক্তব্য রাখেন স্টেট কংগ্রেসম্যান হোবার্ট ডো, সিটি
কাউন্সিলম্যান গর্ডন কোয়ান, এম জোয়ান, ফরাসি কনস্যুলেট ভেনিস
ফ্রাঞ্জুয়া প্রমুখ। বাংলাদেশ থেকে এসেছেন শিল্পী কনক চাঁপা। শহীদ মিনারের
চার পাশে পুরো এলাকা ঘিরে ছিল বিশ্বের বিভিন্ন ভাষার বর্ণমালার ফলক।
সেখানে পরিচিত হলাম কমিউনিটি লিডার রাজনীতিবিদ শামসুর রহমানের
সঙ্গে। কলেজে পড়ান। ভদ্রলোক মজার মানুষ, নিজের নাম রেখেছেন বাঙালি শামসুর
রহমান। পরিচয় হলো সাইদা সাবরিনা পিয়া, মোহাম্মদ আরাফাতের সঙ্গে।
আরাফাত পিএইচডি করছেন। তার বিষয় অর্থনীতি। লেখলেখিও করেন। তারা
আমাকে বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা, লাইব্রেরি, ক্যাফেটেরিয়াÑসব ঘুরে দেখালেন।
সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের পরে দেশী কায়দায় মধ্যাহ্নভোজন। আহার্য বলতে
শালপাতায় মোড়ানো বিরানি ও কোমল পানীয়। এরই মধ্যে ডাক পড়ল সেমিনারে।
সে আয়োজন হিউস্টন ইউনিভার্সিটির ভেতরেই, তবে শহীদ মিনার থেকে
একটু দূরে। ক্যাম্পিয়ান রুমে। সেমিনারের জন্য এত ছোট হলরুম দেখে মনটা
একটু দমে গেল। সাহিত্য-সংস্কৃতি উৎসব অথচ নাচ-গানের জন্য খোলা মঞ্চ
আর সাহিত্যের জন্য এত ক্ষুদ্র পরিসর। এবারের মাতৃভাষা দিবসের থিম-ভাষা ছিল
বাংলা। একেক বছর সেখানে একেকটি ভাষাকে থিম করা হয়।

