২০২৪ সালেই দারিদ্র্য দূর করবে বাংলাদেশ ঃ অর্থমন্ত্রী

প্রকাশিত: ১০:৩৪ অপরাহ্ণ, মার্চ ১৬, ২০১৮

২০২৪ সালেই দারিদ্র্য দূর করবে বাংলাদেশ ঃ অর্থমন্ত্রী

কামরুজ্জামান হিমু

চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করতে পারলে ২০২৪ সালেই দারিদ্র্য দূর করতে সক্ষম হবে বাংলাদেশ । গত তিন বছর দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ৭ দশমিক ২৪ শতাংশ হারে অর্জিত হয়েছে। চলতি বছর তা সাড়ে ৭ শতাংশে পৌঁছাবে। আর তা যদি ১০ শতাংশে পৌঁছায়, তবে ২০২৪ সালের মধ্যে দেশ হবে দারিদ্র্যমুক্ত।বলেছেন আবুল মাল আবদুল মুহিত।

গতকাল দুপুরে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) ব্যবসায় প্রশাসন অনুষদ মিলনায়তনে আয়োজিত এক আন্তর্জাতিক সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। চবির ফিন্যান্স বিভাগের রজতজয়ন্তী উপলক্ষে ‘টেকসই প্রবৃদ্ধি ও উন্নয়নের লক্ষ্যেই অর্থায়ন’ শীর্ষক এ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।

অর্থমন্ত্রী বলেন, ১৯৮৪ সালে জাতিসংঘে পরিবেশ নিয়ে আলোচনার পর সারা বিশ্বে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রক্রিয়া হিসেবে আলোচনায় আসে। সহস্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এমডিজি) অর্জনে বাংলাদেশ অন্যান্য দেশের তুলনায় অনেক বেশি সফলতা অর্জন করেছে। বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশের অর্থনীতিকে সমৃদ্ধ করতে বৈশ্বিক নেতৃত্বের বিকল্প নেই। আর এ নেতৃত্বকে কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশ এমডিজি অর্জনে বিশ্বে দারুণ উদাহরণ। যদিও এসডিজি অর্জনের সময়সীমা ২০৩০ সাল। তবে চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করতে পারলে ২০২৪ সালেই দারিদ্র্য দূর করতে সক্ষম হবে দেশ।

উন্নয়নের সুবিধা সব জনগোষ্ঠীর কাছে পৌঁছে দেয়ার তাগিদ দিয়ে তিনি বলেন, প্রবৃদ্ধির হার ১০ শতাংশে পৌঁছানোর জন্য বাংলাদেশের মতো জনবহুল দেশে জনকল্যাণমূলক কার্যক্রমকে বিকেন্দ্রীকরণ করতে হবে। শুধু রাজধানী ঢাকাকে কেন্দ্র না করে দেশের সব জেলায় হেড কোয়ার্টার করে জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম পৌঁছাতে রাষ্ট্রকে তত্পর হতে হবে। যেন প্রতিটি মানুষই এ প্রক্রিয়ার সুবিধা ভোগ করতে পারে। আর আমরা যেসব সম্পদ পেয়েছি, তার চেয়ে বেশি সম্পদ আগামী প্রজন্মের জন্য রেখে যেতে হবে।

চবি ফিন্যান্স বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক ড. মো. শামীম উদ্দিন খানের সভাপতিত্বে ও বিভাগের অধ্যাপক মো. আফজাল হোসেনের সঞ্চালনায় সম্মেলনের উদ্বোধন করেন চবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. ইফতেখার উদ্দিন চৌধুরী। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ফজলে কবির, অর্থ মন্ত্রণালয়ের সচিব মোহাম্মদ মুসলিম চৌধুরী, চবি ব্যবসায় প্রশাসন অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. এএফএম আওরঙ্গজেব।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ফজলে কবির বলেন, অতিরিক্ত অর্থায়ন ও প্রবৃদ্ধি অনেক সময় প্রাকৃতিক ভারসাম্য বিঘ্ন করতে পারে। তাই আমাদের সবুজ অর্থায়ন ও প্রবৃদ্ধির ওপর গুরুত্ব দিতে হবে।

সম্মেলনের শেষার্ধে বিজনেস সেশন নামে একটি পর্ব অনুষ্ঠিত হয়। চট্টগ্রামের আন্তর্জাতিক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. কেএম গোলাম মহিউদ্দিনের সভাপতিত্বে ওই পর্বে কি নোট স্পিকারের বক্তব্য রাখেন ভারতের প্রখ্যাত অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক ড. অজিত কুমার রায় ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড. বাকি খলিলী। এ পর্বে দেশ-বিদেশের ৯৫ জন গবেষকের ৬১টি যৌথ ও একক প্রবন্ধ উপস্থাপন করা হয়। এর মধ্যে ভারতের চারজন, নেপালের তিনজন, মালেশিয়ার দুজন, জাপানের একজন ও সুইজারল্যান্ডের একজনসহ মোট ১১ জন বিদেশী অতিথি গবেষক ছিলেন। সম্মেলনের শুরুতে নেপালে উড়োজাহাজ দুর্ঘটনায় নিহতদের স্মরণে ১ মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।

Calendar

December 2020
S M T W T F S
 12345
6789101112
13141516171819
20212223242526
2728293031  

http://jugapath.com