» যখনই প্রয়োজন হবে সেনাবাহিনী জনগণের পাশে এসে দাঁড়াবে : প্রধানমন্ত্রী

প্রকাশিত: ১৩. মে. ২০১৮ | রবিবার

যখনই প্রয়োজন হবে  সেনাবাহিনী জনগণের পাশে এসে দাঁড়াবে ।

ঢাকা সেনানিবাসে রোববার সেনাবাহিনীর বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, বর্তমান সরকারের রাষ্ট্র পরিচালনাকালীন যখনই প্রয়োজন হবে তখনই সেনাবাহিনী জনগণের পাশে এসে দাঁড়াবে- এটা আমার দৃঢ় বিশ্বাস। এটা মনে রাখতে হবে; দেশটা আমাদের, দেশের মানুষ আমাদের।

ঢাকা, মিরপুর ও পোস্তগোলা সেনানিবাসের কর্মকর্তা ও সৈনিকদের উপস্থিতিতে এই অনুষ্ঠান ভিডিও লিংকের মাধ্যমে আটটি সেনানিবাসে সরাসরি সম্প্রচার করা হয়।

সেনা সদস্যদের উদ্দেশ্যে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের সরকার সর্বদাই জনগণের সেবক হিসেবে দেশ পরিচালনা করতে চায়, কখনোই শাসক হিসেবে নয়। জনগণের সেবা করার জন্য আপনাদের সার্বক্ষণিক সহযোগিতা আমরা পেয়েছি।

সেনাবাহিনীকে দেশের সম্পদ, দেশের মানুষের ভরসা ও বিশ্বাসের মূর্ত প্রতীক হিসাবে উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, “তাই পেশাদারিত্বের কাঙ্ক্ষিত মান অর্জনের জন্য আপনাদের সকলকে পেশাগতভাবে দক্ষ, সামাজিক ও ধর্মীয় মূল্যবোধে উদ্বুদ্ধ হয়ে সৎ এবং মঙ্গলময় জীবনের অধিকারী হতে হবে।

“পবিত্র সংবিধান এবং দেশমাতৃকার সার্বভৌমত্ব রক্ষা করার জন্য আপনাদের ঐক্যবদ্ধ থেকে অভ্যন্তরীণ কিংবা বাহ্যিক যে কোনো হুমকি মোকাবিলায় সদা প্রস্তুত থাকতে হবে।”

সেনাবাহিনীর সদস্যরা উর্ধ্বতন নেতৃত্বের প্রতি আস্থা, পারস্পরিক বিশ্বাস, সহমর্মিতা, ভ্রাতৃত্ববোধ, কর্তব্যপরায়ণতা, দায়িত্ববোধ এবং সর্বোপরি শৃঙ্খলা বজায় রেখে কর্তব্য সম্পাদনে একনিষ্ঠভাবে কাজ করবে বলে প্রধানমন্ত্রী আশাপ্রকাশ করেন।

সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল আবু বেলাল মোহাম্মদ শফিউল হক স্বাগত বক্তব্যে গ্লোবাল উইমেন্স লিডারশিপ অ্যাওয়ার্ড পাওয়ায় এবং বাংলাদেশের প্রথম স্যাটেলাইট বঙ্গবন্ধু-১ উৎক্ষেপণ হওয়ায় প্রধানমন্ত্রীকে অভিনন্দন জানান।

শেখ হাসিনাকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, “আপনার মতো একজন দক্ষ, বিচক্ষণ ও জাতির জনকের সুযোগ্য কন্যাকে সরকারপ্রধান হিসাবে পেয়ে দেশ ও জাতি; তথা বাংলাদেশ সেনাবাহিনী আজ গর্বিত।

“এটা বাঙালি জাতির জন্য এক অনন্য অর্জন।”

বর্তমান সরকারের দুই মেয়াদে সেনাবাহিনীর উন্নয়নে নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপের কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশ্যে সেনাপ্রধান বলেন, “আপনার সুযোগ্য নেতৃত্বের প্রতি পরিপূর্ণ আস্থা রেখে সকল সেনা সদস্য তাদের ওপর অর্পিত দায়িত্ব পালন করে, দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় এবং অভ্যন্তরীণ যে কোনো প্রকার আপদকালীন পরিস্থিতি মোকাবেলায় দৃঢ় প্রতিজ্ঞ থাকবে।”

প্রধানমন্ত্রী এই অনুষ্ঠানে ঢাকা সেনানিবাসে ক্যান্সার সেন্টার ও ফার্টিলিটি সেন্টার এবং পোস্তগোলায় এডিবেল ওয়েল মিলসহ দেশের বিভিন্ন সেনানিবাসে ২৭টি প্রকল্পের উদ্বোধন করেন।

প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যে সেনাবাহিনীর উন্নয়নে তার সরকারের নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপের কথা উল্লেখ করে বলেন, আওয়ামী লীগ সরকার সবসময় সেনাবাহিনীর সদস্যদের সার্বিক দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য প্রশিক্ষণ সুবিধাদির উন্নয়ন ও আধুনিকায়নের উপর জোর দিয়ে থাকে।

ক্যাডেটদের মৌলিক প্রশিক্ষণ ও প্রাতিষ্ঠানিক মানোন্নয়নের লক্ষ্যে প্রশিক্ষণের মেয়াদকাল বৃদ্ধি করার কথা মনে করিয়ে দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “ক্যাডেটরা বিভিন্ন বিষয়ে গ্রাজুয়েশন সম্পন্ন করার সুযোগ লাভ করছে।”

