আনিস মুহম্মদ-এর ১০টি কবিতা

প্রকাশিত: ১২:০৯ অপরাহ্ণ, জুলাই ৯, ২০১৮

আনিস মুহম্মদ-এর ১০টি কবিতা

-কাজী জাকির হোসেন

আনিস মুহম্মদ-এর জন্ম ঊনিশশত সাতাত্তর সালে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায়। বিংশ শতকের গোধূলিলগ্নে এক ধরনের জীবন বাস্তবতার স্পর্শ নিয়ে বড় হলেও তিনি সাহিত্য চর্চার আসরে যোগ দিয়েছেন একবিংশ শতকের প্রথম দশকে।বোধ করি, শতক পরিবর্তনের বাঁকে তার উথাল-পাতাল তারুণ্য ভেতরে ভেতরে প্রস্তুত হয়েছে। বাস্তব জীবনের নানা চড়াই-উতরাই তার সাহিত্য প্রতিভা তাকে লেখনি ধারণে উদ্দীপিত করেছে। বিশেষ করে কাব্যসাহিত্য তাঁর অভিজ্ঞতার মিশেলে নিজস্ব স্ফূর্তি লাভ করেছে।এ পর্যন্ত আনিস মুহম্মদ যা লিখেছেন তা হচ্ছে-কাব্যগ্রন্থ ভালোবাসার নবান্ন (২০১০) ও স্বপ্নের সিঁড়িতে (২০১৬), অনুবাদ কাব্যগ্রন্থ (ইংরেজি-বাংলা)বৃদ্ধদের জন্য নয় এ দেশ ২০১২ সালে এবং অনুবাদ ও সম্পাদনা করেছেন ‘কেন বন্দী মুজিব দুহিতা’ ২০১৩ সালে এবং ২০১৪ সালে জননেত্রী শেখ হাসিনাকে নিবেদিত কবিতা নিয়ে সংকলন।