উত্তর আমেরিকার চতুর্থ বৃহত্তম শহর এই হিউস্টন। নিউইয়র্ক, লসঅ্যাঞ্জেলেস ও
শিকাগোর পরেই এর স্থান। আর টেক্সাসের সবচেয়ে বড় শহর সে তো বলাই বাহুল্য।
এক সময় টেক্সাস ছিল মেক্সিকোর অধীনে। সেনাপতি স্যাম হিউস্টনের নেতৃত্বে
সেটা স্বাধীন হয় ১৮৩৬ সালে। ১০ বছর স্বাধীন রাজ্য ছিল। স্যাম হিউস্টনের নামে
গড়ে ওঠা হিউস্টন শহর ছিল তখন রাজধানী। ১৮৪৬ সালে টেক্সাস মার্কিন
যুক্তরাষ্ট্রের অন্তর্ভুক্ত হয়। রাজধানী হয় অস্টিন। টেক্সাসের আরেকটি সুপরিচিত
শহরের নাম ডালাস। হিউস্টন শহরে বাঙালির সংখ্যা খুব বেশি নয়। সব মিলিয়ে
হাজার আটেক হবে। তবে হিউস্টনবাসী বাঙালিরা শিক্ষিত, সচেতন ও
সংস্কৃতিবান। এ বছর তাদের দশম উত্তর আমেরিকা বাংলা সাহিত্য ও সংস্কৃতি
সম্মেলন এবং ষষ্ঠ আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উদ্ধসঢ়;যাপনে নগর প্রশাসন
থেকে শুরু করে রাজ্যের প্রায় সব মহল সহযোগিতা করেছে। আমাদের ধারণা ছিল,
টেক্সাস জুড়েই থাকবে ওয়েস্টার্ন ছবির পটভূমি। এখানে ওখানে দেখব কাউবয়,
আউটলদের বিচরণ। কিন্তু হিউস্টনে জর্জ বুশ বিমানবন্দরে অবতরণের পর থেকে সে
রকম কিছু চোখে পড়ল না। রাস্তার দু’পাশে মাইলের পর মাইল পতিত ভূমি। হাজার
হাজার গাড়ি। কোথাও হর্ন বাজে না। একেকটা আবাসিক এলাকায় মাত্র ২০-
২৫টা ছবির মতো সুন্দর বাড়ি। বড় বড় ঘর। হিউস্টনবাসীর কাছে জানলাম,
কাউবয় তো বটেই, আউটলরা এখনো আছে টেক্সাসে। তবে শহরে নয়, দূরের
গ্রামে। শহর থেকে একটু দূরেই আছে সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট
সিনিয়র বুশের খামারবাড়ি। প্রবাসী বাংলাদেশীরা সংখ্যায় কম হলেও হিউস্টন
শহরে তারা গড়ে তুলেছেন আত্মপরিচয়ের এক গৌরবদীপ্ত স্মারক
স্তম্ভÑবাংলাদেশ-আমেরিকান সেন্টার। চার একর জমি কিনে সেখানে নির্মাণ
করেছেন এক ছোটখাটো বাংলাদেশ। সেখানে শহীদ মিনার আছে, স্মৃতিসৌধ
আছে এমনকি আছে বাংলা স্কুলও।
সেমিনারের মূল প্রসঙ্গ ছিল বাংলাভাষী লেখকদের ইংরেজি সাহিত্যচর্চা। মূল
বক্তা ভারতীয় বাঙালি ড. চিত্রা ব্যানার্জী দিবাকারুণী। চিত্রা ব্যানার্জি তার
বক্তৃতায় নিজের জীবন ও সাহিত্যকর্ম সম্পর্কে আলোচনা করেন। আমেরিকার
একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে সৃজনশীল সাহিত্য পড়ান। বাংলা সাহিত্য চর্চার ঝোঁক
বরাবরই ছিল। আমেরিকার বিশাল পাঠকগোষ্ঠীর কাছে পৌঁছোতে তিনি
ইংরেজিতেই লিখতে শুরু করেন। তার গল্প-উপন্যাসের প্রধান চরিত্র সাধারণত বাঙালি
অভিবাসী। সেমিনারে মডারেটর ছিলেন ড. এসএস নেওয়াজ। আলোচনায় অংশ
নেন ভয়েস অব আমেরিকার প্রতিনিধি ইকবাল বাহার চৌধুরী, ড. অশোক রায়,
নাভিনা হক, অধ্যাপিকা মুনা সুলতানা, বাঙালি শামসুর রহমান ও বাংলাদেশের
অতিথি দুই কবি। সেমিনার চলাকালে আমি আর নাসির আহমেদ ঘুমে
ঢুলছিলাম। আবার সেই টাইম জোনের তফাৎ। একে কেউ বলে জেট ল্যাগ।
হিউস্টনে তখন বিকেল হলেও বাংলাদেশে গভীর রাত। আমরা হিউস্টনে যাওয়ার পর
মাঝখানে একদিনে মোটেও ধাতস্থ হতে পারিনি। নাসির ভাইয়ের অবস্থা করুণ।
বেচারা সারা রাত জেগে থাকেন আর দিনে ঘুমান। সেমিনারের পর অধ্যাপক
এসএস নেওয়াজ আমাদের নিয়ে যান তার বাড়িতে। ভদ্রলোক একজন পদার্থবিদ।
কবিতাও লিখেন। তার স্ত্রী অবাঙালি, মিয়ানমারের মেয়ে। বাঙালির সঙ্গে ঘর করতে
গিয়ে চমৎকার বাংলা বলতে শিখে গেছেন। রান্নাও করেন ভালো।
এসএস নেওয়াজ বলেন, বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব হিউস্টনের জন্ম হয়
১৯৭১ সালে। বাংলাদেশের মুক্তিসংগ্রামের পক্ষে এই সংগঠন দাঁড় করাতে তখন
অনেক বেগ পেতে হয়েছিল সে সময়ের পূর্বপাকিস্তান প্রবাসীদের। হিউস্টনে
বাঙালি ছিল হাতেগোনা। দু’চারজন ছাত্র-শিক্ষক ছাড়া তেমন কেউ ছিল না।
তখন সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছিল পশ্চিমবঙ্গের প্রবাসী বাঙালিরা। তাদের

