» বিবেকের সাথে কথোপকথন

প্রকাশিত: ১৯. জুলাই. ২০১৮ | বৃহস্পতিবার

 

এম আই প্রধান

খুব অল্প বয়সে বিয়ে হয়েছে,সন্তানও নেয়া হয়ে গেছে।স্বামী আগেও বেকার ছিল এখনও তেমন কোন কাজ নেই।টুকটাক সামান্য যা আয় করে তা বন্ধুদের সাথে নেশা করতেই শেষ। সংসারে ঝগড়া এখন নিত্য সঙ্গী। ইদানিং মারপিটও চলছে।সেদিন প্রথম একটা থাপপর দিয়েছিল; আজ অনেক অনেক থাপ্পর, লাথি আর সাথে বিশ্রী ভাষায় বকাঝকা।

পড়ালেখা মাত্র এইচ এস সি পাশ।পাশের ফ্লাটে দুইটা টিউশনি আছে যা দিয়ে নিজের,বাচ্চা ও স্বামীর খাবার জোটাতে হয়।
ইদানিং টিউশনিতে নতুন সমস্যা এসে গেছে। মালিক লোকটা অশ্লীল ইঙ্গিত দিয়ে ভিন্ন টাইপের কথা বলা শুরু করেছে। সেদিনতো অশ্লীল প্রস্তাব করেই ফেলেছে। আজ বললো তার প্রস্তাব মতো কথা না শুনলে সে অন্য টিচার রাখবে। বাড়ীতে ছোট বাচ্চার খাবার সহ টুকটাক নানা খরচ করতে হয়।অন্য জব করতে বহুবার চেষ্টা করেছে,হয়নি। টিউশনিটা ধরে রাখা খুবই জরুরি তার জন্য।
আজ যখন স্টুডেণ্টের বাবার অশ্লীল প্রস্তাবের কথা স্বামীকে বলতে গেল অমনি শুরু হলো উপর্যুপরি চড়,থাপ্পর, লাথি। স্বামী বললো তার নাকি স্বভাব খারাপ। স্বভাবের কারনেই নাকি লোকটা এমন প্রস্তাব করেছে।

মেয়েটা মরে যেতেই ইচ্ছুক ছিল কিন্তু তার এই ফুটফুটে বাচ্চা মেয়েটা বাকী জীবন কিভাবে কাটাবে,কে তাকে খাইয়ে দেবে,চুলের ঝুটি বেধে দেবে,স্কুলে পাঠাবে এসব নানা ভাবনায় তার মাথার চুল ছিড়ে ফেলতে ইচ্ছে করলো।

বাবা বাড়ীর কথা মনে হলেই গা শিউরে ওঠে।
মা মারা যাওয়ায় বাবা আরেকটা বিয়ে করলো। তারপর মায়ের পাশাপাশি বাবার অত্যাচারও শুরু হয়েছিল। অবস্থা বেগতিক দেখে পাশের গ্রামের বাউণ্ডেলে স্বভাবের মানুষ কফিল মিয়াকে স্বামী করে সংসার শুরু করেছিল।স্বামীটা বিয়ের পর আরও বদলে গেল।খারাপ লোকদের খপ্পরে পড়ে নেশায় আসক্ত হয়ে পড়লো।

কাল সকালে টিউশনিতে গেলে মালিক লোকটাকে হ্যা বা না একটা কিছু বলতেই হবে।টিউশনি চলে গেলে না খেয়ে মরা ছাড়া আর উপায়ও নাই। কথাগুলো স্বামীকেও বলার আর পথ নাই।

কি করা উচিৎ এখন মেয়েটার……?

(বিঃদ্রঃ নিজের বিবেককে জাগিয়ে তুলুন কমেণ্টের মাধ্যমে,নিজেই নির্ণায়ক হবার শক্তি অর্জন করতে শিখুন; ভাল না লাগলে এড়িয়ে চলুন। ও হ্যা, গল্পটা সম্পুর্ণরুপে আমার কাল্পনিক ভাবনা থেকে লেখা,কারও সাথে মিলে গেলে আমি দুঃখিত।)

 

এই সংবাদটি পড়া হয়েছে ৩১০ বার

Share Button