অন্যজীবন

প্রকাশিত: ৮:৩৩ অপরাহ্ণ, জুন ১৫, ২০১৮

অন্যজীবন

 

শিশির বিন্দু

ও দিক টায় আমার খুব এক টা যাওয়া হয়ে উঠে না,উৎকট একটা গন্ধ নাকের বারোটা বাজিয়ে তেরো টা শাঁখ  ফুকিয়ে উৎসাহের বুকে কালি লেপটে দিয়ে যায়, বস্তির অইদিকটায় সব নিশিকন্যাদের সেই সে দাপট। তাদের রাজ্যে তারাই রাজা, তারাই রানী, তারাই প্রজা ! সক্কাল সক্কাল সব ছেলে মেয়েতে নাইতে হয় এক কলতলে আবার কিনা একটা মাত্ ই অইটা ! লাইন ধরে নিত্যকাজের সে কি মহামারী আহামরি কান্ড চলে প্রত্যেক দিন সুরজ উঠলে। দুপ্পুর বেলায়
সব পুরুষেরা আসে কাজকম্ম রেখে আসে বাসায় খেতে। কেউ বাচ্চা, মা, বাবা নিয়ে ঠিক হাসি মুখে খেয়ে আবার দৌড়ায় কাজে, আবার কেউ চেলাকাঠ কিংবা ঝাড়ু দিয়ে রান্নায় কেন নুন হলো না, তাই নিয়ে বউটারে আচ্ছা সে এক দেয় ধোলাই। কাজের বেলায় মালিকের সব বকাঝকার বদলা নিতে ঝাড়ু দিয়ে বউ পিটিয়ে জ্বালা জুড়ায়!বাচ্চা গুলো ক্যাচ ক্যাচ করে কান্নাকাটি জুড়ে মাথায় উঠায় পুরা পাড়া!কেউ সুখটান দেয়
লুঙ্গির ভাজ থেকে আকিজ বিড়ি বের করে খড়ির উনুন থেকে কড়িকাঠ থেকে সেই বিড়ি জ্বালিয়ে ,অইদিকের বিবিজানেরা এক ঘর খদ্দের শেষ করে পান চিবিয়ে চিবিয়ে আরেক খদ্দেরের সাথে লেনদেনের কথায় থাকে, জদ্দার গন্ধে আশেপাশেরর সকলের মাথা ঘুড়ান দিয়ে ওঠে,বুকের মাঝখানে ব্লাউজের ফাকে টাকা গুঁজতে গুঁজতে এক বিবিজান প্রথম বাসরের চিন্তা করতে করতে দ্বিতীয়জন রে নিয়ে বিছানাবিলাসে যায়!
বিকাল বেলা বস্তির সব বাচ্চারা খেলায় মাতে কেউ খেলে লুকান্তি,কেউ খেলে মার্বেল, কেউ খেলে সাত চারা, কেউ খেলে কুতকুত,ক্যারাম খেলা চলে উঠতি বয়সী ছেলে ছো কড়া থেকে যুবা বৃদ্ধের, টাকা দিয়ে নিয়ে সে কি মহা উল্লাসে চলে সেই খেলা, তাস খেলাও চলে অই বিবিজানদের অইদিকটায়, বিবিজানেরা দশ টাকা দামের বেনসন এ ফু দিতে দিতে তাসেরঘর এ ও তাদের ষোল কলা দেখিয়ে হাজার টাকা জিতে নেয় পুরুষ গুলোর ভাত মেরে,সন্ধ্যা নামে আর সাধারন ঘর গুলো র পুরুষেরা কাজ থেকে ফিরে আসে, কেউ কেউ বিবিজান দের অইখানে এক মুখ দিয়ে তবেই বাচ্চাকাচ্চা র মুখ দেখে কি আর করার এই এখানের নারী পুরুষের সুখের হালচাল এই! রাতের এইদিক টা নোংরার মাঝেও আহা কি রঙিলা, পুরুষের বাসনার বাজার এইখানে বেশ রমরমা!পনের থেকে ষাট কিংবা ধনী র দুলাল থেকে গরীব রাজা তারা সবাই রাতের কামনায় হয়ে উঠে বিবিজান দের রাজা।কচি থেকে পাকা সব দেহের আখড়া! জানেন আমার অই দিক টায় খুব একটা যাওয়া হয়ে উঠে না!বৃষ্টি হলে কেতেকেতে অবস্থা,গরমে ঘিঞ্জি গলিতে ঘামের গন্ধে,অই গন্ধে সাধারনের নিঃশ্বাস বন্ধ হয়ে আসে!সামাজিকতা র দায়ে অইদিকটার অস্পৃশ্যতা আমাকে অন্য অই জীবন থেকে অনেক দূরে রাখে!