» কমলগঞ্জে ছাত্রলীগের দুই গ্র“পের সংঘর্ষে আহত-১৪, কলেজ অধ্যক্ষের কক্ষ ভাংচুর

প্রকাশিত: ১৫. মে. ২০১৮ | মঙ্গলবার

মোঃ আব্দুল কাইয়ুম, (মৌলভীবাজার )
মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জে আধিপাত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে ছাত্রলীগের দু গ্রুপের সংঘর্ষে কলেজ ছাত্রলীগ সভাপতিসহ উভয় গ্র“পের অন্তত ১৪ জন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। সোমবার (১৪মে) দুপুর দেড়টার দিকে কলেজ ক্যাম্পসে এ ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষের সময় সাধারণ শিক্ষার্থীরা আতঙ্কে ছুটাছুটি করতে থাকে। এসময় সংঘর্ষ চলাকালে আতংঙ্কগ্রস্থ ছাত্রীদেরকে কান্না করতে দেখা যায়। নিরাপত্তার অভাবে শিক্ষকরা দায়িত্ব পালন করতে না চাইলে বিকেলের পরীক্ষা বাতিল করা হয়। সংঘর্ষের সময় উভয় গ্র“প রাস্থা অবরোধ করে বিক্ষোভ করে দায়ীদের শাস্তি দাবি করেছে।

পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হলেও এক গ্রুপ পুলিশের পক্ষপাতমুলক আচরন এবং কলেজ কর্তৃপক্ষ পুলিশের নিস্ক্রিয়তাকে দায়ী করেছে। জানা যায় , উপজেলা ছাত্রলীগ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় পুলিশ দুই ছাত্রলীগ নেতাকে আটক করেছে। গুরুতর আহত কলেজ ছাত্রলীগ সভাপতি আব্দুল হাকিম রাজ ও ছাত্রলীগ নেতা সাব্বির হোসেন মুন্নাকে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে। সংঘর্ষের সময় কলেজের আসবাবপত্র সহ কলেজ অধ্যক্ষের কক্ষ ভাংচুর করা হয়।
প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, সোমবার বেলা ১ টার দিকে কমলগঞ্জ ডিগ্রী কলেজ গেইটে সংঘর্ষের প্রাথমিক সূত্রপাত হয়। ছাত্রলীগের উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক সাকের আলী সজিব গ্রুপের মুন্না, নাইম, নাহিদসহ আরও কয়েকজনের সাথে সভাপতি রাহাত ইমতিয়াজ রিপুল গ্রুপের রাফি’ টিপু ও সায়েমের কথাকাটির এক পর্যায় সংঘর্ষ বাঁধে। মুহুর্তেই সংঘর্ষ পুরো কলেজ ক্যাম্পাসে ছড়িয়ে পড়ে। উভয় পক্ষ লাঠি ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়ায়। বিষয়টি জানাজানি হলে উপজেলা ছাত্রলীগ সভাপতি রাহাত ইমতিয়াজ রিপুল এবং সাধারণ সম্পাদক সাকের আলী সজিব উভয়েই যার যার সহযোগীদের নিয়ে কলেজ ক্যাম্পাসে অবস্থান নেন। তখন উভয় গ্রুপের মধ্যে তুমুল সংঘর্ষ শুরু হয়। খরব পেয়ে কমলগঞ্জ থানার উপ-পরিদর্শক এস.আই চম্পক ধাম এর নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল কলেজ ক্যাম্পাসে আসলেও পুলিশের উপস্থিতিতে সংঘর্ষ ব্যাপক আকার ধারন করে। সংঘর্ষে উপজেলা ছাত্রলীগ সভাপতি গ্রুপের কমলগঞ্জ কলেজ ছাত্রলীগ সভাপতি আব্দুল হাকিম, রাফি, সাইফুর রহমান টিপু, সোহাগ, নয়ন তানভীর, সামাদ, জয় ও সাফি আহত হয়। উপজেলা ছাত্রলীগ সম্পাদক গ্রুপের সাব্বির হোসেন মুন্না, নাইম, নাহিদ, কামরুল ও রফি আহত হন। সভাপতি গ্রুপের আহত কর্মী রাফিকে কমলগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে সম্পাদক গ্রুপের আহত সাব্বির হোসেন মুন্নার বড় ভাই ছাত্রলীগ নেতা জাকির হোসেন পান্না ও তার সহযোগীরা হাসপাতালে গিয়ে রাফি ও হাকিমের উপর হামলা করে।