এই আলোচনার ১০টি কবিতার অধিকাংশই হচ্ছে তার স্বপ্নের সিঁড়িতে কাব্যগ্রন্থ থেকে নেওয়া। কবিতাগুলো হলো-ক্রমাগত অনুপস্থিত হয়ে যাচ্ছি, নারী হতে চাই, আমার কন্যার মুখ, স্বপ্নের চোরাবালি, চেতনার ফসিল, ডোম ও ডিমের কুসুম, বৃষ্টি, সবুজ মেয়ে, চিঠি দিও এবং ভ্রূণ। কাব্য সমালোচনায় কাব্য কী এবং কাব্যের বৈশিষ্ট্য ই বা কী, সে সম্পর্কে সমালোচকের নিজস্ব একটা দৃষ্টিভঙ্গি থাকা প্রয়োজন। কবিতার মেজাজ-মর্জি বোঝার জন্য এ পর্যন্ত বহু তত্ত্বের উৎপাদন হয়েছে পৃথিবীজুড়ে। ঠিক কোন তত্ত্বটা কোন সমালোচক নেবেন, সেটা তার নিজস্ব ব্যাপার। ঠিক তাই, শুরুতে খানিকটা তত্ত্ব-তালাশ প্রয়োজন রয়েছে। সেক্ষেত্রে সবার আগে আসে কবি শব্দপদবাচ্যটি। প্রাচ্য পুরাণে কবিকে সত্য দ্রষ্টা বলা হয়। অতএব কবিতা সত্যকে ধারণ করে অথবা সত্যকে প্রতিষ্ঠিত করে। যুথবদ্ধ আদিম সমাজের প্রেক্ষাপটে ক্রিস্টোফার কডওয়েল কাব্যের উৎপত্তি সম্পর্কে এমনি এক সত্য সৃষ্ট বিভ্রমের তত্ত্ব দিয়েছেন, যা সত্য অর্থাৎ বাস্তবের অতিরিক্ত একটা কিছু। তিনি মনে করেন, আদিবাসীর অর্থনৈতিক জীবন থেকে কাব্য দেখা দেয় এবং বাস্তব (জবধষরঃু)থেকে বিভ্রমের (ওষষঁংরড়হ)জন্ম হয়। অর্থাৎ কবি বিভ্রমের মাধ্যমে এক অলীক কল্পনার জগতে প্রক্ষেপিত হন। যে জগৎটি আরও বেশি বাস্তব হয়ে ওঠে। আলঙ্কারিক দৃষ্টিকোণ থেকে কাব্যবিচারের প্রাচ্য দৃষ্টিভঙ্গিটি ধ্বনি বা রসপ্রধান আর পাশ্চাত্যের দৃষ্টিভঙ্গিটি ধবংঃযবঃরপ বা সৌন্দর্যকেন্দ্রিক। মোটা দাগে এমন কথা বলা হলেও অষ্টম শতাব্দীর প্রাচ্য আলঙ্কারিক বামন কিন্তু বলেছেন, অলঙ্কারই কাব্য। আর এই অলঙ্কারের মানে হচ্ছে সৌন্দর্য। সে যাই হোক, সমন্বয়বাদীরা এই রস আর সৌন্দর্যের সমন্বয় সাধন করেছেন। এর মধ্যেই কাব্যের ভাববাদী ও বস্তুবাদী-এই দুই প্রধান ধারা প্রবহমান। ভাববাদী ধারায় ‘শিল্পের জন্য শিল্প’ স্লোগনধর্মী যে তত্ত্ব তার যেমন যুক্তি আছে, তেমনি ‘মানুষের জন্য শিল্প’ এই স্লোগানেরও যথেষ্ট যুক্তি আছে। শিল্প-সাহিত্যের নান্দনিক দিকটির প্রতি গুরুত্বারোপ করতে গিয়ে কোনো কোনো তাত্ত্বিক এতে প্রতিফলিত জীবন বাস্তবতাকে অস্বীকার করে চলেন। কডওয়েল মনে করেন, শিল্পকর্মগুলি সর্বদাই সেই সব বিষয় দিয়ে গঠিত হয়, যেগুলির একটা সামাজিক পরিচয় আছে। তাঁর মতে, উদ্দেশ্যহীন যদৃচ্ছ কবিতা কেউ লিখতে পারে না। কাব্যকে যে বিমূর্ত এবং প্রতীকধর্মী শিল্পকলা বলা হয়, তাকেও তিনি প্রত্যাখ্যান করেন। তাঁর মতে, কাব্য সব সময় মূর্ত, অপ্রতীকায়িত, যুক্তি নিরপেক্ষ এবং ঘনীভূত নান্দনিক আবেগোদ্দীপক দ্বারা বিশিষ্টতাপ্রাপ্ত। তিনি বলেন, কাব্য হল জমাট বেঁধে যাওয়া সামাজিক ইতিহাস, প্রকৃতির সঙ্গে সংগ্রামে মানুষের আবেগগত শ্রমের ফল। আর এই আবেগগুলি প্রকৃত বস্তুর সঙ্গে সংযুক্ত, যার ফলে সে আবেগগুলিকে এক ধরনের বৈশিষ্ট্য দান করে। যে আবেগ ও বৈশিষ্টগুলি ধারণ করে বিশেষ ধ্বনি, শব্দ ও পঙ্ক্তিমালা। হয়তো আনিস মুহম্মদের কবিতা এর যেকোনো দৃষ্টিকোণ থেকেই ব্যাখ্যা করা যাবে। কিন্তু আমার ব্যক্তিগত পক্ষপাত হচ্ছে মহান তাত্ত্বিক ও সমালোচক কডওয়েলের প্রতি।সুতরাং আমার যৎসামান্য আলোচনা বস্তুনিষ্ঠ কাব্য সমালোচনার পথ ধরেই অগ্রসর হবে।তাছাড়া সাহিত্যে জীবন বাস্তবতা খুঁজতে যাওয়াই আমার অন্যতম কাজ। বাছাইকৃত ১০টি কবিতার মধ্যে শুরুতেই যে কবিতাটি আছে, সেটি হচ্ছে- ক্রমাগত অনুপস্থিত হয়ে যাচ্ছি। এই কবিতায় আনিস দেখিয়েছেন, কীভাবে মানব সভ্যতার যাবতীয় আস্ফালন, যাবতীয় পৌরুষ সময় অতল গর্ভে ক্রমাগত হারিয়ে যাচ্ছে। যেখানে ভবিষ্যতের ধ্যান মানুষকে অন্ধ আবেগে সামনের দিকে ধাবিত করলেও মানুষ মুখ্যত এবং শেষপর্যন্ত সময়ের আবর্তে বিলীন। সময়ের এই রাহুগ্রাসকে তিনি সর্বগ্রাসী ক্ষুধা হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। ছোট্ট পরিসরে লিখিত কবিতাটি বাস্তব জীবনের অনুষঙ্গ থেকে কিছু শব্দ বাছাই করে চয়নের মাধ্যমে কবি একটি অনুভূতি সৃষ্টি করেছেন, বিভ্রম সৃষ্টি করেছেন, যা বাস্তবতার বাইরের কিছু নয়। পরিশেষে কবিতার দুটি পঙক্তি দেখে নেওয়া যেতে পারে, যার মাধ্যমে কবির কবিত্বশক্তির লক্ষণ আবিষ্কার করা যেতে পারে। তিনি বলেছেন-চারিদেক দাউ দাউ জ্বলছে বিস্মৃতির দাবানল;/ মুহূর্তের গর্ভে বিলীন হয়ে যাচ্ছে প্রিয় মুহূর্তগুলো।

