অনলাইন বাণিজ্য কি নারী উদ্যোক্তা বান্ধব?

প্রকাশিত: ২:২১ পূর্বাহ্ণ, মে ৩, ২০১৮

অনলাইন বাণিজ্য কি নারী উদ্যোক্তা বান্ধব?

সুমন দেঃ সম্প্রতি বাংলাদেশ, এশিয়া এবং এশিয়া প্যাসিফিক এলাকার নারী শিক্ষা এবং নারী উদ্যোক্তাদের পৃষ্ঠপোষকতায় অগ্রণী ভূমিকা পালনের জন্য ‘গ্লোবাল উইমেন লিডারশিপ অ্যাওয়ার্ড’ পুরস্কৃত হন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ।  যা শুধু বাংলাদেশের জন্যে নয় বরং সমস্ত বিশ্বে অহংকারের।

এক সময়, বছর ৩/৪ আগেও, মানুষ শপিং এর জন্য সময় বের করতো । পবিত্র রমজান মাসে মার্কেটের জন্য আলাদা সময় দিতে হত । বর্তমানে আমাদের দেশেও উন্নত বিশ্বের মত, বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে অনলাইন শপ । বাহারি পোশাক আর নানান বৈচিত্র নিয়ে ফেসবুকের কল্যাণে অনলাইন শপগুলো থেকে, ঘরে বসেই ক্রয় করা যায় সব সময় পোশাকসহ নানাধরণের নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিস, দেশে এবং বিদেশ থেকে । দেশে পণ্য হাতে পেয়ে টাকা দিতে পারেন ক্রেতাগণ । এছাড়া দেশিয় পোশাক পণ্য বিদেশেও অনলাইনে বিক্রয় হচ্ছে বলে বৈদেশিক মুদ্রা উপার্জন হচ্ছে দেশের।

অথচ ডিজিটাল বাংলাদেশে এখনো সেসব অনলাইন শপের জন্য কোন প্রকার ব্যাংক ঋণ পাওয়া যায় না ।  নাম অপ্রকাশের শর্তে বাংলাদেশ উইমেন্স এন্টারপ্ল্যানার এর একজন কর্মকর্তা বাংলাদেশে ব্যাংকের আবেদনকৃত লোনের জরিপ থেকে জানান, অনলাইন শপে দেশের প্রায় ৮৫ শতাংশ মালিকানা মহিলাদের ।

দেশের বিভাগ, জেলা শহরে এসব অনলাইন শপ পরিচালনা করতে ট্রেড লাইসেন্স, ট্যাক্স রিটার্ন ইত্যাদিসহ সবই করতে হয়। নতুন আইন অনুযায়ী সাইনবোর্ড, ব্যানারের সময় এবং সাইজের উপর নির্দিষ্ঠ পরিমান চার্জ সরকারি ব্যাংকগুলোতে জমা দিতে হয় ।

সাধারণ বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর চাহিদা অনুযায়ী তিন বছরের হালনাগাদ ট্রেড লাইসেন্স, ইনকাম ট্যাক্সের রিটার্ন কপি, ছবি, জাতীয় পরিচয় পত্র, বায়োমেট্রিক সম্পন্ন নিজ নামের মোবাইল নাম্বার, প্রতিষ্ঠানের স্থায়ী ঠিকানা (প্রমাণসহ), অস্থায়ী হলে ভাড়াটিয়া নামার চুক্তিপত্র (নিম্নতম ৫ বছরের), প্রতিষ্ঠানের নামে ব্যাংক একাউন্ট স্টেটম্যান্ট (কমপক্ষে ১ বছরের), মজুদ পণ্যের টাকার পরিমান ইত্যাদি হাতে থাকলে তবেই একজন নারী উদ্যোক্তা লোনের জন্য আবেদন করতে পারবেন (প্রাইভেট ব্যাংকের ফর্দ)। তারপর ১ বছরের ব্যাংকিং স্টেসম্যান্ট এবং মজুদ পণ্যের উপর ঋণ নির্ধারিত হবেএমবি কথা হচ্ছে, এসবই একজন উদ্যোক্তা ৩ বছর ব্যবসা চালাতে পারলে হবে। কিন্তু প্রাথমিক সহায়তা যদি সরকারি পৃষ্টপোষকতায় না হয় তবে অদূর ভবিষ্যতে দেশে ফ্যাশন ডিজাইনার গড়ে ওঠা কী সম্ভব ? তাতে কি পোশাক বাণিজ্য ক্ষতিগ্রস্ত হবে না ?যখন ডিজিটাল বাংলাদেশ নারীদের সর্বোচ্চ সুযোগ-সুবিধা প্রদানে সচেষ্ট, সেক্ষেত্রে এমন প্রাতিষ্ঠানিক জটিলতা কতটা নারী উদ্যোক্তা বান্ধব হবে ?