অন্তরঙ্গ আবুল মাল আবদুল মুহিত

প্রকাশিত: ২:৩৩ অপরাহ্ণ, মে ২০, ২০২২

অন্তরঙ্গ  আবুল মাল আবদুল মুহিত

 

 

 

সৌমিত্র  দেব

আবুল মাল আবদুল মুহিত । আমার মুহিত চাচা । ছাত্র জীবনেই তাঁর নামের সঙ্গে আমার পরিচয় ঘটেছিল ।

 

তবে তাঁর সঙ্গে পত্রিকার পাতায় আমার যোগাযোগের ঘটনাটি ছিল চমকপ্রদ ।

২০০৪ সাল । কালজয়ী লেখক সৈয়দ মুজতবা আলীর জন্মশত বর্ষ সে বছর । এর ঠিক আগের বছর থেকে রাজধানীতে মুজতবা আলীর জন্মজয়ন্তী উদযাপন শুরু করেছি । আব্দুল্লাহ আবু সায়ীদ স্যারের স্নেহ ছায়ায় বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রে আয়োজন হচ্ছে অনুষ্ঠান মালার । এ অবস্থায় চাইলাম পত্রিকার পাতায় মুজতবা বিষয়ক কিছু লেখা প্রকাশ হোক । আমি তখন প্রথম আলোতে নিয়মিত লিখি। সেখানে তখন সাহিত্যপাতার বিগবস সাজ্জাদ শরিফ । তাঁর সহকারি ব্রাত্য রাইসু । তাদের সঙ্গে এ বিষয়ে আলোচনা করতেই তারা আমার লেখা ছাপতে সানন্দে রাজি হলেন। এবং বললেন সাহিত্য সাময়িকীর ওই সংখ্যাটি হবে মুজতবা আলী সংখ্যা । সেখানে আমার সঙ্গে ছাপা হলো সৈয়দ মনজুরুল ইসলামের লেখা – শুধু রম্য লেখক নন। প্রকাসিত হয় মুজতবা আলীর আলোচিত লেখা – পূর্ব পাকিস্তানের রাষ্ট্র ভাষা । আমার লেখার শিরোনাম ছিল – সৈয়দ মুজতবা আলী ও তাঁর জাতীয়তাবাদ চিন্তা । খুব আলোচিত হয়েছিল সংখ্যাটি । তার পরের সপ্তাহেই প্রথমআলোতে আমার লেখার একটি তথ্যগত ভুল তুলে ধরলেন একজন পাঠক । তিনি আবুল মাল আব্দুল মুহিত ।
আমি লিখেছিলাম, সিলেট আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে মুজতবা আলি যখন পূর্ব পাকিস্তানের রাষ্ট্র ভাষা বাংলা হওয়া উচিৎ বলে জোরাল বক্তব্য উপস্থাপন করেন তখন সেই সভাটি মুসলিম লীগ সমর্থকরা । মুহিত সাহেব লিখেছেন, তিনি তখন স্কুলের ছাত্র , এ অবস্থায় আলিয়া মাদ্রা মাঠের সেই সভায় উপস্থিত ছিলেন । সেখানে মুজতবা লীর বক্তব্যের সময় হই চই হয়েছিল । কিন্তু সভা পণ্ড হয় নি । তারপরের সপ্তাহে আবার আমার জবাব ছাপা হয়েছিল । পরবর্তীকালে তাঁর সঙ্গে আমার চাচা ভাতিজা সম্পর্ক দাড়ায় ।

২০০৮ সালের ৮ নভেম্বর মানবজমিনের সাপ্তাহিক ম্যাগাজিন জনতার চোখ এর জন্য মুহিত চাচার একটি সাক্ষাৎকার নিয়েছিলাম । এর মাত্র এক মাস পর নির্বাচন হয় । আওয়ামীলীগ সরকার ক্ষমতায় আসে। তিনি অর্থ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পান । রেডটাইমসের পাঠকের জন্য সেই পুরনো সাক্ষাৎকার আবার তুলে দিলাম।

 