‘নারী হতে চাই’ কবিতায় আনিস পুরুষ পরিচয়ে পৃথিবীতে যে মানুষরূপী প্রাণী রয়েছে, তাদের কাপুরুষ রূপে অভিহিত করেছেন; আমার মতে, এরা হতে পারত কুপুরুষ (‘আমার কন্যার মুখ’ কবিতার শেষ পঙক্তির ক্ষেত্রে এটি বেশি প্রযোজ্য), সেই কুপুরুষের পরিচয় ভুলে কবি খানিকক্ষণ নিজের পরিচয় ভুলে নারী হতে চেয়েছেন। নারীর চোখে তিনি পৃথিবীকে অনুভব করতে চেয়েছেন। এজন্য তিনি যে সমস্ত শব্দ, রূপক, উপমা, উৎপ্রেক্ষা ব্যবহার করেছেন, তা কবিতার সৌন্দর্যকে পরিপুষ্টি জুগিয়েছে। বিশেষ করে বালিহাঁস, শালিক, চড়ুই পাখির ঘর, প্রজাপতি, নদী, মেঘ, ঝিল, শালুক, পানকৌড়ি, জলপদ্ম, নিশিকোকিল, ঘাইহরিণী, দোয়েলের শিস, কৃষ্ণচূড়া, কোরাস জোনাকি কিংবা শালিধানের ব্যথা ইত্যাদি উপমা ও রূপকের অন্তরালে আনিস নারীর রূপাবয়ব আবিষ্কার করেছেন এবং নারীর চোখ দিয়ে এইসব দেখার চেষ্টা করেছেন। এটা কিছুটা জীবনানন্দীয় স্টাইল তবে এর মধ্যে তার বিশেষত্ব হচ্ছে যে তিনি অবিশ্বাস আর নিপীড়কের চেহারায় পুরুষের রোগগ্রস্ত, বিকারগ্রস্ত, অসুস্থ একটা আদল খুঁজে পেয়েছেন। এখান থেকে উত্তরণের জন্য তিনি সম্ভবত বাংলার জননী সাহসিকা খ্যাত কবি সুফিয়া কামালের বিদ্রোহী সত্তার পুনরাবির্ভাব চেয়েছেন।

‘আমার কন্যার মুখ’ কবিতায় আনিস যেন তার চলার পথে একজন সাংবাদিকের চোখ দিয়ে সমাজকে দেখছেন, সমাজের আর্ত চেহারাটিকে উন্মোচন করবার চেষ্টা করছেন। সমাজের নিপীড়িত প্রতিটা ব্যক্তিমানুষকে আনিস মুহম্মদ নিজের কন্যার সঙ্গে মিলিয়ে পাঠ করার চেষ্টা করছেন। এভাবে দেখার সুবিধাটা হচ্ছে, এভাবে দেখলে সমাজে সহমর্মিতাবোধ, পারস্পরিক সহানুভূতি ইত্যাদি মানুষকে অপরাধ সংঘটন থেকে বিরত রাখতে পারে। আর যখন মানুষের এই দৃষ্টিভঙ্গি নস্যাৎ হয়ে যায়, যখন একজন ব্যক্তি আর ব্যক্তি থাকে না, সে সমাজের নিপীড়ক হয়ে ওঠে, ধর্ষক হয়ে ওঠে, তখন তার ওই বোধটুকু আর কাজ করে না। সে পশুর স্তরে নিজেকে নামিয়ে নেয়। আনিসের কাছে ওই সমস্ত বিকার ও জরাগ্রস্তরা কাপুরুষ হিসেবে চিহ্নিত। যাকে অবশ্যই কুপুরুষও বলা যেতে পারে।

