আরিফুল হক চৌধুরীকে দেখতে হাসপাতালে সিলেট বাংলা নিউজ’র সম্পাদকসহ কয়েকজন

প্রকাশিত: ৭:৪৫ অপরাহ্ণ, মার্চ ২৯, ২০১৬

আরিফুল হক চৌধুরীকে দেখতে হাসপাতালে সিলেট বাংলা নিউজ’র সম্পাদকসহ কয়েকজন

সিলেট বাংলা নিউজ ষ্টাফ রিপোর্টার: সিলেট সিটি কর্পোরেশনের জননন্দিত মেয়র (সাময়িক বরখাস্তকৃত) আরিফুল হক চৌধুরীকে দেখতে নগরীর মাউন্ট এ্যাডোরা হাসপাতালে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন সিলেট বাংলা নিউজ’র সম্পাদক ও প্রকাশক মো. কামাল আহমদ, দৈনিক সিলেট সুরমা’র ষ্টাফ রিপোর্টার ও সিলেট বাংলা নিউজ’র বিশেষ প্রতিনিধি ইসমাঈল হোসেইন, হোসাইন আহমদ সুজাদ এবং সিলেট বাংলা নিউজ’র উপজেলা প্রতিনিধিবৃন্দ।

মঙ্গলবার সন্ধা ৭ টার সময় অসুস্থ আরিফুল হক চৌধুরীর সাথে দেখা করতে গেলে তিনি সিলেট বাংলা নিউজ’র প্রতিনিধি দলের সাথে অনেকক্ষন কথা বলেন।

তিনি সিলেটবাসীকে অভিনন্দন ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। শ্রদ্ধার সহিত কৃতজ্ঞতা ও ভালোবাসা জানিয়েছেন তাদের প্রতি, যারা তাঁর কারান্তরীণ থাকাকালীন অবস্থায় কঠিন দু:সময়ে তাঁর মুক্তির দাবিতে বিভিন্ন কর্মসুচী পালন করেছেন, পাড়া-মহল্লায়, মসজিদ-মন্দিরে দোয়া ও মিলাদ মাহফিলের আয়োজন করেছেন।

বিশেষ করে তিনি কৃতজ্ঞতা পোষণ করেছেন মহামান্য আদালতের প্রতি। কারণ স্বল্প সময়ের জন্য হলেও সাময়িক জামিন দানের মাধ্যমে তাঁর মমতাময়ী অসুস্থ মা’কে এক নজর দেখার সুযোগ করে দেয়ার জন্য। তাঁর মা সিলেট নগরীর মাউন্ট এ্যাডোরা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তাঁর মা’য়ের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে।

তিনি আরোও কৃতজ্ঞতা ও শুভেচ্ছা প্রকাশ করেছেন সকল ইলেকট্রনিক মিডিয়া, প্রেস মিডিয়া ও অনলাইন মিডিয়ার সকল সাংবাদিক ভাই-বোনদের প্রতি যারা জাতির স্বার্থে নিরলসভাবে অক্লান্ত পরিশ্রম করে সত্য ও বস্তুনিষ্ট সংবাদ পরিবেশনের মাধ্যমে নিজেরা সচেষ্ট এবং বিভ্রান্তিকর অবস্থা থেকে সর্বদা সঠিক সংবাদ বের করার কাজে নিয়োজিত রয়েছেন।

উল্লেখ্য, সাবেক অর্থমন্ত্রী শাহ এএমএস কিবরিয়া হত্যাকাণ্ডের বিস্ফোরক মামলায় সিলেট সিটি মেয়র (সাময়িক বরখাস্তকৃত) আরিফুল হক চৌধুরীকে জামিন দিয়েছেন হবিগঞ্জ জেলা ও দায়রা জজ আদালত।

রবিবার সকালে সিটি মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী তার আইনজীবীর মাধ্যমে জেলা ও দায়রা জজ মোহাম্মদ আতাবুল্লাহ এর আদালতে জামিন আবেদন করেন। শুনানি শেষে বিচারক আরিফুল হক চৌধুরীকে ১৫ দিনের জামিন মঞ্জুর করেন।

২০০৫ সালের ২৭ জানুয়ারি হবিগঞ্জের বৈদ্যের বাজারে গ্রেনেড হামলায় কিবরিয়াসহ ৫ জন নিহত হন। এ ঘটনায় জেলা আওয়ামী লীগের তৎকালীন সাংগঠনিক সম্পাদক ও বর্তমান জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এমপি আব্দুল মজিদ খান বাদী হয়ে হত্যা ও বিস্ফোরক আইনে দু’টি মামলা দায়ের করেন। হত্যা মামলাটি বর্তমানে সিলেটে বিচারাধীন অবস্থায় আছে।

প্রসঙ্গত, ২০১৪ সালের ২১ ডিসেম্বর মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সিআইডির সিলেট অঞ্চলের সহকারী পুলিশ সুপার মেহেরুন নেছা পারুল মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী, হবিগঞ্জের তৎকালীন মেয়র জি কে গউছ এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক সচিব হারিছ চৌধুরীসহ ১১ জনের নাম যোগ করে কিবরিয়া হত্যা মামলার সংশোধিত সম্পূরক অভিযোগপত্র (চার্জশীট) জমা দেন। পরদিন আরিফুল হক চৌধুরী সহ অন্যদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়।

পরে ওই বছরের ৩০ ডিসেম্বর আত্মসমর্পণ করেন আরিফুল হক চৌধুরী। এরপর থেকে তিনি কারাগারেই ছিলেন।

তিনি সিলেটবাসী সহ আপামর সকল জনসাধারণের কাছে বিণীতভাবে দোয়া কামনা করেছেন যাতে তিনি সব ধরনের ষড়যন্ত্রের বেড়াজাল থেকে পেড়িয়ে তাঁর উপর প্রদত্ত ষড়যন্ত্রমুলক মামলা থেকে সুষ্ট ন্যায় বিচারের স্বার্থে খালাস প্রদানের মাধ্যমে মুক্ত হয়ে জনগণের কাছে ফিরে আসতে পারেন।