» হাসানুল হক ইনু শুধু একজন রাজনীতিবিদ নন

প্রকাশিত: ২০. নভেম্বর. ২০১৭ | সোমবার

সৌমিত্র দেব
তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু তার গবেষণাগ্রন্থ ‘গণমাধ্যম, গণতন্ত্র ও সাংবাদিকতা- প্রেক্ষিত: বাংলাদেশ’ বইটি খুব দরদ দিয়ে লিখেছেন । তিনি বাংলাদেশের রাজনীতিতে এক উজ্জ্বল ব্যাতিক্রম । নিয়মিত পড়াশোনা করেন । করেন লেখালেখিও । তার জানা ও পড়ার কিছু নিদর্শন পাওয়া যাচ্ছে এই বইয়ে ।
হেয়ার রোডে মন্ত্রীর বাসভবনে একদিন আড্ডা দিয়েছিলাম তার সাহিত্যচর্চা নিয়ে । আমার সঙ্গে ছিলেন রেডটাইমস এর সচিবালয় প্রতিবেদক কামরুজ্জামান হিমু । সেখানেই তিনি আমাকে বইটি উপহার দেন । অনেকেই জানেন না যে ,হাসানুল হক ইনু শুধু একজন রাজনীতিবিদ নন । তিনি বহুমুখী প্রতিভার অধিকারী এক ব্যাক্তিত্ব । পড়াশোনা করেছেন প্রকৌশলবিদ্যায় । নেশা ছিল খেলাধুলায় । তিনি ছিলেন সেই সময়ের একজন নামকরা ক্রীড়াবিদ । ষাটের দশকে ছাত্রলীগের একজন কর্মী হিসেবে যোগ দিয়েছিলেন স্বাধিকার আন্দোলনে । সেখান থেকে আজ একটি বামপন্থী রাজনৈতিক দলের শীর্ষনেতা । ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় তিনি ছিলেন দেরাদুনে মুজিব বাহিনীর প্রধান প্রশিক্ষক । ১৯৭৫ সালে সিপাহী জনতার অভ্যুত্থানে অন্যতম নায়ক ছিলেন ইনু ।এ দেশের প্রতিটি গণতান্ত্রিক আন্দোলনে তার সক্রিয় ভুমিকা ছিল । এখনো আছে । তিনি সবসময়ই মুক্তিযুদ্ধ ও অসাম্প্রদায়িক রাজনীতির পক্ষে আপসহীন । গণমাধ্যম ও তার কর্মীদের তিনি যেভাবে বোঝেন অনেকের পক্ষেই হয় ত সেটা বোঝা সম্ভব না । তথ্যমন্ত্রী আগেও ছিলেন । আগামীতেও আসবেন ।কিন্তু হাসানুল হক ইনুর মতো চ্যালেঞ্জ হয়তো তাদের মোকাবেলা করতে হবে না ।

তিনি চায়ের কাপে চুমুক দিয়ে সেদিন অবলীলায় বলেছিলেন, লাখো শহীদের রক্তে স্বাধীন বাংলাদেশের বুকে চেপে বসা সাম্প্রদায়িকতা, স্বৈরতন্ত্র ও বিচারহীনতার অপসংস্কৃতির জগদ্দল পাথর সরিয়ে গণতন্ত্র, উন্নয়ন ও বিচারের সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠার মহাসংগ্রামে রয়েছি আমরা। গণমাধ্যম এ পথ চলায় গণতন্ত্রের সঙ্গী। গণতন্ত্রের সাথে গণমাধ্যমেরও প্রাতিষ্ঠানিকীকরণ এ সংগ্রামের অংশ।

ঠিক এ সময়টাতে তার ওপর অর্পিত তথ্যমন্ত্রীর দায়িত্বকে একটি বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে বর্ণনা করে মুক্তিযোদ্ধা ইনু বলেন, একদিকে সংবিধানে দেয়া স্বাধীনতা রক্ষা আবার অপরদিকে গণমাধ্যমের দায়বদ্ধতা ও পবিত্রতা রক্ষা করে এর বিকাশ ও প্রকাশকে সহায়তা করার দায়িত্ব পালনকালে যে গবেষণা করতে হয়েছে, তারই লিপিবদ্ধ রূপ এই বইটি।

