» ২০৩০ সালের আগেই প্রবীণ জনগোষ্ঠীর সংখ্যা ২ কোটি ছাড়িয়ে যাবে

প্রকাশিত: ০৩. অক্টোবর. ২০২০ | শনিবার

মো. কামাল হোসেন

“তোমার হলো শুরু আমার হলো সারা—তোমায় আমায় মিলে এমনি বহে ধারা” প্রিয় গানের কলি প্রায়ই গুণগুনিয়ে গাইতে থাকেন অবসরপ্রাপ্ত স্কুল শিক্ষক সালেহা বেগম। ছোটো রোহান গানের মর্ম বোঝেনা শুধু নানির মুখের দিকে ফ্যাল ফ্যাল করে তাকিয়ে থাকে। নাতি রোহানকে নিয়েই সালেহা বেগমের অখণ্ড অবসর সময় কাটে। দিনের শুরু নাতিকে নিয়ে, শেষও তেমনই। একজন মানুষের জীবনচক্র যথা- নবজাতককাল, শৈশবকাল, কিশোরকাল, প্রাপ্তবয়স্ককাল এবং বার্ধক্যকাল। এই পঞ্চম ধাপের শেষ ধাপ হলো বার্ধক্যকাল, আর একালে অবস্থানরত মানুষগুলোকে আমরা বলি প্রবীণ।

বাংলাদেশে একজন মানুষকে ষাট বছর পার হওয়ার পূর্বেই বার্ধক্যে পতিত হতে দেখা যায়। এর পেছনের কারণগুলো হলো- দারিদ্র্য, কঠোর পরিশ্রম, অপুষ্টি, অসুস্থতা এবং ভৌগোলিক অবস্থান। সালেহা বেগমের মতো নাতি নাতনি কিংবা পরিবার পরিজনের সাথে আনন্দদায়ক সময় কাটানোর সৌভাগ্য সকল প্রবীণের হয় না। পরিবার পরিজন বিহীন অনেকের ঠিকানা হয় প্রবীণ নিবাস কেউবা হন আশ্রয় সম্বলহীণ ভবঘুরে। জাতিসংঘ জনসংখ্যা তহবিলের হিসেবমতে ২০২০ সালের মধ্যে ষাট বছর বা তার চেয়ে বেশি বয়সি লোকের সংখ্যা পাচ বছরের কম বয়সি শিশুদের তুলনায় বেশি হবে। পরবর্তী তিন দশকে বিশ্বব্যাপী প্রবীণদের সংখ্যা দ্বিগুণেরও বেশি হওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। ২০৫০ সালের মধ্যে দেড় বিলিয়নেরও বেশি লোক প্রবীণ হবেন এবং তাদের আশি শতাংশ নিম্ন-মধ্যম আয়ের দেশে বাস করবে।

প্রবীণদের উন্নয়নের বিষয়টি জাতীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে বেশ গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রবীণদের সমস্যা সম্পর্কে সচেতনতা সৃষ্টির জন্য জাতিসংঘ ১৯৯১ সাল থেকে ১ অক্টোবরকে আন্তর্জাতিক প্রবীণ দিবস হিসেবে পালন করে আসছে। দিবসটির এ বছরের প্রতিপাদ্য নির্ধারিত হয়েছে ‘বৈশ্বিক মহামারির বার্তা, প্রবীণদের সেবায় নতুন মাত্রা’ বাংলাদেশেও দিবসটি যথাযথ মর্যাদায় পালিত হয়ে আসছে।

কোভিড-১৯ এর মতো মহামারি প্রাদুর্ভাবের সময় প্রবীণ ব্যক্তিগণ যে উচ্চতর স্বাস্থ্যঝুঁকির মুখোমুখি হয়েছিল তা বিবেচনা করে নীতি,কর্মসূচি ও বাস্তবায়ন কৌশল নির্ধারণ করতে হবে। তাদের বিশেষ প্রয়োজন সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধির দিকেও লক্ষ্য রাখতে হবে। কোভিড- ১৯ মহামারিতে আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যায় প্রবীণ জনগোষ্ঠীর সংখ্যা ছিলো সবার উপরে। একই সময়ে অন্য জটিল রোগে আক্রান্ত প্রবীণদের স্বাভাবিক স্বাস্থ্য সেবাও বিশ্বজুড়ে মারাত্নকভাবে বাধাগ্রস্ত হয়। জাতিসংঘ মহাসচিব করোনা মহামারিতে প্রবীণদের অবস্থা বর্ননা করতে গিয়ে বলেছেন, “কোভিড-১৯ মহামারি বিশ্বজুড়ে প্রবীণ ব্যক্তিদের জন্য অবর্ননীয় ভীতি এবং যন্ত্রণার কারণ হয়ে দাড়িয়েছে। কোভিড-১৯ এর কারণে তাৎক্ষণিক স্বাস্থ্যগত ঝুঁকির প্রভাবের বাইরেও মহামারিটি প্রবীণ ব্যক্তিদের দারিদ্র্য, বৈষম্য এবং বিচ্ছিন্নতার ঝুঁকিতে ফেলেছে। উন্নয়নশীল দেশগুলির প্রবীণ ব্যক্তিদের উপর এটি সম্ভবত আরও বিধ্বংসী প্রভাব ফেলবে”।

