অগাষ্ট ভাবনাঃ বঙ্গবন্ধুর স্মৃতি

প্রকাশিত: ১২:৫৫ অপরাহ্ণ, জুলাই ১৮, ২০১৮

অগাষ্ট ভাবনাঃ বঙ্গবন্ধুর স্মৃতি

মালিক খসরু
অন্নদাশঙ্কর রায়ের বিখ্যাত ছড়ায় ঘোষিত হয়েছে বাংলাদেশের চার প্রধান নদী পদ্মা যমুনা, গৌরি মেঘনার স্রোতধারায় বঙ্গবন্ধুর বিজয় ও অমলিণ স্মৃতিগাঁথা। চার নদী তথা বঙ্গবন্ধু নাম মিশে একাকার হয়ে চিরদিনের মত ছড়িয়ে আছে মা, মাটি, মানুষ ও সকল নদী অববাহিকার মানুষের মন-মাঝে।
বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুলের ভাব শিষ্য ‘জয় বাংলা’ ধবনিতে আকাশ-বাতাস মুখোরিত করে, ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিসংগ্রামের মাধ্যমে রবীন্দ্র-প্রেমিক বঙ্গবন্ধু বাংলা মায়ের সকল দুয়ার খুলে দিয়ে বাঙালি জাতিকে পৌছে দেন সোনার সিংহদ্বারে, সোনার মন্দিরে। বাঙালি জাতি পেয়েছে হাজার বছরের সর্বশ্রেষ্ঠ প্রাপ্তি স্বাধীনতা, স্বাধীন বাংলাদেশ।
বিশ্বকবি পদ্মা, গৌরির প্রেমে পড়ে ছুটে এসেছেন গৌরী পাড়ের কুষ্টিয়ার শিলাইদহে। সৃষ্টি করেছেন অমর সাহিত্য-সম্ভার যা তাঁর ললাটে পরিয়েছে নোবেল পুরস্কারের গৌ্রব মুকুট। অন্যদিকে রবীন্দ্র-প্রেমী খোকা-মুজিব বাল্যকালে মধুমতি-বাইঘার নদী বিধৌত পাটগাতী, টুঙ্গিপাড়া, গিমাডাঙ্গা, ঘোপেরডাঙ্গা, সর্দারডাঙ্গা, শ্রীরামকান্দি প্রভৃতি বিতীর্ন এলাকার মানুষ ও প্রকৃ্তির সাথে মিশে অনেক পথ পাড়ি দিয়ে নিজেকে বাঙলা মা ও মাটির শ্রেষ্ঠতম সন্তান রূপে গড়ে তুলে হয়ে উঠেন বাঙালি জাতির প্রাণপ্রিয় বঙ্গবন্ধু। প্রথম থেকেই তিনি বুঝে নিয়েছিলেন প্রকৃতি ও মানুষের সাথে একাত্ম হতে না পারলে নিজেকে চেনা যাবে না। জীবন হয়ে পড়বে মূল্যহীন। তাই জীবনের প্রারম্ভ বেলা হতে মুজিব বাঙলার প্রকৃতি ও মানুষের সাথে গড়ে তুলেছিলেন নিবিড় আত্মিক অচ্ছেদ্য সম্পর্ক। এই সম্পর্ক গড়ে তুলে ব্যক্তিমুজিব সময়ের হাত ধরে কালক্রমে হয়ে উঠেছিলেন সমষ্টির মুজিব। বাঙালি জাতির কন্ঠস্বর মুজিব, স্বাধীনতার ঘোষক, স্বাধীন জাতির পিতা, হাজার বছরের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। তাই তাঁর কীর্তির জয়গাঁথা পদ্মা যমুনা, গৌরি মেঘনার বহমানতায় শুধু বাঙালি জাতি নয় আরা বিশ্ব শুনতে পায়।