দেশের সাম্প্রতিক রাজনীতির গতি প্রকৃতি নিয়ে কিছু বলুন।
Ñএদেশে গত দুই বছর ধরে কোন রাজনীতি নেই। সামনে নির্বাচন। এ কারণে কিছু রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড শুরু হয়েছে। তবে জরুরি অবস্থার কারণে এই রাজনীতিটা ঠিক দানা বাঁধতে পারছে না। জনগণ রাজনীতি করতে গিয়ে কোন বিধি-নিষেধের বেড়াজালে আটকে থাকতে চায় না। আমাদের তত্ত্বাবধায়ক সরকার কেন যেন একটা উদ্ভট পরিকল্পনা নিয়েছিলেন। তারা শুরু থেকেই বিরাজনীতিকরণের একটা প্রচেষ্টা চালিয়েছেন।যাই হোক, সে অবস্থা থেকে তারা বেরিয়ে এসেছেন বলে আমরা বিশ্বাস করতে চাইলাম, যখন তারা রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সংলাপের উদ্যোগ নিলেন। কিন্তু তারপরেও তাদের কার্যকলাপ দেখে মনে হচ্ছে বিরাজনীতিকরণের বৃত্ত থেকে তারা বেরিয়ে আসতে পারছেন না। মানুষ রাজনীতিতে আগ্রহীএবং সব মানুষেরই রাজনৈতিক চরিত্র আছে। আমার ধারণা দেশের মানুষ অনির্বাচিত সরকারকে নিয়ে বেশ বিপর্যস্ত। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অনেক কার্যকলাপকে তারা মনে করছে বাস্তবতা বিবর্জিত। রাজনৈতিক সরকার নির্যাতন করে, অন্যায় করে:কিন্তু তার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করা যায়, চিৎকার করা যায়। অনেক ক্ষেত্রে জনগণ সেখানে প্রভাব বিস্তারও করতে পারে। বিশেষ করে আমাদের দেশে যেখানে গরিবরা বঞ্চিত, সেখানে নির্বাচিত সরকারেরই বেশি প্রয়োজন। অনির্বাচিত সরকারের আমলে গরিবরা আরও অসহায় হয়ে পড়ে। বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের মতো দুর্বৃত্ত সরকার আমার জীবনে কোথাও দেখিনি। কিন্তু ওই সময়েও আমি কথা বলতে পেরেছি, দেন দরবার করতে পেরেছি। কিন্তু গত ১৯ মাসে সেটা সম্ভব হয় নি । ধরা যাক কোন ব্যক্তিকে একজন ক্যাপ্টেন বা মেজর সাহেব ধরে নিয়ে গেলেন। সেখানে কোন ভালো লোক যদি তার মুক্তির ব্যাপারে কথা বলতে যায় তাহলে তাকেও নিয়ে জেলে পোরা হবে, কোন বিচার হবে না। রাজনৈতিক সরকারের আমলেও অনেক সময় এরকম ঘটনা ঘটেছে, তবে ‘ সেটা ছিল ব্যতিক্রমধর্মী অথবা অস্বাভাবিক ঘটনা।
যাই হোক জনগণ নির্বাচন চায়। তারা আশা করছে নির্বাচনটা সুষ্ঠু হবে। জোট সরকারের আমলে আমাদের দেশ থেকে ভোটার তালিকা গায়েব হয়ে গিয়েছিল। হারিয়ে যাওয়া সেই ভোটার তালিকা আবার ফিরে পাওয়া গেছে। এবারের ভোটার তালিকায়ও সময়ের স্বল্পতার কারনে কিছু ভোটার বাদ পড়ে গেছেন। তারপরও এটা বিশ্বাসযোগ্য। ছবিসংবলিত এবারের ভোটার তালিকায় জালিয়াতি কম হবে। সেদিক থেকে একটা আশার পরিবেশ হয়েছে। রাজনৈতিক দলগুলোর আচরণও অনেকটা সংযত। যদিও বিএনপি’র মহাসচিব দেলোয়ার হোসেন মাঝে-মধ্যে কি যে বলেন।
প্রশ্ন: নির্বাচন নিয়ে অনেকের মধ্যেই অনিশ্চয়তা কাজ করছে।