গড় আয় বৃদ্ধির সাথে সাথে বাংলাদেশের নাগরিকদের গড় আয়ুও বৃদ্ধি পেয়েছে। সে ধারাবাহিকতায় প্রবীণ জনগোষ্ঠীর সংখ্যাও বৃদ্ধি পাচ্ছে। প্রবীণগণ স্বাভাবিকভাবেই পরিবারের সাথেই থাকতে চান এবং সামাজিকভাবেও সেটার প্রচলন আবহমানকাল ধরে। তবে সময়ের সাথে সাথে সামাজিক অবস্থা এবং পারিবারিক কাঠামোতে যে পরিবর্তন এসেছে, তার সাথে তাল মিলিয়ে প্রবীণদের জন্য যথেষ্ট সেবা-ব্যবস্থা গড়ে ওঠেনি। যৌথ পরিবারের সংখ্যা কমে একক পরিবার গঠন এবং মানুষজন গ্রাম ছেড়ে শহরে বা দেশের বাইরে চলে যাচ্ছেন। এই পরিস্থিতিতে অনেক পরিবারের অনেক প্রবীণ সদস্য অরক্ষিত হয়ে পড়ছেন। প্রবীণদের সংখ্যা ক্রমশ: বাড়তে থাকলেও ভবিষ্যতে এই জনগোষ্ঠীর সেবা ও চিকিৎসার জন্য প্রয়োজনীয় অবকাঠামো এবং জনবল এখনও অপ্রতুল।

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান স্বাধীনতার পরপরই অবহেলিত, পশ্চাদপদ ও বঞ্চিত মানুষের কল্যাণে সংবিধানে তাদের অধিকারের কথা সন্নিবেশিত করেছিলেন। বঙ্গবন্ধুই স্বাধীনতার পর ১৯৭২ সালে প্রবীণ হিতৌষি সংঘকে সুসংসগঠিত করার নির্দেশনা দিয়েছিলেন। প্রবীণদের অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে দেশ পরিচালনায় নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য বঙ্গবন্ধুর দূরদর্শী চিন্তার গুরুত্ব অনস্বীকার্য।

জনসংখ্যার বিবেচনায় বাংলাদেশ এখন সোনালি সময় পার করছে। আমাদের নির্ভরশীল জনসংখ্যার চেয়ে কর্মক্ষম জনসংখ্যা বেশি। জনসংখ্যার পনের থেকে ঊনষাট বছর বয়সি কর্মক্ষম জনগোষ্ঠী এখন শতকরা আটষট্টি ভাগ। জনমিতির পরিভাষায় এটাই হলো একটি দেশের ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড বা জনমিতিক লভ্যাংশ। কোনো জাতির ভাগ্যে এ ধরনের জনমিতিক সুবর্ণকাল একবারই আসে যা থাকে কম বেশি ত্রিশ-পয়ত্রিশ বছর।

বাংলাদেশে বর্তমানে তরুণ জনগোষ্ঠীর সংখ্যা তুলনামূলক বেশি হলেও আর মাত্র তিন দশকের মধ্যে প্রবীণদের মোট সংখ্যা অপ্রাপ্তবয়স্কদের ছাড়িয়ে যাবে। ষাট বছরের বেশি বয়সি মানুষকে বাংলাদেশে প্রবীণ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। পরিসংখ্যান ব্যুরোর সর্বশেষ হিসেবে, বাংলাদেশে বতর্মানে মানুষের গড় আয়ু একাত্তর বছরের বেশি। বাংলাদেশে ২০৩০ সালের আগেই প্রবীণ জনগোষ্ঠীর সংখ্যা দুই কোটি ছাড়িয়ে যাবে, যার একটি বিশাল প্রভাব পড়বে শ্রমবাজারের ওপর। বাংলাদেশে এখন আটষট্টি শতাংশের বেশি মানুষ কর্মক্ষম। তিন দশক পরে প্রবীণদের সংখ্যা আরো বেড়ে গেলে দেশের সার্বিক উৎপাদনেও একটি বড়ো ঘাটতি দেখা দিতে পারে। প্রবীণদের যদি সমাজের বিভিন্ন প্রক্রিয়ার মধ্যে সমন্বিত করা না হয় তাহলে প্রবীণ জনগোষ্ঠী একসময় সমাজের বোঝা হয়ে দাঁড়াবে।

