আদিতমারীতে আড়াই হাজার গ্রাহকের টাকা দিচ্ছেনা সমিতি

প্রকাশিত: ৮:৩৪ অপরাহ্ণ, জুন ১৭, ২০২২

আদিতমারীতে আড়াই হাজার গ্রাহকের টাকা দিচ্ছেনা সমিতি
লালমনিরহাট প্রতিনিধি:   লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলায় ২০০৪ সালে প্রতিষ্ঠা পায় শাপলাবহুমূখী সমবায় সমিতি লিমিটেড।সুত্রমতে এর সদস্য সংখ্যা আড়াই হাজার।এদের সবাই আমানতকারী।ক্ষুদ্র এই আমানতকারীদের  টাকা মেয়াদ শেষেও ফেরত দিচ্ছেনা সমবায় সমিতিটি।অধিকাংশ গ্রাহক প্রায় তিনবছর থেকে ঘুরছেন স্খানীয় মাতবর,সমিতির গেটে।কাজ হয়নি কিছুই।উল্টো সমিতির মালিক করছেন বহুতল ভবন।ব্যবস্থাপক করেছিলেন বাড়ি।রাতারাতি বাড়ি বিক্রি করে চম্পট।তবুও এই আড়াইহাজার সদস্যের প্রতি পলক ফেরায়নি সংশ্লিষ্ট কেউ।
শাপলা সমবায়ের এক স্টাফ বলেন,আমরা প্রতি মাসে সমবায়ে স্টেটমেন্ট দিয়েছি।প্রতি বছর অডিট করেছে।সদস্যদের আমানত আর ঋণের বিষয়ে কেনো নজর দেয়নি।তা শুধু সমবায় অফিসের লোকজনই জানে।তার দাবী,এই সংকট প্রকাশেরও অনেক আগে শুরু হয়েছে।অনেক কিছুই মুখ বুঝে সয়ে কাজ করতে হয়েছে।
শাপলা সমবায়ের অফিস স্টাফ সুত্র বলছে,এই টাকা জমা এবং বিতরণে যথেষ্ট বেগ পেতে হয়েছে।প্রথম দিকে ভালো চললেও,গত তিন বছর আগে স্বেচ্ছাচারিতা শুরু করে সমবায় সমিতিটির সভাপতি,সেক্রেটারি।তারা কিছু হলেই সাবেক এক সমবায় কর্মকর্তাকে এনে মিটিংএ বসাতো।এতে বিভিন্ন প্রকার চটকদার কথা শুনে তারা তাদের কাজ চালিয়ে গেছে।এখন তারা সদস্যদের আসল টাকা দিচ্ছেনা।তাই কাজ করা সম্ভব হচ্ছেনা।
শাপলা সঞ্চয় প্রকল্পের জমা টাকা উত্তোলনের ক্ষেত্রে লভ্যাংশ ও বোনাসের পূর্ণতা ২ , ৩ , ৪ , ৫ ও ৬ বছর। জমাকৃত টাকার ওপর  ১০ % , ১৫ % , ২০ % , ২৫ % ও ৩০ % পর্যন্ত লভ্যাংশ দেয়ার কথা।এই লভ্যাংশের সাথে আবার বোনাস দেয়ার কথা বলেছে,সমিতিটির নধি।যা সদস্যদের খুব সহজেই আকৃষ্ট করেছে।
সমিতিটির সদস্য নিখিল,অনুপ কুমার,আশাদুল সহ অনেকেই বলেন,তাদের টাকা জমা করার মেয়াদ শেষে লাভ পাওয়ার কথা ছিলো।কিন্তু গত নভেম্বরে তাদের কাছে জমা বই রেখে দেয়া হয়েছে।তারপর তাদেরকে টোকেন দিয়ে দেয়।এরপর রাতারাতি বাড়ি বিক্রি করে পালিয়ে যায় সমিতির সেক্রেটারি  শফিকুল ইসলাম।
আদিতমারী থেকে ৫ কিলোমিটার দূরের নামুড়ী  বাজার।সেখানে আমানতকারী  রয়েছে ২০০ জন।সেই বাজারের মধুসুধন রায় বলেন,আমার মেয়ের বিয়ের জন্য টাকা জমা রেখেছি।মেয়াদও প্রায় শেষের পথে ছিলো।কিন্তু প্রায় তিন বছর থেকে শাপলা সমিতির আর কোনো হদিস পাচ্ছিনা।
সমিতির সভাপতি সামসুল আলম দুলুর সাথে বারবার যোগাযোগ,মোবাইল ফোন,এবং ক্ষুদে বার্তা পাঠিয়েও পাওয়া যায়নি।তবে সমিতির সেক্রেটারি সফিকুল ইসলাম বলেন,আমারা আমাদের বাড়ি,গাড়ি জমি বেচে টাকা দেয়া শুরু করেছিলাম।সমিতির সদস্যরা যখনই বই জমা দেয়,তখনই টাকা চায়।এসব কারণে টাকা ফেরৎ দেয়া হয়নি।আমি এখন নিঃস্ব।আমি পাগল।আমাদেরকে সমবায় অফিসার সহোযোগিতা করতে চেয়েছেন।ইউএনওর মাধ্যমে মাঠ পর্যায়ে সহোযোগিতা করার কথাও বলেছে।তারপর তিনি কোনো সহোযোগিতা করেন নি।এসব কারণে সব কিছু থেকে দূরে থাকতে হচ্ছে।আমাদের টাকাও মাঠে পড়ে আছে।এখন পর্যন্ত ৮০ জনকে উকিল নোটিশ পাঠিয়েছি।আমরা ৫০০ জনের কাছে টাকা পাব।
সমিতির সাংগঠনিক সম্পাদক লেবু বলেন,আমি অনেকদিন থেকে সমিতির কাছ থেকে দূরে আছি।সমবায় অফিসারকে অভিযোগ দিয়েছি।তদন্ত করলে বোঝা যাবে আমি নির্দোষ।
সমবায় অফিসার ফজলে এলাহী বলেন,আমি প্রথমে কথা বলার সময় অভিযোগ পাইনি।এখন কিছু অভিযোগ পেয়েছি এবং সে অনুযায়ী সমিতির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে নোটিশ করেছি বিবাদী পক্ষ সময় চেয়েছে কাঠামোর মধ্য থেকে সময় মন্জুর করেছি।সদস্যরা যদি লিখিত অভিযোগ করে তাহলে সমবায় অফিস প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিবে অথবা তারা প্রশাসনের কাছে অভিযোগ করলে আমরা প্রশাসনকে সাথে নিয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিব। সদস্যরা আমাদেরকে সহায়তা করলে আমরা তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্হা নিতে পারব।এ ছাড়াও সমিতিটি সার্বক্ষনিক তদারকি করার জন্য সহকারী পরিদর্শক আ,ফ,ম,আবু দাউদকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তিনি আরো বলেন জুন মাস হওয়ায় বিভিন্ন রকম দাপ্তরিক কাজে ব্যস্ত আছি। জুন পার হলেই পুরোদমে সমিতিটির দিকে নজর দিতে পারব।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

Calendar

November 2022
S M T W T F S
 12345
6789101112
13141516171819
20212223242526
27282930