অফিসিয়াল সিক্রেটস অ্যাক্ট বাতিলের দাবি জানিয়েছে জাপা

প্রকাশিত: ৫:২৭ অপরাহ্ণ, মে ২০, ২০২১

অফিসিয়াল সিক্রেটস অ্যাক্ট বাতিলের দাবি  জানিয়েছে জাপা

১৯২৩ সালের অফিসিয়াল সিক্রেটস অ্যাক্ট বাতিল ও প্রথম আলোর জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক রোজিনা ইসলামের মুক্তির দাবি জানিয়েছেন জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান ও বিরোধী দলীয় উপনেতা গোলাম মোহাম্মদ কাদের এমপি। তিনি বলেছেন, সাংবাদিক রোজিনা ইসলামকে হেনস্তা ও তাঁর বিরুদ্ধে মামলার প্রকৃত ঘটনা উন্মোচনের জন্য বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিটি গঠন করতে হবে। তদন্ত রিপোর্ট দাখিল না হওয়া পর্যন্ত আমরা রোজিনা ইসলামের জামিন দেওয়ার দাবি জানাচ্ছি।

আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে জাতীয় পার্টির ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আয়োজিত ফিলিস্তিনিদের ওপর ইসরায়েলের বর্বর হামলা বন্ধ এবং দৈনিক প্রথম আলোর সাংবাদিক রোজিনা ইসলামের নিঃশর্ত মুক্তির দাবিতে আয়োজিত মানববন্ধনে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান গোলাম মোহাম্মদ কাদের একথা বলেন।

প্রধান অতিথির বক্তৃতায় গোলাম মোহাম্মদ কাদের বলেন, দৈনিক প্রথম আলোর অনুসন্ধানী প্রতিবেদক রোজিনা ইসলামের সঙ্গে যে বর্বরতা হয়েছে, তা ক্ষমার অযোগ্য অপরাধ। একজন অনুসন্ধানী প্রতিবেদক তথ্য সংগ্রহ করবেন, এতে অপরাধের কিছু নেই। অনুসন্ধানী প্রতিবেদকদের জন্যই আমরা জানতে পারি বিভিন্ন দপ্তরে লুটপাটের খবর।

জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান বলেন, করোনাকালে মাস্ক, পিপিই, হাসপাতালের যন্ত্রপাতি ক্রয়ে যে দুর্নীতি হয়েছে, তা অনুসন্ধানী প্রতিবেদকরাই জাতির সামনে তুলে ধরেছেন। আবার করোনা টিকা আমদানি করে একটি কোম্পানি ইতোমধ্যেই ৫০ কোটি টাকা লোপাট করেছে। বর্তমানে টিকা আমদানিতে কী হচ্ছে আমরা জানি না। রোজিনা ইসলাম তাঁর পেশার স্বার্থেই তথ্য সংগ্রহ করেছেন। জাতিকে জানাতে এবং দেশের স্বার্থেই তিনি দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন। তথ্য সংগ্রহ কখনো চুরি হতে পারে না।

বিরোধী দলীয় এই উপনেতা বলেন, অফিসিয়াল সিক্রেটস অ্যাক্ট হচ্ছে মেয়াদোত্তীর্ণ কালো আইন। ১৯২৩ সালে ব্রিটিশ সরকার তাদের ক্ষমতা পাকাপোক্ত করতে নিবর্তনমূলক এ আইনটি পাস করে। স্বাধীন ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে এমন কালো আইন জনস্বার্থ বিরোধী। সরকার যখন তথ্য অধিকার আইন প্রণয়ন করে, সে সময় আমরা জনগণের পক্ষ থেকে দাবি করেছিলাম যে, রাষ্ট্রবিরোধী ও রাষ্ট্রের নিরাপত্তার জন্য হুমকিস্বরুপ সে সমস্ত তথ্যই শুধু গোপন রাখার ব্যবস্থা রেখে আর সব তথ্য উন্মুক্ত রাখা জনস্বার্থে প্রয়োজন। এখন প্রতীয়মান হচ্ছে, তথ্য অধিকার আইনটি শেষ পর্যন্ত সেভাবে প্রণয়ন করা হয়নি। বর্তমানে তথ্য অধিকার আইনটিও উপনিবেশিক ধারাবাহিকতা বজায় রেখে অর্থাৎ সরকার এবং জনগণ রাজা ও প্রজা এ ধারণাটিকে লালন করা হচ্ছে। আমরা এর ঘোর বিরোধিতা করছি। তথ্য অধিকার আইনকে যত দ্রুত সম্ভব সংশোধন করার দাবি জানাচ্ছি।

