আমাদের জ্যোতি

প্রকাশিত: ২:৩৮ পূর্বাহ্ণ, মার্চ ১৭, ২০১৯

আমাদের জ্যোতি

ambarish datta

জ্যোতি সিনহা… আমাদের জ্যোতি… . গত দুই বছরে ওর অভিনীত নাটক দেখেছি ছয়টি… প্রত্যেকটা নাটক দেখে মুগ্ধ হয়েছি, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নাটক নিয়ে, মঞ্চায়ন নিয়ে দু’চার কথা লিখেছি, আমার মত করে, আমার আনন্দ অনুভূতির কথা… কিন্তু জ্যোতির অভিনয় নিয়ে কখনও কিছু লিখিনি। শুধু গত বৎসর সম্ভবত ‘কহে বীরাংগনা’ দেখার পর লিখেছিলাম, জ্যোতির অভিনয় নিয়ে কিংবা ওর অভিনয় ক্ষমতা নিয়ে কিছু লেখার সাহস বা যোগ্যতা আমার নেই… কথাগুলো কিঞ্চিৎ আবেগপ্রসূত মনে হলেও, মোটেও বাহুল্য যে নয় বা ছিলনা, তা আরো দৃঢ়ভাবে প্রতিষ্ঠা পেয়েছে পরবর্তীতে ওর অভিনীত ‘রুধির রংগিনী’ নাটকে… আর সমস্ত ছাপিয়ে গেছে স্যামুয়েল বেকেট রচিত শুভাশিস সিনহা অভিযোজিত ও নির্দেশিত ‘হ্যাপি ডেজ’ নাটকে ওর সাম্প্রতিক অভিনয়। দীর্ঘ কুড়ি বছরের অভিনয় ধারার সম্পুর্ন বিপরীত অভিনয় ভংগী,একক, তাও বেকেটের মত নাট্যকারের বাহ্যত উদ্ভট প্রকৃতির এবং ভীষন জটিল এক চরিত্রে, জ্যোতির অভিনয় জীবনে নতুন মাত্রা যুক্ত করেছে নিঃসন্দেহে। অসাধারন সংযোজন। নিজেকে বিলীন করে দিলেই কেবল অভিনয়ের এমন উচ্চতায় পৌঁছানো যায় …চাট্টিখানি কথানা… সবাই পারেনা… এটুকুর জন্যে একজন জ্যোতি হয়ে উঠতে হয়… নিরন্তর সাধনার ভিতর দিয়ে।

গত শনিবারেই প্রথম নাটকটি দেখে আসি কমলগঞ্জ থানার ঘোড়ামারা গ্রামে মনিপুরি থিয়েটারের নিজস্ব নটমন্ডপে, আর সপ্তাহ না পেরুতেই আবারো নাটকটি দেখলাম পরপর দুইদিন সিলেটে, আরেকটু বড় পরিসরে, নাগরিক আবহে… মানে সাতদিনের মধ্যে একই নাটক দেখলাম তিনবার…আরো কয়েকদিন ধরে যদি নাটকটি মঞ্চায়ন হতে থাকে আমি প্রতিদিনই হয়ত গিয়ে হাজির হবো… নাটক শেষে জ্যোতি আমার প্রতিদিনের উপস্থিতি নিয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করলে, এই কথাই বলেছি। সচরাচর যে কাজটি আমি করিনা, স্বআগ্রহেই আজ একটা ছবি উঠালাম ওর সাথে… কী খুশী যে হয়েছে… ছবিই বলে দিচ্ছে তা… উঠিয়েছে জ্যোতির ছোটবোন মনিপুরি থিয়েটারেরই আরেক সম্ভাবনাময় অভিনেত্রী স্বর্নালি সিনহা স্মৃতি। নিজের স্মৃতি ভান্ডারে সবটাই নতুন সংযোজন… আকাশ তোমার ঠিকানা জ্যোতি… জ্যোতির্ময়ী জ্যোতি… আনন্দময় হোক তোমার শিল্প সাধনা… গভীরতর হোক…নিত্য আনন্দে…

ধন্যবাদ নাট্যমঞ্চ সিলেট, ধন্যবাদ রজত গুপ্ত।