» ফের আন্দোলন মামলা প্রত্যাহার না হলে: শিক্ষার্থীরা

প্রকাশিত: ১৬. এপ্রিল. ২০১৮ | সোমবার

৮ এপ্রিল কোটা সংস্কারের দাবিতে শাহবাগে অবস্থান নেন শিক্ষার্থীরা। তাদের সরাতে রাত আটটার দিকে পুলিশ টিয়ার শেল নিক্ষেপ ও লাঠিচার্জ করে। পরে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়। টানা তিন দিন আন্দোলনের পর ১১ এপ্রিল সন্ধ্যায় প্রধানমন্ত্রী সংসদে কোটাপদ্ধতি বাতিল করলে আন্দোলন স্থগিত হয়। আন্দোলন চলাকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মো. আখতারুজ্জামানের বাসায় হামলাসহ বিভিন্ন বিষয়ে চারটি মামলা করেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ও পুলিশ। সোমবার বেলা ১১টা ৪০ মিনিটে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সেন্ট্রাল লাইব্রেরির সামনে এক সংবাদ সম্মেলনে,  কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনের সময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ভবনে হামলার ঘটনায় করা চারটি মামলা প্রত্যাহারে দুই দিনের সময় দিয়েছে বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ । এর মধ্যে মামলা প্রত্যাহার না হলে আবারও আন্দোলনে নামবেন শিক্ষার্থীরা।

সংবাদ সম্মেলনে পরিষদের যুগ্ন আহ্বায়ক নূর হোসেন বলেন, ‘কোটা সংস্কার আন্দোলনে আমাদের বিরুদ্ধে পুলিশ এবং বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ভিত্তিহীনভাবে যে অজ্ঞাতনামা মামলা দিয়েছে তা প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছিলাম । কিন্তু তারা তা এখনো প্রত্যাহার করেনি । আগামী ২ দিনের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে যে অজ্ঞাতনামা মামলা দিয়েছে তা প্রত্যাহার না করলে ছাত্রসমাজ আবার আন্দোলনে নামবে।

আমরা আন্দোলন শুরু করার পর থেকে বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা আমাদের সব কিছু তদন্ত করে দেখেছে। আমাদের ভিন্ন কোনো উদ্দেশ্য আছে কিনা। কিন্তু তারা নেগেটিভ কিছু না পাওয়ায় আমাদের হয়রানি করেনি। যখন আমাদের প্রধানমন্ত্রী আমাদের দাবি মেনে নিয়েছে, তখন একটা কুচক্রী মহল বিএনপি-জামায়াত বলে আমাদের বিরুদ্ধে অপপ্রচারের চেষ্টা করছে। আমরা এর তীব্র নিন্দা জানাই। আমাদের নেতৃত্ব নিয়ে বিতর্কিত করা মানে সরকারকে বিতর্কিত করা, দেশকে অস্থিতিশীল করা।’ ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের বাসায় হামলা হয়েছে সেখানে কোনো সাধারণ শিক্ষার্থী জড়িত নয়। কিন্তু একটি জাতিয় দৈনিক রিপোর্ট করেছে কেন্দ্রীয় কমিটির একজনের নেতৃত্বে হামলা হয়েছে। এটা সম্পূর্ণ মিথ্যা। ভিসি বাড়ি হামলার সাথে জড়িতদের তাদের দ্রুত বিচারের আওতায় আনা হোক। আমরা সকল ধরনের সহযোগিতা করব। কিন্তু আমাদের বিরুদ্ধে কেউ মিথ্যা ষড়যন্ত্র করে ফাঁসানো হয় তাহলে বাংলার ছাত্রসমাজ মানবে না।’

পরিষদের আহ্বায়ক হাসান আল মামুন বলেন, ‘আমি বর্তমান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের হাজি মুহাম্মদ মহসীন হল ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি। আমার পরিবার আওয়ামী রাজনীতির সাথে জড়িত। আমার বিরুদ্ধে বিভিন্ন বিভিন্ন অপ্রচার চালানো হচ্ছে।’

যুগ্ন আহ্বায়ক রাশেদ খান বলেন, ‘আমার বিরুদ্ধে বিভিন্ন ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে। একটা জাতীয় দৈনিকে আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা তথ্য দিয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে আমি নাকি সূর্য সেন হলে ২০১২ সালে ছিলাম। অথচ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আমি ভর্তি হই ২০১৩ সালে। হলে উঠি ২০১৩ সালে। সেখানে বলা হয়েছে আমি হলে থাকি না ২০১২ সাল থেকে। অথচ আমি এখনো সূর্য‌ সেন হলে থাকি। আমার যে রুম নাম্বার দেওয়া হয়েছে সেটাও ভুল দেওয়া হয়েছে। রিপোর্টে আমার বাবার নাম ও ভুল দেওয়া হয়েছে। সুতরাং যা তথ্য দেওয়া হয়েছে সব ভুল।’

বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের যুগ্ন আহ্বায়ক ফারুক হোসেন বলেন, ‘আমরা ফেব্রুয়ারির ১৭ তারিখ থেকে শান্তিপূর্ণ অহিংস আন্দোলন করে যাচ্ছি। প্রধানমন্ত্রীর আহ্বানে আমরা আন্দোলন থেকে সরে এসেছি। কিন্তু বাংলাদেশের একটা কুচক্রী মহল এখন আমাদের কেন্দ্রীয় কমিটির বিরুদ্ধে উঠে-পড়ে লেগেছে।

আজকে বাংলাদেশের একটা জাতীয় দৈনিক রিপোর্ট করেছে আমাদের কেন্দ্রীয় কমিটি নাকি বিএনপি এবং জামায়াতের সাথে জড়িত। অথচ আন্দোলন শুরু হওয়ার পর থেকে আমাদের ডিটেইলস গোয়েন্দা সংস্থারা নিয়ে গিয়েছে। তারা তখন কিছু পায়নি। কিন্তু হঠাৎ করে আমাদের নেগেটিভলি উপস্থাপন করার চেষ্টা করা হচ্ছে। সারা বাংলার ছাত্রসমাজকে বিতর্কিত করার চেষ্টা করবেন না। আমরা বঙ্গবন্ধুর আদর্শে বিশ্বাসী। দৈনিক ইত্তেফাক পত্রিকার বার্তা সম্পাদক, যে রিপোর্টার এ বানোয়াট রিপোর্ট করেছে, তারা আজকে বিকেল ৫ টার মধ্যে এই সংবাদ প্রত্যাহার না করে এবং ক্ষমা না চায় তাহলে আগামীকাল থেকে ইত্তেফাক পত্রিকাকে বর্জন করা হবে।’

এই সংবাদটি পড়া হয়েছে ১৫৭ বার

Share Button