আত্মপক্ষ সমর্থন নয় প্রয়োজন কঠোর সিদ্ধান্ত

প্রকাশিত: ৩:০৩ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ৩১, ২০২০

আত্মপক্ষ সমর্থন নয় প্রয়োজন কঠোর সিদ্ধান্ত

লুৎফুল্লাহ হীল মুনীর চৌধুরী

বাংলাদেশের সার্বিক অবস্থান নিয়ে সবচেয়ে অধিক মনোযোগী বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এ বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই। তিনি ছাড়াও বাংলাদেশ নিয়ে বিভিন্ন সংস্থার সদস্যগন ও বুদ্ধিজীবীমহলও গভীর মনোযোগী রয়েছেন চলমান পরিস্থিতিতে। অনেকেই বেশ উদ্বিগ্ন বিভিন্ন ঘটনার প্রেক্ষিতে। বাংলাদেশ পৃথিবীর অনগ্রসর রাষ্ট্রগুলোর লাইনআপ থেকে ইতিমধ্যেই বের হয়ে পরেছে। এবং উন্নয়নমুখি একটি রাষ্ট্র হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে পৃথিবীতে। কিন্ত বাংলাদেশের জনগণ থেকে রাষ্ট্রযন্ত্রের প্রতিটি স্তরে লক্ষ্য করা যায় আত্মপক্ষ সমর্থনের।
চলমান পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের উচিত হবে প্রতিটি বিষয়ে কঠোর সিদ্ধান্ত নেওয়ার। বাংলাদেশ যথারীতি আত্মপক্ষ সমর্থনের পথেই এগুচ্ছে। বিভিন্ন সমীক্ষার বিবেচনায় বিষয়টি নিয়ে সহজ-সরল ব্যাখ্যা দেয়া উচিত। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অত্যন্ত সোজা পথে এগুচ্ছেন চলমান বিশ্ব বলয়ে। তিনি ভাবছেন দেশের জিডিপি রিবড-গ্লোভস দিয়ে ধরে রাখলেই তিনি তার সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য নিয়ে জিতে যাবেন।

এখানে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে আমি একটি বিষয় স্মরণ করিয়ে দিতে চাই যে, ১৭৭০ সালে এই অঞ্চলে একই রকম ভাবে অর্থনীতির দিকে তাকিয়ে ছিলেন ইংরেজ শাসক গোষ্ঠীর ক্লাইভ গং। কিন্ত দেখা গেলো দুর্ভিক্ষ এসে প্রাণ কেড়ে নিয়েছিল প্রায় এক কোটি মানুষের।আরোও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য এটাই যে ঐ বছরে রাজস্ব আয় ও জিডিপি পূর্বের বছর থেকে অনেক বেশিই ছিলো। যে কারনে ঐ দুর্ভিক্ষ ঘটেছিলো সেটি হচ্ছে মধ্যস্বত্বভোগীদের উত্থান ও বাজার ব্যাবস্হা তাদের হাতে নিয়ন্ত্রিত হওয়া। নবাব সিরাজউদৌল্লার পতনের মধ্য দিয়ে ক্লাইভ সাহেব অধিক ভাতাভূক্ত হলে এবং বিশ্বাসঘাতক মীরজাফর ক্ষমতায় আসার মধ্য দিয়ে সমাজে যে পরিবর্তন ঘটে তার মধ্য থেকে গড়ে ওঠে চরম মুনাফাখোর একটি শ্রেনী ও পাশাপাশি একটি স্বার্থপর মধ্যস্বত্বভোগী শ্রেনী। এই দুই শ্রেনীর জন্য উৎপাদন ও বন্টনের মাঝে দেখা দিল ন্যায়পরায়নতার চরম ঘাটতি। ফলে দুর্ভিক্ষ হয়ে পরে অনিবার্য। ১৯৭৪ সালে বাংলাদেশের দুর্ভিক্ষ হয়েছিলো বন্যার কারনে এবং জনসংখ্যার বিস্ফোরণের যোগসাজসে। খাদ্য মজুদের বিষয়ে সরকার সতর্ক ছিলোনা সেবছর। দুর্ভিক্ষ শুরু হয়েছিল মার্চে। শেষ হলো ডিসেম্বর মাসে। সরকার এটা আশা করেনি এটাও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। তবে সে সময়ের সাথে বর্তমান সময়ের কোনো মিল নেই। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জিডিপি ও অন্যান্য বিষয়ের প্রতি অত্যন্ত গভীর মনোযোগী এটা যেমন সত্য ঠিক তেমনই সত্য হলো জিডিপি ও উন্নয়ন শুধুমাত্র যে রাষ্ট্রকে ও জনগনকে দুর্যোগ থেকে রক্ষা করতে পারেনা সেটা অনুধাবন করা। বাংলাদেশের আত্মপক্ষ সমর্থন না করে কিছু বিষয়ে অত্যন্ত কঠোর হওয়া খুব জরুরী।

