» দিতে চান,নাকি লোক দেখান?

প্রকাশিত: ১৬. মে. ২০১৮ | বুধবার

নার্গিস জামান
সাতকানিয়ায় ইফতারের সামগ্রী নিতে গিয়ে ২৫ হাজারের মধ্য দশজন মারা গেছে গতকাল।
আজকের করতোয়ার হেডলাইনে এসেছে।কত টাকার সামগ্রী ছিল,এক একটি প্যাকেটে? ডাল,চিনি,ছোলা,সেমাই –
না হয় ১০০০ টাকার প্যাকেট ছিল এক একজনের জন্য।এই সামান্য জিনিস বিলাতে গিয়ে এক একটি জীবন নাশ করবার অধিকার আপনাকে কে দিলো?
দিতে চান,নাকি লোক দেখান? দিতে চাইলে সিস্টেমে দিন।আপনার সামর্থ অনুযায়ী ঠিক করুন  কতটা এলাকা কাভার করতে পারবেন।
নিজ উপজেলার ইউনিয়ন দিয়ে শুরু করুন।ইউনিয়নে দারিদ্র সীমার নীচে যারা তাদের নাম লিস্ট করুণ।তারপরে তাদেরকে একটু মোটা অঙ্ক দিয়ে কিছু কাজের, উপার্জনের পথ করে দিন।এক ইউনিয়ন শতভাগ কাভার হলে পরের ইউনিয়ন ধরুন।এভাবে জেলা দারিদ্র মুক্ত করুন,বিভাগ দারিদ্র মুক্ত করুণ তাহলে দেশ দারিদ্র মুক্ত হবে। লোক দেখানো দু’পয়সা,(যাকাতের একটি কাপড়,কিংবা ইফতার) কাকের মাঝে ভাত ছিটানোর মতো করে ছিটাতে যেয়ে এই হাভাতে,ভাত লোভী মানুষগুলোর জীবন নিয়ে ছিনিমিনি খেলবেন না।প্রকৃতপক্ষে দিতে চাইলে,লোক না মেরেই দেবার অনেক পদ্ধতি আছে।বার বার এই যাকাত নিতে গিয়ে লোক মারা যাচ্ছে।যা মেনে নেয়া যায়না।

আর এই হাভাতেগুলো কারা?ভাতের হাহাকার এখনো আছে? ক্রমাগত উন্নয়নশীল এই দেশে ! বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর হিসেব অনুযায়ী দারিদ্র কমে দাঁড়িয়েছে ২৩,২ শতাংশ। অতি দারিদ্র ১২,৯ শতাংশ। পরিকল্পনা কমিশনের তথ্যে দেখা গেছে বর্তমানে ৪ কোটি লোক দারিদ্রসীমার নীচে।আর ২ কোটি লোক অতি দারিদ্রসীমার নীচে অর্ধাহারে অনাহারে বসবাস করছে।দারিদ্র আর অতিদারিদ্র কী? সংস্থাটির তথ্যে,একজন ব্যক্তির যদি তার অর্জিত আয়ে দৈনিক ২২শ ক্যালরি পর্যন্ত খাদ্য গ্রহণের সামর্থ্য থাকে তাকে দারিদ্রমুক্ত বলা হয়।২২ শ ক্যালরির চেয়ে কম খেলে তাকে দারিদ্রসীমার নীচে বলা হয়।আর ১৮ শ ক্যালরি খাদ্য জোটাতে পারছেনা এমন হলে অতি দারিদ্রের তালিকায় বিবেচনা করা হয়।হিসেব মতে ২ কোটি লোক ১৮ শ ক্যালরি খাদ্য জোটাতে পারছেনা।
এই হাভাতেগুলো হলো ১৮ শ ক্যালরির নীচে সেই অতিদরিদ্র জনতা।এরা না খেতে খেতে এমনিই মরা। কতক্ষণ আপনার সভায় ২৫০০০ লোকের চাপে দাঁড়িয়ে থাকা সম্ভব এদের? তাই অনুরোধ এভাবে ভাত না ছড়িয়ে নিজ নিজ এলাকার গরীবদের নাম লিস্ট করে তাদের বা অন্তত একজনের আয়ের পথ করেদিন।২৫০০০ হাজার লোককে একদিনের জন্য মাত্র একবেলার খাবার নাইবা দিলেন।এক একজন করেই দারিদ্রমুক্ত করুন !

এই সংবাদটি পড়া হয়েছে ১৫১ বার

Share Button