সেনা সদস্যদের উদ্দেশ্যে শেখ হাসিনা বলেন, “পদাতিক ডিভিশন, ব্রিগেড, ইউনিট ও প্রশিক্ষণপ্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেছি। কিছু সংখ্যক ইনফ্যান্ট্রি ব্যাটালিয়নকে প্যারা ব্যাটালিয়ন এবং মেকানাইজড ব্যাটালিয়নে রূপান্তর করা হয়েছে।”

সেনাবাহিনীর উন্নয়ন ও আধুনিকায়নের পাশাপাশি সেনাসদস্যদের জন্য নেওয়া কল্যাণমুখী পদক্ষেপগুলো তুলে ধরেন শেখ হাসিনা।

সেনাসদস্যদের রসদ বাড়ানোসহ তাদের বিভিন্ন ভাতা বৃদ্ধি করার কথা মনে করিয়ে দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, জেসিওদেরকে প্রথম শ্রেণি (নন-ক্যাডার) এবং সার্জেন্টদেরকে দ্বিতীয় শ্রেণীর (নন-ক্যাডার) কর্মকর্তার মর্যাদায় উন্নীত করা হয়েছে।

সেনাবাহিনীতে প্যারা কমান্ডো ব্রিগেড গঠনের কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “দেশের আকাশ প্রতিরক্ষাকে আরও সুসংহত করতে সংযোজিত হয়েছে এমএলআরএস এবং মিসাইল রেজিমেন্ট।”

‘অত্যাধুনিক বিভিন্ন যুদ্ধাস্ত্র, হেলিকপ্টার, আর্টিলারি গান এবং মর্ডান ইনফ্যান্ট্রি গেজেট সংযোজন করে সেনাবাহিনীর অপারেশনাল সক্ষমতাকে’ বহুলাংশে বৃদ্ধি করা হয়েছে বলেও প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন।

শেখ হাসিনা বলেন, “স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার প্রতীক আমাদের সশস্ত্র বাহিনী। কাজেই তার সার্বিক উন্নয়ন করা; এটা আমাদের একটা দায়িত্ব বলে মনে করি।”

আওয়ামী লীগের আগের সরকারের সময়ে ২০১৩ সালে প্রথমবারের মত বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে নারী সৈনিক ভর্তির সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়।

সেনাবাহিনীর মহিলা পাইলট সংযোজন নতুন দিগন্তের সূচনা করবে বলেও প্রধানমন্ত্রী মন্তব্য করেন।

তিনি বলেন, আর্মি এভিয়েশনের দুই নারী পাইলট বাংলাদেশের সকল নারীর অনুপ্রেরণার মাইল ফলক হয়ে থাকবে।

১৯৯৮ সালে সেনা সদস্যদের জন্য দুপুরে ভাতের ব্যবস্থা চালু করার কথা মনে করিয়ে দিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, ১৯৯৬ সালে আমি যখন সরকারে গেলাম। বলা হয়েছিল, তাদের দুপুরে ভাত খেতে দেওয়া হয় না। রুটি খেতে দেওয়া হয়।

১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ যখন সরকার গঠন করে তখন দেশে খাদ্য ঘাটতি ছিল ৪০ লাখ মেট্রিক টন। ১৯৯৮ সালে বাংলাদেশ খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করে।

১৯৯৬ সালের স্মৃতিচারণ করে শেখ হাসিনা বলেন, স্বাভাবিকভাবে আমি কথা দিয়েছিলাম যে, অবশ্যই একদিন বাংলাদেশকে আমরা খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ করবো। যতদিন পর্যন্ত আমি সেনাসদস্যের জন্য ভাতের ব্যবস্থা করতে না পরব, আমি নিজেও দুপুরে ভাত খাবো না। আমি ভাত খাইনি। ১৯৯৮ সালে বাংলাদেশ খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ হয় এবং আমরা আমাদের সেনা বাহিনীকে ভাত দিতে সক্ষম হই। সেদিন আমি এই ক্যান্টনমেন্টে নিজে উপস্থিত থেকে সেনাসদস্যদের সঙ্গে একসঙ্গে বসে দুপুরের ভাত খেয়ে.. তারপর থেকে দুপুরের ভাত খেয়েছি।

সেনা সদস্যদের দুঃস্থ ভাতা দুই লাখ টাকার থেকে বাড়িয়ে ছয় লাখ টাকা করার কথাও উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী।

সেনাবাহিনীর জেসিও পদকে দ্বিতীয় শ্রেণী থেকে প্রথম শ্রেণীতে (নন ক্যাডার) এবং সার্জেন্ট পদকে তৃতীয় শ্রেণী থেকে দ্বিতীয় শ্রেণীতে উন্নীত করার কথা মনে করিয়ে দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “এলপিআরের সময়সীমা ছয় মাসের পরিবর্তে এক বছরে উন্নীত করা হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তা উপদেষ্টা, নৌবাহিনী ও বিমান বাহিনী প্রধান, মন্ত্রিসভার সদস্য, পুলিশের মহাপরিদর্শক, সেনাবাহিনীর সাবেক প্রধানরাও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

এই সংবাদটি পড়া হয়েছে ১৭০ বার

Share Button