অনলাইনই একমাত্র মুক্ত গণমাধ্যম

প্রকাশিত: ২:০০ অপরাহ্ণ, মে ৩, ২০১৮

অনলাইনই একমাত্র মুক্ত গণমাধ্যম

সৌমিত্র দেব

কয়েক বছর আগে ওয়ার্ল্ড প্রেস ফ্রিডম ডে উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে বলেছিলাম,অনলাইনই এখন মূলধারার গণমাধ্যম । একে আর বিকল্প ধারার মাধ্যম বলে সান্ত্বনা পুরস্কার দেবার দরকার নেই । ব্যাখ্যা করতে গিয়ে বলেছিলাম , প্রচলিত সকল মিডিয়া,সেটা প্রিন্ট হোক আর ইলেক্ট্রনিক হোক তার একটা অনলাইন সংস্করণ করতে হয় । কিন্তু অনলাইন মাধ্যমকে প্রিন্ট বা ইলেক্ট্রনিক কিছু করতে হয় না ।
আর এবারের ওয়ার্ল্ড প্রেস ফ্রিডম ডে উপলক্ষে আমি নির্দ্বিধায় বলতে চাই ,অনলাইনই একমাত্র মুক্ত গণমাধ্যম । কারণ প্রিন্ট বা ইলেক্ট্রনিক মিডিয়া উপনিবেশিক প্রথা অনুযায়ী আমলা দ্বারা নিয়ন্ত্রিত । জেলা প্রশাসকের কাছ থেকে ডিক্লারেশন পাওয়া  একটি পত্রিকার পক্ষে প্রশাসনের দুর্নীতি নিয়ে রিপোর্ট করা সম্ভব নয় । তাকে প্রশাসনের লেজুড়বৃত্তি করতে হবে । আবার প্রচলিত মিডিয়াগুলোর মালিকানার দিকে তাকালেই আমরা দেখবো ,সেগুলো কোন না কোন গ্রুপ অভ কোম্পানির দখলে । গণমাধ্যমকর্মীরা সেখানে ক্রীতদাস । তাদের পক্ষে আর যাই হোক,গণমাধ্যমকে মুক্ত রাখা অসম্ভব । যার নুন খাবে,তারই তো গুণ গাইতে হবে । এমনকি পোষা কুকুরের মতো মালিকের হুকুম অনুযায়ী ঘেউ ঘেউ করতেও তারা বাধ্য ।অনলাইন গণমাধ্যমকে এখন পর্যন্ত কোন আমলার কাছ থেকে ডিক্লারেশন বা লাইসেন্স নিতে হচ্ছে না । তাই এখানে প্রশাসনের সে রকম নিয়ন্ত্রণ নেই । আবার তুলনামূলক কম পুঁজি লাগে বলে এর মালিকানা গণমাধ্যম সংশ্লিষ্টদের হাতে রাখা সম্ভব । এতে করে করপোরেট পুঁজির কাছে আত্ম সমর্পণ করতে হচ্ছে না এই মাধ্যমকে ।যদিও মুক্ত গণমাধ্যম হবার কারণেই অনলাইনের জানালা দিয়ে অনেক পোকা মাকড় প্রবেশ করেছে । সেই আলোচনা পরে করছি ।
আজ ৩ মে। ওয়ার্ল্ড প্রেস ফ্রিডম ডে বা বিশ্ব মুক্ত গণমাধ্যম দিবস। এবারের প্রতিপাদ্য বিষয় ” ক্ষমতার ভারসাম্য রক্ষা ঃ গণমাধ্যম ন্যায় বিচার ও আইনের শাসন”। ১৯৯১ সালে ইউনেস্কোর ২৬তম সাধারণ অধিবেশনের সুপারিশে ১৯৯৩ সালে জাতিসংঘের সাধারণ সভায় ৩ মে তারিখটিকে ‘ওয়ার্ল্ড প্রেস ফ্রিডম ডে’ অর্থাৎ বিশ্ব মুক্ত গণমাধ্যম দিবসের স্বীকৃতি দেওয়া হয়। সেই থেকে প্রতি বছর সারা বিশ্বে দিবসটি পালিত হয়ে আসছে। সাংবাদিকতার স্বাধীনতা ও মুক্ত গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠার মৌলিক নীতিমালা অনুসরণ, বিশ্বব্যাপী গণমাধ্যমের স্বাধীনতার মূল্যায়ন, স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ প্রতিহত করার শপথ গ্রহণ এবং পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে ক্ষতিগ্রস্ত ও জীবনদানকারী সাংবাদিকদের স্মরণ ও তাদের স্মৃতির প্রতি সম্মান ও শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করা হয় এই দিবসটিতে।
‘কিপিং পাওয়ার ইন চেক : মিডিয়া, জাস্টিজ এন্ড রোল অব ল’ এই শ্লোগানকে সামনে রেখে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে এবার এই দিবসটি পালন করা হচ্ছে। দিবসটি উপলক্ষে বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশের সাংবাদিকরাও তাদের পেশাগত অধিকার ও মর্যাদা প্রতিষ্ঠায় এই দিবসটি পালন করতে বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। ক্ষমতার ভারসাম্য রক্ষা , ন্যায় বিচার ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার জন্য অনলাইন গণমাধ্যমগুলো কাজ করছে । তবে অনলাইনের ভেতরে সাইবার অপরাধী, রাষ্ট্রদ্রোহী, হলুদ সাংবাদিকরাও কাজ করছে । এদেরকে শক্ত হাতে দমন করতে না পারলে বস্তুনিষ্ঠ অনলাইন গণমাধ্যম ও তার মর্যাদা হারাবে । আবার এদেরকে প্রতিহত করতে গিয়ে সরকার যদি অনলাইন গণমাধ্যমকেই প্রতিপক্ষ বানিয়ে ফেলে সেটাও কারো জন্য শুভ হবে না। অনলাইন নীতিমালা প্রনীত হয়েছে । খসড়া অনলাইন নীতিমালা প্রণয়ন কমিটির সদস্য হিসেবে আমি ব্যাক্তিগতভাবেও এই নীতিমালার দ্রুত বাস্তবায়ন চাই । সরকার অনলাইন রেজিস্ট্রেশনের জন্য আবেদন চেয়েছিল । প্রায় ২০০০ আবেদন জমা পড়েছে । এসবি,এন এস আই,ডিজিএফ আই তিনটি সংস্থা অদন্ত করেছে।তথ্য ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রনালয় এগুলো নিয়ে কাজ করেছে । তারপরেও এই অনলাইন মাধ্যম এখনো উপেক্ষার শিকার । এই মাধ্যম সঠিক ভাবে বিকশিত করতে পারলেই ওয়ার্ল্ড প্রেস ফ্রিডম ডের মর্মবাণী সার্থকতা লাভ করবে ।

সৌমিত্র দেব ; বাংলাদেশ অনলাইন মিডিয়া এসোসিয়েশন বিওএমএ-র সাধারন সম্পাদক