Ñএটা ঠিক। নির্বাচন নিয়ে অনেকেই অনিশ্চয়তায় ভুগছেন। তবে গত কয়েকদিনের পরিস্থিতি দেখে মনে হচ্ছে নির্বাচন একটা হবে। যেভাবে সরকার রাজনৈতিক দলগুলোকে অনেক ছাড় দিচ্ছে,সমঝোতা করতে চাইছে; তাতে মনে হচ্ছে নির্বাচন অবশ্যই হবে। সীমানা পুণঃনির্ধারণের যে উদ্যোগ নির্বাচন কমিশন নিয়েছিল সেটা ছিল ভ্রান্তিমূলক। এটা সংখ্যাতত্বের ব্যাপার নয়,রাজনৈতিক বিষয়। যেখানে দেশে রাজনীতিবিদরা কথা বলতে পারছেন না সেখানে এই কাজটি হাতে নেয়া ঠিক হয়নি। এদেশে এই কাজটি কখনো ঠিকমত হয় নি । । ১৯৭৯ সালে একটা সাদামাটা ব্যাপার হয়েছিল। সীমানা নির্ধারণ আইনের মধ্যেও জটিলতা আছে। সীমানা নির্ধারণের পক্ষে বা বিপক্ষে যেদিকেই রায় হোক নির্বাচনে তা কোন বাধা সৃষ্টি করবে না। তবে হাইকোর্টের রায়ে যদি সেটা স্থগিত করে দেয়া হয় শুধু তাহলেই নির্বাচন অনিশ্চিত হয়ে পড়বে। এত অল্প সময়ের মধ্যে নতুন কোন ব্যবস্থা নেয়া যাবে না। দ্বিতীয় অনিশ্চয়তার বিষয়টি হচ্ছে জরুরি অবস্থার সমস্যা। সরকার চাইলেই এর সমাধান করতে পারে। জরুরি অবস্থার মধ্যে নির্বাচন অনুষ্ঠানে কোন বাধ্যবাধকতা থাকতে পারে না। এটা হতে পারে জরুরি আইন বহাল থাকলে দণ্ডিতরা কেউ নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন না। কিন্তু এ ব্যাপারে সরকারের কৌশল ঠিক গ্রহণযোগ্য নয়। তাদের তো আরও কিছু কৌশল আছে বলে শুনি। নির্বাচনে অনুপযুক্ত ঘোষণার একটা তালিকা করা হয়েছে। সেখানে দণ্ডিতদের বাইরেও অনেক নাম আছে। এ ব্যাপারে যদি কোন সমঝোতা হয়ে যায় তাহলে আর জরুরি আইন বহাল রাখার কোন প্রয়োজন থাকতে পারে না। শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষার জন্য সবসময়ই নির্বাচনে বিশেষ আইন হয়। এবারেও যে তারা আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধারে নেমেছেন এটাও তো ওই আইন বা বিধানের বলেই হচ্ছে। সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তারের বিধানও রয়েছে। সুতরাং নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য জরুরি আইন এতটা জরুরি নয়। ব্যক্তিগতভাবে আমি জরুরি আইনের মধ্যে নির্বাচনে যাওয়া অসম্মানজনক মনে করি। জরুরি অবস্থায় মৌলিক অধিকার থাকে না। গুরুত্বপূর্ণ মৌলিক অধিকার হচ্ছে ভোটদান। মৌলিক অধিকারকে অস্বীকার করে কিভাবে সেটা রক্ষা করা সম্ভব। আর সবচেয়ে খারাপ দিক হচ্ছেÑ জরুরি অবস্থায় প্রশাসন, পুলিশ ও সেনাবাহিনীর স্বেচ্ছাচার বেড়ে যায়। তবে আমি মনে করি জরুরি অবস্থা নির্বাচনের জন্য এতো জরুরি বা প্রতিবন্ধক কোনটিই নয়। তৃতীয়ত: উপজেলা নির্বাচন। এভাবে একসঙ্গে দু’টো নির্বাচন পরিচালনা একটা উদ্ভট ধারণা। একসঙ্গে দুই নির্বাচনের তফসিল বড় গোলমেলে হবে। যেভাবে তফসিলটা আছে তাতে মনে করুন যে কোন দলের একজন মনোনীত ও যোগ্যপ্রার্থী ২৭শে নভেম্বর থেকে প্রচারণায় অংশ নেবেন। ভোটযুদ্ধে তার সেনাপতিরা এক একটা এলাকার দায়িত্ব নেবেন। ধরে নিন আমার সংসদীয় এলাকারই কথা। সেখানে হতে পারে দু’টো উপজেলা ও একটি মহানগর। উপজেলা নির্বাচনেও