আলিম জুট মিলের মালিকানা হস্তান্তরের দাবি

প্রকাশিত: ৯:৪৩ পূর্বাহ্ণ, ডিসেম্বর ৮, ২০১৫

আলিম জুট মিলের মালিকানা হস্তান্তরের দাবি

এসবিএন ডেস্ক:
দেশের সর্বোচ্চ আদালতের রায়ের পরও আলীম জুট মিলস লিমিটেড নামের মিলটির মালিকানা এর মালিকপক্ষের নিকট হস্তান্তর না করে সময়ক্ষেপণ করে আদালত অবমাননা করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছে মিলটির কর্তৃপক্ষ। একই সঙ্গে অভিযোগ করা হয়েছে, বিজএমসির গড়িমসির কারণে ধ্বংসের মুখে পড়েছে খুলনা জেলার ঐতিহ্যবাহী এ জুট মিলটি। অবাধে লুটপাটসহ অর্থ আত্মসাতের মহোৎসব চলছে বলেও অভিযোগ করা হয়েছে। এ অবস্থায় প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেছে মিলটির কর্তৃপক্ষ।

আজ মঙ্গলবার রাজধানীর ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাগর-রুনি মিলনায়তনে এসব অভিযোগ করেছেন মিলটির ব্যবস্থাপানা পরিচালক জগলুল মাহমুদ। এ সময় তাঁর পরিবারের অন্য সদস্যরাও উপস্থিত ছিলেন।

সংবাদ সম্মেলনে জগলুল মাহমুদ জানান, ১৯৬৬ সালে তাঁর পরিবারের সদস্যরা মিলটি প্রতিষ্ঠা করেন। কিন্তু দেশ স্বাধীন হওয়ার পর অন্যান্য শিল্প প্রতিষ্ঠানের মতো এই মিলটিও জাতীয়করণ করা হয়। পরে ১৯৮২ সালে আরো একটি প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে বাঙালি মালিকদের নিকট মিল ফেরত দেওয়ার আইন করা হয়। আইনটি প্রণয়নের পর থেকে আলীম জুট মিলস লিমিটেডের বাংলাদেশি মালিক হিসেবে বাংলাদেশ জুট মিলস করপোরেশন ও পাট মন্ত্রণালয়ের কাছে আইনি প্রক্রিয়ায় আমাদের নিকট হস্তান্তর করার জন্য অনেকবার আবেদন করি। বিন্তু বিজিএমসি ও পাট মন্ত্রণালয় নানা অজুহাত দেখিয়ে আমাদের নিকট মিলটি হস্তান্তর করা থেকে বিরত থাকে। উল্টো তারা পত্রিকার মাধ্যমে বিজ্ঞপ্তি দিয়ে প্রাইভেটাইজেশন বোর্ডের কাছে পাঠায়।”

ব্যবস্থাপানা পরিচালক বলেন, “এ অবস্থায় আমরা উচ্চ আদালতের ডিভিশন রিট পিটিশন দায়ের করলে ১৯৯৯ সালে আদালত আমাদের নিকট মিলটির মালিকানা হস্তান্তরের নির্দেশ প্রদান করেন। ‌ওই রায়ের পরিপ্রেক্ষিতে বিজিএমসি লিভ টু আপিল দায়ের করেন। এখানেও আমরা ২০০২ সালে জয়লাভ করি। আপিল বিভাগ মিলটির মালিকানা হস্তান্তর করার আদেশ দিয়ে রায় প্রদান করেন। এরপর থেকে আবারও বিজিএমসি ও সরকার মালিকানা হস্তান্তর নিয়ে গড়িমসি শুরু করে।”

