» বিদ্রোহের আগুনে জ্বলছে সিলেট ছাত্রদল , নেতৃত্বে মাছ ব্যাবসায়ী ও মুরগী ব্যবসায়ী !

প্রকাশিত: ২৫. জুন. ২০১৮ | সোমবার

বিতর্ক পিছু ছাড়ছেনা সিলেট ছাত্রদলের নবঘোষিত ও সমালোচিত কমিটির। ঢাক-ঢোল পিটিয়ে ২০০০ ব্যাচের ছাত্রনেতাদের সমন্বয়ে বহুল প্রতিক্ষার পর জেলা ও মহানগর কমিটি ঘোষনা হলেও ফের মূল নেতৃত্বে এসেছে বিতর্কিতরাই। এর মধ্যে রয়েছে মাছ ব্যবসায়ী, মোরগ ব্যবসায়ী এমনকি তীর ও আইপিএল জুয়ারীসহ বিতর্কিতরা। ফলে কমিটি ঘোষণার সাথে সাথেই বিদ্রোহ হয় পুরো নগর জুড়ে। কমিটিতে স্থান পেয়েও পদত্যাগ করেন এক ডজনেরও অধিক ছাত্রনেতা। তারা এই কমিটিকে ভারসাম্যহীন কমিটি ঘোষনা দিয়ে অবিলম্বে কমিটি বাতিল করে নতুন কমিটি গঠনের আহ্বান জানান।

সূত্র জানায়, বিদ্রোহ ঠেকাতে ঈদুল ফিতরের মাত্র দুদিন আগে বৃহস্পতিবার জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের সিলেট জেলা ও মহানগর শাখার কমিটি অনুমোদন দেয় কেন্দ্রীয় ছাত্রদল। ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মামুনুর রশীদ মামুন ও সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আকরামুল হাসান এ কমিটি অনুমোদন দেন। গঠিত ২৮ সদস্য বিশিষ্ট জেলা ছাত্রদলের কমিটিতে আলতাফ হোসেন সুমনকে সভাপতি, দেলোয়ার হোসেন দিনারকে সাধারণ সম্পাদক ও আব্দুল মোতাক্কাবীর সাকীকে সাংগঠনিক সম্পাদক করা হয়। অপর দিকে মহানগর ছাত্রদলের ২৯ সদস্য বিশিষ্ট কমিটিতে সুদীপ জ্যোতি এষকে সভাপতি, ফজলে রাব্বী আহসানকে সাধারণ সম্পাদক ও রুবেল ইসলামকে সাংগঠনিক সম্পাদক করা হয়।
কমিটি ঘোষনার সাথে সাথেই ঘোষিত কমিটিকে ‘ভারসাম্যহীন’ কমিটি আখ্যায়িত করে কমিটি থেকে পদত্যাগপত্র জমা দেন-জেলা ছাত্রদলের নবগঠিত কমিটির সিনিয়র সহ-সভাপতি নজরুল ইসলাম, সহ-সভাপতি মাসরুর রাসেল, সহ-সভাপতি শিহাব খান, যুগ্ম সম্পাদক সুহেল ইবনে রাজা, যুগ্ম সম্পাদক আনোয়ার হোসেন রাজু, মহানগর ছাত্রদলের সহ-সভাপতি সুহেল রানা, যুগ্ম সম্পাদক শাকিলুর রহমান, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মুহিবুল মজিদ চৌধুরী মুহিব। বৃহস্পতিবার রাতেই এই কমিটিকে প্রত্যাখ্যান করে প্রতিবাদ মিছিল অনুষ্ঠিত হয় মহানগরে। মিছিল শেষে বিএনপি নেতা খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরের পতিকৃতিতে জুতা নিক্ষেপ করে বিদ্রোহীরা তীব্র প্রতিবাদ জানায়।