এই সেনাপতিদেরই কাজ করতে হবে। পরপর দু’টি নির্বাচন আয়োজনের কারণে প্রচারণায় সৃষ্টি হতে পারে নানা বিভ্রান্তি। আমার মনে হয় নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তাদের নির্বাচন সম্পর্কিত মাঠপর্যায়ের বাস্তব ধারণা খুব কম। । এছাড়া ২৪শে ডিসেম্বর উপজেলা নির্বাচনের প্রার্থিতা চূড়ান্ত করার কথা বলা হয়েছে। আমাদের দেশের তৃতীয় বৃহত্তম ধর্মীয় সম্প্রদায়Ñ খ্রিষ্টান। তাদের সবচেয়ে বড় উৎসব বড়দিন। ২৪ তারিখের এই আয়োজনের কারণে পরের দিন খ্রিষ্টানদের উৎসবের আনন্দ মাঠে মারা যেতে পারে। এছাড়া লজিস্টিক সাপোর্টও কঠিন হবে। এবারে উপজেলা নির্বাচনে নিশ্চয়ই কেন্দ্র আরও বাড়বে। সংসদীয় নির্বাচনেও তাই হচ্ছে। এতে আরও বেশি লোকবল লাগবে। গতবার ৩ লাখ ৭০ হাজার নির্বাচন কর্মকর্তা ছিলেন। এবার কমপক্ষে তা পৌনে পাঁচ লাখ হবে। এই লোকবলকে কাজে লাগানোও সহজ কাজ নয়। তবু আমি মনে করি এই সবগুলো বাধা অতিক্রম করেই নির্বাচন করা যায়। এবারের নির্বাচন অন্যবারের মতো হবে না। কারণ দু’বছর ধরে রাজনীতি বন্ধ এবং একুশ দিনের মধ্যে নির্বাচন হবে। তবে নির্বাচন যে হতে পারবে সেটা সিটি নির্বাচনের সাফল্য দেখেই বোঝা গেছে।
প্রশ্ন: ব্যক্তিগতভাবে আপনার কি মনে হয় নির্বাচন হবে?
Ñএতসব অনিশ্চয়তা ও সন্দেহের পরও আমার মনে হয় নির্বাচন হবে। বিশেষ করে দুই নেত্রীর কারও বিরুদ্ধেই কোন দণ্ড হয়নি। চার্জ হয়েছে। এই ক’দিনের মধ্যে তড়িঘড়ি করে ব্যবস্থা না করলে দণ্ড হবেও না। আসলে তত্ত্বাবধায়ক সরকার দুর্নীতির মামলাগুলো আপাতত বন্ধ রাখতে পারেন। আমি বলছি না যে, তদন্ত বন্ধ হবে বা তাদের কাজ বন্ধ হবে। কিন্তু তারা বলতে পারেন যে, এত তারিখ থেকে এত তারিখ পর্যন্ত আমরা কোন চার্জশিট দেবো না। সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে অভিযুক্তদের চরিত্র হনন করবো না।
প্রশ্ন: এবারের নির্বাচনে আপনাদের ইশতেহারে কি কোন পরিবর্তন আসছে?
Ñনিশ্চয়ই। আমাদের ইশতেহার লেখা হয়েছিল ২০০৬-এ। এবং সম্পর্কিত বা সংশ্লিষ্ট সময়কাল ছিল ২০০৭ থেকে ২০১১। এটা ছিল পাঁচ বছর সময়কে মাথায় নিয়ে লেখা। এখন নির্বাচনটা হচ্ছে ২০০৮ সালের ডিসেম্বরে। এবারের সময়কাল হবে ২০০৯ থেকে ১৩ পর্যন্ত। এটা একটা বড় ধরনের পরিবর্তন। এছাড়া দুই বছরে অনেক কিছু বদলে গেছে। তবে কিছু জায়গায় মিলও রয়েছে। আমাদের পূর্বতন ইশতেহারে একেবারে প্রথমেই ছিল অর্থনীতি। এবারেও সেটা থাকছে। অর্থনীতি এবং দ্রব্যমূল্য প্রধান বিষয় হয়ে আছে। তবে ব্যতিক্রম হচ্ছেÑ বর্তমানে বিশ্বব্যাপী অর্থনৈতিক মন্দা চলছে । এই কালো মেঘের কথা আমাদের ইশতেহারে স্বীকার করে নেয়া হবে । এর মধ্যে একটু খানি আশার আলোও আছে। আন্তর্জাতিক মন্দার কারণে তেলের দাম কমবে। সে কারণে অভ্যন্তরীণ বাজারেও দ্রব্যমূল্য কমবে। দ্বিতীয় সমস্যা মূল ইশতেহারে ছিল নির্বাচন প্রক্রিয়া ও তত্ত্বাবধায়ক সরকার নিয়ে। কি তার