আওয়ামী লীগের দলীয় কৌশল ?

প্রকাশিত: ১১:৩০ পূর্বাহ্ণ, জানুয়ারি ৭, ২০১৮

আওয়ামী লীগের দলীয় কৌশল ?

ধর্মীয় দলগুলোর সঙ্গে আওয়ামী লীগের সখ্যতা দিন দিন বাড়ছে। নেতৃবৃন্দ বলছেন এটা তাদের রাজনৈতিক কৌশল। তবে জোটের শরিক নেতারা বলছেন, এটি আওয়ামী লীগের দলীয় কৌশল, ১৪-দলের নয়। আগামী নির্বাচনে আবারও ক্ষমতায় আসতেই আওয়ামী লীগ ধর্মভিত্তিক রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক গড়ছে বলে মনে করছেন জোটের শরিক নেতারা। এ ব্যাপারে আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ১৪-দলীয় জোটের মুখপাত্র মোহাম্মদ নাসিম বলেন, জোটের মূল উদ্দেশ্য থেকে আমরা সরিনি, সরব না। কথা বললেই সমঝোতা হয়ে যায় না। মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বিনষ্ট হয় না। আওয়ামী লীগ স্বাধীনতার নেতৃত্বদানকারী দল। এটা আমাদের রাজনৈতিক স্ট্রাটেজি।

কয়েক বছর থেকে ধর্মীয় রাজনৈতিক দলগুলোর বিভিন্ন অনুষ্ঠানে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের অতিথি হিসেবে দেখা গেছে। হেফাজতে ইসলাম, ইউনাইটেড ইসলামিক পার্টিসহ বিভিন্নয় ধর্মীয় দলের আমন্ত্রণে আওয়ামী লীগ নেতারা নিয়মিত হয়েছেন। আবার আওয়ামী লীগ নেতারাও বিভিন্ন অনুষ্ঠানে তাদের আমন্ত্রণ জানাচ্ছেন।

গত ৫ জানুয়ারি শুক্রবার ইউনাইটেড ইসলামিক পার্টি রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে আলেম-ওলামা সমাবেশের আয়োজন করে। দলের চেয়ারম্যান মো. ইসমাইল হোসেনের সভাপতিত্বে সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফ বক্তব্য রাখেন। বিশেষ অতিথি ছিলেন দলের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক ড. হাছান মাহমদ ও সংসদ সদস্য সিরাজুল হক মোল্লা।

অনুষ্ঠানে ইউনাইটেড ইসলামিক পার্টির নেতাদের সভাপতি ইসমাইল হোসেনসহ কওমিপন্থী এই দলের একাধিক নেতা নাস্তিক-মুরতাদের সঙ্গে যুদ্ধ ঘোষণার আহবান করেন। মঞ্চে উপস্থিত মাহবুব উল আলম হানিফ ও হাছান মাহমুদসহ আওয়ামী লীগ নেতারা এর কোনো প্রতিবাদ করেননি। বরং তারা বিএনপি-জামায়াতকে নিয়ে বিষোদগার করেন।

হানিফের ভাষ্য ছিল, ধর্ম নিয়ে এদেশে বিএনপি-জামায়াতকে রাজনীতি করতে দেওয়া হবে না।

আর হাছান মাহমুদ বলেন, ‘আমাদের নেত্রী, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার চেহারা দেখলেই বোঝা যায় তিনি নামাজ পড়েন। পরহেজগার মানুষ। বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়ার চেহারা দেখলেই বোঝা যায় তিনি কোনোদিন পশ্চিম দিকে ঠোসা দেননি।’

১৪-দলের শরিক জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ) একাংশের সভাপতি শরীফ নুরুল আম্বীয়া মনে করেন ধর্মের নামে কোনো দলই থাকা উচিৎ নয়। তিনি বলেন, ‘ইদানীং আমাদের শরিক দলের নেতাদের এ বিষয়ে একটু নমনীয় দেখছি। বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনায় হয়তো আওয়ামী লীগ এইসব নেতাদের কাছে একটু নমনীয় হচ্ছে। তবে আমাদের এতে আপস নেই।’

নারী উন্নয়নের বিরোধিতা, শাহবাগ আন্দোলনের দ্বিমত পোষণ, ভাস্কর্য অপসারণ, নাস্তিকদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণাসহ শরিয়া মোতাবেক দেশ চালানোর দাবি রয়েছে হেফাজতে ইসলামের। ২০১৪ সালের ৫ মে রাজধানীর মতিঝিল, পল্টন, আরামবাগে অবস্থান নিয়ে ব্যাপক আলোচনা আসে হেফাজতে ইসলাম। এরপর সুপ্রিম কোর্টে ভাস্কর্য অপসারণের আন্দোলনেও হেফাজতে ইসলাম আবারও আলোচনায় আসে। এসময় হেফাজতের নেতাদের আমন্ত্রণ জানানো হয় গণভবনে। এরপর সুপ্রিম কোর্ট চত্বর থেকে ভাস্কর্য স্থানান্তর করা হয়।

শরীফ নুরুল আম্বীয়া মনে করেন, আগামীতে অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের মাধ্যমে ১৪-দলীয় জোট যেন ক্ষমতায় আসতে পারে এজন্য ক্ষমতাসীন সরকারের শেষ বছরে এসে দেশের মানুষের ধর্মীয় সেন্টিমেন্টকে কাজে লাগাবার প্রত্যয়ে হয়তো কাজ করছে আওয়ামী লীগ।

সাম্যবাদী দলের সাধারণ সম্পাদক দিলিপ বড়ুয়া বলেন, ‘এটা ১৪ দলের স্ট্রাটেজি নয়, এটা আওয়ামী লীগের দলীয় স্ট্রাটেজি। আমাদের নয়। আমরা ধর্মীয় দলের সঙ্গে যাই না। আমন্ত্রণও করি না।’

গণ আজাদী লীগের সভাপতি এসকে শিকদার বলেন, ‘আমাদের ১৪ দলের চেতনা হলো মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করা। এখানে মৌলবাদী, ধর্মীয় রাজনীতির কোনো সুযোগ নেই। অস্বীকার করার উপায় নেই যে, দেশ ধীরে ধীরে মৌলবাদের দিকে ঝুঁকছে। তারপরও আমরা মেনে নেই, কারণ আমাদের নিজেদের এককভাবে তো স্ট্যান্ড নেওয়ার সুযোগ নেই।’