ঢাকা ২৪শে জুলাই ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ, ৯ই শ্রাবণ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ, ১৭ই মহর্‌রম ১৪৪৬ হিজরি


আমার গুরুগণ: একানব্বই

Red Times
প্রকাশিত জুলাই ৬, ২০২৪, ১১:১০ পূর্বাহ্ণ
আমার গুরুগণ: একানব্বই

{"remix_data":[],"remix_entry_point":"challenges","source_tags":["local"],"origin":"unknown","total_draw_time":0,"total_draw_actions":0,"layers_used":0,"brushes_used":0,"photos_added":0,"total_editor_actions":{},"tools_used":{},"is_sticker":false,"edited_since_last_sticker_save":false,"containsFTESticker":false}

মোস্তফা মোহাম্মদ

 

তোমাকে দেখার পর,
পৃথিবীর সব ফুল,
সব নদী উতালপাতাল ঘোড়সওয়ার;

ছুটে যাও তুমি,
আমি জল ভাবি দিনরাত,
গিলে ফেলি বিষ,
টকটকা চুল্লির তাতানো জিহ্বার;

ভূগোলের দিশা জানা নাই,
ইতিহাস শূন্য ছাই,
পিঠের ঘামের সাথে কামের নির্যাস;

কলাবতী রাতের তারায়,
আধার করেছি সাথী,
জেনে নিও পুণ্ড্র-পাথর-পুরাণ-ইতিহাস,
যমুনার মুখ থেকে তার,
দিনকে সাজিয়েছি রাতের নির্জন অমনিবাস;

দড়িছেঁড়া-হালভাঙা জলের ডাঙ্গায়,
যাই ছুটে যাই,
লিখে ফেলি অবশিষ্টের বারোমাস,
তোমার-আমার দিনরাত ধনুর্বিদ্যার শাঁস;

উত্তর থেকে দক্ষিণ গোলার্ধ,
সীমান্ত আর শূন্যতা,
জলের অতল সীমাহীন অসীম আকাশ,
রাত কাটে দিন নামে,
শূন্যতার মিছিলে সাজাই যোগের বিলাস;

কী ভীষণ শক্তি তোমার,
লাবণ্যলতা,
শান্তির মিছিলে শক্তির আধার,
অবারিত জোসনার আঁচলে উদাস তুমি,
উয়ারী বটেশ্বর,
অমাবস্যায় ঘুটঘুট কি-বা ভরা পূর্ণিমায়;

জলের ডগায় ঢেউ,
যদি জানে কেউ স্বপ্ন ভেঙে যায়,
ঢেউ ভাঙে ঢেউ জাগে বুকের সীমায়,
তরীতটে বিমর্ষ-বিষাদেরা করে ঘেঁউঘেঁউ;