চরিত্র ও প্রক্রিয়া হবে। তত্ত্বাবধায়ক সরকার নিয়ে এখন অনেকেই ভাবছেন আদৌ এ ধরনের সরকারের প্রয়োজন আছে কি না। নির্বাচন নিয়ে তেমন কিছু নতুন ইশতেহারে থাকবে না। নির্বাচন কমিশন যদি শক্তিশালী হয় এবং তারা বিশ্বাসযোগ্যতা অর্জন করতে পারে তাহলে তো তত্ত্বাবধায়ক সরকারের কোন প্রয়োজন থাকে না। তৃতীয়ত: দুর্নীতির কথা আলোচনা করতে গিয়ে দেখছি সেখানে একটি নতুন অধ্যায় যোগ হয়েছে। ৪ নম্বরে আগে ছিল জ্বালানি তেল, বিদ্যুৎ ও গ্যাসের কথা। সেক্ষেত্রেও খুব একটা পরিবর্তন যে হয়েছে তা বলা যাবে না। তারপর ছিল জঙ্গিবাদ। সেটা এখনও তেমনি রয়েছে। কয়েক ব্যক্তিকে ধরে ফাঁসি দেয়া হলেও জঙ্গিবাদের মূল মদতদাতাদের এখনও ধরা যায় নি। জঙ্গিরা এখন এতোটাই সাহসী যে তারা রাজনৈতিক দল পর্যন্ত গঠন করতে চায়। কোন এক অজানা কারণে যেন আমরা জঙ্গিবাদের উৎসে যেতে পারছি না। কিবরিয়া হত্যা মামলার রহস্য এখনো উদঘাটিত হয়নি।
একুশে আগস্টের গ্রেনেড হামলার কথাই ধরুন। হাইকোর্টের একজন বিচারপতি ঘটনাটি তদন্ত করে একটি প্রতিবেদন দিয়েছিলেন। ওটা কখনই প্রকাশিত হয়নি। তিনি অবশ্য প্রেসে সে বিষয়ে অনেক কথা বলেছিলন, এখন প্রমাণিত হচ্ছে সেগুলো সত্য ছিল না। তিনি তখন যেসব কথা বলেছেন পরবর্তী কোন তদন্ত রিপোর্টই তার ধারে কাছে গেল না। তবু তিনি বহাল তবিয়তেই রয়েেেছন।
প্রশ্ন: আপনি ইশতেহারের কথা বলছিলেন।
-হ্যাঁ, এবারের ইশতেহারে একটা গুরুত্বপূর্ণ জায়গা পাবে সুশাসন। জোট সরকার যেভাবে সবগুলো প্রতিষ্ঠানকে ধ্বংস করে গেছে সেসবকে কিভাবে উদ্ধার করা যায় সেদিকে নজর দিতে হবে। এ ব্যাপারে বর্তমান সরকারের চেষ্টাকে বহাল রাখা দরকার। এই যে সাংবিধানিক পদ বা আরও কিছু উচ্চ পদ আছে সেগুলোকে দলীয় বিবেচনার বাইরে নিয়ে যাওয়ারজন্য আমাদের কিছু করা দরকার। আমাদের সংসদে কোন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনা হয় না। বরং সেখানে গালাগালি হয় সবচেয়ে বেশি। সংসদ বয়কট পর্যন্ত হয়। এখান থেকে কিভাবে বেরিয়ে আসবো সেটা বিবেচনায় আনতে হবে। আমাদের দেশে পৃথিবীর মধ্যে সবচাইতে বেশি কেন্দ্রায়িত শাসন ব্যবস্থা প্রচলিত। দুনিয়ায় এ রকম আর নজির নেই যেখানে সবকিছু শক্তভাবে একটি কেন্দ্রীয় সরকারকে ম্যানেজ করতে হয়। বৃটিশ সরকারের দিকে তাকালে দেখা যায় যে সেখানে স্থানীয় সরকারের কি বিশাল ক্ষমতা। শিক্ষা, নিরাপত্তা থেকে শুরু করে সবকিছু সেখানে স্থানীয় সরকারের হাতে। আমাদেরকেও এ ব্যাপারে চিন্তা করতে হবে। দেশের উন্নয়নকে এগিয়ে নিতে চাই। মানুষের কষ্ট কমাতে চাই। সে কারণে স্থানীয় সরকারকে শক্তিশালী করার বিষয়টি বিবেচনায় আনতে হবে। এটাও সুশাসনের একটা অংশ। এ ছাড়াও আছে ব্যুরোক্রেসি ও তার দলীয়করণ। এটা জিয়াউর রহমান সাহেব শুরু করেছিলেন। এটার এত যে অবনতি হয়েছে তা বিশ্বাস করা যায় না। ব্যুরোক্রেসি সব সময়ই থাকবে। তবে একে দলীয়করণমুক্ত করার পথ বের করতে হবে। তারপর তো অর্থনৈতিক উন্নয়নের বিষয়টি রয়েছেই। মানবসম্পদ উন্নয়নের সমস্যা, তথ্যপ্রযুক্তি ও যোগাযোগ সব কিছুই আমাদের ইশতেহারে থাকবে। মানুষ এখন অনেক সচেতন। তারা আমাদের চিন্তা ভাবনা ও প্রতিশ্রুতির কথা জানতে চায়। সংক্ষেপে বলা যায় যে আমাদের ইশতেহারে ২০০৬ সালের কাঠামোই রয়ে যাবে। তবে সেখানে সংযোজিত হবে অনেক নতুন বিষয়।
