আলোচনার মাধ্যমে শিক্ষকদের বেতন গ্রেডের সমাধান হবে

প্রকাশিত: ৬:২৬ অপরাহ্ণ, ডিসেম্বর ২৫, ২০১৭

আলোচনার মাধ্যমে শিক্ষকদের বেতন গ্রেডের  সমাধান  হবে

বেতন বৈষম্য নিরসনের দাবিতে আন্দোলনরত প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকদের সঙ্গে আলোচনা করছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী মোস্তাফিজুর রহমান ফিজার। আলোচনার পর গণশিক্ষামন্ত্রী জানিয়েছেন, আমরা সন্ধ্যার পর কেন্দ্রী শহীদ মিনারে গিয়ে শিক্ষকদের অনশন ভাঙাব। তারপর আলোচনার মাধ্যমে শিক্ষকদের বেতন গ্রেডের সমস্যার সমাধান করা হবে।

২৫ ডিসেম্বর সোমবার দুপুরে মন্ত্রীর মিন্টু রোডের বাসভবনে শিক্ষক নেতাদের সঙ্গে আলোচনায় বসেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী মোস্তাফিজুর রহমান ফিজার। এসময় বাংলাদেশ প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক সমাজের সাধারণ সম্পাদক আসাদুরসহ অন্যরা আলোচনায় উপস্থিত ছিলেন।

প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা শেষে শিক্ষক নেতারা জানিয়েছেন, আমরা মন্ত্রী মহোদয়ের ‘আশ্বাসে’ আমরণ অনশন স্থগিতের সিদ্ধান্ত নিয়েছি।

বেতন ভাতা নিয়ে দাবি আদায়ে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকদের আমরণ অনশনের তৃতীয় দিনে ৪০ জন শিক্ষক অসুস্থ হয়ে বিভিন্ন হাসপাতারে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

এর আগে ‘বাংলাদেশ প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক মহাজোটের’ উদ্যাগে ২৩ ডিসেম্বর শনিবার সকাল ১০টায় এই অনশন কর্মসূচি শুরু হয়। তাদের দাবি, প্রধান শিক্ষকদের একধাপ নিচে জাতীয় বেতন স্কেলের ১১তম গ্রেডে যেন তাদের বেতন হয়।

দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত ঘরে ফিরবেন না বলে জানিয়েছেন শহীদ মিনারে অবস্থানরত শিক্ষকরা।

শিক্ষকরা জানিয়েছেন, তাদের দাবি যদি মানা না হয় তাহলে তারা নতুন বছরের প্রথম দিনে বিনামূল্যের নতুন বই বিতরণ উৎসবেও যোগ দিবেন না।

আন্দোলনকারী বাংলাদেশ প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক মহাজোটের একজন নেতা মোহাম্মদ সামছুদ্দীন  বলেন, আজ(২৫ ডিসেম্বর) পর্যন্ত প্রায় ৪০ জন শিক্ষক অসুস্থ হয়েছেন। তাদের মধ্যে ১৭ জনকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। আর কয়েকজন বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন। তিনি বলেন, দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত তাদের আন্দোলন চলবে।

এদিকে ২৪ ডিসেম্বর রোববার অনশনের দ্বিতীয় দিনে প্রায় ১৫ জনের মতো অসুস্থ হয়ে পরেন। তাদের মধ্যে ছয়জনকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয় বলে জানা যায়।

মহাজোটের অধীনে সহকারী শিক্ষকদের ১০টি সংগঠনের দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে হাজার হাজার শিক্ষকরা এক দফা দাবি আদায়ের এ অনশন কর্মসূচি পালন করছেন।

অনশনকারী শিক্ষকরা জানান, এখন প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত সহকারী শিক্ষকরা ১৪তম গ্রেডে (মূল বেতন ১০ হাজার ২০০) বেতন পাচ্ছেন। আর প্রধান শিক্ষকরা পাচ্ছেন ১০ম গ্রেডে (মূল বেতন ১৬ হাজার টাকা)। সহকারী শিক্ষকরা এই বৈষম্য নিরসন করে প্রধান শিক্ষকদের এক ধাপ নিচে ১১তম গ্রেডে (১২ হাজার ৫০০) তাদের বেতন চান।