‘স্বপ্নের চোরাবালি’ আনিস মুহম্মদের গদ্যধর্মী উপস্থাপনা। একে আবৃত্তিযোগ্য করে উপস্থাপন করলে হয়তো কবিতার আমেজ পাওয়া যেতে পারে। এটাকে কথা বলার বঙ্কিমীয় স্টাইলও বলা যেতে পারে। এখানে আনিস স্বপ্নের ভেতরে করুণ একটি জীবন বাস্তবতাকে আবিষ্কার করেছেন।যেখানে একের পর এক দৃশ্য চোখের সামনে উদ্ভাসিত হচ্ছে, এসব দৃশ্যের অন্তরালে ভেসে উঠছে দেশের

পোশাক কারখানাগুলোতে ঘটে যাওয়া অগ্নিকান্ডের শিকার সাধারণ শ্রমিকের অসহায়তা, অন্তঃসারশূন্য বুদ্ধিজীবীর বেকারত্ব, সমাজের গুরুতুল্য শিক্ষক সমাজের অধঃপতন, সাংবাদিকতার নেতিবাচক রূপ ইত্যাদি। সমাজের এতসব বিকারগ্রস্ততা ও অসুস্থতার পরও যখন এখান থেকে পুনরুত্থানের কোনো সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে না, তখন কবি নিজের ঘুম থেকে জেগে ওঠাকে নিরর্থক মনে করছেন। হয়তো এই অবস্থা পাল্টে ফেলার ক্ষমতা থাকলে জেগে ওঠা আবশ্যক ছিল এমন বার্তাই তিনি এখানে দিতে চান।

‘চেতনার ফসিল’ কবিতায় কবিতা সৃষ্টির উৎস ও উপাদান খোঁজার চেষ্টা দেখা যায়।কবিতা যে বহু চর্চিত প্রয়াসের ফল সেটা ইঙ্গিতবহ হয়েছে।তবে এখানে বিকারগ্রস্ত যে স্বাপ্নিককে আমরা দেখছি, সে আর কিছু নয়, কবির সৃষ্টি উন্মাদনা। যে স্বাপ্নিক সমাজে সৃষ্টির উন্মাদনা জাগায় তাকে বোধ করি বিকারগ্রস্ত না বলে অন্য কোনো উপযুক্ত বিশেষণ দিলেই ভাল হত। এছাড়া আর কোনো ব্যাখ্যা এখানে দেওয়া চলে না।

‘ডোম ও ডিমের কুসুম’ কবিতায় ডিমের কুসুমের কোমলতা, তার রঙিন অবয়বে অপরকে রাঙানোর অন্তর্নিহিত শক্তির ঐশ্বর্য খুঁজে পাওয়া যায়।পৃথিবীর নিষ্ঠুর-নির্দয়তম কাজটি সম্পন্ন করে ডোম সম্প্রদায়। কবির প্রশ্ন, মানব শরীর ব্যবচ্ছেদ করার দায়িত্বে নিয়োজিত এই ডোমদের হৃদয়েও কি কুসুমের কোমলতা নেই! অন্যদের সঙ্গে সমানভাবেই তা নিহিত থাকে সেই বিশ্বাস থেকেই হয়তো আনিস এমন একটি তুলনা হাজির করেছেন ।