 

প্রবীণ জনগোষ্ঠী সমাজের সম্পদ। আর তাই তাঁদের স্বাস্থ্যসুরক্ষা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। অসহায় প্রবীণদের নিরাপদ জীবনের জন্য দেশের ৬৪ জেলায় সরকারি শিশু পরিবারে শান্তি নিবাস চালু করার নীতিগত সিদ্ধান্ত হয়েছে। সেখানে বিনোদনসহ নিরাপদে বসবাসের সকল সুবিধা রাখা হবে। পাশাপাশি যারা উৎপাদনশীল কাজে সম্পৃক্ত হতে চান তাদের জন্য প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা রাখা হবে। উৎপাদিত পণ্য বিক্রয়ের জন্য আউটলেটও রাখা হবে। বাংলাদেশের সমাজনীতি এবং সরকার মোটামুটি প্রবীণবান্ধব। বিশেষ করে দেশের বিরাট আকারের প্রবীণদের বাস্তব কল্যাণ বিধানে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিচক্ষণ উদ্যোগ, সাফল্য এবং সুনাম প্রশংসনীয়। এদেশে ১৯২৫ সালে বৃটিশ সরকার প্রবর্তিত অবসরকালীন পেনশন ব্যবস্থার পর ১৯৯৭-৯৮ অর্থবছরে যুগান্তকারি বয়স্কভাতা কর্মসূচি প্রচলন, জাতীয় প্রবীণ নীতিমালা-২০১৩ ও পিতামাতার ভরণপোষণ আইন-২০১৩ প্রণয়ন, কর্মকর্তা/কর্মচারীদের অবসর গ্রহণের বয়স ৫৯/৬০ করা, পেনশন সুবিধা সম্প্রসারণ, পিতামাতাকে অন্তর্ভুক্ত করে পরিবারের সদস্য ৪ হতে ৬ জনে উন্নীতকরণ, বাংলাদেশ প্রবীণহিতৈষী সংঘের প্রবীণ-স্বাস্থ্যসেবা খাতে অনুদান বৃদ্ধি করাসহ প্রবীণ উন্নয়ন ফাউন্ডেশন গঠনের উদ্যোগ প্রবীণদের সুরক্ষায় সরকারের দায়বদ্ধতার প্রত্যক্ষ উদাহরণ৷

বর্তমান সরকারের নির্বাচনি ইশতেহার বাস্তবায়নের অঙ্গিকার হিসেবে ২০২১ সালের মধ্যে বয়স্কভাতাভোগীর সংখ্যা দ্বিগুণ করার লক্ষ্যে ক্ষমতা গ্রহণোত্তর ২০০৯-১০ অর্থ বছরে বয়স্কভাতাভোগীর সংখ্যা বিশ লক্ষ জন থেকে বৃদ্ধি করে বাইশ লক্ষ পঞ্চাশ হাজার জনে এবং জনপ্রতি মাসিক ভাতার হার দুইশত টাকা থেকে বৃদ্ধি করে তিনশত টাকায় উন্নীত করা হয়। ২০২০-২১ অর্থ বছরে ঊনপঞ্চাশ লক্ষ বয়স্ক ব্যক্তিকে জনপ্রতি মাসিক পাচশত টাকা হারে ভাতা প্রদান করা হবে। চলতি ২০২০-২১ অর্থ বছরে এ খাতে বরাদ্দ রয়েছে দুই হাজার নয়শত চল্লিশ কোটি টাকা। সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায়ের নিবিড় তদারকি এবং সমাজসেবা অধিদফতরের সর্বস্তরের কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের নিরলস পরিশ্রমে বয়স্কভাতা বিতরণে প্রায় শতভাগ সাফল্য অর্জিত হয়েছে।

