অগ্নিকাণ্ডে ৫২ শ্রমিকের মৃত্যু: বের হতে দেয়া হয়নি শ্রমিকদের

প্রকাশিত: ৯:১৫ অপরাহ্ণ, জুলাই ৯, ২০২১

অগ্নিকাণ্ডে ৫২ শ্রমিকের মৃত্যু: বের হতে দেয়া হয়নি শ্রমিকদের

নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে সজীব গ্রুপের অঙ্গপ্রতিষ্ঠান হাসেম ফুড অ্যান্ড বেভারেজের সেজান জুস কারখানায় আগ্নিকাণ্ডে এখন পর্যন্ত ৫২ শ্রমিকের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছে ফায়ার সার্ভিস। অধিকাংশ মরদেহই ভবনটির দ্বিতীয়, তৃতীয় ও চতুর্থ তলা থেকে উদ্ধার করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৮ জুলাই) বিকেল ৫টা ৪২ মিনিটে এই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।

ঘটনাস্থলে উপস্থিত কারখানাটির শ্রমিক ও নিখোঁজ শ্রমিকদের স্বজনদের অভিযোগ, আগুন লাগার শুরুর দিকে তিনতলা ও চারতলার কলাপসিবল গেট খুলে দিতে বললেও কর্তৃপক্ষ গেটগুলো খুলে দেয়নি। এ কারণেই এই দুই ফ্লোরের শ্রমিকরা বেশি মারা গেছেন।

এ প্রসঙ্গে ফায়ার সার্ভিসও মোটামুটি একই মত দিয়েছে। তারা বলছে, কলাপসিবল গেট বন্ধ থাকাতে মৃত্যু বেশি হয়েছে।

উপস্থিত অনেক শ্রমিকের দাবি, এখনো বেশকিছু শ্রমিক নিখোঁজ রয়েছেন। তাদের অবস্থান কত তলায় তা অবশ্য তারা নিশ্চিত করতে পারেননি।

শুক্রবার (৯ জুলাই) সন্ধ্যা ৬টায় ঘটনাস্থলে নিখোঁজ শ্রমিকের স্বজনরা জানান, যখন ভবনে আগুনের সূত্রপাত হয় তখন কর্তৃপক্ষ তিন ও চারতলার দুই সেকশনেরই কলাপসিবল গেট বন্ধ করে দেয়। এতে ভেতরে প্রায় ১০০ শ্রমিক আটকা পড়েন। ভেতর থেকে তারা কেউই বের হয়ে আসতে পারেননি। তাদের মধ্যে দুই একজন লাফিয়ে নিচে পড়ে জীবন রক্ষা করতে পারলেও গুরুতর আহত হয়েছেন।

স্বজনরা বলেন, তারা যদি সময়মতো গেট খুলে দিত তাহলে এত শ্রমিকের প্রাণহানি হতো না। আগুন লাগার পরপরই তারা বেরিয়ে আসতে পারত।

স্থানীয়রা জানান, আগুন প্রথম দিকে কম ছিল। ধীরে ধীরে বেড়েছে। কারখানার গেট খোলা থাকলে শ্রমিকরা বেরিয়ে আসতে পারতেন। অন্তত প্রাণহানি অনেক কম হতো বলে দাবি করেন তারা।

ঘটনাস্থলে উপস্থিত থাকা কারখানার অনেক শ্রমিকের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, আটকে পড়া এবং নিহত শ্রমিকদের অধিকাংশই শিশু-কিশোর। যাদের বয়স ১৪ থেকে ১৬ বছরের মধ্যে।

এ বিষয়ে ফায়ার সার্ভিসের উপপরিচালক (অপারেশন্স) দেবাশীষ বর্ধন ঢাকা বলেন, তিন ও চারতলা থেকে অধিকাংশ মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে দেখে মনে হচ্ছে শ্রমিকরা ভেতরে আটকা পড়েছিলেন। এছাড়া ভবনটিতে পর্যাপ্ত সিঁড়ি ছিল না। সে জন্য শ্রমিকরা চাইলেও দ্রুত নামতে পারেননি।

ছড়িয়ে দিন