আজ নদীর দৈন্য দশা দেখে কষ্টে মন ভরে যায়। দুঃখের সাথে বলতে হয়, বঙ্গবন্ধুর বাংলাদেশে আজ চলছে নদী, খাল, বিল দখলের মহোৎৎসব। চলছে প্রকৃতি ধংস করে উজাড় করার আত্মহনন প্রতিযোগিতা। প্রিন্ট এবং ইলেকট্রিক মিডিয়া এই দখলি প্রতিযোগিদের নামকরণ করেছে ‘নদী খেঁকো’, ‘ভূমি দস্যু’ হিসাবে। তারপরও থেমে নেই দস্যুবৃত্তি! নদী দখল, পাহাড় কাটা, বর্জ্য নদীতে ফেলে দূষণের এক ভয়াবহ আক্রমনের মুখে পড়েছে দেশ। প্রকৃতি ধংসের খবর পত্রিকায় নিয়মিত প্রকাশিত হলেও দেশবাসীর জন্য নেই কোন সুখবর।
বুড়িগঙ্গা নদীকে কেন্দ্র করে একদা গড়ে উঠেছিল রাজধানী ঢাকা। বুড়িগঙ্গা যুগিয়েছে জীবন ধারনের মুক্ত বায়ু, মাছ, সুপেয় পানি। সেই অমূল্য প্রাকৃতিক সম্পদকে আমরা ঠান্ডা মাথায় ‘হত্যা’ করেছি। বালু, তুরাগ, শীতলক্ষা ধংস করে এখন আমরা হাত বাড়িয়েছি ধলেশ্বরীর দিকে। তিস্তা নিয়ে আমরা মায়া কান্না করি কিন্তু নিজেরা একের পর এক নদী, খাল, বিল হত্যা করে বাংলাদেশকে কি কম অ-বাসযোগ্য করে তুলিনি? এ আমাদের কেমন আচরণ?
অন্যদিকে উজানে ভারত-চীন বাঁধ দিয়ে অনেক নদী জলশুন্য করে শুকিয়ে ফেলেছে। পশ্চিমবঙ্গের নেত্রী মমতার হৃদয়হীনতায় তিস্তা অস্তিত্ব হারাতে বসেছে। মরা নদীতে হাটুজল থাকে। ঘট-ঘড়া কোনটাই ডোবে না। অন্যদিকে এক শ্রেণীর ‘ফরেন এক্সচেঞ্জ আর্নার ব্যবসায়িদের’ বর্জ্য ফেলার আঁধার হয়ে উঠেছে নদী। নদীর টলটল পানি এখন লাল, নীল, হলুদ, বাদামি, বেগুণি রঙয়ের বৃহৎ নর্দমা হয়ে দুর্গন্ধ ছড়িয়ে অববাহিকার মানুষের জীবন কুরে কুরে খাচ্ছে! মাছ পালিয়েছে। অনেক মাছ মরে ছাফ। বঙ্গবন্ধুর আদর্শের চলমান ধারা নদী রক্ষা আমাদের জাতীয় কর্তব্য।
ফিরে আসি ‘অভিশপ্ত অগাষ্ট’ ও বঙ্গবন্ধু প্রসঙ্গে। অভিশপ্ত ১৫ অগাষ্টের মাত্র ক’দিন আগে গিয়েছিলাম মহান নেতা বঙ্গবন্ধু দর্শনে। এ এক অসামান্য সুযোগ। স্বর্গের আম দরবার পেরিয়ে খাস দরবারে প্রবেশ করে ব্যস্ত বঙ্গবন্ধুর সাথে দেখা হতেই স্বভাবসুলভ ভঙ্গিতে পিতা বলেন, ‘তোরা কেমন আছিস’?‘ কি বলব ভেবে পাচ্ছিলাম না। ঢোক গিলে বলি, পিতা বিনে সংসার! বুঝতেই পারেন। একটু গম্ভীর হয়ে বলেন, ‘চিরদিন কি পিতা বেঁচে থাকে? আমি আরদ্ধ কাজ শেষ করে তোদের উপর দায়িত্ব দিয়ে ১৫ অগাষ্ট ১৯৭৫ বিধাতার সান্নিধ্যে চলে এসেছি। এটাই বিধির বিধান। এ বিধান না যায় খন্ডন’। সাহস করে বলি, যদি অভয় দেন তবে দুটো কথা আপনাকে জানিয়ে একটু হালকা হতে চাই।
কাজ শেষ করে আপনি বিধাতার সান্নিধ্যে ফিরে এসেছেন এটা কম বড় প্রাপ্তি নয়। বিধাতা আপনাকে যা দিয়েছেন তা কোন বাঙালি অতীতে পায় নি, ভবিষ্যতেও পাবে না। আপনি সৌভাগ্যবান। তবে দুর্ভাগ্য আমাদের। পিতার প্রশ্ন, ‘কেন, কি হয়েছে তোদের’?