—১৯৪৭ সালের দেশভাগের ফলে পাকিস্তান গঠিত হলে কম্যুনিস্ট পার্টির নেতাকর্মীদের কাজের পরিধি এবং মাত্রিকতা বেড়ে যায়। দুই পাকিস্তানের ভাষাসংস্কৃতি এবং উন্নয়নের মধ্যে ফারাক ধরিয়ে দেওয়াসহ শ্রেণীবৈষম্যপীড়িত সমাজের সাধারণ মানুষের মুক্তির প্রত্যাশায় প্রদেয় রাজনৈতিক মেন্যুফেস্টো বিশেষত, বক্তৃতাবিবৃতিলেখনীবাণীর উদ্দীপনায় শোষিতশ্রেণী উদ্দীপিত হয়। কমরেড মণি সিংহ এবং অন্যান্য অকুতোভয় নেতাদের নেতৃত্বের গুণে বিপ্লবের মধ্য দিয়ে ক্ষমতায় গিয়ে সাধারণ মানুষের জীবনের দুঃখদুর্দশা লাঘবের স্বপ্নমগ্ন অভিযাত্রা কিছুদূর এগিয়ে গেলেও পশ্চিম পাকিস্তানি সামরিক সরকারের শোষণসহায়ক একচোখা নীতির গ্যাড়াকলে পড়ে কাতরায়; প্রতিকূল পরিবেশ–ধরপাকড়জেলজুলুমদমনপীড়নের ফলে আন্দোলন ব্যর্থ হয়; কম্যুনিস্টরা হয়ে ওঠে পাকিস্তান সরকারের জানের দুশমন। সেই দুর্বিষহবৈরী রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে মার্ক্সবাদী কম্যুনিস্ট হওয়ার দায়ে পাকিস্তান সরকারের রোষাণলে পরে কম্যুনিস্ট পার্টি বগুড়ার তথা উত্তরাঞ্চলীয় নেতা সুবোধ লাহিড়ী দ্বিতীয়বারের মতো জেলে যাবার পর ইসমাইল কিছুটা দিশাহারা হয়। সুবোধের পাঠানো চিঠির ভাবভাষাথিমকন্টেন্ট বিশ্লেষণ করে ইসমাইল কৃষি ও কৃষক সম্পর্কে নতুনতর বাস্তবতায় আলোড়িত হয়। কিন্তু কৃষির উন্নতির মধ্য দিয়ে গ্রামীণ অর্থনীতির জাগরণের ক্ষেত্রে সর্বমানবীয় কল্যাণমূলক কাজের বেলায় ইসমাইল নিজেকে বিলিয়ে দেওয়ার পরেও হায়দারের মা অর্থাৎ ইসমাইলের প্রথম স্ত্রীর অনাকাঙ্ক্ষিত অকাল মৃত্যুর যাতনায় একটা ট্রমার ভেতর আচ্ছন্নতায় নিমগ্ন জীবনযাপন করছে একথাও ফেলে দেবার মতো নয়। এতকিছুর মধ্যেও অপ্রকাশ্য বেদনাবোধ বুকে নিয়ে সুবোধের রাজনৈতিক জীবনের পেছেনে ইসমাইল খুঁটির মতো দাঁড়িয়ে আছে বলেই সুবোধ অনায়াসে পাড়ি দেয় সংকটাকীর্ণ পথ–একথা ভেবে ভেবে আনন্দও পায় সমভাবে–এজন্যই হয়তোবা পুলিশআইনসমাজধর্ম নানাবিধ বিষয়ের প্রতি খেয়াল রেখেই ইসমাইল নিজেকে ক্যামেরার পেছনের মানুষ হিসাবেই রেখে দিলো সারাজীবন। এই পেছনের মানুষগুলো না থাকলে দুর্দিনে নেতাকে বাঁচাবে কে?
–ইসমাইল সার্বক্ষণিক এই চিন্তা করে বলেই মুসলমান সমাজের মানুষ তাকে মূল্যায়ন করে সমধিক; আবার কেউ কেউ আশ্চার্যান্বিতও হয়–হিন্দুর ঘরের ছেলে সুবোধের সাথে এত গলায় গলায় পীরিত কিসক! ইসমাইল বিষয়গুলো নিয়ে ভাবে বলেই কষ্ট পায়। সমাজসংসারধর্মরাজনীতির নানাবিধ টানাপোড়েনের সাথে মরিয়ম আর মুক্তির জলের ঢেউ অর্থাৎ, প্রেমের তুমুল তুফান বুকে চেপে সতর্কতার সাথে কৃষি বলি, রাজনীতি বলি আর সমাজকল্যণমূলক বহুবিধ কাজকর্ম যাই বলি-না-কেন এতদিন একটা অবগুণ্ঠিত মৌনভাবের ভেতর লুকানো, এবাদতের আলোয় রাঙানো রোমান্টিক ভাবজগতের মধ্যে আচ্ছন্ন ইসমাইল; সেই সাথে তার বন্ধু সুবোধের বেলায়ও একইরকম ধ্যানধারণা প্রচারিত ছিলো সমগ্র এলাকার মানুষের মনে তথা, রাজনৈতিক কর্মীসহ কামারকুমারজেলেনাপিতধোপাসহ বগুড়া জেলার সর্বস্তরের মানুষের চিন্তারেখায়। সুবোধের মা অর্থাৎ, কাকীমারও একইরকম ধারণা–ইসমাইল আর সুবোধের আচরিত জীবন-কর্মযজ্ঞ তথা বৈবাহিক-প্রাতিষ্ঠানিক রীতিসিদ্ধ কষ্টদীর্ণ মৃত্যুজরাভয়ক্লান্ত সংসার বিমুখতায়; সেই ধ্যানমগ্নতা বন্ধুদের আড্ডার স্থল পেরিয়ে যমুনা আর করতোয়ার বানের জলের ধাক্কায় পাড় ভাঙলো বুঝি এইবার! ইসমাইলের সত্যকথায় এবং জীবননিষ্ঠ সাহসিকতায় কাকী খুশি হয়েছেন জেনে ইসমাইল কিছুটা ভারমুক্ত হলেও, নিজের জন্য বিশুর নেতৃত্বে চন্দনবাইশার চানবাড়িয়ায় বিয়ের প্রস্তাব পাঠানোর ফলে আবেগের ঢেউ বিয়ে নামক সামাজিক প্রতিষ্ঠানের সীমারেখায় আবদ্ধ হলেও ঢেউয়ের পেছনে জলের ঘূর্ণি রয়ে যায় তুমুল: যাহার নাম প্রেম, যাহার নাম ধ্যানবিন্দুর একান্ত সান্নিধ্য লাভের জন্য বুকের গভীরে অপ্রকাশ্য তীব্র খোঁচামারা চিনচিনা বেদনাবোধ।

