» রাজধানীতে ভাষা সৈনিক রওশন আরা বাচচুর স্মরণসভা

প্রকাশিত: ০৭. ডিসেম্বর. ২০১৯ | শনিবার

বাংলা একাডেমীর মহাপরিচালক হাবীবুল্লাহ সিরাজী বলেন ভাষা সৈনিক রওশন আরা বাচচুর মৃত্যুতে দেশ এক শ্রেষ্ঠ সন্তানকে হারিয়েছে ।বাংলা একাডেমী তার রচিত বই ও জীবনী গ্রন্থ প্রকাশে সকল ব্যবস্থা দ্রুততম সময়ে গ্রহন করবে। তিনি আজ ধানমন্ডিতে সদ্যপ্রয়াত ভাষাকন্যার বাসভবনে পারিবারিক ভাবে আয়োজিত দোয়া মিলাদ মাহফিল ও স্মরণসভায় এ কথা বলেন ।

রওশন আরা বাচ্চুর কন্যা তাহমিনা খাতুনের সভাপতিত্বে স্মরণসভায় বক্তব্য রাখেন ভাষা মতিনের স্ত্রী বেগম গুলবদন্নেছা মনিকা মতিন, সড়ক ও সেতু মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব আনোয়ার চৌধুরী, কবি সৌমিত্র দেব, ডা. এম এ মুক্তাদীর, হাফিজুর রহমান কবির, ফরিদা মনি শহীদুল্লাহ, এডভোকেট ফেরদৌস আরা, অধ্যক্ষ সালমা আহমেদ হীরা, এডভোকেট লুৎফুল আহসান বাবু, সালেহ মোউসুফ , রওশন আরা বাচচুর ফারহানা তুনা, সৈয়দ শাকিল আহাদসহ পরিবারের সদস্যরা ।

ভাষা সৈনিক রওশন আরা বাচচু পিরোজপুর গার্লস স্কুল থেকে ম্যাট্রিক, বরিশালের ব্রজমোহন কলেজ থেকে ইন্টারমিডিয়েট পাস করে ১৯৫৩ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে দর্শনে অনার্স ও পরে ইতিহাসে এমএ পাস করেন ।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দিনগুলোতেই রওশন আরা গণতান্ত্রিক প্রগ্রেসিভ ফ্রন্টে যোগ দিয়ে জড়িয়ে পড়েন ছাত্র রাজনীতিতে। সলিমুলাহ মুসলিম হল এবং উইম্যান স্টুডেন্টস রেসিডেন্সের সদস্যও নির্বাচিত হয়েছিলেন তিনি।

তিনি ঢাকার আনন্দময়ী স্কুল, লিটন অ্যাঞ্জেলস, আজিমপুর গার্লস স্কুল (খন্ডকালীন), নজরুল একাডেমি, কাকলি হাই স্কুল এবং পরে আলেমা একাডেমিসহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষকতার সাথে যুক্ত ছিলেন। সবর্শেষে ২০০০ সালে বিএড কলেজে অধ্যাপক হিসেবে অবসর গ্রহণ করেন।

রওশন আরা বাচ্চুর মেয়ে তানভির ফারহানা ওয়াহিদ বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতির জন্য তার মা ভাষা আন্দোলন করেননি। দেশের ভাষার জন্য করেছেন। দেশের সর্বত্র বাংলা ভাষার প্রচলন হলে তার আত্মার শান্তিপাবে। মা বেশ কদিন ধরেই অসুস্থ ছিলেন। অ্যাপোলো হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। ভোর সাড়ে ৩ টার দিকে তিনি মারা যান।
৫২’র ভাষা আন্দোলনে রওশন আরা বাচ্চু

১৯৫২ সালের বাংলা ভাষা আন্দোলনের সময় রওশন আরা বাচ্চু ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী। ২১ ফেব্রুয়ারিতে যে সকল ছাত্র নেতারা ১৪৪ ধারা ভাঙ্গার পক্ষে ছিলেন তিনি তাদের মধ্যে অন্যতম। তিনি জনমত সমর্থনের জন্যও ব্যাপক চেষ্টা করেন।

তার অনুপ্রেরণায় ইডেন মহিলা কলেজ এবং বাংলাবাজার বালিকা বিদ্যালয় এর ছাত্রীদের সংগঠিত করে আমতলার সমাবেশ স্থলে নিয়ে আসেন। এখান থেকেই ছাত্রনেতারা ১৪৪ ধারা ভঙ্গের ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত নেন।

এই সংবাদটি পড়া হয়েছে ৩১১ বার

Share Button