» টিআইবির বক্তব্যে প্রতিবাদ জানিয়েছে বিএসইসি

প্রকাশিত: ১৮. ফেব্রুয়ারি. ২০১৮ | রবিবার

পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসি প্রতিবাদ জানিয়েছে ঢাকা স্টক একচেঞ্জে (ডিএসই) কৌশলগত অংশীদার নেওয়ার বিষয়ে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টান্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) বক্তব্যের ।

শনিবার রাতে এক বিজ্ঞপ্তিতে বিএসইসি বলেছে, গত শুক্রবার ফেব্রুয়ারি ‘ডিএসইর কৌশলগত মালিকানার অংশীদার বাছাইয়ে অবৈধ হস্তক্ষেপে টিআইবির উদ্বেগ: জড়িতদের জবাবদিহি ও সংশ্লিষ্ট দরদাতাকে কালো তালিকাভুক্তির আহ্বান’ শিরোনামে একটি বিবৃতি দিয়েছে; যা শনিবার বিভিন্ন জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত হয়েছে।

দুর্নীতিবিরোধী সংস্থা টিআইবির এই বক্তব্যকে ভিত্তিহীন এবং অত্যন্ত আপত্তিকর বলে সমালোচনা করেছে বিএসইসি।

সংস্থাটি বলেছে, ডিএসইর কৌশলগত বিনিয়োগকারী নিয়োগ সংক্রান্ত কোনো প্রস্তাব বিএসইসি এখনও পায়নি। ফলে প্রস্তাবগুলো কি, তার শর্তগুলো কি কি এবং দরপত্র মূল্যায়নের ক্ষেত্রে বিবেচ্য বিষয় কি- তা না জেনে বিএসইসির পক্ষে প্রস্তাবসমূহের সুবিধা-অসুবিধা বিশ্লেষণ করা এখনও সম্ভব হয়নি।

তবে বিভিন্ন পত্র পত্রিকায় এবং ডিএসইর সঙ্গে অনানুষ্ঠানিক যোগাযোগের মাধ্যমে বিএসইসি জানতে পেরেছে যে, উক্ত কৌশলগত বিনিয়োগকারী নির্বাচনে দুটি কনসোর্টিয়াম আগ্রহ প্রকাশ করেছে।

ডিএসই এই দুটি কনসোর্টিয়ামকে নিয়ে একাধিকবার বিএসইসির সঙ্গে বাজার এবং সংশ্লিষ্ট আইনের বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা করেছে বলে বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।

“বিএসইসি এ বিষয়ে অত্যন্ত আনন্দিত যে, ডিএসইর শেয়ার ক্রয়ে আমাদের দুইটি বড় প্রতিবেশি দেশেল দুই কনসোর্টিয়ামের আগ্রহ বাংলাদেশের পুঁজিবাজারের উজ্জল ভবিষ্যৎ নির্দেশ করে।”

বিএসইসি বাংলাদেশের পুঁজিবাজারের ভবিষ্যৎ নিয়ে এতোদিন যা বলে আসছিল- এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তা প্রতিষ্ঠিত হয়েছে বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

“টিআইবি শুধুমাত্র সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশিত তথ্যের উপর ভিত্তি করে বিবৃতি প্রকাশ করেছে যা অত্যন্ত দুঃখজনক। এই বিবৃতি প্রকাশের আগে টিআইবি, বিএসইসির সাথে কোনরূপ যোগাযোগ করেনি বা বিএসইসির কোন বক্তব্য জানার চেষ্টা করেনি।

“টিআইবির মতো একটি প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে কোনভাবেই বিএসইসি এটা আশা করে না।”

“অতএব, এ বিষয়টি স্পষ্ট যে, যখন বিএসইসি ডিএসিই থেকে সব তথ্যসহ সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব পাবে, তখনই বিএসইসির পক্ষ থেকে কোন সিদ্ধান্ত গ্রহন সম্ভব হবে।”

কোন সিদ্ধান্ত গ্রহনের আগেই টিআইবি যেভাবে বিএসইসির অবৈধ হস্তক্ষেপ ও চাপ প্রয়োগের অভিযোগ এনেছে তাতে বিএসইসি অত্যন্ত মর্মাগত।বিএসইসির সঙ্গে কোন প্রকার যোগাযোগ ছাড়া টিআইবির মতো প্রতিষ্ঠান যে ভিত্তিহীন মন্তব্য করেছে তা অত্যন্ত আপত্তিকর।”

বিএসইসির বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, টিআইবি কিভাবে জানলো যে, বিএসইসি দরদাতা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগসাজসে বা প্রভাবান্বিত হয়ে অনৈতিক চাপ প্রয়োগ করেছে।

এ ধরনের প্রমাণ টিআইবির কাছে থাকলে তা জনসমক্ষে প্রকাশের অনুরোধ জানিয়েছে বিএসইসি।

টিআইবির বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছিল, দর প্রস্তাব মূল্যায়নে প্রায় অর্ধেক পিছিয়ে থাকা প্রতিষ্ঠানের পক্ষে নিয়ন্ত্রণকারী প্রতিষ্ঠানের এ ধরনের তদবির ও চাপ প্রয়োগ যেমন নজিরবিহীন ও আইনবিরুদ্ধ, বিএসইসি কর্তৃক তাতে প্রভাবিত হয়ে বাছাই প্রক্রিয়াকে কলুষিত করে অযোগ্য প্রতিষ্ঠান নির্বাচনে ইন্ধন যোগানো তেমনই বেআইনি ও অগ্রহণযোগ্য।

সংবাদের বস্তু নিষ্ঠতা যাচাই না করে এ ধরনের চূড়ান্ত মন্তব্য টিআইবির গ্রহনযোগ্যতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। বিএসইসির বিবৃতিতে এমনটাই দাবি করা হয়েছে ।

এই সংবাদটি পড়া হয়েছে ১৮০ বার

Share Button