আমার ঘর খানায় কে বিরাজ করে

প্রকাশিত: ৫:৫১ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ২৮, ২০১৭

আমার ঘর খানায় কে বিরাজ করে

শিরিণ ওসমান 

নিসংঙ্গ কিংবা একা থাকতে বেশ লাগে।চাইলেই কোথাও বেরিয়ে আসা যায়। আলসেমিতে বেরোনো হয় না।টিভি দেখা একেবারে হয় না।ভাল লাগে না।বাসায় মেয়ে যতক্ষন ঘরে থাকে, ওর নিজের কাজ থাকে। ঘরে আছে এতেই মনে হয় ঘর ভরে গেছে।অপত্য স্নেহ একেই বলে।

পাশে শুয়ে থাকে। বলে,তুমি এতো মোটা কেন মা?
রাগ করে বলি মায়েরা মোটাই হয়। রাজ্যের গল্প জুডে দেয়।কখনো আবার কোনো কথা ধরে রেগেও যায়। যেন সেই আমার মা। তার কাছে আমার শেখার আছে।
বিরক্ত হয়ে বলি, যাও এখান থেকে।
তুমি এমন কেন মা?
আমি এমনিই।এখন যাও, আমার কাজ আছে।
গজগজ করে,তোমার আবার কাজ কী? ফেইজবুকে স্টুপিড ফ্রেন্ডদের সাথে চ্যাট করবে।
আমরা মায়ের সাথে এভাবে কথা বলতাম না।তখনকার জীবন এমন ছিল না।এই যেমন ফোন ল্যাপটপ এসব আর কি।

ঘর- সংসার মানে বিশাল দায়িত্ব কাঁধে নেয়া। একটু এদিক সেদিক হলেই ঝামেলা পেঁচিয়ে যায়। আগে কাজে বাইরে সারাদিন থাকতে হতো।কোনোদিন দশটা বেজে যেতো ঘরে ফিরতে। হোম এসিসটেন্ট যারা তারাই ঘর সামলাতো। আমার বাচ্চারা তখন স্কুল কলেজে পড়ে।শুকরিয়া, ঐ সময়ে তারা দায়িত্বশীল ছিল। নিজেরাই সব করতো। বাসায় ফিরে ওদের মুখ দেখে সারাদিনের ক্লান্তি নিমিষে উবে যেতো।
একদিন আমার ছেলে বলে, মা,ইউ আর এ্যামেজিং। তুমি এত ক্লান্ত হয়ে আসো,কিন্তু বোঝাই যায় না।
আমি মনে মনে বলি, বুঝবিনা রে বাবা, তোদের দেখলেই আমি নতুন করে জেগে উঠি।তোরাই আমার সব রে।
এখনো তাই। ওরা বিদেশে থাকলেও শুধু ফোন করে ভাল আছি জানালেই আমিও ভাল থাকি।
আসলে অনেক মানুষের মাঝে থেকেও ভেতরটা শূণ্য থাকে। পরিবেশ যদি বৈরি হয় তখন প্যালেসে থেকেও সুখ নেই।
দূরের বাড়ীগুলোর দিকে তাকাই। গাছপালা নীল আকাশ,নীচে সারি সারি গাড়ী, মানুষজনের হেঁটে চলা সবই প্রাণবন্ত লাগে।
প্রতিটি মানুষের সুখ দুখ আছে। ব্যাথা বেদনা আছ। আমরা কী জানি কার মনে কী চলছে? আহা! যদি জানতে পেতাম। এমনো হতে পারতো, যে আমার সামনে আমার প্রশংসা গাইছে, মনে মনে সে হয়তো আমার দশটা দোষ ধরছে। না জানাই ভাল। অন্তর্যামী যিনি তিনিই শুধু জানেন এই জগতের লীলা খেলা।