হামলায় হাকিম মাথায় মারাত্মক আঘাত প্রাপ্ত হন। মুন্না মাথায় ও হাতে আঘাত প্রাপ্ত হন। রাফি পায়ের গোড়ালিতে আঘাত প্রাপ্ত হন। অন্যান্য আক্রান্তরা শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত প্রাপ্ত হয়েছে। হামলার সময় একাদশ শ্রেনীর বার্ষিক পরীক্ষা মাত্র শেষ হয়। হামলা দেখে সাধারণ শিক্ষার্থীরা দ্বিকবিদ্বিক ছুটাছুটি করতে থাকে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, তখন ছাত্রীদের অনেকেই কাঁদতে থাকেন। নিরাপত্তার অজুহাতে শিক্ষকরা বিকালের পরীক্ষা নিতে পারবেন না বলে অধ্যক্ষকে জানালে বিকালের পরীক্ষা স্থগিত করা হয়। এদিকে সংঘর্ষের ঘটনায় আহত আব্দুল হাকিম ও রাফি বর্তমানে মৌলভীবাজার সদর ২৫০ শয্যা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন বলে জানা গেছে। অপর দিকে সাব্বির হোসেন মুন্না সিলেট ওসমানী হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছে। অন্যান্য আহতরা কমলগঞ্জ ও মৌলভীবাজার হাসপাতালে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিয়েছে। ঘটনার পর পর রিপুল গ্রুপ কমলগঞ্জ উপজেলা চৌমুহনায় রাস্তা অবরোধ করে বিক্ষোভ মিছিল করে দায়ীদের শাস্তি দাবী করে। সজিব গ্রুপ ভানুগাছ বাজারে বিক্ষোভ মিছিল করে সভাপতি রিপুল ও তার সহযোগীদের দায়ী করে দোষীদের দৃষ্টান্তমুলক শাস্তি দাবী করেছে।
এ ব্যাপারে কমলগঞ্জ ডিগ্রী কলেজের অধ্যক্ষ কামরুজ্জামান মিঞা বলেন, ঘটনাটি সম্পূর্ন অপ্রত্যাশিত। গভর্নিং বডির সভায় আলোচনা করে চুড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। তবে পুলিশকে অবগত করা হলেও তারা আসতে দেরী করে। যদি পুলিশ সময়মতো আসতো তাহলে বিষয়টি বড় হতো না।
কমলগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ মো: মোকতাদির হোসেন পিপিএম বলেন, পরিস্থিতি এখন শান্ত। পুলিশ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহন করবে।
উপজেলা ছাত্রলীগ সভাপতি রাহাত ইমতিয়াজ রিপুল বলেন, সাধারণ সম্পাদক সাকের আলী সজিব ও জাকির হোসেন পান্না পূর্বপরিকল্পনা মোতাবেক কলেজের পরিবেশ অশান্ত করার জন্য হামলার ঘটনা ঘটিয়েছে।
উপজেলা ছাত্রলীগ সম্পাদক সাকের আলী সজিব বলেন, ১৩ মে কলেজে ছাত্রদলের সাথে ছাত্রলীগের সংঘর্ষ হয়। ১৪ মে উপজেলা ছাত্রলীগ সভাপতি রাহাত ইমতিয়াজ রিপুল ছাত্রদলের কয়সর, জুলিসহ অন্যান্যদের সেল্টার দিয়ে ছাত্রলীগের মুন্না, নাহিদ, নাইমদের উপর হামলা করেছে।
এ ঘটনায় উভয় পক্ষ থেকে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। । শেষ রিপোর্ট পর্যন্ত ভানুগাছ বাজার ও উপজেলা চৌমুহনায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। উভয় গ্রুপ অবস্থান নিয়ে মিছিল পাল্টা মিছিল করছে। সজিব গ্রুপ রিপুল গ্রুপের কয়েক জনের সমর্থকের বাবা চাচার ভানুগাছ বাজারের দোকানে গিয়ে অভিবাবকদের হুমকি দিয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। যে কোন সময় পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারন করতে পারে। বিশ্বস্থ সূত্রে জানা যায়।

এই সংবাদটি পড়া হয়েছে ১৩৪ বার

Share Button