হাসানুল হক ইনু এ সময় তার গবেষণাপত্র, লেখনী সংকলন, গবেষণাপ্রসূত বক্তব্য ধারণ ও লিপিবদ্ধকারীদের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বলেন, গণমাধ্যমকে হলুদ সাংবাদিকতা, অশ্লীলতা, মিথ্যাচার, গুজব ও জঙ্গি উস্কানির হাত থেকে রক্ষা করার একটি কৌশলপত্র হিসেবেও এ বইটি গণমাধ্যম ও গণতন্ত্রচর্চাকারীদের কাজে আসতে পারে।

অন্যপ্রকাশ প্রকাশিত বইটিতে ‘গণমাধ্যম, সাংবাদিকতা ও বাংলাদেশ’, ‘জঙ্গি-সন্ত্রাস ও ইসলামভীতি মোকাবিলা এবং গণমাধ্যম’, ‘আমাদের চলচ্চিত্র-আমাদের গর্ব’, ‘আমাদের গণমাধ্যমঃ গণতন্ত্রের অতন্দ্র প্রহরী’, ‘সাংবাদিক নিরাপত্তা’, ‘বেতার ঃ যাপিত জীবনের প্রতিধ্বনি’, ‘তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি এবং আমাদের গণমাধ্যম’, ‘প্রাথমিক শিক্ষা ও সাংবাদিকতা’, ‘ব্যবসা-বাণিজ্য ও সাংবাদিকতা’, ‘দুর্যোগ মোকাবিলা, জলবায়ুর পরিবর্তন ও সাংবাদিকদের ভূমিকা’, ‘চলচ্চিত্র ও সাংবাদিকতা’, ‘সাংবাদিকতার দায়বদ্ধতা’, ‘আমাদের সংস্কৃতি ও গণতন্ত্রের ধারা’, ‘রাজনীতি, প্রশাসন ও গণতন্ত্র’, ‘টেলিভিশন ও কেবল টিভি নেটওয়র্ক’, ‘মুুক্তিযুদ্ধের চলচ্চিত্র ও জঙ্গিবাদের স্বরূপ’, ‘পঞ্চাশ বছরে বাংলাদেশ টেলিভিশন’, ‘কমিউনিটি বেতার ঃ তৃণমূলকে আনে টেকসই উন্নয়নে’, ‘সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্ট ও তথ্য মন্ত্রণালয়’, ‘বাংলাদেশঃ গণমাধ্যমের এই সময়’ শীর্ষক কুড়িটি অধ্যায় রয়েছে।

গণমাধ্যমকর্মীরা যে ‘হার না মানা গণতন্ত্রের সৈনিক একথা নির্দ্বিধায় বলেছেন হাসানুল হক ইনু । তার আগে এভাবে আমাদের মূল্যায়ন করতে আমরা কাউকে দেখি নি ।

এর আগে হাসানুল হক ইনু’র ‘তিন দাগে ঘেরা বাংলাদেশ’, ‘বাংলাদেশের রাজনীতিতে সেনাবাহিনীর উপস্থিতি’,‘গণতান্ত্রিক সংগ্রামের নয়া কৌশল’ বইসমূহ ছাড়াও দুইশতাধিক রাজনৈতিক প্রবন্ধ বিভিন্ন পত্রপত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে। বইটি তিনি উৎসর্গ করেছেন ‘হার না মানা গণতন্ত্রের সৈনিক এদেশের প্রত্যেক গণমাধ্যমকর্মীকে’ ।
সৌমিত্র দেব ; বাংলাদেশ অনলাইন মিডিয়া এসোসিয়েশন বিওএমএ-র সাধারন সম্পাদক

এই সংবাদটি পড়া হয়েছে ২০৪৭ বার

Share Button