আওয়ামীলীগ নেতার বিরুদ্ধে মামলা করেছে ঔষধ প্রশাসন

প্রকাশিত: ৮:০৫ পূর্বাহ্ণ, জুন ৮, ২০২০

আওয়ামীলীগ নেতার বিরুদ্ধে মামলা করেছে ঔষধ প্রশাসন

কেএন-৯৫ মাস্ক আমদানিতে ভুয়া কাগজপত্র ব্যবহারের ঘটনায় আওয়ামীলীগ নেতা ও এলান করপোরেশনের মালিক আমিনুল ইসলামের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে । ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের করা এই মালার জবাবে

আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় উপ-প্রচার সম্পাদক আমিনুল ইসলাম দাবি করেছেন, এলান করপোরেশনের নামে মাস্ক আমদানির জন্য তিনি অন্য একজনকে লাইসেন্স ব্যবহার করতে দিয়েছিলেন, ফলে এর দায় তার নয়।

মামলায় এলান করপোরেশনের লাইসেন্স ব্যবহার করে এসব মাস্কের আমদানিকারক ঢাকার হাজারীবাগের তাজুল ইসলাম ও তার গাড়িচালকের বিরুদ্ধেও বিশেষ ক্ষমতা আইনে মামলা করেছে পুলিশ।

আমিনুলের বিরুদ্ধে গত ২৯ মে বনানী থানায় মামলাটি করেন ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক ফখরুল ইসলাম। মামলায় ৪৬৮, ৪৭১ ও ১৯৮ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।

ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তরের পরিচালক রুহুল আমীন বলেন, দুটি মামলা হয়েছে। একটি হয়েছে বনানী থানায়। আরেকটি বিশেষ ক্ষমতা আইনে তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানায়।
ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক নূরে আলম এ মামলার বাদী ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মো. ফখরুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগের পরামর্শ দেন।

ফখরুল রোববার রাতে বলেন, কেএন-৯৫ মাস্ক আমদানির জন্য ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরে কাগজপত্র জমা দেয় এলান করপোরেশন। ওই কোম্পানি ৫০ হাজার কেএন-৯৫ মাস্ক আমদানিও করে। দ্বিতীয়বার পরীক্ষায় কাগজপত্র ভুয়া প্রমাণিত হলে মামলা করা হয়।

প্রথমে কাগজপত্র দেখে আমরা তাদের এনওসি দিই। তারা অনেকগুলো ডকুমেন্টস দেয়, এজন্য প্রথমে চেক করার সময় দুটি ডকুমেন্ট ধরা পড়েনি। পরে আমাদের কাছে একটি সংবাদ আসে যে কিছু কাগজপত্র জাল আছে। আমরা যাচাই করি, ওয়েবসাইটে গিয়ে দেখি আসলেই কিছু ডকুমেন্ট ফেইক। আমরা সেই এনওসি বাতিল করে দিয়েছি।

দেশে করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের মধ্যে এতে আক্রান্ত হওয়া ঠেকানোর উপকরণ হিসেবে আমদানি করা কেএন-৯৫ মাস্কগুলো নকল কি না- সে বিষয়ে কিছু বলতে পারেননি তিনি।

মাস্কগুলো আমরা টেস্ট করিনি। সে কারণে বলতে পারব না। ডকুমেন্ট ফেইক হওয়ায় আমরা প্রতারণার অভিযোগে মামলা করি। আর পুলিশ বাদী হয়ে বিশেষ ক্ষমতা আইনে তাজুল ইসলাম ও তার গাড়িচালকের বিরুদ্ধে আলাদা মামলা করেছে।

এলান করপোরেশনের মালিকের বিরুদ্ধে মামলা হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে বনানী থানার ওসি নূরে আযম রোববার রাতে বলেন, আমিনুল ইসলাম আমিনের বিরুদ্ধে করা ওই মামলার তদন্ত ভার পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগে (সিআইডি) কাছে হস্তান্তর হচ্ছে।

এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, তার (আমিন) রাজনৈতিক পরিচয় জানি না। মামলার এজাহারে এ বিষয়ে কিছু উল্লেখ নেই।

এ বিষয়ে বিস্তারিত কিছু না বললেও গুলশান বিভাগের উপ-কমিশনার সুদীপ কুমার চক্রবর্তী বলেন, দুই একদিনের মধ্যে মামলাটি সিআইডিকে দিয়ে দেওয়া হবে।

তাজুল ও তার গাড়িচালকের বিরুদ্ধে ‘দুই-তিন দিন’ আগে বিশেষ ক্ষমতা আইনের মামলাটি হয়েছে বলে জানিয়েছেন তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানার ওসি মোহাম্মদ আলী।

আমিনুল ইসলাম বলেন, মামলার বিষয়ে নিশ্চিত কিছু জানি না ।তবে লোক মুখে শুনেছি, একটি মামলা হয়েছে।

এলান করপোরেশনের মালিকানার বিষয়ে চট্টগ্রামের সাতকানিয়ার বাসিন্দা আমিনুল বলেন, কোম্পানির মালিকানা তার হলেও গত ২৫ মার্চ তার ‘পূর্ব পরিচিত’ ঢাকার হাজারীবাগের তাজুল ইসলামকে লাইসেন্স ব্যবহারের অনুমতি দিয়েছিলেন।

এই লাইসেন্স ব্যবহারের আগেই তাজুল আমার কাছে অঙ্গীকারনামা করেছে যে এর দায়-দায়িত্ব সে নেবে। অনিয়মের সঙ্গে জড়িত হলে দায়-দায়িত্ব তার।

তাজুলের ওই অঙ্গীকারনামায় বলা হয়েছে, বর্তমান অবস্থার প্রেক্ষাপটে ঔষধ প্রশাসনের ব্যবসায়িক কাজে অংশগ্রহণ করার জন্য আমার পূর্ব পরিচিত মো. আমিনুল ইসলামের ব্যবসায়িক ফার্ম ‘এলান কর্পোরেশন’ এর নামে আমি ব্যবসা-বাণিজ্য পরিচালনা করিতে চাইলে জনাব আমিনুল ইসলাম ইহাতে সম্মতি প্রদান করেন।

তাই অদ্য ২৫.০৩.২০২০ ইং তারিখ হইতে উপরে উল্লেখিত ঔষধ প্রশাসনে আমি উক্ত ‘এলান কর্পোরেশন’ এর নাম ব্যবহার করতঃ যাবতীয় কাজ কর্ম করিব এবং উহার সমস্ত দায় দায়িত্ব বহন করিব। ইহাতে ‘এলান কর্পোরেশনের মালিক মো. আমিনুল ইসলামের কোনো দায় দায়িত্ব রহিলো না।

ছড়িয়ে দিন