প্রশ্ন: প্রকৃতি ও পরিবেশ নিয়ে কিছু কি থাকছে?
Ñহ্যাঁ, পরিবেশের ব্যাপারটা তো আরও সামনে চলে গেছে। ২০০৬ সালের চেয়ে এখন সেটা অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ। এখন বিশ্বে উষ্ণায়ন একটা বড় সমস্যা। বাংলাদেশে তা আরও প্রকট। এর ফলে আগামীতে দেশের প্রায় দুই কোটি মানুষ গৃহহীন হয়ে পড়বে। কোথায় যাবে তারা? তাদের জন্য প্রবাসন হবে একটা বড় দাবি। বিশ্বব্যাপী পরিবেশের এই সঙ্কটের জন্য তো আমরা দায়ী নই। কিন্তু এর মূল্যটা আমাদেরকেই দিতে হচ্ছে। তাছাড়া প্রতিবছর আমাদের প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলা করতে হচ্ছে। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় আমরা বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন। সুতরাং এদেশে এখন প্রকৃতি ও পরিবেশ বাদ দিয়ে কোন ইশতেহার হতে পারে না।
প্রশ্ন: সিইসি বলেছেন, আগামী নির্বাচন হবে ১৯৭০ সালের নির্বাচনের মতো।
Ñআমার কাছে তো শুনে ভালই লেগেছে। সেই নির্বাচনের মতো অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন ইতিহাসে নজিরবিহীন। আজ থেকে ৩৮ বছর আগের ঘটনা সেটা। একটা স্বীকৃত সত্য। কেউ এত বছর এ নিয়ে কোন প্রশ্ন তোলেনি। আমি মনে করি সিইসি যদি সত্যি সত্যিই সত্তরের নির্বাচনের মতো একটা নির্বাচন উপহার দিতে পারেনতাহলে সেটি হবে একটা সার্থক নির্বাচন। একমাত্র রাজাকাররা ছাড়া আর কারও পক্ষে এই নির্বাচনের নামে গাত্রদাহ হওয়ার কারণ নেই। ওই নির্বাচনে আওয়ামী লীগ শুধু নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতাই পায়নি, ভোটও পেয়েছিল নিরঙ্কুশ।
প্রশ্ন: এবারের নির্বাচনেও কি আপনারা সে রকম ফলাফল আশা করেন?
Ñঅবশ্যই। সেটা ভাবাতো অস্বাভাবিক নয়। ২০০৭ সালে এই নির্বাচনটি হবার কথা ছিল। দুর্বৃত্ত জোট সরকারের বিরুদ্ধে মানুষের ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ ঘটতো ওই নির্বাচনে। তখন নির্বাচন হলে ওদের খুব বেশি প্রার্থী পাস করে আসতে পারতো না। এখন সময়ের ব্যবধানে মানুষের ক্ষোভ অনেক প্রশমিত হয়েছে। অতীতের কথা তারা কিছুটা ভুলে গেছে। সে কারণে তাদের জন্য খানিকটা সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। নির্বাচনে ভরাডুবির আশঙ্কা থেকেই হয়তো তারা ৭০-এর নির্বাচন নিয়ে কটাক্ষ করছেন।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

Calendar

June 2022
S M T W T F S
 1234
567891011
12131415161718
19202122232425
2627282930