সূত্রে আরো জানা যায়, ২০০০ ব্যাচের কমিটি আসছে এমন আশায় বুক বেঁধেছিলেন অনেক ত্যাগী ও সক্রিয় নেতা। কিন্তু ঘোষিত কমিটির মূল দায়িত্বে ২০০০ ব্যাচের দেখানো হলেও সেখানে রয়েছে শুভঙ্করের চরম ফাঁকি। জেলা সভাপতি আলতাফ হোসেন সুমন একজন প্রতিষ্ঠিত মাছ ব্যাবসায়ী। তিনি কাজির বাজার এবং টুকের বাজার মৎসজীবি ব্যাবসায়ী সমিতির গুরুত্বপূর্ণ পদে নির্বাচিত প্রতিনিধি। তিনি এসএসসি উত্তীর্ণ হলেও এইচএসসি পাশ করেন নি। নেই কলেজ ক্যাম্পাসের রাজনীতির কোন অভিজ্ঞতা। জেলা সাধারণ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন দিনার একজন মুরগী ব্যবসায়ী। তিনিও শিক্ষা জীবনে স্কুলের গন্ডি পেরিয়ে কলেজে যান নি। মহানগর সভাপতি সুদীপ জ্যোতি এষ এইচএসসি পাশ করে শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আজ অবধি গ্র্যাড্যুয়েশন সম্পন্ন করতে পারেন নি। এখন সিলেট কোর্টে মরিল হিসেবে কাজ করছেন। সিলেটের শহরে রাজনীতিতে তার নেই কোন অভিজ্ঞতা। মহানগর সাধারণ সম্পাদক ফজলে রাব্বি আহসান ২০০৩ সালে ছাত্রলীগ থেকে তৎকালিন মহানগর সভাপতি জিয়াউল গনি আরেফিন জিল্লুর এর হাতে ফুলের তোড়া দিয়ে ছাত্রদলে যোগ দেন। কিছুদিন পর যুক্তরাজ্য চলে যান তিনি। তারপর ২০১৪ সালে খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির রাজনীতিতে সক্রিয় হলে দেশে ফিরেন। মহানগরের মত একটি গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় নেতৃত্ব দেয়ার মতো কোন অভিজ্ঞতা নেই সাবেক এই ছাত্রলীগ নেতার। এছাড়াও তার বিরুদ্ধে রয়েছে ভারতীয় তীর খেলা (জুয়া) ও আইপিএল জুয়া খেলার পরিচালনার অভিযোগ। তবে তিনি বিএনপির বর্ষীয়ান নেতা আলহাজ্ব এম.এ হকের বাগিনা এবং খন্দকার আব্দুর মুক্তাদিরের অনুসারী হওয়ায় এমন গুরুত্বপূর্ণ পদে আসীন হতে পেরেছেন বলে মনে করেন একাধিক ছাত্রদল নেতা। এমন নেতাদের হাতে ছাত্রদলের মতো একটি বৃহৎ ছাত্র সংগঠনের নেতৃত্ব কতটা নিরাপদ তা নিয়ে সন্দিহান অনেক ছাত্রদল নেতা।
এব্যাপারে সিলেট জেলা ছাত্রদলের নব গঠিত কমিটির যুগ্ম সম্পাদক (পদত্যাগী) সুহেল ইবনে রাজা বলেন- আমরা নতুন নেতৃত্বের আশা করেছিলাম এবং নেতৃত্বে যোগ্য ও মেধাবী, কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ে নেতৃত্ব দেয়ার যোগ্যতা সম্পন্ন নেতৃত্ব চেয়েছিলাম। কিন্তু মূল পদে যাদেরকে আনা হয়েছে তাদের কাছে নেতৃত্ব-যোগ্যতার পরিবর্তে কথিত ভাইয়ের ব্যক্তিগত সম্পর্ককে প্রাধান্য দেয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে ছাত্রদলকে বিতর্কিত এবং ছাত্র সমাজের কাছ থেকে দুরে সরিয়ে দেয়ার ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে। অবিলম্বে এই বিতর্কিত কমিটি বাতিল করে যোগ্য ও সক্রিয় ছাত্রনেতাদের হাতে নেতৃত্ব তুলে দেয়ার জন্য কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি।

এব্যাপারে সদ্য পদত্যাগ করা মহানগর ছাত্রদলের যুগ্ম সম্পাদক ডা: শাকিলুর রহমান বলেন- এই কমিটির মাধ্যমে সিলেটের ছাত্রদলের ইতিহাসে কলংকের কালেমা লেপন করা হয়েছে। মুল নেতৃত্বে যাদেরকে আনা হয়েছে তাদের শিক্ষাগত যোগ্যতা এবং আন্দোলন সংগ্রামে তাদের ভুমিকা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। কমিটিতে চিহ্নিত ছিনতাইকারী ও জুয়ারী, অছাত্র এবং বিতর্কিতদের স্থান দেয়া হয়েছে। সিনিয়রদের নিচে এবং জুনিয়দের উপরে পদ দিয়ে ছাত্রদলকে ধ্বংস করা হয়েছে। আমরা এ বিষয়ে দেশনায়ক তারেক রহমানের হস্থক্ষেপ কামনা করছি।

মহানগর ছাত্রদলের সদ্য পদত্যাগী সহ-সভাপতি সোহেল রানা বলেন- আমাদের মায়ের মত নেত্রী কারাগারে। সামনে কঠিন সময় অপেক্ষা করছে। বাকশালী অপশাসন মোকাবেলায় যেমন ছাত্রদল গঠনের কথা ছিল সিলেটের ক্ষেত্রে তা মানা হয়নি। একজন বিশেষ ব্যক্তির হাতকে শক্তিশালী করতে সিলেটের ছাত্রদলকে অছাত্র অশিক্ষিত ও ছিনতাইকারীদের হাতে তুলে দিয়েছেন। তৃনমূল ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা এই কমিটিকে প্রত্যাখ্যান করেছে। আমরা এব্যাপারে আগামীর রাষ্ট্রনায়ক আমাদের আশা ভরসার শেষ আশ্রয়স্থল দেশনায়ক তারেক রহমানের হস্থক্ষেপ কামনা করছি।
এ বিষয়ে সিলেট মহানগর ছাত্রদলের নব নির্বাচিত সভাপতি সুদীপ জ্যোতি এষ বলেন- আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। আমি শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্থনীতিতে অনার্স সম্পন্ন করেছি। বর্তমানে সিলেট ল’কলেজে অধ্যয়নরত। আমি ইতোমধ্যে এমসি কলেজ ছাত্রদলের সদস্য হিসেবে কাজ করেছি। মহানগর ছাত্রদলের সকল আন্দোলন সংগ্রামের সক্রিয় আছি।

এদিকে অনেক ঢাল ঢোল পিটিয়ে কমিঠি ঘোষিত হলেও ঘোষনার পর থেকে পদ বঞ্চিত নেতাকর্মীদের তোপের মুখে পড়ে রাজপথে দাঁড়াতেই পারছে না জেলা ও মহানগর ছাত্রদল।

এই সংবাদটি পড়া হয়েছে ৫০০ বার

Share Button