বলি ৭ মার্চের ভাষণে অনুপ্রাণিত হয়ে মুক্তিসংগ্রাম ঝাপিয়ে পড়ে স্বাধীনতা ছিনিয়ে এনেছি। আপনার হাত ধরে আমরা মাত্র নয় মাসে পেয়েছি স্বাধীনতা। মাত্র এক বছরের মধ্যে পেয়েছিলাম গণ-প্রজাতন্ত্রের সংবিধান। দেশ যখন আপনার নেতৃত্বে মাথা উঁচু করে, দখলদার পাকিস্তানী সেনাদের ধংসলীলার জঞ্জাল সাফ করে, সকল প্রতিকূলতা পায়ে দলে এগিয়ে চলছিল তখন বাঙালি জাতির অগ্রযাত্রা শুধু থামিয়ে দিতেই নয়,—কুচক্রীরা নেতত্বহীনতার কালো চাদর বিছিয়ে স্বাধীনতা নিপন্ন করে বিকিয়ে দিতে ঘটায় নির্মম হত্যাযজ্ঞ।
আন্তর্জাতিক নেপথ্য কুচক্রীদের উদ্দেশ্য ছিল, দক্ষিন এশিয়ার ভূ-রাজনীতির চেহারা আমূল পাল্টে দিয়ে
আমেরিকার প্রাধান্য বিস্তারে ‘কিসিঞ্জার-নীতির’ বাস্তবায়ন। উদ্দেশ্য সমাজতন্ত্রের বিকাশ ঠেকান। বঙ্গবন্ধু চুপ করে গম্ভীর হয়ে কথাগুলি শুনে দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলেন, ‘আমি চীন-আমেরিকার দোসর পাকিস্তানকে ফাকিস্তান করে ছেড়েছি। সপ্তম নৌবহর ও প্রেসিডেন্ট নিক্সন-কিসিঞ্জার এজেন্ডা ব্যর্থ করেছি। একাজে আমাদের পাশে পেয়েছিলাম নেহেরু তনয়া ভারতের প্রধানমন্ত্রী শ্রীমতি ইন্দিরা গান্ধীকে। তাঁর সাহসী ও দূরদর্শী নেতৃত্ব, সর্বাত্মক সহযোগিতা এবং রাশিয়ার নেতা ব্রেজনেভের সাহসী সমরনীতি, সিকিউরিটি কাউন্সিলে উপর্যুপরি ‘ভেটো’ প্রদান আমেরিকা-চীন-পাকিস্তানের মিলিত ত্রি-শক্তির সকল দূরভিসন্ধি ভন্ডুল করে দেয়। দেশের আপামর জনগণের সর্বোচ্চ ত্যাগ জাতিকে মহিমান্বিত করে স্বাধীনতার জয়মাল্য পরিয়েছে। মনে রাখবি, স্বাধীনতা লাভের চেয়ে স্বাধীনতা রক্ষা করা কম কঠিন নয়। আমি আছি। আমি থাকব। তোরা ‘৭১ এর বিজয়ী বীর। তোরা পারবি’।
বঙ্গবন্ধু, আপনার কথা আমরা মনেপ্রাণে বিশ্বাস করি তবে……..। থামলি কেন? তবে, তবে কি? আমাকে অভয় দিয়ে বলেন, ‘বুঝেছি, কুচক্রী পাকিস্তানী দালালরা ষড়যন্ত্রে মেতেছে। ওরা যখন যেমন তখন তেমন রূপ ধারণ করে ষড়যন্ত্র করে চলেছে। মনে রাখবি পবিত্র কোরান পাকের শিক্ষা। শয়তান পারে নি হযরত আদম (আঃ) কে পরাজিত করতে। আমরা হযরত আদম (আঃ) ও দো-জাহানের বাদশা নূর নবী