‘বৃষ্টি’ শিরোনামের কবিতাটি একটি অনুভূতিব্যঞ্জক কবিতা। এটি দেশের পবিত্রতম একটি স্থাপনা জাতীয় সংসদ প্রাঙ্গনকে ঘিরে যে একশ্রেণির রূপোপজীবীনী নারীর আনাগোনা তারই একটি বাস্তবনিষ্ঠ বিভ্রম কবি উপস্থাপন করেছেন। একদিকে জাতীয় সংসদ, কবির ভাষায়, দেশের কোটি কোটি মানুষের স্বপ্নের তীর্থভূমি, অন্যদিকে তার বিপরীতে মাননীয় সাংসদগণের বসবাসের জন্য নির্ধারিত ন্যাম ফ্ল্যাট। রাত বাড়লে এই দুইয়ের মাঝখানটায় বিচিত্র জীবনের অধিকারী দেহপসারিনী একশ্রেণির নারীর অবাধ চলাচলের ক্ষেত্র হয়ে ওঠে। এটা কবির কাছে প্রশ্নবিদ্ধ বলে মনে হয়।

‘সবুজ মেয়ে’ কবিতাটি একটি ভিন্নধর্মী কবিতা। একটা বড় প্রেক্ষাপট নিয়ে এ কবিতার আসর। যেখানে একটা কিশোরী সাক্ষাৎ পাওয়া যায়, যে প্রকৃতির রুদ্ররোষে বারবার বাস্তুচ্যুত হয়েছে, ক্লাইমেট চেঞ্জ অর্থাৎ জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব তার জীবনকে তছনছ করে দেয়, তবু তার ভেতরে ভালোবাসার অন্ত নেই। সে এমনি এক কিশোরের সন্ধান করছে, যার জীবনে হাজারো সংকট থাকলেও সে স্বপ্নতাড়িত, তার ভেতরেও ভালোবাসার অন্ত নেই। এই দুইয়েরই মিলন কামনা করা হয়েছে এই কবিতায়।

‘চিঠি দিও’ আনিস মুহম্মদের একটি সুখপাঠ্য কবিতা। এর ছন্দ বেশ উপভোগ্য। এর বক্তব্য নির্মোহভাবে কোনোকিছু চাওয়ার আর এর প্রতিটা শব্দ চিরায়ত বাংলার প্রকৃতি, ফুল, ফল, পাখি, চাঁদ, জোছনা ইত্যাদি নৈসর্গিক সৌন্দর্যকে আবাহন করার। এর ভেতরে যেমন রস আছে, তেমনি সৌন্দর্যবোধও আছে।

‘ভ্রূণ’ আনিসের আরেকটি কবিতা , যে কবিতার সৃষ্টি নতুন জীবনের নানা সংকট থেকে। চারদিকে নানা সংকটের ছবি কবি দৃশ্যকল্পের মাধ্যমে এঁকে চলেছেন। এত সংকট যে একটি কবিতার ভ্রূণ জন্ম নিতে না নিতেই আরেকটি কবিতার জন্ম হয় কবির হৃদয়ে এমনি এক চলচ্ছবি চোখের সামনে ভাসতে দেখা যায়। আনিস মুহম্মদ কবিতা রচনায় আরও সাবলীল, জীবন ও সমাজ সচেতন হয়ে উঠুক, তার কবিতা নতুন মাত্রা পাক সেই কামনাই করি।

লেখক: গবেষক, কবি ও সাহিত্য সমালোচক

সৈকত আসগর, আধুনিক বাংলা কবিতা শিল্পরূপ বিচার, বাংলা একাডেমি, ঢাকা, ১৯৯৩, পৃ. ভূমিকা
ক্রিস্টোফার কডওয়েল, ইলিউশন অ্যান্ড রিঅ্যালিটি, অনুবাদ: রণেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়, পপুলার লাইব্রেরী, কলকাতা, ১৯৮৫, পৃ. ২৮
ভুবনমোহন অধিকারী, কাব্যসমীক্ষা, বাংলা একাডেমি, ঢাকা, ১৯৮৫, পৃ. ভূমিকা
দীপ্তি ত্রিপাঠী, অলঙ্কার-আভা, আনন্দ পাবলিশার্স প্রাইভেট লিমিটেড, কলকাতা, ১৯৯৮, পৃ.১৩
ক্রিস্টোফার কডওয়েল, পূর্বোক্ত, পৃ. ১২৮
ক্রিস্টোফার কডওয়েল, পূর্বোক্ত, পৃ. ১৫৬