আমি সোমা বলছি ঃ ২

প্রকাশিত: ৮:১৭ অপরাহ্ণ, এপ্রিল ১, ২০২০

আমি সোমা বলছি ঃ ২

নার্গিস সোমা জাফর

হসপিটালের সামনের মাঠে বাবা আমাদের ৪ ভাই-বোনকে নিয়ে বসে আছেন, মা হসপিটালের ভেতরে, কিছুক্ষন পর পাশের বাসার চাচি এসে বাবাকে বললো, ভাই ভাবীর আবার ছেলে হয়েছে, বাবা এ কথা শুনে তো মহা খুশি, চাচা হসপিটালের বারান্দায় গিয়ে আযান দিলেন, ছেলে সন্তান হবার পর হয়ত আযান দিতে হয়।

আমাদেরকে বললো তোদের ছোট ভাই হয়েছে। আমি মনে মনে ভাবলাম এত ভাই-বোন কি হবে? আসলে তখন সময় ছিলো অন্য রকম সবার ঘরেই যেনো ৫/৮ জন করে ছেলে-মেয়ে, সবাই হয়ত নিজের পরিবারের মানুষকে বেশী ভালোবাসত এজন্য এই রীতি হয়ত, সময়ের সাথে সাথে এই রীতির ও পরিবর্তন ঘটেছে, এখন সবাই এক ছেলে-এক মেয়ে হলেই খুশি কম খরচের সংসার যাকে বলে, খরচ তো কম হয় কিন্তুু হারিয়ে যাচ্ছে ভালোবাসা, হারিয়ে যাচ্ছে সবাই একসাথে বসে মুড়ি মাখিয়ে খাবার আনন্দ।

আমার মা ওনাকে দেখে এক রকম মেশিন মনে হয় আমার, চাবি দেওয়া পুতুল মেশিন, সকালে ঘুম থেকে উঠে রান্না ঘরে যাওয়া আর বছর বছর বাচ্চা জন্ম দেওয়া, বাচ্চা জন্ম দেওয়া শব্দটা যেনো কেমন, হসপিটাল থেকে সবাই বাসায় আসলাম মা বিছানাতে শুয়ে আছে, নতুন ছোট ভাই মার পাশে বিছানাতে শুয়ে আছে, মারুফ এখন বড় ভাই। ছোট হঠাৎ করেই বড় হয়ে গেলো আরেক জনের জন্মে। আমার বড় দুই বোন মার পাশে বসে আছে ছোট ভাইকে দেখছে, মার কাছে আবদার তাকে কোলে নিবে, তাদের এমন কান্ড দূর থেকে দেখতেই ভালো লাগছে আমার কেনো তা জানি না।

বড় আপা যার নাম রিতা, সে স্কুলে ভর্তি হবে, মেঝ আপা রিমা, আর আমি চারু, আমার নাম তাদের সাথে মিল নেই কেনো? মা বলল এই চারু-রিতা, রিমার সাথে স্কুলে যাবি তোর বাবার সাথে? চারু-না আমি খেলতে যাবো মারুফের সাথে মা, সারাদিন খেলা আর খেলা, রিতা এই চারু তুই সারাদিন কি খেলিশ রে? চারু-পুতুল, আজকে আমার পুতুলের বিয়ে, রীমা-তোর কয়টা পুতুল আছে রে? চারু-তিন টা, আর কয়েকটা বানিয়ে দিবে? তানিয়ার অনেক গুলো পুতুল আছে, পুতুলের অনেক শাড়ী ও আছে, মা বলল তোর বাবা কোথায় রিতা?

রিতা- ঘরে শার্ট পরছে, মা- তোর বাবার শার্টটা আয়রন করে পরে যেতে, কত বার বলছি আরেকটা শার্ট কিনতে, চারু-রিতা আপা ইস্কুল থেকে আসার পর আমাকে পুতুল বানায় দিও, রিতা-আচ্ছা দিবো, সকাল থেকে পুতুলের ঘর সাজালাম মিষ্টির বাক্সের ভেতরে, বিকেলে বিয়ে হবে তানিয়া মানে আমার বান্ধবি ওর পুতুলের সাথে, আমার মেয়ে পুতুল, পুতুলকে গহনা দিয়ে সাজাতে হবে, কিন্তু গহনা পাবো কোথায় আমার আম্মার তো কোন গহনা নেই, ফেরিওয়ালার কাছ থেকে কেনা কোন পুরানো দুল ও নেই, কি করি? মাকে কখনো দামি কানের দুল, চুড়ি পরতে দেখি নি, হাতে সব সময় প্লাস্টিক এর পানি বালা পরতে দেখছি সব সময়, আর শাড়ি ২ টা, যেটা আজকে পরতো সেটা আবার কালকে পরতো, তাই আমার পুতুলের শাড়ি ও কম, রিতা-এই চারু তোর পুতুলের বিয়ে কখন রে?

চারু-বিকেলে, আপা আমার পুতুলের গহনা বানিয়ে দেও না, রিতা-কাগজ আর কেচি নিয়ে আয় বানিয়ে দিচ্ছি, রীমা-তানিয়ার ছোট ভাইকে নাকি পাওয়া যাচ্ছে না, রিতা আপা শুনছো? রিতা-না তো, কোথায় গেছে? রীমা-সবাই বলছে ছেলে ধরা ধরে নিয়ে গিয়েছে, মা-তোরা বাসায় থাক আমি তানিয়াদের বাসায় গেলাম, তোর বাবা অফিস থেকে আসলে রিতা ভাত খেতে দিস, আর বলিশ আমি তানিয়াদের বাসায় গেলাম, ওর ভাইরে খুজে পাওয়া যাচ্ছে না, কোথায় যে গেলো ছেলেটা!

রিতা-আচ্ছা মা তুমি যাও, দুপুর থেকে বিকেল হয়ে আসলো তানিয়ার ভাইকে এখন পর্যন্ত খুজে পাইনি, আজকে আমাদের পুতুলের বিয়ে মনে হয় আর হবে না, আজকেই কেনো হারাতে হলো! তানিয়া-চারু চারু চারু-কি পাইছিস তোর ভাইরে? তানিয়া-তাড়াতাড়ি আয়, সবাই পুকুর পারে গেছে! (চলবে)

ছড়িয়ে দিন