হযরত মুহম্মদ (আঃ) অনুসারী হয়ে মনজিলে মকসুদে পৌছবই। আমাদের পরাজিত করার সাধ্য কারও নেই। আমি জানি হাসুকে ওরা এক নম্বর টার্গেট করেছে। হাসু আমার মেয়ে। আমি ওর নাড়িনক্ষত্র জানি। ও মহান সৃষ্টিকর্তার উপর অগাধ বিশ্বাস রেখে, সত্য-আদর্শের অনুসারী হয়ে মানুষের কল্যাণে নিবেদিত হয়ে কাজ করে চলেছে। বিধাতার উপর অগাধ বিশ্বাস ওর আত্মার খাদ্য। তাই ও স্বাধীনতার শত্রুদের মহাত্রাস! রাজনীতির নামে হাসুকে হত্যা করতে ২১ অগাষ্ট গ্রেনেড আক্রমন ও টুঙ্গিপাড়ায় অতিকায় বোমা যারা পেতেছিল তাদেরকে দেশের মানুষ চিনেছে। তাদের রাজনীতির মুখোশ খুলে গিয়েছে। দেশবাসী তাদের বিচার করেছে। মনে রাখবি ‘রাজনীতিবিদদের জন্য আদালতের বিচার অপেক্ষা জনগণের বিচার অনেক কঠোর ও কঠিন। একবার আস্তাকূড়ে ছুড়ে ফেলে দিলে সব শেষ। জনগণের আস্থা ও বিশ্বাস হারালে তা ফিরে পাওয়া কঠিন। আমাকে হত্যা করে ২১ বছর অপেক্ষা করতে হলেও সত্যের জয় হত্যাকারীরা ঠেকিয়ে রাখতে পারে নি। আওয়ামি লীগ শুধু প্রাচীন দল বলেই নয় এটি একটা আদর্শিক, মানবিক দেশপ্রেমী দল। আদর্শ যদি হয় জনগণের কল্যাণ, দেশের মঙ্গল-চিন্তা যদি হয় রাজনীতির মূলমন্ত্র তা’হলে ‘সবার উপর মানুষ সত্য’ এই আদর্শের প্রতিষ্ঠা ও জয় কেউ ঠেকিয়ে রাখতে পারবে না। আমার আদর্শ ক্ষমতার বেদীমূল থেকে উঠে আসে নি। আমি মনে প্রাণে চেয়েছিলাম বাঙালি জাতির ক্ষমতায়ন, মুক্তি। অতীতে বাঙালি জাতি অনেক সংগ্রাম করেছে। অগনিত দেশপ্রেমী সূর্যসন্তান, নেতাজি সুভাষ বসু, সূর্যসেন, প্রীতিলতা, শান্তি-সুনীতি-শৈ্লেশ রায়, ছালাম, রফিক, বরকত, জব্বার স্বাধীনতার বেদীমূলে-রক্ত দিয়েছেন কিন্তু স্বাধীনতার স্বাদ পায় নি। আমি সেই না পাওয়া স্বাদ পেতে ক্ষমতার মোহে কোনদিন আপোষ করিনি। লক্ষ্য ধ্রুবতারার মত স্থীর রেখে মৃত্যুর মুখে দাঁড়িয়ে আমি মুক্তির জয়গান গেয়েছি। বাঙ্গালিত্বের শ্রেষ্ঠত্ব তুলে ধরেছি। ৩০ লক্ষ শহীদের আত্মত্যাগ, দুই লক্ষাধিক মা বোনের স্মভ্রম ও অসামান্য ত্যাগে দেশ হয়েছে স্বাধীন’।