ফিলিস্তিনে ইসরায়েলের বর্বর হামলার সমালোচনা করে গোলাম মোহাম্মদ কাদের বলেন, ফিলিস্তিনিদের জীবন বাঁচাতে সেখানে জাতিসংঘের শান্তিরক্ষী নিয়োগ করতে হবে। প্রয়োজনে জাতিসংঘের নেতৃত্বে শক্তি প্রয়োগ করে নিবৃত করতে হবে ইসরায়েলকে। আলোচনার ভিত্তিতে স্থায়ী শান্তি নিশ্চিত করতে জাতিসংঘের উদ্যোগ নিতে হবে।

এ সময় জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান আরও বলেন, ইসরায়েল দানবীয় আচরণ করছে ফিলিস্তিনিদের ওপর। জাতিসংঘসহ বিশ্ব সম্প্রদায়ের অনুরোধ উপেক্ষা করে পৈশাচিক বর্বরতা চালাচ্ছে নিরীহ ফিলিস্তিনিদের সঙ্গে। প্রতিদিন অসংখ্য নিরীহ-নিরাপরাধ মানুষের রক্তে লাল হচ্ছে মুসলমানদের অন্যতম তীর্থস্থান। নিহত হচ্ছে শত শত মানুষ, হাজারো মানুষ পঙ্গু হচ্ছে চিরদিনের জন্য। প্রতিদিন হাজারো মানুষ বাস্তুচ্যুত হচ্ছে। বিমান হামলায় ফিলিস্তিনিদের বাড়িঘর মাটির সঙ্গে মিশিয়ে দেওয়া হচ্ছে। ইসরায়েলের বর্বর হামলা থেকে রেহাই পাচ্ছে না হাসপাতাল, উদ্বাস্তু শিবির ও গণমাধ্যমের অফিস। বিশ্ব সভ্যতাকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে মানবতাবিরোধী হত্যাযজ্ঞ চালাচ্ছে ইসরায়েল। সভ্য যুগে ইসরায়েলি নৃশংসতা বেমানান।

বিশেষ অতিথির বক্তৃতায় জাতীয় পার্টির সিনিয়র কো-চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদ এমপি বলেন, সাংবাদিক রোজিনা ইসলামের সঙ্গে যে ব্যবহার করা হয়েছে তা গণতন্ত্র ও স্বাধীন গণমাধ্যমের ওপর আঘাত। তিনি বলেন, গণতন্ত্রের স্বাদ হচ্ছে গণমাধ্যমের স্বাধীনতায়। গণমাধ্যমকে পূর্ণ স্বাধীনতা দিতে হবে গণতন্ত্রের স্বার্থেই। দেশ ও দেশের মানুষের স্বার্থ রক্ষা এবং অবাধ তথ্য প্রবাহ নিশ্চিত করতে গণমাধ্যমের স্বাধীনতার বিকল্প নেই। তিনি বলেন, আমরা স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র দেখতে চাই। পশ্চিমা যেসব রাষ্ট্র সবসময় মানবাধিকার ও গণতন্ত্রের কথা বলে, তারাই এখন ইসরায়েলকে সমর্থন দিচ্ছে। জাতিসংঘের উদ্যোগে ভেটো দিচ্ছে আমেরিকাসহ তার মিত্ররা, এটা সভ্য সমাজে বেমানান।

বিশেষ অতিথির বক্তৃতায় জাতীয় পার্টির মহাসচিব জিয়াউদ্দিন আহমেদ বাবলু বলেন, রোজিনা ইসলামকে যেভাবে হেনেস্তা করা হয়েছে, তা স্বাধীনতার চেতনাপরিপন্থি। তিনি বলেন, ‘১৯৭১ সালে আমরা মুক্তিযুদ্ধ করেছি মানুষের বাক ও ব্যক্তি স্বাধীনতার জন্য। কিন্তু আজ দেশে গণতন্ত্রহীনতার কারণে মানুষ কথা বলতে পারছে না। গণমাধ্যমকর্মীরা সত্য প্রকাশ করতে পারছে না, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নেই। গণমাধ্যমের যে সব কর্মী সত্য প্রকাশে এগিয়ে আসছে, তাদের বিরুদ্ধে অবর্ণনীয় নির্যাতন নেমে আসছে। রোজিনা ইসলামের ওপর যে হামলা হয়েছে তা সভ্য সমাজে মেনে নেয়া যায় না। রোজিনা ইসলামের নিঃশর্ত মুক্তি ও হয়রানিমূলক মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানাচ্ছি।’

ছড়িয়ে দিন