বিশ্ব মহামারী পরিস্থিতি ও বছরের দীর্ঘ একটা সময় বন্যার কারনে বাংলাদেশকে অবশ্যই কঠিন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হচ্ছে। শেখ হাসিনার সরকার শক্ত হাতে এই সংকটকাল অতিবাহিত করছেন এটা সত্য। তবে বাংলাদেশের উপর একটি বারতি চাপ সৃষ্টি করেছে মায়ানমার। লক্ষ লক্ষ রোহিঙ্গাদের বসবাস এখন বাংলাদেশে। তাদের প্রত্যাবর্তন না ঘটাতে পারলে বাংলাদেশের জন্য সেটা বড় ব্যার্থতার কারন হয়ে দাঁড়াবে। এজন্যই বাংলাদেশকে খুব কঠোর হতে হবে। পূর্বের বন্ধুত্বপূর্ন সম্পর্কের নীতি ও মন্ত্র পাঠ করলে সেটা হবে আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত। বাংলাদেশকে আভ্যন্তরীণ বিষয়েও কঠোর হতে হবে আরও। মহামারীর দ্বিতীয় স্রোতে বাংলাদেশকে সতর্ক হতে হবে এবং যেকোন সিদ্ধান্ত নিতে হতে পারে পরিস্থিতির উপর লক্ষ্য রেখে।

আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতির স্থিতিশীলতা ও বিশেষ নিরাপত্তা বেষ্টনীর বিষয়টি খুব জরুরী। প্রয়োজন হলে সেনা বাহিনীর সাহায্য নেয়া উচিত। বাংলাদেশে ধর্ষন-সাম্প্রদায়ীকতা-হত্যা-রাহাজানি-প্রতারনা সংগঠিত হওয়া যে কোন মূল্যে নিবৃত্ত করতে হবে। মহামারীর কারনে শিক্ষা ও অর্থনীতিতে ব্যাপক পরিবর্তন এসেছে। স্বাভাবিক পরিস্থিতির অপেক্ষা না করে বাংলাদেশের সামাজিক কাঠামোর প্রতি লক্ষ্য রেখে বাংলাদেশকে অগ্রসর হতে হবে।

বিশ্ব মহামারীকালে সারা বিশ্বেই অস্বাভাবিক অবস্থা বিরাজমান। সাম্প্রতিক সময়ে জননিরাপত্তা নিম্নমুখি। সাম্প্রদায়িক উস্কানি লক্ষ্য করা যাচ্ছে নানাবিধভাবে। সরকারের দ্বায়িত জননিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি স্থিতিশীল সামাজিক পরিস্থিতি নিশ্চিতকরন। সরকারের সাফল্যের ঘাটতি নেই তবে আত্মপক্ষ সমর্থনের স্হলে সরকারকে কঠোর হতে হবে। উদারনীতি সরকারের জন্য ভয়াবহ সংকট ডেকে আনতে পারে। কারন, রাষ্ট্রদ্রোহী চক্র ও ষড়যন্ত্রকারীরা নানা ছন্মবেশে সরকারের সাফল্যকে ম্লান ও নস্যাৎ করতে ওত পেতে আছে।