আমার আম্মা এবং সময়

প্রকাশিত: ২:২৪ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ২৪, ২০১৮

আমার আম্মা এবং সময়

তামান্না জেসমিন

আম্মা চলে গেলে জীবনটা থেমে যাবে, থেমে যাবে স্বাভাবিক কাজকর্ম, এমন যে হবে তা কখনোই ভাবিনি l যেমন – ফোনের সঙ্গে, পরিবারের বাইরের লোক, বন্ধু, আত্মীয়, টেলিভিশন দেখা এবং ফেজবুকের সঙ্গে সম্পর্ক বিচ্ছিন্ন হয়ে নতুন করে সম্পর্ক সৃষ্টি হয়েছে astronomy science এবং আরো ঘনিষ্ঠ সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েছি হাজারো গ্যালাক্সি, শ্বেত বিবর, কৃষ্ণ গহবর, প্লানেট, স্টার, সম্ভাব্য এলিয়েন, এস্টেরয়েড আর কমেটদের সাথে l যত জানি ততো যেনো কিছুই জানতে পারিনা l নিজেকে, নিজের পৃথিবীকে মনে হয়েছে অতি ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র l জীবন, জীবনের মানে, সময়ের মানে আর এই বিশালতার মানে, বিস্তৃতি, ভর, দুরত্ব, সম্পর্ক, এবং মাপ বুঝতে গিয়ে হতবাক হয়েছি, হোচট খেয়েছি বারবার আর অসহায় দৃষ্টিতে ফ্যালফ্যাল করে তাকিয়ে থেকেছি প্রকৃতি, জীবজগৎ, মহাজাগতিক ঘটনা ও তার সৃষ্টি রহস্যকে ভেবেভেবে l আমি কে ? আমি কোথা থেকে এসেছি ?? কোথায় চলে যাবো শরীর থেকে বিচ্ছিন্ন হলে ???

আমার জন্মের আগে কোথায় কিভাবে ছিলাম তাতো মনে করতে পারছিনা তেমনি আমরা জানিনা মৃত্যুর পরের ঘটনা l মৃত্যুর পরে আর কোনো জগৎ আসলে আছে কী? কারন মৃত্যুর পরে ফিরে আসা আদৌ সম্ভব নয় l রাতে ঘুমাই সকালে জাগি l এমনো যদি হয় ঘুমানোর সময়ের কাল অতিবাহিত করে চিরনিদ্রায় গিয়ে আর ফেরা হয়নি, হাজার- হাজার বছর ধরে তীব্র ঘুমের মাঝে অতিবাহিত হচ্ছি তারপর কোনো গ্রহের মতন বিগব্যাং এর মাধ্যমে আবারো ধীরেধীরে পুনর্গঠন এবং অক্সিজেন, পানি অতপর বিকাশ! এভাবেই কী আমরা বারবার ফিরে আসি? এটাই কী স্বাভাবিক জীবনচক্র? মৃত্যুর মধ্য দিয়ে আমরা একেবারেই ধংশ হয়ে যাই নাকি শরীরের অযুত কোটি নিযুত ফান্ডামেন্টাল পার্টিকেলস যেমন – ইলেক্ট্রন, প্রোটন, নিউট্রন, এটম, এদের কোনো বিনাশ নেই ; এরা কী থেকেই যাবে আর ছড়াতে থাকবে বিশ্বভ্রক্ষ্মান্ডে ?

মৃত্যু চির সত্য কিন্তু তা সত্যেও আমরা মৃত্যুকে ভয় পাই, ঘৃনা করি l মানুষের মন বড় অন্তহীন, দুখি, ভীত l মানবজীবন চিরস্থায়ী নয় তারপরও এই শীতল সত্যের কাছে ফিরে যেতে হয় কিন্তু এই মৃত্যু মানেই কী পুরোপুরি ধংশ ? কখনো কখনো মনে হয় আমি এক গভীর ঘুমের মধ্যে স্বপ্নের জগতের মহা ঘোরের মধ্যে আচ্ছন্ন রয়েছি l এই বিশ্বব্রহ্মাণ্ড, পৃথিবী, প্রকৃতি, পারিপার্শ্বিকতা, মানুষ, জীবজন্তু -সমস্ত কিছুই যেনো আমার স্বপ্নেরই অংশ l মানুষের সাথে ওঠাবসা, সামাজিকতা, জীবনযুদ্ধ, ধর্মকর্ম, ঘোরাফেরা, ভালবাসা, বেড়ানো, ঘৃনা, যুদ্ধবিগ্রহ – এসব কিছুই ভ্রম বা স্বপ্ন হবে হয়তো l আম্মা চলে গেলেন পৃথিবী ছেড়ে – এটাও হয়তো স্বপ্নের মধ্যের স্বপ্ন l মাসখানেক আগে স্বপ্নে দেখেছিলাম, আমার আম্মা আমায় ভিডিও কল করেছেন বিলিয়ন ট্রিলিয়ন আলোকবর্ষ দুরের কোনো অনাবিষ্কৃত গ্যালাক্সি অথবা মাল্টিভার্স ইউনিভার্স থেকে l আমায় একটি চমৎকার সুন্দর যায়গা দেখিয়ে সেখানে তার জন্য অপেক্ষা করতে বললেন ; আমি তাকিয়ে রইলাম অপরূপ মনহর সুনসান যায়গাটির দিকে l এতোটাও সুন্দর হতে পারে ? সেখানকার গাছগুলো অসম্ভব লম্বা যেনো পাচশো মিটারের অধিক, সবুজ সিল্কের মতন ঘাস, গোলাপী সাদা মিশ্রিত মাধবীলতার ছোটবড় দেয়াল l অসম্ভব সুন্দর রঙ্গিন প্রজাপতিদের ওড়াউড়ি, ঝর্নার শব্দ আর অপূর্ব সব পাখিদের গানের সিম্বল গুলো বাতাসে উড়ে বেড়ানো দেখতে পাচ্ছিলাম l

মা আমি সেখানেই আপনার জন্য অপেক্ষা করতে চাই … এরপর যেখানে খুশী আমায় নিয়ে যেতে চাইবেন আপনার হাত ধরে আমি সেখানেই যাবো …