বর্তমানে বয়স্কভাতা কার্যক্রমে অধিকতর স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিতকরণ এবং সর্বমহলে গ্রহণযোগ্য করে তোলার জন্য যে সকল পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে তা হলো; ২০১৩ সালে প্রণীত বাস্তবায়ন নীতিমালা সংশোধন করে যুগোপযোগীকরণ, অধিক সংখ্যক মহিলাকে ভাতা কার্যক্রমের আওতায় অন্তর্ভুক্তির লক্ষ্যে মহিলাদের বয়স পয়ষট্টি বছর থেকে কমিয়ে বাষট্টি বছর নির্ধারণ, উপকারভোগী নির্বাচনে স্থানীয় সংসদ সদস্যসহ অন্যান্য জনপ্রতিনিধিদের সম্পৃক্তকরণ, ডাটাবেইজ প্রণয়নের উদ্যোগ গ্রহণ এবং দশ টাকায় ভাতাভোগীর নিজ নামে ব্যাংক হিসাব খুলে ভাতার অর্থ পরিশোধ করা হচ্ছে। তাছাড়া প্রবীণদের সহায়তায় সরকারের পাশাপাশি বেসরকারি উদ্যোগও চোখে পড়ার মতো।

১৯৬০ সালে ডা. এ কে এম আবদুল ওয়াহেদের ব্যক্তিগত উদ্যোগে ধানমন্ডিতে তাঁর বাড়িতে প্রবীণদের জন্য বাংলাদেশ প্রবীণ হিতৈষী সংঘ নামে প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম শুরু হয়। সে হিসেবে বার্ধক্যকবলিত অবলম্বনহীন মানুষদের সেবায় এর স্থান পথিকৃতের। সরকারের সহায়তায় রাজধানীর আগারগাঁওয়ে ১৯৮৫ সালে প্রতিষ্ঠানটির স্থায়ী ভবন তৈরি হয়। সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় প্রতিষ্ঠানটির পৃষ্ঠপোষকতা করে থাকে। এখানে প্রবীণদের জন্য চিকিৎসা সেবা প্রদানের ব্যবস্থা রয়েছে।

প্রবীণদের সাহায্য সহযোগিতা বিশেষ করে ঔষুধ খেতে সহায়তা করা, পত্রিকা পড়ে শোনানো, বেড়াতে যেতে সহায়তা করা কিংবা গল্প বলে তাঁদের সময়কে আনন্দময় করে তুলতে ইতোমধ্যে কিছু উদ্যোগ স্বল্প পরিসরে শুরু হয়েছে। বাংলাদেশে বৃদ্ধবয়সে সেবা দেওয়ার জন্য বিশেষভাবে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত সেবাদানকারীও নেই। যেটা ভবিষ্যতে বেশ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে দাঁড়াবে। যদি জনশক্তি প্রস্তুত করা সম্ভব হয় সেক্ষেত্রে দুই দিকে লাভ হবে। প্রথমত তরুণদের জন্য কর্মক্ষেত্র তৈরি হবে–যা বেকারত্ব কমাতে সাহায্য করবে। দ্বিতীয়ত প্রবীণদের মানসম্মত সেবা দান সম্ভব হবে। ভবিষ্যতে এই সেবাদান লাভজনক ব্যবসা হিসেবেও গড়ে উঠতে পারে। প্রবীণদের জন্য সামাজিক মর্যাদা বৃদ্ধির আন্দোলনে তরুণদের এগিয়ে আসা প্রয়োজন, কারণ প্রবীণদের জন্য যখন সমস্যা প্রকট হবে তার ভুক্তভোগী থাকবে বর্তমান তরুণ প্রজন্ম।

কাউকে ফেলে রেখে নয়, বরঞ্চ সকলকে নিয়ে বিশ্ব সমাজের প্রবৃদ্ধি, উন্নয়ন এবং সমৃদ্ধির অভিযাত্রা চলমান রাখতে হবে। জাতিসংঘ ঘোষিত টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্য দলিলের মাহাত্ম্য এখানেই। প্রবীণরা সমাজে বটবৃক্ষের ন্যায়। তাদের সারা জীবনের অভিজ্ঞতা তরুণদের চলার পথের পাথেয়। সমন্বিত উদ্যোগ প্রবীণদের আরও সন্মানজনক জীবন নিশ্চিত করতে পারে। নবীন প্রবীণের সেতুবন্ধ উন্নয়নের গতিকে তরান্বিত করবে। সোনার বাংলা প্রতিষ্ঠায় নবীন প্রবীণের এই যোগসূত্র খুবই জরুরি।

এই সংবাদটি পড়া হয়েছে ১১২ বার

Share Button

Calendar

October 2020
S M T W T F S
 123
45678910
11121314151617
18192021222324
25262728293031