» মৌলভীবাজারে দুই ছাত্রলীগ কর্মী খুনের সুরাহা এখনো হয় নি

প্রকাশিত: ০৯. ডিসেম্বর. ২০১৭ | শনিবার

মৌলভীবাজারে দুই ছাত্রলীগ কর্মী খুনের ঘটনার সুরাহা এখনো হয় নি । মৌলভীবাজার মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সোহেল আহম্মদ জানান, রুবেল নামে এক ছাত্রলীগ কর্মীকে আমরা গ্রেফতার করেছি। রুবেলের সাথে কারা জড়িত ছিল জানতে চাইলে ওসি বলেন, “আসলে অনেক কিছু হইছে, তদন্তের স্বার্থে আমরা বলতে চাচ্ছিনা”।
জানা গেছে , খুনের ঘটনার মূল হোতা ছাত্রলীগ কর্মী রুবেল আহমদকে গ্রেফতার করেছে মৌলভীবাজার মডেল থানা পুলিশ। বৃহস্পতিবার রাতেই রাজনগর উপজেলা থেকে তাকে আটক করা হয়। রুবেল পৌর শহরের বেরিরচর এলাকার ফখরুল ইসলামের ছেলে । সে হত্যাকান্ডের সঙ্গে তার সম্পৃক্ততার কথা পুলিশের কাছে স্বীকার করেছে।
এদিকে জেলাছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক সাইফুর রহমান রনি নিহত দু’জনকে ছাত্রলীগের কর্মী দাবি করলেও জেলা ছাত্রলীগ সভাপতি আছাদুজ্জামান রনি বলেছেন এরা ছাত্রলীগের কেউনা।
জানা যায়, নিহত দু’জন ও খুনের মূল হোতা রুবেল ছাত্রলীগের কর্মী হিসেবে একই গ্রুপে ছিল। প্রায় সমবয়সীও তারা। গ্রুপে আধিপত্য ও সিনিয়র-জুনিয়র নিয়ে দ্বন্দ্ব চলছিল দীর্ঘ কয়েক মাস ধরে। এ দ্বন্দ্ব ছিল ভেতরে ভেতরেই। নিজ গ্রুপের বড়দের কাছেও বিষয়টি জানায়নি তারা। একপর্যায়ে জেনে যান গ্রুপের বড়ভাইরা। তারা প্রায় মাস খানেক আগে বিষয়টি সমাধান করে দেন। এরপর থেকে অনেকটা স্বাভাবিক হয়ে যায় বিষয়টা। কিন্তু যাদের মধ্যে এ বিরোধটি সৃষ্টি হয়েছিল তারা আগের মতো আর একে অন্যের সঙ্গে বেশি মিশতেন না। বুকে জমাট বেধেঁ থাকা ক্রোধ প্রতিনিয়ত বাড়তে থাকে। এরই পরিপ্রেক্ষিতে গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় গ্রুপের সক্রিয় কর্মী বেরিরচরের রুবেল সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় খেলার মাঠের পশ্চিম প্রান্তের নির্জন স্থানে সহযোগীদের নিয়ে মাহি ও শাহবাবকে ডেকে এনে ছুরিকাঘাত করে মাটিতে ফেলে দেয়। ওই ঘটনায় মারা যায় ওরা।
এদিকে নিহত দুই ছাত্রলীগ কর্মীর ময়নাতদন্ত শেষে শুক্রবার বেলা সাড়ে ১১টায় পরিবারের কাছে লাশ হস্তান্তর করেছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।
নিহত মাহির জানাজা বাদ জুমা সদর উপজেলার দুর্লভপুর গ্রামে এবং বিকাল সাড়ে ৪টায় নিহত মোহাম্মদ আলী শাহবাবের জানাজা মৌলভীবাজার টাউন ঈদগাহ মাঠে অনুষ্ঠিত হয়। জানাজায় উপস্থিত ছিলেন পৌর মেয়র ফজলুর রহমান, সদর উপজেলা চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান, জেলা যুবলীগ সভাপতি নাহিদ আহমদ, ও জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক সাইফুর রহমান রনি প্রমুখ।
মামলার বিষয়ে নিহত মাহির মামা ইমরান মিয়া বলেন, দেশে আইনকানুন বলতে কিছু নেই। আমাদের মামলা করার কোনো চিন্তা নেই। তবে নিহত শাহবাবের মামা রুমেল আহমদ মামলা করবেন বলে জানান।

এই সংবাদটি পড়া হয়েছে ৮৫৪ বার

Share Button