শিরোনামঃ-

» একজন মায়া অজস্র মধুচন্দ্রিমা

প্রকাশিত: ২৯. জানুয়ারি. ২০১৮ | সোমবার

জেসমিন চৌধুরী

একজন মায়া অজস্র মধুচন্দ্রিমা’ আমার প্রথম নাটক ‘মায়া’জ হানিমুনস’ এর উপন্যাস রূপ। এর প্রতিটি ঘটনা বাস্তব, কিছুটা এসেছে আমার নিজের যাপিত জীবন থেকে এবং বাকিটা আমার দেখা বিভিন্ন নারীর জীবনের গল্প। মায়া একটি কল্পিত চরিত্র যাকে একটি ইজেলের মত ব্যবহার করে আমার দেখা অনেক নারীর পারিবারিক নির্যাতনের কষ্টের নীল রঙ এঁকে দিয়েছি আমি।
গল্পের নাম ‘একজন মায়া’ হলেও আসলে মায়া একজন নয়। আমাদের চারদিকে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে অসংখ্য মায়া যাদের জীবনে কপট মধুচন্দ্রিমা আসে ঘুরে ফিরে কিন্তু সুখ কখনোই আসে না। পরবাসী গৃহবধু মায়া যেন মানচিত্রের রেখা পেরিয়ে এক বৈশ্বিক দীর্ঘশ্বাস। আমাদের স্বজন অথবা প্রতিবেশী মায়াকে আমরা শুধু বাইরে থেকেই চিনি। কিন্তু মায়ার ভেতরের মায়াকে, তার অন্তরের দহনকে কতটা অনুভব করি আমরা? ‘মায়া’জ হানিমুনস’ নাটকটি দেখার পর দর্শকদের মধ্যে থেকে অনেক নারীই আমাকে বলেছেন, ‘এ তো আমার গল্প, আপনি কি করে জানলেন?’ একজন ইতালীয় কবি, যিনি শুধুমাত্র ইংরেজি ডায়ালগগুলো শুনেই গল্পটা উপলব্ধিতে আনতে পেরেছিলেন, নাটক দেখা শেষে উঠে দাঁড়িয়ে বলেছিলেন, ‘এই নাটকটির ভিডিও করা হোক এবং প্রতিটি স্কুলে দেখানো হোক’।
গল্পটি পড়তে গিয়ে একসময় মনে হতে পারে, এখানে অনেক বেশি ইস্যু একত্রে পরিবেশন করা হয়েছে। মনে হতে পারে এতো বিভিন্নমুখী সমস্যা, এতো নাটকীয়তা একটা মানুষের জীবনে থাকাটা অবাস্তব। আসলে হিমশৈল’র মত মানুষের জীবনের বেশিরভাগটাই আমাদের অদেখা থেকে যায়। সমস্ত সামাজিকতা, সৌজন্য আর লুকোছাপার আবরণমুক্ত জীবন দেখার সুযোগ সাধারণত আমাদের হয় না। কর্মসূত্রে আমার সেই সুযোগ ঘটেছে এবং অবিশ্বাস্য কিছু বাস্তব ঘটনাকে কিছুটা নিয়ন্ত্রিত এবং বিশ্বাসযোগ্যভাবে এই গল্পে তুলে ধরার চেষ্টা করেছি।
‘একজন মায়া অজস্র মধুচন্দ্রিমা’ গল্পটি আসলে বৈশ্বিক হলেও বিলেতের বাঙ্গালি জীবনের পটভূমিকায় রচিত। বিলেতে বড় হওয়া একজন অসিলেটি পুরুষের সাথে বিয়ের বন্ধনে আবদ্ধ হয়েছে সিলেটি একটি মেয়ে। গল্পটি এই পরিবারের নানান সমস্যা নিয়েই আবর্তিত। গল্পের চরিত্রগুলোর অভিব্যক্তির প্রতি সৎ থাকতে গিয়ে আমি এই গল্পে সিলেটি, প্রমিত বাংলা, এবং ইংরেজি ভাষা ব্যবহার করেছি, ঠিক যেভাবে এদেশে বসবাসরত অনেক পরিবারের সদস্যদের মধ্যে কথোপকথন হয়ে থাকে। সিলেটি কথোপকথনে উঠে আসা শব্দগুলোর মধ্যে প্রায় একশত বিশটি শব্দ রয়েছে যা বুঝতে অসিলেটি পাঠকের অসুবিধা হতে পারে। তাদের সুবিধার্থে বই এর শেষদিকে একটি সিলেটি-বাংলা শব্দার্থকোষ সংযুক্ত করা হয়েছে।
উপন্যাসটি সম্পর্কে আমার নিজের সমালোচনা হচ্ছে নাটক থেকে রূপান্তরিত হবার ফলে মনে হয় গল্পটা নাটকের মতই হুট করে শেষ হয়ে গেছে, কাহিনীর পরিধি পরিপূর্ণ বিস্তার লাভ করতে পারেনি। দ্বিতীয় খণ্ড লেখার ইচ্ছা আছে যেখানে বাকি গল্পটা বলব।

895 total views, 0 views today

এই সংবাদটি পড়া হয়েছে ৭৪১ বার

Share Button

Calendar

February 2018
S M T W T F S
« Jan    
 123
45678910
11121314151617
18192021222324
25262728