আগামী মাসেই চুড়ান্ত হবে জাতীয় স্বেচ্ছাসেবক নীতিমালা: স্থানীয় সরকার মন্ত্রী

প্রকাশিত: ৭:০০ অপরাহ্ণ, মে ২০, ২০২১

আগামী মাসেই চুড়ান্ত হবে জাতীয় স্বেচ্ছাসেবক নীতিমালা: স্থানীয় সরকার মন্ত্রী

 

 

 

 

স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী ও জাতীয় স্বেচ্ছাসেবক নীতিমালা প্রণয়নের লক্ষ্যে গঠিত জাতীয় কারিগরি কার্যনির্বাহী কমিটির প্রধান পরামর্শক মো. তাজুল ইসলাম বলেছেন আগামী মাসের মধ্যেই চুড়ান্ত হবে জাতীয় স্বেচ্ছাসেবক নীতিমালা চুড়ান্ত করা হবে ।

 

তিনি আজ অনলাইনে আয়োজিত জাতীয় কারিগরি কার্যনির্বাহী কমিটির তৃতীয় ও চুড়ান্ত কনসালটেটিভ সভায় সভাপতির বক্তব্যে একথা জানান ।

 

স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মো. তাজুল ইসলামের দিকনির্দেশনা ও পরামর্শে জাতীয় নীতিমালা প্রণয়নের লক্ষ্যে জাতীয় কারিগরি কার্যনির্বাহী কমিটি ইতিমধ্যে রংপুর, খুলনা, রাজশাহী, বরিশাল, চট্রোগ্রাম, সিলেট এবং ময়মনসিংহের অংশগ্রহণকারী এবং অংশীদারদের সাথে দুটি বিভাগীয় পরামর্শ সভা সম্পন্ন করেছে ।

 

মন্ত্রী বলেন, জাতীয় স্বেচ্ছাসেবক নীতিমালা প্রণয়ন করা হলে সরকারি প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি বেসরকারি খাত এবং উন্নয়ন অংশীদারদের স্বেচ্ছাসেবা কার্যক্রমকে মূলধারায় আনা এবং স্বেচ্ছাসেবাকে সরকারি স্বীকৃতি প্রদানে সহায়ক হবে । এ লক্ষ্যে ন্যাশনাল টেকনিক্যাল ওয়ার্কিং কমিটি গঠন করা হয়েছে যা সুনির্দিষ্ট কার্যপরিধির মাধ্যমে আগামি ৩০শে জুনের মধ্যে নীতিমালার কাজ সম্পন্ন হবে ।

 

তিনি আরো বলেন, ইতোমধ্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নিকট থেকে জাতীয় স্বেচ্ছাসেবক নীতিমালার সারসংক্ষেপ অনুমোদ নেওয়া হয়েছে । করতে পারে ।

 

মহান মুক্তিযুদ্ধে, বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও দুঃসময়ে স্বেচ্ছাসেবকরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে অনেক জনকল্যাণমূলক কাজে অংশ নেন উল্লেখ করে মো. তাজুল ইসলাম বলেন, নীতিমালাটি স্বেচ্ছাসেবীর উদ্যোগগুলিকে আরও শক্তিশালী করে তাদের সক্ষমতা বাড়ানো এবং প্রতিবন্ধকতা দূর করে সুরক্ষার জন্য বিস্তৃত দৃষ্টিভঙ্গি তৈরি করবে যা দেশে শান্তি ও উন্নয়ন প্রক্রিয়ায় অবদান রাখতে বিশেষ ভূমিকা রাখবে ।

সভায় অংশ নিয়ে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের মেয়র মোঃ আতিকুল ইসলাম স্বেচ্ছাসেবীর গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, স্বেচ্ছাসেবকরা আমাদের আর্থ-সামাজিক পরিস্থিতির উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে । তাই তাদের স্বীকৃতি দেওয়া জরুরি ।

 

স্থানীয় সরকার বিভাগের সিনিয়র সচিব হেলালুদ্দীন নিজস্ব প্রচেষ্টায় এই প্রক্রিয়াটি ত্বরান্বিত করায় স্থানীয় সরকার মন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, নীতিমালাটি স্বেচ্ছাসেবীদের কার্যবিধি বাড়াতে এবং সম্ভাব্য অংশীদারদের একত্রিত করার জন্য সামগ্রিক অনুকূল পরিবেশ তৈরির পথ প্রশস্ত করবে ।

 

শালিনা মিয়া, আঞ্চলিক প্রধান, এশিয়া অ্যান্ড প্যাসিফিক, ইউএনভি, জাতীয় স্বেচ্ছাসেবক নীতিমালা প্রণয়নের উদ্যোগ নেয়ার জন্য স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রীর প্রতি কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেন । তিনি বলেন, জাতীয় স্বেচ্ছাসেবক নীতিমালার মাধ্যমে বাংলাদেশ একটি সুনির্দিষ্ট কাঠামোর মাধ্যমে স্বেচ্ছাসেবী কার্যক্রমকে কার্যকরভাবে টেঁকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে কাজে লাগাতে করতে সক্ষম হবে ।

 

ইউএনডিপির আবাসিক প্রতিনিধি জনাব সুদীপ্ত মুখোপাধ্যায় অংশ নিয়ে বলেন, এটি একটি সফল এবং সুসংহত নীতি হবে । জাতিসংঘ এই স্বেচ্ছাসেবক নীতিমালা গঠনে সহায়তা করবে এবং ইউএনডিপি সমস্ত প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদান করবে ।

 

স্থানীয় সরকার বিভাগের অতিরিক্ত সচিব ও জাতীয় কারিগরি কার্য নির্বাহী কমিটির আহবায়ক দীপক চক্রবর্তী সঞ্চালনায় সাবেক অতিরিক্ত সচিব ড. কাজী আনোয়ারুল হক জাতীয় স্বেচ্ছাসেবক নীতিমালা বিষয়ক একটি প্রেজেন্টেশন উপস্থাপন করেন ।

 

এছাড়াও অনুষ্ঠানে গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের মেয়র মো. জাহাঙ্গীর আলম, সুলতানা আফরোজ, সচিব এবং প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা-পিপিপিএ, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রনালয়ের সচিব মোঃ আক্তার হোসেন, মোঃ কান্ট্রি কোর্ডিনেটর, ইউএনভি বাংলাদেশ আকতার উদ্দিন, ওয়াটার এইড কান্ট্রি ডিরেক্টর হাসিন জাহানসহ বিভিন্ন সরকারি কর্মকর্তা ও উন্নয়ন অংশীদারদের প্রতিনিধিবৃন্দ অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন । বক্তাগণ স্বেচ্ছাসেবক নীতিমালার গুরুত্ব, স্বেচ্ছাসেবক স্বীকৃতি, ডাটাবেস, তাদের সুরক্ষার নিশ্চয়তা এবং দক্ষ্যতা অর্জন সম্পর্কিত দিকগুলো তুলে ধরেন ।

ছড়িয়ে দিন