» ড্যাফোডিল ইউনিভার্সিটিতে ‘বিশ্ব টেলিযোগাযোগ ও তথ্য সংঘ দিবস’

প্রকাশিত: ১৭. মে. ২০১৮ | বৃহস্পতিবার

 মেরিনা সঈদ
বিশ্ব টেলিযোগাযোগ ও তথ্য সংঘ দিবস-২০১৮ উদযাপন উপলক্ষে ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটিতে ইলেকট্রনিক্স অ্যান্ড টেলিকমিউনিকেশন ইঞ্জিনিয়ারিং (ইটিই) বিভাগের আয়োজনে আজ বৃহম্পতিবার (১৭মে) শোভাযাত্রা ও সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে। ‘সবার জন্য দরকার কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ইতিবাচক ব্যবহারের সুযোগ সৃষ্টি’ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে সকাল ১০টায় ইটিই বিভাগের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির প্রধান ক্যাম্পাস থেকে শোভাযাত্রা বের যা ধানমন্ডি এলাকার প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ পুনরায় ক্যাম্পাসে এসে শেষ হয়। এরপর শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিশ্ববিদ্যালয়ের ৭১ মিলনায়তনে সেমিনারে মিলিত হোন। সেমিনারে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক ড. গোলাম মওলা এবং সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট অব ইনফরমেশন টেকনোলজির সহযোগী অধ্যাপক ড. এম শামীম কায়সার। ইটিই বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধান তসলিম আরেফিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সেমিনারে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইঞ্জিনিয়ারিং অনুষদের সহযোগী ডিন অধ্যাপক ড. একেএম ফজলুল হক।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে অধ্যাপক ড. গোলাম মওলা বলেন, চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের এই যুগে টিকে থাকতে হলে নিজেকে যুগের উপযোগী করে তৈরি করতে হবে। বর্তমান সময়কে বলা হচ্ছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার যুগ। আর কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নির্ভর করে বিগ ডাটা, ইনফরমেশন টেকনোলজি ইত্যাদির উপর। সুতরাং শিক্ষার্থীদেরকে এইসব বিষয়ে পরদর্শী হয়ে উঠতে হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি। অধ্যাপক ড. গোলাম মওলা আরো বলেন, ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি শিক্ষার্থীদেরকে যুগের উপযোগী করে গড়ে তুলতে সর্বদা সচেতন। তাই বিশ্ববিদ্যালয়ের শুধু ইটিই বিভাগ নয় সব বিভাগকেই আন্তর্জাতিক মানের পাঠ্যক্রম দিয়ে সাজানো হয়েছে। সে কারণে ড্যাফোডিল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা দেশে ও বিদেশে সম্মানজনক কর্মসংস্থানে অবস্থান করছেন বলে জানান অধ্যাপক ড. গোলাম মওলা।
অনুষ্ঠানের সম্মানিত অতিথি অধ্যাপক ড. এম শামীম কায়সার ‘এসডিএন, এনএফভি অ্যান্ড রোড টু ফাইভ জি’ শীর্ষক একটি প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন। প্রবন্ধ উপস্থাপনকালে শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, বাংলাদেশে আমরা এখন ফোর জি নেটওয়ার্ক ব্যবহার করছি। ২০২০ সাল নাগাদ ফাইভ জি নেটওয়ার্কের যুগে প্রবেশ করব। সেই যুগে প্রবেশ করার জন্য আমাদেরকে যথেষ্ঠ সক্ষমতা অর্জন করতে হবে। এজন্য কারিগরি জ্ঞানার্জনের পাশাপাশি অবকাঠামোগত উন্নয়নও প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেন অধ্যাপক ড. এম শামীম কায়সার।
শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে অধ্যাপক ড. এম শামীম কায়সার আরো বলেন, তথ্যপ্রযুক্তির কর্মক্ষেত্র শুধু বাংলাদেশে নয়, সারা বিশ্বে উন্মুক্ত। এজন্য প্রয়োজন নিজেকে পারদর্শী করে গড়ে তোলা। যার যে বিষয়ে আগ্রহ রয়েছে তার সে বিষয়ে সর্বোচ্চ পারদর্শীতা অর্জন করা উচিত। তাহলে চাকরি তার পায়ের কাছে এসে লুটাবে বলে মন্তব্য করেন তিনি। অধ্যাপক ড. এম শামীম কায়সার বলেন, এখন শুধু সিজিপিএ দিয়ে শিক্ষার্থীর মেধা যাচাই করা হয় না। একাডেমিক সার্টিফিকেটের পাশাপাশি সিসিএনএ, লিন্যাক্স, গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশ, স্বেচ্ছাসেবামূলক কর্মকান্ডে অংশগ্রহণের অভিজ্ঞতা ইত্যাদি আছে কিনা সেসবও চাকরি পাওয়ার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
উল্লেখ্য, জাতিসংঘের অঙ্গসংস্থা ইনস্টিটিউট অব টেলিকমিউনিকেশন ইউনিয়ন এর উদ্যেগে প্রতিবছর ১৭ মে আন্তর্জাতিক টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি সমাজ দিবস উদযাপন করা হয়। এবছর বাংলাদেশসহ বিশ্বের ১৯৩টি সদস্য দেশে দিবসটি উদযাপন করছে।

এই সংবাদটি পড়া হয়েছে ৭৪ বার

Share Button