» যে কারণে মাধবকুণ্ডে মরে যাচ্ছে জলজ প্রাণীরা

প্রকাশিত: ০৫. নভেম্বর. ২০১৯ | মঙ্গলবার

রহস্যময় কাণ্ড । মৌলভীবাজারের বড়লেখা উপজেলার মাধবকুণ্ড জলপ্রপাতে কে যেন বিষ ঢেলে দিয়েছে । বিভিন্ন জাতের মাছ ও মরে যাওয়া জলজ প্রাণি ভেসে ওঠেছে পানিতে ।

শনিবার (২ নভেম্বর) থেকে এই মাছ মারা যাচ্ছে। এতে জলপ্রপাতের পানির পাশাপাশি এলাকার বাতাসেও দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে।
খবর পেয়ে সোমবার বিকেলে মৎস্য বিভাগের লোকজন মাধবকুণ্ড জলপ্রপাতের পানির গুণাগুণ পরীক্ষা করেছেন। এতে তারা পানির প্যারামিটার মোটামুটি স্বাভাবিক পেয়েছেন।

কিন্তু তবে তাদের মৎস্য বিভাগের ধারণা , মাছ মারার জন্য কেউ পানিতে পাহাড়ি বিষ লতা দিয়েছে। ফলে মাছসহ অন্যান্য জলজ প্রাণি মারা যাচ্ছে।

বন বিভাগ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শনিবার (২ নভেম্বর) সকালে মাধবকুণ্ড এলাকায় পর্যটক, পুলিশসহ স্থানীয় লোকজন মাধবকুণ্ডের পানিতে মাছসহ বিভিন্ন ধরনের জলজ প্রাণি ভেসে ওঠতে দেখেন। মৃত মাছের কারণে মাধবকুণ্ড পর্যটন এলাকায় দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ে। জলপ্রপাতের পানিতেও দুর্গন্ধ রয়েছে। এর মধ্যে ছিল পাহাড়ি বামাস মাছ, কাঁকড়া, পুঁটি, ব্যাঙ, পাহাড়ি চিংড়ি, পিপলা, ছোট বাইন, সরপুঁটিসহ বিভিন্ন ধরনের জলজ কীটপতঙ্গ।

স্থানীয় লোকজন ও মাধবকুণ্ড ইকোপার্কের কর্মীরা মরা মাছ পানি থেকে তুলে সরিয়ে ফেলেন। গত শনিবার মারা যাওয়া মাছের সংখ্যা বেশি ছিল। সোমবারও (৪ নভেম্বর) কিছু কাঁকড়া, বাইন, ব্যাঙ, পুঁটি, বিভিন্ন ধরনের জলজ প্রাণি পানিতে ভেসে থাকতে দেখা গেছে।

তবে আগের চেয়ে এগুলো সংখ্যায় কমে এসেছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় লোকজন।

সোমবার (৪ নভেম্বর) দুপুরে সরেজমিনে মাধবকুণ্ড জলপ্রপাতে গিয়ে দেখা যায়, স্থানীয় লোকজন কিছু মরা বামাস মাছ ধরে নিয়ে যাচ্ছেন। কেউ কেউ পঁচা মাছ পানি থেকে তুলে ফেলছেন। যাতে দুর্গন্ধ না ছড়ায়। কিছু মাছসহ জলজ প্রাণি জলপ্রপাতের ছড়ার আশেপাশে ছড়িয়ে আছে। এগুলো থেকে জলপ্রপাতের পানির পাশাপাশি এলাকার বাতাসেও দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে।

স্থানীয় লোকজনের ধারণা, পাহাড়ি ছড়ায় অনেক ধরনের মাছ থাকে। মাছ ধরার জন্য মাধবকুণ্ড জলপ্রপাতের উপরের অংশে কেউ বিষ প্রয়োগ করতে পারে। উপর থেকে গড়িয়ে পড়া ঝর্ণার পানিতে দুর্গন্ধ রয়েছে। এই পানি ছড়া দিয়ে গিয়ে হাকালুকি হাওরে পড়ছে। পানি বিষাক্ত হলে হাওরেও এর বিরূপ প্রতিক্রিয়া হতে পারে। হাওরের মাছ মাছ মারা যেতে পারে।

বড়লেখা উপজেলার অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা কুলাউড়া উপজেলা জ্যেষ্ঠ মৎস্য কর্মকর্তা সুলতান মাহমুদ সোমবার দুপুরে বলেন, খবর পাওয়ার পর পানির কোয়ালিটি পরীক্ষা করা হয়েছে। এতে পানির কোয়ালিটি প্যারামিটার মোটামুটি স্বাভাবিক পাওয়া গেছে। আমাদের ধারণা পাহাড়ি বিষ লতা কেউ পানিতে দিয়েছে। যার কারণে মাছসহ অন্যান্য জলজ প্রাণি মারা যাচ্ছে। আমরা মৎস্য বিভাগের পক্ষ থেকে পানিতে ওষুধ প্রয়োগের ব্যবস্থা করছি। আশা করছি ওষুধ দেওয়ার পরে পানির বিষে প্রভাব কমে যাবে।

এই সংবাদটি পড়া হয়েছে ২০৯ বার

Share Button