তিনি আরও বলেন, ‘১৯৭১ সালে হানাদার পাকিস্তানীদের গনহত্যার মুখে আমি আত্মগোপনে যাই নি। কেন যাই নি? এ নিয়ে বিরোধী রাজনীতিবিদগণ অহেতুক অনেক মনগড়া কথা বলেন। ওরা যেমন বুঝে তেমন বলেন। মনে রাখবি আওয়ামি লীগ কোন গোপন বিপ্লবী সংগঠন নয়। আমি কড়ায় গন্ডায় দেশ ও দেশবাসী্র প্রতি আমার প্রকাশ্য দায়বদ্ধতা পালন করেছি। এর মাঝে ছিল না কোন লুকোচুরি বা গোপনীয়তা। তাই যখন চূড়ান্ত মুহুর্ত আমাদের সামনে এসেছে সে সময় আমি অচঞ্চল থেকে আল্লাহপাকের উপর বিশ্বাস রেখে নিজের জীবন বাঁচাতে পালিয়ে যাই নি। সাড়ে সাত কোটি মানুষকে পেছনে ফেলে আমি পালিয়ে যেতে পারি না। জনগণের সাথে আমার নৈকট্য ও গভীর সম্পর্কের যোগসূত্র আমি নিজের জীবন বিপন্ন করেও অক্ষুন্ন রেখেছি। জাতি আমাকে অনেক দিয়েছে। আমি কি পাই নি? যা পেয়েছি তা একজন রাজনীতিবিদের জন্য সর্বশ্রেষ্ঠ প্রাপ্তি। আমি সারা জীবন এই প্রাপ্তির পেছনে ছুটেছি। মহান সৃষ্টিকর্তা আমাকে তাঁর অপার দানে ধন্য করেছেন। জাতি পেয়েছে স্বাধীনতা। আমি এজন্য করুনাময়ের পাক দরবারে শুকরিয়া আদায় করি। রাজনীতি নিয়ে অনেক কথা তোকে বল্লাম। আর একটা কথা না বল্লেই নয়। যারা আমাকে হত্যা করেছিল সেই পরাজিত চক্ত্রান্তকারীরা বাংলাদেশে গনতন্ত্র ব্যর্থ করে দিতে আন্তর্জাতিক মুরব্বিদের সাহায্যে এখনও একের পর এক ষড়যন্ত্রের ছক কেটে চলেছে। গনতন্ত্র ঝুকির মুখে পড়লে ওদের লাভ। সুবিধাবাদী গোষ্ঠী ক্ষমতা করায়ত্ব করে পাকিস্তানের ওহাবী ধর্মনীতি দিয়ে গনতন্ত্রের হত্যা করে পাকিস্তানী কায়দার ধর্মান্ধ রাজনীতি দিয়ে বাংলাদেশ শাসন করতে চায়। আশার কথা, জনগণ ওলী-আল্লাহ প্রচারিত পারস্পারিক ভালবাসা ও সম্প্রীতির বন্ধন জোরদার রেখে হযরত খাজা গরীব নেওয়াজ ও হযরত শাহ জালাল ইয়ামেনী (রাঃ) প্রচারিত শান্তির ধর্ম ইসলামের আদর্শ সমুন্নত রাখতে বদ্ধপরিকর। এদেশের ধর্মপ্রাণ মানুষ ১৯৭১ সালে ধর্মান্ধ জামাতি-মদুদীবাদকে প্রত্যাখ্যান শুধু করে নি তারা অসাম্প্রদায়িক চেতনার মহান ইসলামি আদর্শ সমুন্নত করেছে। পাকিস্তান ছিল ‘তথাকথিত জামাতি-মওদুদী ধর্মান্ধ চক্রের শাসন-শোষণের একটি রাষ্ট্রীয় ক্লাব মাত্র। এর ছিল না কোন আদর্শিক ভিত্তি। বাঙালি জাতির আদর্শিক জাগরণের সামনে