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, “এর পরিপ্রেক্ষিতে উচ্চ আদালতে কনটেম্পট টু কোর্ট হাইকোর্ট মামলা দায়ের করা হয়। ওই মামলায় ১১ ফেব্রুয়ারি ২০১২ সালে আদালত বিজিএমসি কর্তৃপক্ষকে চার মাসের সময়সীমা বেঁধে দিয়ে মালিকানা হস্তান্তরের নির্দেশ দেন। এরপর তাদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আরো দুই দফা সময় বাড়ানো হয়। সর্বশেষ পাট ও বস্ত্র মন্ত্রণালয়ের সচিবকে আদালতে সশরীরে উপস্থিত হয়ে এক মাসের মধ্যে মালিকানা হস্তান্তরের নির্দেশ প্রদান করেন। কিন্তু অদ্যাবধি সেই আদেশ বাস্তবায়ন করেনি বিজিএমসি।”

জগলুল মাহমুদ বলেন, “২০০৯ সালে মিলটির দায়-দেনা ছিল ১৩২ কোটি টাকার উর্ধ্বে। বর্তমানে তা ১৮৬ কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে। অথচ বিজিএমসির হিসাবমতে মিলটির এখন প্রকৃত মূল্য ৫৮ কোটি ৯০ লাখ ৪৮ হাজার টাকা। দিন-দিন এর দায় দেনা যেমন বাড়ছে তেমনি মিলের অনেক জরুরি যন্ত্রপাতি নষ্ট হয়ে পড়ছে।” এদিকে, বর্তমানে মিলটি বন্ধ থাকায় উৎপাদনও বন্ধ রয়েছে। এর ফলে প্রতিদিনই এর যন্ত্রপাতি নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। অন্যদিকে, বিজিএমসির কিছু অসাধু ব্যক্তি মিলটির ফান্ড থেকে কোটি কোটি টাকা লোপাট করছেন। এর মধ্যে গত ৬মে থেকে ১৯মে পর্যন্ত বিভিন্ন সময়ে বিজিএমসি’র সাবেক প্রকল্প প্রধান মো. আনোয়ারুল হক তালুকদার ও সাবেক উপব্যবস্থাপক (হিসাব ও অর্থ) মুন্সী মো. রফিকুল ইসলাম খুলনার বিভিন্ন সোনালী ব্যাংক শাখা থেকে এক কোটি ৩২ লাখ ৬০ হাজার ৮৭০ টাকা উত্তোলন করে আত্মসাৎ করেছেন। একই প্রক্রিয়ায় আরো কিছু অসাধু কর্মকর্তা এ বছরের বিভিন্ন সময়ে ৮০ লাখ টাকা উত্তোলন করে আত্মসাৎ করেছেন। যার প্রমাণাদিসহ আমরা খুলনা জজ আদালতে একটি মামলা দায়ের করি। যা এখন খুলনা দুদক কর্তৃপক্ষ তদন্ত করছে।”

সংবাদ সম্মেলনে আরো বলা হয়, “মিলটি হস্তান্তর করার জন্য আমরা অর্থমন্ত্রীর নিকটও আবেদন করেছিলাম। তিনিও পাট মন্ত্রণালয় বরাবর মিলটি হস্তান্তরের অনুরোধ করে চিঠি দেন। কিন্তু কোনো কিছুতেই কিছু হচ্ছে না।”
জগলুল বলেন, “আমরা মুক্তিযোদ্ধার পরিবার। আমার ছোট ভাই মুক্তিযুদ্ধে বীর প্রতীক খেতাব পেয়েছেন। আমাদের এখন প্রধানমন্ত্রীর সরাসরি হস্তক্ষেপ কামনা করছি। মহামান্য আদালতের রায় মোতাবেক আমাদের নিকট মিলটির মালিকানা হস্তান্তর করলে পাট শিল্পসহ দেশের প্রতিটি কর্মকাণ্ডে দেশ ও জাতির ঐতিহ্য সমুন্নত রাখতে বলিষ্ঠ ভূমিকা পালনসহ পাটশিল্পকে স্বয়ংসম্পূর্ণ করতে মিলটি বিশেষ অবদান রাখবে।”

ছড়িয়ে দিন