» ৩১ মার্চ ছাত্রলীগের সম্মেলন হচ্ছে না ?

প্রকাশিত: ০৯. মার্চ. ২০১৮ | শুক্রবার

সম্প্রতি আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের ছাত্রলীগের ৭০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে সম্মেলন আয়োজনে সংগঠনটির নেতাদের তাগাদা দেন। পরে ১২ জানুয়ারি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের মোজাফফর আহম্মেদ অডিটোরিয়ামে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের এক জরুরি বর্ধিত সভায় ৩১ মার্চ ও ১ এপ্রিল কাউন্সিলের তারিখ নির্ধারিত হয়। কিন্তু
ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক এসএম জাকির হোসাইন এক অনলাইন গণমাধ্যমে জানিয়েছেন,আগামী ৩১ মার্চ ও ১ এপ্রিল ২৯তম কাউন্সিলের তারিখ ঘোষণা হলেও ওই সময়ে তা হচ্ছে না ।

তিনি বৃহস্পতিবার রাতে বলেন, ৩১ মার্চ সম্মেলন হচ্ছে না। তবে সময়মতোই ছাত্রলীগের সম্মেলন হবে। সম্মেলনের তারিখ পরবর্তীতে জানিয়ে দেওয়া হবে।

ওই সময় জাকির বলেছিলেন, যেহেতু প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা আমাদের সম্মেলনে প্রধান অতিথি থাকেন, সেহেতু তার সম্মতির ওপর বিষয়টি নির্ভর করবে। আমরা নেত্রীকে জানাব এই দুই দিনের কথা। তিনি সম্মতি দিলে ৩১ মার্চ ও ১ এপ্রিল সম্মেলন হবে।

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করতে বৃহস্পতিবার বিকালে গণভবনে যান ছাত্রলীগ সভাপতি সাইফুর রহমান সোহাগ ও সাধারণ সম্পাদক জাকির হোসাইন। সন্ধ্যায় মধুর ক্যান্টিনে এসে সম্মেলন ‘৩১ মার্চ হবে না’ বলে নেতাকর্মীদের জানিয়ে দেন তারা।

এরপর জাকিরকে ফোন করলে তিনি সম্মেলন ওই দিনে না হওয়ার কথা জানালেও কবে হবে সে বিষয়ে বলতে পারেননি। এ বিষয়ে বক্তব্যের জন্য সোহাগকে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।

এদিকে ছাত্রলীগের সম্মেলন পেছানোর এ ঘোষণায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন পদপ্রত্যাশী কয়েকজন নেতা।

ছাত্রলীগের বর্তমান কমিটির যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক সায়েম খান বলেন, নেত্রীর (শেখ হাসিনা) নামে যে বার্তাটি আজকে এসেছে, তার কোনো আনুষ্ঠানিক উৎস নেই। এর আগে মার্চে সম্মেলন হওয়া সংক্রান্ত নেত্রীর যে বার্তা আমরা পেয়েছিলাম সেগুলোর কিন্তু আনুষ্ঠানিক ভিত্তি ছিল।

আজ সন্ধ্যা থেকে একটা বার্তা ঘুরে বেড়াচ্ছে যে, ৩১ মার্চ সম্মেলন হবে না, তবে যথাসময়ে সম্মেলন হবে। এই ‘যথাসময়টা’ কি পাঁচ বছর, দশ বছর, এক সপ্তাহ নাকি অসীম সেটা পরিষ্কার করা হোক। ছাত্রলীগের এক হয়ে কাজ করার জন এই ‘যথাসময়’ নির্ধারণ করাটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।”

ছাত্রলীগের শিক্ষা ও পাঠচক্র বিষয়ক সম্পাদক ও পদপ্রত্যাশী গোলাম রাব্বানী বলেন, বর্তমান দুই নেতা আমাদের নেত্রীর ইচ্ছাকে সর্বোচ্চ প্রাধান্য দিয়ে সম্মেলনের প্রস্তুতি না নিয়ে কিসের স্বার্থে, কার ইচ্ছা বাস্তবায়নে সম্মেলনের তারিখ পরিবর্তনের আকুতি জানালেন?

আর নেত্রী যদি তাদের কথায় পূর্ব সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসে তারিখ পরিবর্তনের কথা বলে থাকেন, তবে নেত্রীর নির্ধারিত তারিখটি কত? সেই তারিখ তো ৩১ মার্চের আগেও হতে পারে।

এ নিয়ে ছাত্রলীগে কোনো ‘পরিস্থিতি’ সৃষ্টি হয় তার দায় সংগঠনের বর্তমান নেতাদের নিতে হবে মন্তব্য করে তিনি বলেন, “নেত্রীর যে কোনো সিদ্ধান্ত বিনাবাক্যে প্রশ্নাতীতভাবে শিরোধার্য। প্রয়োজনে সারা দেশে লাখো নেতা-কর্মীর পক্ষ থেকে আমরা আপার (শেখ হাসিনা) সাথে দেখা করব।

“উনারা মেসেজ ক্লিয়ার করুক, ছাত্রলীগ পরিবারের মাঝে অন্তঃকলহ সৃষ্টির দ্বার উন্মোচন না করুক।”

ছাত্রলীগের আরেক পদপ্রত্যাশী আমিনুল ইসলাম বুলবুল বলেন, “বর্তমান কমিটির মেয়াদ শেষ হয়েছে অনেক আগেই, কিন্তু সম্মেলন নিয়ে তারা শুরু থেকেই নানা রকম টালবাহানা করে আসছেন।

“নেত্রী যদি বলে থাকেন দশ বছর পরে সম্মেলন হবে, আমরা সেটাকেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ভেবে নেব। কিন্তু আজকের ঘটনায় নেত্রীর বার্তা আমাদের কাছে স্পষ্ট করা হয়নি। সম্মেলন নিয়ে নেত্রীর বার্তা স্পষ্ট করা হোক।”

২০১৫ সালের ২৬ জুলাই সর্বশেষ সম্মেলনে ছাত্রলীগের নেতৃত্বে আসেন সাইফুর রহমান সোহাগ ও জাকির হোসাইন। গঠনতন্ত্র অনুযায়ী গত বছরের ২৬ জুলাই ওই কমিটির মেয়াদ শেষ হয়।

এই সংবাদটি পড়া হয়েছে ১৯২ বার

Share Button