ইসমাইল আর সুবোধ; সুবোধ আর ইসমাইল দুইবন্ধুর সংসারবিমুখ গতিবিধি চলাফেরাকাজকর্মধ্যানজ্ঞান নিয়া এলাকার মানুষের মধ্যে রহস্যময়তায় ঘেরা গালগল্প তথা অপরিণামদর্শী আলোচনাসমালোচনাও হয়–চলনবলনকথনলিখন খেলনদেখন ইত্যাদির পরিপ্রেক্ষিত বিবেচনায়। গ্রামের লোকজনের সাথে গলা মিলিয়ে আকন্দবাড়ির আরিফ ইসমাইলকে বলেই ফেলে: ‘চাচমে আপনে বাপু মানুষ না-কি একটা আস্ত পায়জামা যে, খদ্দরের পাঞ্জাবি গাওত দিয়া, ঢোল্যা একটা ঘাগরা-মার্কা পায়জমা পর‍্যা ঘুর‍্যা বেড়ানো ভাদাইম্যা হিন্দুপাড়ার সুবোধের জন্যি খালি খালি শেরপুর আর বোগড়্যা, বোগড়্যা আর শেরপুর কর‍্যা কর‍্যা বেড়ান; আপনের সংসারোত কী কুনুই কামকাজ নাই; আপনি কী একটা পায়জামা না-কি যে, চাইলেই সুবোধের ঠ্যাংগের মইধ্যে ঢুক্যা পড়েন; মানষের সমান অধিকার চাই; কর‍্যা কর‍্যা চোঙ্গা মুখোত দিয়া দিয়া খালি সুবোধের মুক্তি চাই, সুবোধের মুক্তি চাই; জেলের তালা ভাঙবো, শুবোধকে ছুট্যা আনবো সুরে কথার মলন পাকান–এই ধানগমসরিষাতিলতিসিকাউন ছাড়ানোর মতো কথার যুক্তিহীন আবেগের মলনের মধ্যে থাক্যা চাচমে আপনি আর বারাবার পারলেন না!’–আরিফের কথার মাঝে অসংস্কৃত কিন্তু বাহুল্যবর্জিত ভালোবাসার মিশেল খুঁজে পেয়ে ইসমাইল আরিফের কথায় রাগ না করে মৃদু হাসি দিয়ে বিদায় করে দেয়। আরিফ অথবা গেদু অথবা তেকানি ফকির কিংবা বাঁশিয়াল জলিল–এরা কথা কয়, এরা গান গায়, এরা বাঁশি বাজায়; এদের নিজস্ব সাংস্কৃতিক যোগ্যতা-আসক্তি-অর্জন এবং এদের মুখের ভাষায়। কোনোপ্রকার চোগলখুরি বক্তব্য এবং অহিতকর কোনোরকমের চিন্তার ধার এরা ধারে না; পরের ধনে এরা পোদ্দারি মারায় না, অন্যের জমির আইল এরা ঠেলে না; উপরন্তু, এই শ্রেণির মানুষ জোচ্চোরিবাটপারিগোয়েন্দাগিরির পোংগাটাও মারায় না। এইজন্যই ইসমাইল গ্রামের এই নিরীহ মানুষদের ভালোবাসার আগুনে নিজেকে পোড়ায়, আর এদেরকে বুকের ছায়া দেয়। কিন্তু ওই শালার ব্রিটিশ বেনিয়ার জাত পেটের ক্ষুধা মেটানোর জন্য, খাদ্যশস্যপশুসম্পদ থেকে আহরিত শাঁসবস্তু লুণ্ঠনের নিমিত্ত আমাদের বারোটা বাজিয়ে দিলো–সাদা চামড়ার এই হুলো বেড়ালের দল ভারতীয় ভূভাগের মানুষের মধ্যে সাম্প্রদায়িক বিষবাষ্প ছড়িয়ে কৌশলে ইংরেজি স্কুল আর মাদ্রাসা বানিয়ে শিক্ষার মাথায় বাড়ি দিয়ে আমাদের গুরুমুখী বিদ্যার গোড়া কেটে দিলো; তারা শিক্ষাসংস্কৃতির মাথায় বাড়ি দিয়ে আমাদের চেতনাই শুধু নয়, ক্ষমতার লোভ দেখিয়ে দেশটাকেই দ্বিখণ্ডিত করে দিলো শালার বনিকের দল।
