অস্ট্রেলিয়া বংশদ্ভুত কনেকে রিক্সায় সংবর্ধনাস্থলে নিলেন বরিশালের বর

প্রকাশিত: ৬:৪২ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ২৪, ২০১৬

অস্ট্রেলিয়া বংশদ্ভুত কনেকে রিক্সায় সংবর্ধনাস্থলে নিলেন বরিশালের বর

এসবিএন ডেস্ক: ভালোবাসার মানুষটিকে বিয়ে করতে সুদূর অস্ট্রেলিয়া থেকে বাংলাদেশে এসেছেন প্রেমিকা এমিলি রেবেকা পার। পছন্দের প্রেমিক মুসলমান হওয়ায় খ্রিস্টান ধর্ম ত্যাগ করে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন তিনি। এমিলি রেবেকা পার অস্ট্রেলিয়া সরকারের হিউম্যান সার্ভিস বিভাগের একজন কর্মচারী। বিয়েতে এসেছেন তার বাবা-মা, ভাই, খালা-খালু, ফুফু-ফুপাসহ পরিবারের ১৮ জন সদস্য।

এমিলি রেবেকার নতুন নাম হচ্ছে এমিলি আলম। সদ্য বিবাহিত স্বামী সাইদুল আলম রুমান নগরীর আলেকান্দার মরহুম শামছুল আলম বাবুলের বড় ছেলে এবং বিশিষ্ট ব্যবসায়ী সাবেক কাউন্সিলর শফিকুল আলম গুলজারের ভাতিজা।

জানা গেছে, ১৯ জানুয়ারী স্ব-পরিবারে বাংলাদেশ আসেন এমিলি ও রুমান। আলেকান্দায় রুমানের নিজ বাড়ি হলেও এমিলির পরিবারের সদস্যদের রাখা হয় গুলজারের মালিকানাধীন এরিনা আবাসিক হোটেলে।

শুক্রবার জুম্মার নামাজের আগে বায়তুল মেহেদী জামে মসজিদের ইমাম আলহাজ মাওলানা আবদুল হালিমের কাছে কালেমা পড়ে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন এমিলি। তার নতুন নাম রাখা হয় এমিলি আলম।

এ সময় এমিলির বাবা ব্রুস পার ও মা ভিকি পারসহ তার আত্মীয়রা উপস্থিত ছিলেন। ওই দিন সন্ধ্যায় রুমানের আলেকান্দার বাসভবনে রুমান ও এমিলির বিয়ে সম্পন্ন হয়। রাতেই নগরীর বরিশাল ক্লাব মিলনায়তনে রুমান-এমিলির বিবাহত্তোর সংবর্ধনা হয়।

হোটেল এরিনা থেকে নতুন একটি রিকশা ফুল দিয়ে সাঁজিয়ে কনে এমিলিকে সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে নিয়ে আসেন বর রুমান। বরের রিকশার পেছনেই ছিল ২ পরিবারের সদস্যবাহী রিকশা।

বিয়ে উপলক্ষে অস্ট্রেলিয়ান বধূ এবং তার মা-সহ পরিবারের নারী সদস্যদের বাঙালির চিরাচরিত শাড়ি কাপড়ের সাজে অন্যরকম এক আনন্দঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়। অতিথিরা নবদম্পত্তিকে আশির্বাদ এবং শুভ কামনা করেন।

আগামীকাল বর-কনে এবং কনে পরিবারের সদস্যরা ঢাকা ত্যাগ করবেন বলে জানা গেছে।

রুমান জানান, ১৬ বছর আগে পড়াশোনা করতে অস্ট্রেলিয়ার মেলবোর্নে যান তিনি। সেখানে আরএমআইটি বিশ্ববিদ্যালয়ে কম্পিউটার ইনফরমেশন অ্যান্ড সিস্টেম বিভাগ থেকে গ্রাজুয়েট সম্পন্ন করেন তিনি। তার স্ত্রী এমিলিও একই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে গ্রাজুয়েট সম্পন্ন করেছেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় থেকেই পরিচয় ঘটে এমিলির সঙ্গে। ২০১০ সালের কোন এক সময়ে তারা উভয়ে ভালো লাগা থেকে প্রেমে আবদ্ধ হন। পরে তারা বিয়ে করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন। পড়াশোনার পাঠ চুকিয়ে অস্ট্রেলিয়ায় এক্সপোর্টের ব্যবসা করবেন বলে জানান তিনি।

ছড়িয়ে দিন