অনাদর্শিক পাকিস্তান ভেঙ্গে পড়ে। পাকিস্তানীদের ‘ধর্মীয় অনাদর্শ’ এমন পর্যায়ে পৌছেছিল যে তারা ২৫ মার্চ বেপরোয়া গণহত্যা, নারী ধর্ষণ, অগ্নিসংযোগ ও লুন্ঠনে মেতে উঠেছিল। ১৬ ডিসেম্বর প্রকাশ্য আত্মসমর্পনের মধ্য দিয়ে পাকিস্তানী অনাদর্শ পরাজিত হয়। এই পরাজয়ে মুক্তিসংগ্রামে বাঙালির আদর্শিক ‘জয় বাঙলার’ বিজয় সূচিত ও প্রতিষ্ঠা পায়’।
অনেকক্ষন ধ্যানমগ্ন হয়ে নীরবে বঙ্গবন্ধুর দিক নির্দেশনামূলক আপ্ত বাক্য শুনছিলাম। অতঃপর বলি তুমি আমাদের আত্মার আত্মীয়। তুমি আছ আমাদের সকল চিন্তা ও চেতনায়। তুমি আমাদের আশীর্বাদ কর, আমরা ২০২১ সালে তোমার হাসুর নেতত্বে মধ্যম আয়ের দেশে উন্নীত হব ইনশাল্লাহ। আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী সকল প্রতিকূলতা ডিঙ্গিয়ে বাঙালি জাতির সার্বিক উন্নয়নের লক্ষে নিরলশভাবে কাজ করে চলেছেন।
তুমি জেনেছ বি এন পি নেত্রী খালেদা জিয়া ‘ভিশন-২০৩০’ ঘোষণা করেছেন। অনেকের কথা, বি এন পি ভিশনের ক্ষেত্রে আওয়ামি লীগ হতে অনেক বছর পিছিয়ে আছে। ‘শোন, ভিশন নিয়ে দল মতের উদ্দেশ্য, পথ নিয়ে পার্থক্য থাকতেই পারে। এ নিয়ে মাতামাতি বা কু-তর্ক না করে নিজেদের লক্ষ্য, আদর্শ, উদ্দেশ্য ঠিক রেখে কাজ করে যাও। সময়ই বলে দেবে কোনটি সঠিক। অহেতুক কূট তর্কের বাজার খুলে মূল্যবান সময় নষ্ট কর না। লালন শাহের একটা গানের কথা এ মুহুর্তে আমার খুব মনে পড়ছে। লালন শাহ বলেন, ‘কূ-তর্কে দিন বয়ে যায়…। লালন, রবীন্দ্রনাথ, নজরুল আমার আদর্শ। তাঁরাই আমাকে আদর্শের স্থানে বসিয়েছেন। আমাকে শক্তি যুগিয়ে সফল করে তুলেছেন। তাই নজরুলের থেকে নিয়েছি বিজয়ের ‘জয় বাংলা’ধবনি, জাতীয় সঙ্গীত করেছি রবীন্দ্রমাথ ঠাকুরের ‘সোনার বাংলা’ আর লালনের মানুষ ভজার আদর্শকে স্থাপন করেছি সংবিধানে সর্বোচ্চো মর্যাদা দিয়ে’।
বঙ্গবন্ধু, আমাদের শেষ কথা,‘তোমারেই করিয়াছি জীবনের ধ্রুবতারা’। শোকের মাসে তুমি অনেক সময় দিয়ে নতুন করে যে সাহস ও শক্তি যুগিয়েছ তা আমাদের নিয়ে যাবে মুক্তির পথে। বিজয়ের মোহনায়। জয় বাংলা।

লেখকঃ মালিক খসরু, পি পি এম। সাবেক এ আই জি, বাংলাদেশ পুলিশ।