» নিরাপদ সড়ক!

প্রকাশিত: ১২. আগস্ট. ২০১৮ | রবিবার

শাহানা সিরাজী
গত  শুক্রবার। ঢাকা থেকে ফিরবো মুন্সীগঞ্জ। ইনারাকে ঢাকা রেখে চলে আসতে খারাপ লাগছে। সকালে খুব কষ্ট হয়, নয়টায় অফিস ধরা সম্ভব হবে না,কোন মতে পৌঁছলেও সারাদিন বড়ো অস্বস্তিতে থাকি। ক্লাস নিতে পারি না,কারো কোন শব্দই সহ্য হয় না। খুবই বিশ্রী ব্যাপার। তাই আজই ফিরে এলাম।
বাসা থেকে যাত্রাই করলাম পিছুটান নিয়ে,রিকশায় গুলিস্তান আসবো। ৪০ টাকার ভাড়া ৭০ টাকার কমে আসবে না। রাজী হয়ে গেলাম। রিকশাওয়ালা ধীরে ধীরে ড্রাইভ করছে। আমি নানান গল্পের প্লট মাথায় নিয়ে দেখছি চারপাশ। রাস্তায় জ্যাম নেই।ফাঁকা রাস্তা। হঠাৎ একটি ঝাঁকি খেলাম এবং ব্যালেন্স রাখতে পারছি না। পড়ে যাচ্ছি। সর্ষের ফুল চোখে দেখলাম।
মুহূর্তেই নিজেকে সামলে নিয়ে এক পা নামিয়ে মাটিতে ঠেকে দিলাম এবং বকের মতো এক পায়ে লাফাচ্ছি। রিকশা কাত হয়ে গেছে। পেছনে একটি পাওয়ারফুল সাইকেল আমার রিকশার ভেতর ঢুকে গেছে,তার পেছনে প্রাইভেট কার।পাশ ঘেঁষে পার হয়ে যাচ্ছে অনেক গাড়ি।
যে ছেলের সাইকেল আমার রিকশায় লাফিয়ে দিলো সব তেড়ে আসলো কেন আমার রিকশা জোরে চালানো হয়নি। আমার ডান হাত বাম পায়ে খুব লেগেছে। মাথায় আগুন ধরে গেছে, ইচ্ছে হলো ছেলেটিকে চামড়া তুলে নিই। অন্য একজন মানুষ গাড়ি পার্ক করে আমাকে হেল্প করলো পুনরায় রিকশায় চড়তে।

জান নিয়ে কোন মতে পার হয়ে আসলাম নারায়ন গঞ্জ। চাষাঢায় নেমে লঞ্চঘাট যাবো। আজ রাস্তায় এখানেও ততো জ্যাম ছিলো না। আমার রিকশা টি একইভাবে এখানেও এক্সিডেন্ট করলো। মনে হলো আজ খালি রাস্তায় এক্সিডেন্ট মনোস্থির করেছে আমাকে মারবেই। বড্ডো ক্লান্তি অনুভব করলাম।

নিরাপদ সড়ক কে দেবে?
এ দেশের জনগণ তো নিজেরাই অখাদ্য! নিজেরাই জানে না চলতে হবে কী ভাবে? সরকার আর্মি নামিয়ে পিটিয়ে ঠ্যাং ভাঙলেও যে লাউ সে কদু!
রিকশা নিয়েই রাস্তায় নামলেই রিকশা চালক হওয়া যায় না যেমন করে লাইসেন্স থাকলেও ড্রাইভার হওয়া যায় না! এ দেশের জংলী মানুষের জন্য দরকার কুত্তা আইন।
কামড় দিয়ে দিয়ে শেখাবে রাস্তায় চলতে হয় কীভাবে?
সৌজন্যবোধ কী জিনিস টেস্ট করাবে,ম্যানার কাকে বলে শেখাবে, আর শেখাবে কী ভাবে কদম কদম সোজা ট্রেইলে চলতে হয়।
স্কুল- কলেজ বাধ্যতামূলক করতে হবে, নিদেনপক্ষে ১২ ক্লাস পড়া বাধ্যতামূলক করতে হবে। স্কুল কলেজের শিক্ষা ব্যবস্থায় ড্রাইভিংসহ কর্মমুখী শিক্ষা চালু না করলে নিরাপদ সড়ক কেবল কল্পনা বিলাস হবে!

রিকশাওয়ালারা মোটেই গরীব নয়,ড্রাইভারেরা মোটেই অভাবী না,অভাবী আমাদের মতো হাঁদারাম লোকেরা।
ওদের দরকার সঠিক চিন্তা করার শক্তি।

পথচারী নিরাপদ থাকুক।

এই সংবাদটি পড়া হয়েছে ৪২০ বার

Share Button