—পরেরদিন ফজরের নামাজের পর প্রভাতকালে মসজিদ থেকে বাড়ি ফেরার পথে বাড়ির পুকুরপাড়ের আমতলায় পাতানো মাচাঙের উপর বসে মোলায়েম মাখোমাখো রোদের মায়ায় একটু সময়ের জন্য মাছেদের নড়াচড়াখেলাধুলাদাপাদাপি দেখে এই কথাগুলোর মর্মার্থ্য খোঁজার চেষ্টা করায় মাথায় ভীষণ যন্ত্রণা অনুভূত হওয়ায় বাড়িতে ফিরে এসে দরোজাকপাট বন্ধ করে একটু ঘুমানোর ব্যর্থ চেষ্টা করে ইসমাইল। ঘুম আর আসে না, পাকিস্তান সরকারের কম্যুনিস্ট-বিরোধী একচোখা নীতির ফলে এবং পাকিস্তানের মানুষের কম্যুনিস্ট পার্টির সাথে ইসলামী আদর্শের ধর্মবোধজনিত মূল্যবোধের ফারাক থাকায় মুসলিম লীগ, আওয়ামী মুসলিম লীগ সর্বোপরি আওয়ামী লীগ রাজনৈতিক বাস্তবতায় জনসমর্থনের দিক থেকে এগিয়ে যেতে থাকায় ইসমাইল কিছুটা দ্বিধান্বিত সুবোধের রাজনৈতিক পরিক্রমায়। সুবোধের জেলজীবনের সাথে যুক্ত হয়েছে ভাষা-আন্দোলন পরবর্তী ভাষামুক্তি-সংস্কৃতিমুক্তি তথা অর্থনৈতিক মুক্তির আন্দোলন–এই আন্দোলনের অগ্রপথিক শেখ মুজিবসহ তাঁর সহযোদ্ধাগণ এবং সর্বজন শ্রদ্ধেয় নেতা মাওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী। সুবোধের চিঠির বরাতে ইসমাইল জেলের অভ্যন্তরীণ অনেক কথা জানতে পারায় সুবোধের জন্য এবং দেশের জন্য সংগ্রামরত কারাবন্দী নেতাদের জন্য ইসমাইলের ভীষণ কষ্ট হয়। সেই সাথে ব্রিটিশ সরকারের শোষণ এবং দেশভাগের ফলে স্বাধীন পাকিস্তানের ভাষাসংস্কৃতিঅর্থ শোষণের নব্য-বাস্তবতায় পশ্চিম পাকিস্তানি সেনা-শাসকদের উপর ভীষণ রাগ হওয়ার ফলে অবিভক্ত ভারতবর্ষের দুই প্রধান রাজনৈতিক নেতা পণ্ডিত জওহরলাল নেহেরু এবং মোহাম্মদ আলী জিন্নাহর ক্ষমতার চেয়ারের ভাগাভাগির মারপ্যাঁচ দেখে মনে মনে কষ্ট পায় ইসমাইল। এবং একথাও মনের অজান্তেই ভেসে ওঠে যে, বাণিজ্যের উসিলালায় এই বাংলায় উড়ে এসে জুড়েবসা ব্রিটিশ এবং ধর্মধ্বজী পাকিস্তান আর ভারত সরকারের কম্যুনিস্টবিরোধী অসহিষ্ণু মনোভাব স্র যাই হোক-না-কেন অন্তত মানব কল্যাণের ক্ষেত্রে কতটা কাজে লেগেছে কিংবা লাগবে তা সময়ই বলে দিবে; কিন্তু অহেতুক রক্তপাত মনে করে ভীষণ ক্ষিপ্ত হয়ে মনে মনে তীব্র গালি দিয়ে দরোজা খুলে বাইরে এসে দাঁড়ায় ইসমাইল।