সঙ্গে ঐক্যের মূল সূত্র ছিল ভাষা ও সংস্কৃতি। বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন হয়ে
উঠেছিল প্রবাসী বাঙালিদের প্রাণের সংগঠন। এখন হিউস্টনে বাঙালির সংখ্যা
বেড়েছে। কিন্তু দুর্বল হয়ে পড়েছ ঐক্যের ভিত। তবে এই অনুষ্ঠানে সব দল ও উপদলের
প্রতিনিধিরাই অংশ নিয়েছেন এমনকি টেগোর সোসাইটিসহ পশ্চিমবঙ্গের
বাঙালিরা এতে অংশ নিয়েছেন। স্বতঃস্ফূর্তভাবে। বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন,
হিউস্টনের চেয়ারপারসন হচ্ছেন অধ্যাপক সেলিনা কে রহমান। প্রিয়দর্শিনী এই
মহিলার স্বামী হাসান রহমান স্পেস সেন্টার নাসার একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা।
এসোসিয়েশনের অন্যান্য কর্মকর্তাদের মধ্যে ছিলেন মোহাম্মদ প্রধান,
আফজাল আহমেদ, আতিকুল ইসলাম রানা, মোহাম্মদ মাসুম, শামীম আহমেদ,
আবদুস সোবহান মতি, সৈয়দা কুসুম কলি, আবু নাসের টিংকু ও
মেহজাবিন কামাল।
সন্ধ্যায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হয় ভিন্ন এলাকায়। টেক্সাস সাউদার্ন
ইউনিভার্সিটির হানা হলে। বিশাল অডিটরিয়াম হাজারো দর্শকে পরিপূর্ণ।
বিরতিহীনভাবে সেখানে আলোচনা, নাচ-গান, কবিতা পাঠ চলে রাত দুটো
অবধি। অনুষ্ঠানের শুরুতে বক্তব্য রাখেন ইউনিসেফের মিস ম্যারিল্যান ও ইকবাল বাহার
চৌধুরী। ভয়েস অব আমেরিকার ইকবাল বাহার চৌধুরী আবেগময় ভাষায় বলেন,
ঢাকায় গেলে যেমন বাংলাদেশের মাটি আমার কপালে ছোঁয়াই, হিউস্টনে এই
অনুষ্ঠানে এসে আজ একই অনুভূতি টের পাচ্ছি। আমেরিকা প্রবাসী
বাঙালির কাছে হিউস্টন হয়ে উঠেছে তীর্থস্থান। স্থানীয় শিল্পী ছাড়াও
শিকাগো, সান অ্যান্টনিও, ডালাস, অস্টিন, ওয়াশিংটন, নিউইয়র্ক,
লসঅ্যাঞ্জেলেস, ক্যানসাস প্রভৃতি শহরের শিল্পীরা সঙ্গীত ও নৃত্যে অংশ নেন।
শিকাগো থেকে জিঙ্গা শিল্পীগোষ্ঠী নিয়ে এসেছেন নাজমা জামান।
লসঅ্যালেঞ্জলেস থেকে এসেছেন এম এ শোয়েব। দেশ-বিদেশের তারকাশিল্পীদের
সমারোহ। তবে সব ছাপিয়ে সে অনুষ্ঠানে মূল আকর্ষণ হয়ে দাঁড়ায়
বাংলাদেশের শিল্পী কনক চাঁপার গান, সঙ্গে আমাদের কবিতা। সে এক বিস্মযকর
অভিজ্ঞতা। আমেরিকার বুকে যেন জেগে উঠেছে বাংলাদেশ। রাত গভীর হচ্ছে, তবু
দর্শক-শ্রোতার মধ্যে নেই ঘরে ফেরার তাগিদ।
পরদিন সকালে আমাদের নিয়ে যাওয়া হয় হিউস্টন শহরের একটি প্রাণকেন্দ্র
আমেরিকান-বাংলাদেশ সেন্টারে। সেখানে আমেরিকার পাশাপাশি উড়ছে
বাংলাদেশের পতাকা। চার একর জমির উপর হিউস্টনবাসী গড়ে তুলেছেন এ রকম
একটি প্রতিষ্ঠান। এর পেছনে আছে তাদের দেশাত্মবোধক নানা পরিকল্পনা।
দুপুরে আবার সাউদার্ন ইউনিভার্সিটি হলে শুরু হয় আরেকটি
ব্যতিক্রমধর্মী আয়োজন। এতে ছিল ‘বাংলা চলচ্চিত্রে সাহিত্যের প্রভাব’
শীর্ষক সেমিনার। বিটিভিতে এক সময়ের খ্যাতিমান অভিনেতা ও প্রযোজক
বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী আল মনসুরের সঙ্গে দেখা হলো। তিনি সত্যজিৎ রায়
পরিচালিত পথের পাঁচালী ছবির অংশ বিশেষ প্রজেক্টরের মাধ্যমে দেখান। তারপর
আবার রাতভর কবিতা, নাচ-গান। স্থানীয় কবিদের মধ্যে অনেকেই কবিতা
পড়েছেন। এদের একজন কামরুন জিনিয়া, আকাশলীনা নামে একটি সাহিত্য
পত্রিকার সম্পাদক। তিনি লুজিয়ানা থেকে এসেছেন সাহিত্য সম্মেলনে যোগ
দিতে। আর একজন লিপি খন্দকার, এসেছেন ক্যানসাস থেকে।
একুশে ফেব্র“য়ারির অনুষ্ঠান ২১ তারিখের আগেই করতে হলো ছুটির দিনের
কথা বিবেচনা করে। একুশে ফেব্র“য়ারি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা হিসেবে
স্বীকৃত পেলেও এ দিনে পৃথিবী জুড়ে এখনো ছুটি ঘোষিত হয়নি। খুব
দ্রুতই শেষ হয়ে আসে দু’দিনব্যাপী এ অনুষ্ঠান। তবে এর রেশ থেকে যায়।
প্রতিনিধিদের মাধ্যমে তা ছড়িয়ে পড়ে। পৃথিবীর আরেক প্রান্তে বাংলা

সাহিত্য নিয়ে এই আয়োজন আমাকে অভিভূত করেছে। বাংলার সূর্য কখনো
অস্তমিত হয় না। পূর্ব গোলার্ধ থেকে পশ্চিম গোলার্ধ-সবখানেই তার আলো ।

এই সংবাদটি পড়া হয়েছে ২৬১ বার

Share Button