আমরা বিপ্লবী নই, গণতন্ত্রে বিশ্বাসী : মির্জা ফখরুল

প্রকাশিত: ১০:৪০ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ২২, ২০২১

আমরা বিপ্লবী নই, গণতন্ত্রে বিশ্বাসী : মির্জা ফখরুল

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, আমরা বিপ্লবী নই। আমরা বিপ্লব করি না। আমরা গণতন্ত্রে বিশ্বাস করি। বিএনপি গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় ক্ষমতার পরিবর্তন চাই। গণতন্ত্রের মাধ্যমে আমরা জনগণের মালিকানা প্রতিষ্ঠা করতে চাই। এটি সম্ভব জনগণ ঐক্যবদ্ধ হলে।

 

শুক্রবার (২২ অক্টোবর) বিকেলে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে লেবার পার্টির ৪২তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে ‘আধিপত্যবাদী আগ্রাসন ও ফ্যাসিবাদী দুঃশাসন রুখে দাঁড়াও’ শীর্ষক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

 

বিএনপি মহাসচিব বলেন, জনগণের ঐক্য ছাড়া ফ্যাসিস্ট শাসককে সরানো সম্ভব না। শান্তিপূর্ণভাবে একটি জনতার ঐক্যের মাধ্যমে আমরা এদের সরাতে পারি। এছাড়া আমাদের কোনো বিকল্প নেই।

 

মির্জা ফখরুল বলেন, আমি মনে করি, ভয়াবহ এ ফ্যাসিস্ট সরকার শত চেষ্টা করেও জনগণের ঐক্য নষ্ট করতে পারেনি। আজ পত্র-পত্রিকা বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বলেন, কোথাও এ সরকারের কোনো সমর্থক নেই। তাদের সমর্থক খুঁজে পাওয়া যাবে না। এমনকি একজন সাধারণ শ্রমজীবী মানুষকে যদি জিজ্ঞেস করেন, সেও বলবে যে কত দ্রুত এ সরকার ক্ষমতা থেকে যাবে। কারণ মানুষের জীবন দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে। এখন আমাদের রাজনৈতিক দলগুলোর যেটা প্রয়োজন, সঠিক সিদ্ধান্ত নিয়ে জনগণের সঙ্গে মিশে গিয়ে আন্দোলন করতে হবে। তখন আমরা এ ফ্যাসিস্ট সরকারকে সরতে বাধ্য করব।

 

অনুষ্ঠান মঞ্চে পাশে বসা জামায়াত নেতা শফিকুল ইসলাম মাসুদের দিকে ইঙ্গিত তিনি বলেন, আজ অনেকে আমার পাশে আছেন, যারা তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবিতে আন্দোলন করেছে, ১৭৩ দিন হরতাল করেছেন। আর আমাদের নেত্রী খালেদা জিয়া সংবিধানে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা প্রবর্তন করেছেন। সেই তত্ত্বাবধায়ক সরকার বাংলাদেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ নির্বাচনের সময় যদি সরকার নিরপেক্ষ না থাকে, কোনো নির্বাচনে জনগণের যে আশা-আকাঙ্ক্ষা সেটার প্রতিফলন ঘটে না। নির্বাচন সুষ্ঠু হয় না। আজ সেই তত্ত্বাবধায়ক সরকার আওয়ামী লীগ বাতিল করে দিয়েছে। কখন বাতিল করেছে? তারা ২০০৯ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের মাধ্যমে ক্ষমতায় আসার পর বাতিল করেছে। যদিও আওয়ামী লীগসহ সব রাজনৈতিক দল মতামত দিয়েছিল আরও দুইবার তত্ত্বাবধায়ক সরকার থাকা দরকার। কিন্তু শেখ হাসিনা পুরোপুরি একক সিদ্ধান্তে তা বাতিল করেছে।

 

সাবেক এই প্রতিমন্ত্রী বলেন, আমাদের এখন মূল সংকট হচ্ছে গণতন্ত্র। এটাকে ফিরিয়ে আনাই হচ্ছে আমাদের চ্যালেঞ্জ। এটা এতো সহজ কাজ নয়। কারণ একটা ফ্যাসিস্ট সরকারের বিরুদ্ধে গণতান্ত্রিক শক্তির লড়াই সহজ কাজ নয়। এ ধরনের শক্তির বিরুদ্ধে সবসময় অনেক ত্যাগ, রক্ত, জীবন দিতে হয়েছে। সম্পত্তি ক্ষয় হয়েছে। কিন্তু লড়াই করে যেতে হয়েছে।

 

এসময় আওয়ামী লীগ সরকার সবসময় মানুষের মধ্যে বিভাজন সৃষ্টি করে বলে দাবি করেন বিএনপি মহাসচিব। তিনি বলেন, কখনও মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে-বিপক্ষে, কখনও গণতন্ত্রের পক্ষে-বিপক্ষের শক্তি, এখন আবার তারা ধর্মীয় বিভাজন সৃষ্টি করছে। এটা সৃষ্টি করছে মানুষের মূল সমস্যা থেকে দৃষ্টি ভিন্ন দিকে নিতে। আমাদের সমস্যা হচ্ছে জিনিসপত্রের দাম বাড়ছে। ভোট দিতে পারি না। আমাদের অধিকারগুলো নেই। সেই জায়গাগুলো থেকে মানুষের দৃষ্টি ভিন্ন দিকে নিতে একটি সাম্প্রদায়িক বিভাজন তৈরি করছে।

 

আজ বাংলাদেশের মানুষ অত্যন্ত দুর্বিষহ জীবনযাপন করছে উল্লেখ করে মির্জা ফখরুল বলেন, একদিকে জিনিসপত্রের দাম বাড়ছে। প্রতিদিন জিনিসপত্রের দাম হু-হু করে বাড়ছে। লবণ, তেল, পেয়াজ, মরিচ থেকে শুরু করে এমন একটা জিনিস নাই যেটার দাম তিন থেকে পাঁচগুণ বাড়েনি। অন্যদিকে মানুষের যে প্রকৃত আয় সেটা কিন্তু বাড়ে নাই। ফলে আজকে গরিব আরও গরিব হচ্ছে। আওয়ামী লীগের লুটেরারা ধনী থেকে ধনী হচ্ছে।

 

এসময় উপস্থিত ছিলেন লেবার পার্টির চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, এলডিপির একাংশের মহাসচিব শাহাদাত হোসেন সেলিম, এনপিপি চেয়ারম্যান ফরিদুজ্জামান ফরহাদ, জাগপার একাংশের সভাপতি খন্দকার লৎফুর রহমান প্রমুখ।

ছড়িয়ে দিন