শ্রাবণের মেঘলা আকাশ, ভ্যাপসা কাঁঠালপাকা গরম; বৃষ্টি হবে হবে করে হয় না, নামে নামে করেও নামে না–মেঘ কী তার বৃষ্টি নামাইয়া ভিজাইয়া চুবাইয়া আর মজা পায় না? মেঘের শরীরে কী আর আগের মতো ঝাঁপাইয়া পড়িবার মতো আমোদ নাই? এই শ্রাবণের মেঘেরা কী উত্তপ্ত মাঠঘাটপ্রান্তরনদীনালাখাদগুদ ভিজাইয়াভরাইয়াডুবাইয়াভাসাইয়া আগের মতো পুলক অনুভব করে না–মেঘের কী আর কামের হাউস নাই? তার মনশরীর কী তেজশূন্য হয়ে পড়েছে?
–ইসমাইল নানাবিধ প্রশ্নের জালে নিজেকে জড়িয়ে মেঘ আর বৃষ্টি আর কাদার শরীরে হাবুডুবু খেতে থাকে মনের মেঘের জানালায়। আরিফের টিপ্পনীমার্কা শরীর জ্বালানো কথা, জলিল আর তেকানি ফকিরে গান আর বাঁশির সুর শেরপুরের শ্মশান আর ফুলবাড়ির মসজিদ অথবা ঈদগাঁর মাথার উপর দাঁড়িয়ে থাকা বটপাকুড়ের ডালপাতাকোষছিদ্র পার হয়ে কোলাজ তৈরি করে ইসমাইলের হৃদয়-বীণায় একেবারেই সুর যে তোলে না, তা নয়! সুর তোলে এবং একান্তে কথাও বলে; এই কথার বাণীঅর্থবৈভব আরিফ কিংবা জলিল অথবা তেকানি ফকিরের মুখের কথায় আর বাঁশির ভাষায় নয়–ব্যক্তির অর্জনবিসর্জনকর্ষণচেতনমনন মাফিফ তার মনের ভাষায় ব্যক্ত হয়। ঘরের বাইরের বারান্দায় বসে কিছু একটা ভাবতেই পুন্ন আর শরৎ দুইভাই বাড়ির খুলি পার হয়ে মাছের ভারসহ আঙিনায় এসে হাজির হয়। খাড়ি ভরা মাগুরশোলটেংরাপুটিবাইনগোচি মাছ দেখে বাড়ির বৌঝিচাকরবাকরদের মাঝে খুশির ঢেউ বয়ে গেলেও ইসমাইলের মনে সুখ নাই। গতকাল বিশু চৌধুরী মাওলাবক্স আর জায়দার মোল্লাসহ সেই যে চন্দনবাইশার চানবাড়িয়ার সরকার বাড়ির উদ্দেশে গেলো তাদের ফিরে আসার আর কোনো খবর নাই; তারা ফিরে না আসা পর্যন্ত ইসমাইলের কোনোই শান্তি নাই–কীসের মাছ, আর কীসের বিল! সবই ইসমাইলের কাছে নীরস মনে হয় আজ এই সকাল বেলায়।

সংবাদটি শেয়ার করুন

July 2024
S M T W T F S
 123456
78910111213
14151617181920
21222324252627
28293031